রোজা রাখছেন কিন্তু সব নিয়ম মানছেন তো?

রোজা

আরবিতে রোজা কে সাওম বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামের পরিভাষায় রোজা বলা হয়—রোজার উপযুক্ত ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে খানাপিনা, স্ত্রীসম্ভোগ ও এসব সম্পৃক্ত বিষয় থেকে বিরত থাকা। (উমদাতুল কারি : খ. ১০, পৃ. ৩৭৫, তাবয়ীনুল হাকাইক : খ. ২, পৃ. ১৪৫)

সব মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যে রমজানের রোজা ফরজ। রমজানের রোজা শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩-১৮৪, তাতার খানিয়া : খ. ৩, পৃ. ৩৫০)

রোজার নিয়তসংক্রান্ত মাসায়েল-

    • মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। তবে মুখে নিয়ত করা উত্তম। (ফতোয়াতে শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৪৫)
    • নিয়ত আরবিতে হওয়া জরুরি নয়। যেকোনো ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায়—আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)
    • সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টা আগ পর্যন্ত রমজানের রোজার নিয়ত করা বৈধ।

তবে রাতে নিয়ত করাই উত্তম। (ফতোয়াতে তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭০; আহসানুল ফাতওয়া : খ. ৪, পৃ. ৪৪৬; জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)

    •  রমজানে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়াটাই নিয়ত। যদি কোনো কিছু খাওয়া অথবা পান করা না হয়, তাহলে সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টা আগেই নিয়ত করে নেবে। (ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : খ. ৩, পৃ. ৩৭)
    •  যদি কেউ সূর্য হেলার আগে নিয়ত করে যে আমি এই সময় থেকে রোজাদার। তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে না। (ফতোয়ায়ে শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭)
    •  আমাদের হানাফি মাজহাব মতে, নিয়ত ছাড়া রোজা শুদ্ধ হয় না। (তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭০)
    • প্রত্যেক রোজার জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত করা আবশ্যক। সব রোজার জন্য প্রথম রোজার নিয়ত যথেষ্ট নয়। (ফতোয়াতে রহিমিয়া : খ. ২, পৃ. ১৫)
    •  যে ব্যক্তি পুরো রমজানই রোজা রাখা বা না রাখার কিছুই নিয়ত করেনি, তাহলে সে কাজা করে নেবে। (ফতোয়াতে তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭১)

প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত (পবিত্রতা,নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জ)  বইটির কিছু অংশ পড়ে দেখতে কিংবা সংরহ করতে- 

যেসব কারণে রোজার কাজা ওয়াজিব-

    • ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭৫)
    • ভুলে স্ত্রীসম্ভোগ করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার স্ত্রীসহবাস করা । (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭৫)
    •  কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ১৯৯)
    •  এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন—কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০২. জাওয়াহিরুল ফিকহ, খ. ১, পৃ. ৩৭৮)
    • পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটা ও কাগজ গিলে ফেলা। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৩)
    •  নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেলা। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০২)
    •  বিড়ি, সিগারেট বা হুঁকো সেবন করা। (জাওয়াহিরুল ফিকহ্ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)
    •  কানে বা নাকের ছিদ্রে তরল ওষুধ দেওয়া। (এমদাদুল ফাতাওয়া : খ. ২, পৃ. ১২৭)
    • দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৭)
    • মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা (এমদাদুল ফাতাওয়া : খ. ২, পৃ. ১৭২)
    • হস্তমৈথুন করা। (দারুল উলুম : খ. ৬, পৃ. ৪১৭)
    • রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি কিংবা নাকে পানি দেওয়ার সময় কণ্ঠনালিতে পানি চলে যাওয়া। (আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৪, পৃ. ৪৩৩)
    • নাকের রক্ত পেটে চলে যাওয়া। (আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৪, পৃ. ৪২৯)
    • কাউকে জোরজবরদস্তি করে পানাহার করানো। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০২)
    •  রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহরি খাওয়া। (জাওয়াহিরুল ফিকহ্ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)
    • কোনো পুরুষ নিজ মলদ্বারে পানি বা তৈল লাগানো হাত প্রবেশ করানো।
    • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা। (ফাতহুল কাদির : খ. ২, পৃ. ৩৩৭)
    • সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলে দিনে ইফতার করা। (বুখারি : হা. ১৯৫৯)
    • যদি কেউ রাত ধারণা করে স্ত্রীসহবাসে লিপ্ত হয়ে যায়, অতঃপর সুবহে সাদিকের কথা জানতে পেরে তত্ক্ষণাৎ সহবাস থেকে বিরত হয়ে যায়। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭৪)
    •  বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যনালির ভেতরে চলে গেলে। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৩)

      যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়-

(ক) মিথ্যা বলা। (খ) মিথ্যা সাক্ষি দেওয়া। (গ) গিবত করা বা দোষচর্চায় লিপ্ত থাকা। (ঘ) মিথ্যা কছম করা।  (ঙ) অশ্লীল কথা বলা বা অশ্লীল কাজ করা। (চ) জুলুম করা। (ছ) কারো সঙ্গে শত্রুতা রাখা। (জ) পরনারীর প্রতি দৃষ্টি করা, তাদের সঙ্গে মেলামেশা করা। (ঝ) সিনেমা দেখা—সবই নাজায়েজ।

উপরোক্ত কাজ ছাড়া সব গোনাহর কাজ থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরি। এসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না, তবে মাকরুহ হয়। অবশ্য সওয়াব কম হয়। (জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া : খ. ১, পৃ. ২২; জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৯; বুখারি, হাদিস নম্বর ১৯০৩)

      • কোনোরূপ অপারগতা ছাড়াই কোনো বস্তু আস্বাদন করা বা চর্বণ করা। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৯৫)
      • অনন্যোপায় ছাড়াই কোনো কিছু চর্বণ করে শিশুর মুখে দেওয়া। (ফাতহুল কাদির : খ. ২, পৃ. ৩৪৯)
      • একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেনাবেচার সময় মধু কিংবা তেলের স্বাদ আস্বাদন করা। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ১৯৯)
      • সঙ্গম বা বীর্যপাতের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে চুমু দেওয়া। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০০)
      • মুখে অধিক পরিমাণ থুতু একত্র করে গিলে ফেলা। (বিনায়াহ : খ. ৪, পৃ. ২৯৪)
      • বেশি ক্ষুধা বা পিপাসার কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করা। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)
      • মাজন, কয়লা, গুল, টুথপেস্ট ব্যবহার করা। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৯)
      •  অহংকারের জন্য সুরমা লাগানো বা গোঁফে তেল লাগানো। (আলমগিরি)
      • পায়খানার রাস্তায় পানি দ্বারা এত বেশি ধৌত করা যে ভেতরে পানি চলে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ১১৯)
      • ক্ষতির আশঙ্কা হলে শ্রমিকের জন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া রোজা রাখা।
      • প্রয়োজন ছাড়া ডাক্তারের মাধ্যমে দাঁত তোলা মাকরুহ। তাতে যদি রক্ত বা দাঁতে লাগানো ওষুধ পেটে চলে যায়, যা থুতুর সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৪, পৃ. ৪২৬)
      • এমন কোনো কর্ম করা, যা শরীরকে দুর্বলতার দিকে নিয়ে যায়, তা মাকরুহ। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)
      • রোজাদারের জন্য অজু ছাড়া কুলি করা মাকরুহ। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ : খ. ১, পৃ. ২২৭)


        যেসব কারণে কাজা ও কাফ্ফারা ওয়াজিব-

      • ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীসম্ভোগ করা। (বুখারি, হাদিস : ১৮০১)
      • ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো জিনিস খাওয়া বা পান করা, যা সাধারণত খাওয়া বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।(আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৫)
      • যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গিবত করার পর পানাহার করে, তাহলে তার ওপর কাজা-কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব। (ফাতহুল কাদির : খ. ২, পৃ. ৩৮০)
      •  রোজাদার যদি সমকামিতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তার ওপর কাজা-কাফ্ফারা দুটিই ওয়াজিব। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ : খ. ১, পৃ. ২২৩)
      • পুরুষ যদি মহিলার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করে সম্ভোগ করে, তাহলে মহিলার ওপর শুধু কাজা ওয়াজিব, কাফ্ফারা নয়। আর পুরুষের ওপর কাজা-কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ : খ. ১, পৃ. ২২৪)

        যেসব কারণে রোজা ভাঙে না, মাকরুহও হয় না-
      • ভুলে খানাপিনা বা স্ত্রীসম্ভোগ করা (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৫)
      • যদি ওই ভুলকারী লোকের রোজা রাখার শক্তি থাকে, তাহলে তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। আর যদি রোজা রাখার শক্তি না থাকে, তাহলে স্মরণ না করে দেওয়া উত্তম। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ : খ. ১, পৃ. ২০২)
      •  অনিচ্ছায় গলার মধ্যে ধোঁয়া, ধুলাবালি, মশা-মাছি চলে যাওয়া। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৬)
      • তেল, সুরমা, শিঙা লাগালে যদি গলায় তার স্বাদ পাওয়া যায়। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৬)
      •  স্বপ্নদোষ হওয়া। (তিরমিজি : হাদিস ৭১৯)
      •  যেকোনো সময় মেসওয়াক করা, কাঁচা হোক কিংবা শুষ্ক হোক। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ১৯৯)
      • কাঠি দিয়ে কান খোঁচানোর ফলে কোনো ময়লা বের হলে তারপর ময়লাযুক্ত কাঠি বারবার কানে প্রবেশ করালে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৭)
      •  চানা বুটের চেয়ে ছোট দাঁতের ফাঁকে আটকে যাওয়া কোনো জিনিস খেলে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৭)
      •  দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি হলক্বে চলে যায়। যদি থুথুর পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৬৮)
      •  শরীর, মাথা, দাড়ি-গোঁফে তেল লাগালে। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ১৯৯)
      •  ফুল বা মৃগনাভির ঘ্রাণ নিলে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৯৯)
      • ইচ্ছাকৃতভাবে নাকের শ্লেষ্মা মুখের ভেতর নিয়ে নিলে। (বিনায়া : খ. ৪, পৃ. ২৯৪)
      • মুখের থুথু গিলে ফেলা। (নাওয়াজিল : পৃ. ১৫০)
      •  তিল পরিমাণ কোনো জিনিস বাইরে থেকে মুখে নিয়ে অস্তিত্বহীন করে দেওয়া ও গলায় তার কোনো স্বাদ অনুভব না হলে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৯৪)
      • কপালের ঘাম কিংবা চোখের দু-এক ফোঁটা অশ্রু কণ্ঠনালিতে পৌঁছে গেলে। রোজা ভাঙে না। (বিনায়া : খ. ৪, পৃ. ২৯৪)
      • রোজা শুরু হওয়ার আগেই যদি লজ্জাস্থানে কোনো ওষুধ রাখা হয়। তাহলে রোজা ভাঙা যাবে। (রহিমিয়া : খ. ৪, পৃ. ২৯৪)
      • যেকোনো ধরনের ইনজেকশন বা টিকা লাগানো। তবে এমন ইনজেকশন বা টিকা লাগানো মাকরুহ, যেগুলো দ্বারা রোজার কষ্ট বা দুর্বলতা দূরীভূত হয়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৯)
      • ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত বের করা হলে রোজা নষ্ট হবে না। আর দুর্বলতার আশঙ্কা না থাকলে মাকরুহও হবে না।
      • পান খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করা সত্ত্বেও যদি থুথুতে লালাভাব থেকে যায়, তাহলে রোজা মাকরুহ হবে না। (এমদাদুল ফাতাওয়া : খ. ২, পৃ. ১৩১)
      • ভেজা কাপড় শরীরে দেওয়া অথবা ঠাণ্ডার জন্য কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া অথবা গোসল করা মাকরুহ নয়। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৯৪; দারুল উলুম : খ. ৬, পৃ. ৪০৫; বুখারি)
      • স্বপ্নে কিংবা সহবাসে যদি গোসল ফরজ হয়ে থাকে এবং সুবেহ সাদিকের আগে গোসল না করে রোজার নিয়ত করে, তাহলে তার রোজার মধ্যে অসুবিধা হবে না। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ৩৮০)
      • গলা খাঁকারি দিয়ে খাদ্যনালি থেকে মুখে কাশি বের করা, তারপর আবার গিলে ফেলা উচিত  নয়। তবে এটি মাকরুহও নয়। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭৩)
      •  মাথা অথবা চোখে ওষুধ দেওয়া। (এমদাদুল ফাতাওয়া : খ. ২, পৃ. ১২৭)
      •  হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ঘ্রাণ নেওয়া। (মাহমুদিয়া : খ. ১৫, পৃ. ১৮০)
      •  রোজা অবস্থায় পাইপ দ্বারা মুখে হাওয়া নিলে। (মাহমুদিয়া : খ. ১৫)
      • রোজা অবস্থায় নাকের মধ্যে ওষুধ ব্যবহার করার দ্বারা ব্রেনে না পৌঁছলে। (মাহমুদিয়া : খ. ১৫, পৃ. ১৬৯)
      • শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা রক্ত প্রবাহিত হলে বা রক্ত বের করলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে রোজাদার থেকে বের করা মাকরুহ। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ২৮)
      • ডাক্তার যদি চিকিৎসার শুকনো কোনো যন্ত্র পেটে প্রবেশ করায়, অতঃপর তা বের করে ফেলে, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (আল-ফিকহুল হানাফি)
      • পানিতে ডুব দেওয়ার পর কানের ভেতর পানি চলে গেলে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে পানি দিলে রোজা মাকরুহ হয় না। (বিনায়া : খ. ৪, পৃ. ২৯৪; আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৪)
      • জৈবিক উত্তেজনায় শুধু দৃষ্টিপাতের কারণে যদি বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ফাসেদ হবে না। (আহকামে জিন্দেগি, পৃ. ২৪৯)

যেসব কারণে রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি আছে-

    • যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে, তখনই তার ওপর রোজা কাজা করে নেওয়া ওয়াজিব। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২০২)
    • যে ব্যক্তি এমন দুর্বল হয়ে যায় যে রোজা রাখার শক্তি নেই। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২০৩)
    •  এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৭)
    • গর্ভধারিণী বা স্তন্যদানকারিণী মহিলা যদি নিজের অথবা নিজের বাচ্চার প্রাণপাতের আশঙ্কা করেন, তাহলে তাঁর জন্য রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ আছে। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৭)
    • রোজা থাকার কারণে যদি জীবনযাপনের সামগ্রী উপার্জন করতে দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। তবে তা পরে কাজা করে নিতে হবে। তা-ও সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে এবং প্রতি রোজার পরিবর্তে সদকায়ে ফিতর পরিমাণ দান করে ফিদিয়া আদায় করবে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)
    • অনুরূপভাবে ফসল কর্তন করার ক্ষেত্রে। যদি রোজা থাকা অবস্থায় ফসল কর্তন করা সম্ভব না হয়। অন্যদিকে দেরি হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং অন্য সময় কাজা করে নেবে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)


নারীদের রোজার মাসায়েল-

    • মহিলারা রমজান ছাড়া স্বামীর অনুমতি ব্যতীত রোজা রাখবে না। (তিরমিজি :  হাদির নম্বর ৭৮২)
    •  যে মেয়ে বালেগ হয়েছে অথচ লজ্জার কারণে প্রকাশ করে না এবং রোজাও রাখে না।

        তাহলে তার ওপর তাওবা ও ছুটে যাওয়া রোজার কাজা করা ওয়াজিব।

    • মহিলা যদি নিজের হায়েজের আর্দ্রতা তথা পবিত্রতার নিদর্শন দেখতে পায়। যার দ্বারা বুঝতে পারে যে সে এখন পাক হতে যাচ্ছে। তাহলে রাতেই রোজার নিয়ত করবে। আর যদি পবিত্রতার নিদর্শন না দেখা যায়, তাহলে ভেতরে তুলা লাগিয়ে দেবে। যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে রোজা রাখবে। যদি দ্বিতীয়বার হায়েজের রক্ত এসে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলবে।
    • মহিলা যদি নিজের অভ্যাস অনুযায়ী বুঝতে পারে যে আগামীকাল তার হায়েজ জারি হবে। তাহলেও সে রোজা ভাঙবে না।

       যতক্ষণ না সে তার হায়েজের রক্ত দেখতে পায়। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩,        পৃ. ২৭৮)

    • হায়েজা মহিলার জন্য উত্তম হলো নিজের স্বাভাবিক অবস্থার ওপর থাকা। আল্লাহ তাআলা তার ওপর যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। এমন কিছু ব্যবহার না করা, যার দ্বারা রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। বরং হায়েজ অবস্থায় রোজা ছেড়ে দেওয়া। অতঃপর কাজা করে নেওয়া। কেননা উম্মুল মুমিনিন ও আকাবির মহিলারা এমনটিই করেছেন। আর যদি ওষুধ দিয়ে রক্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও রোজা হয়ে যাবে। (আপকে মাসায়েল : খণ্ড ৩, পৃ. ২০৭)
    • নেফাজওয়ালা মহিলা যদি ৪০ দিন হওয়ার আগেই পাক হয়ে যায়, তাহলে রোজা রাখবে এবং নামাজের জন্য গোসল করে নেবে।
    •  আর যদি ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রক্ত জারি থাকে, তাহলে সে রোজা রাখবে এবং গোসল করে নেবে। কেননা তার রক্ত ইস্তেহাজা (রোগ) হিসেবে গণ্য করা হবে। (বেহেশতি জেওর : পৃষ্ঠা : ১৬০, শরহে বেকায়া : খ. ১, পৃ. ১২০)
    •  হায়েজওয়ালা মহিলা যদি সূর্য হেলার আগেই পাক হয়ে যায় এবং রোজার নিয়ত করে, তাহলে তার ফরজ আদায় হবে না। (শামি : খ. ৩, পৃষ্ঠা : ৩৮৫)


কাজা রোজার মাসয়ালা-

  • রমজানের রোজা কাজা হয়ে গেলে রমজানের পর যথাশিগিগর কাজা করে নিতে হবে। বিনা অজুহাতে দেরি করা গোনাহ।

(সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৪, মা’আরেফুল কোরআন, পৃ. ৯৩)

  • কাজা রোজার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করতে হবে। অন্যথায় কাজা রোজা শুদ্ধ হবে না। (বেহেশতি জেওর, পৃ. ২০১; কুদুরি, পৃ. ৭৯)
  •  যে কয়টি রোজা কাজা হয়েছে, তা লাগাতার রাখা মুস্তাহাব।


কাফ্ফারার মাসয়ালা-

  • রমজান শরিফের রোজার কাফ্ফারা হলো—একাধারে দুই মাস তথা ৬০ দিন রোজা রাখা। মাঝখানে কোনো কারণবশত রোজা ছুটে গেলে আবার ৬০টি রোজা রাখা।

হ্যাঁ, যতটুকু হায়েজের কারণে ছুটে যায়, তা মাফ। তবে পাক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৬০ রোজা পূর্ণ করা। (আল-ওয়াল ওয়ালিজিয়্যাহ : খ. ২, পৃ. ২২৫-২২৬)

  • কাজা রোজার মতো কাফ্ফারা রোজার নিয়ত ও সুবহে সাদিকের আগে হওয়া আবশ্যক। (কুদুরি : পৃ. ৭৯)
  • যদি কারো রোজা থাকার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে ৩০ জন মিসকিনকে সকাল-বিকেল উদরপূর্ণ করে খাবার খাওয়াবে। (হেদায়া : পৃ. ১৮২)
  • যদি একই রমজানে দুই অথবা তিন রোজা ছুটে যায়, তাহলে কাফ্ফারা একটি ওয়াজিব। এটি যদি একাধিক রমজানে হয়, তাহলে পৃথক পৃথক আদায় করবে। (তাতার খনিয়া, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৩৯৪)

    তারাবির বিধান-

  •   তারাবি সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (আজনারুল ফাতাওয়া : খ. ৩, পৃ. ৫২৫)
  •   ২০ রাকাত তারাবি পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, আট রাকাত নয়।

কেননা নবী করিম (সা.), খোলাফায়ে রাশেদা এবং সব সাহাবি ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন। (উমদাতুল কারি, খ. ১২, পৃ. ১৮৩) আট রাকাত মহানবী (সা.) তাহাজ্জুদ পড়তেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর ১১৪৭)

  •  তারাবিতে একবার কোরআন খতম করা সুন্নত। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ২৮)
  • তারাবিতে এত দ্রুত কোরআন তেলাওয়াত না করা যে তা বুঝে আসে না। এরূপ করলে সওয়াবের পরিবর্তে গোনাহ হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৩, পৃ. ৫২৫)
  • তারাবি পড়ে টাকা নেওয়া-দেওয়া উভয়টি অবৈধ। এতে কোনো সওয়াব পাওয়া যাবে না। (মুওয়াওয়াজা আলাত তারাবি, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ) 

ফিদিয়ার মাসায়েল-

  • রোজা রাখতে না পারলে কিংবা কাজা আদায় করতে না পারলে সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ যে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তাকে ফিদিয়া বলে। (মা’আরেফুল কোরআন: পৃ. ৯৬)
  • ফিদিয়ার পরিমাণ হলো ৮০ তোলার সের হিসাবে এক সের ১২ ছটাক।

(এক কেজি ৬৬২ গ্রাম) গম বা আটা কিংবা তার মূল্য দিতে হবে। তবে পূর্ণ দুই সের (এক কেজি ৮৬৬ গ্রাম বা তার মূল্য দেওয়া উত্তম। (মা’আরেফুল কোরআন: পৃ. ৯৬)

  • মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধলোক অথবা কোনো ব্যক্তি ভীষণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রোজা রাখতে অপারগ হলে সে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে পৌনে দুই সের গম অথবা এর মূল্য আদায় করবে। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : খ. ১, পৃ. ২৯) 

ইসলামী সকল বইয়ের কিছু অংশ পড়তে এবং সংগ্রহ করতে


লিখেছেন- মাওলানা কাসেম শরীফ

লেখনী সহায়তায়ঃ ইসলামী বার্তা 

আরও পড়ুন রোজা ‘র যে ১০টি শিক্ষা সাহায্য করবে জীবন সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  0      2
 
Rokomari-blog-Logo.png