নূরের চোখ

নূরের চোখ

(১)

আরেকবার মরিয়া হয়ে অনুরোধ করলেন সিপাহী মোস্তফা। অনুনয় করলেন তাদের সাথে সরে যেতে… রাজী হলেন না রক্তে সাহসিকতা বইতে থাকা দুঃসাহসী যোদ্ধাটি, তীব্র রক্তপাতেও যার মনোবল ধুয়ে যায়নি! নিজের ‘এলএমজি’টি ধরিয়ে দিলেন সহযোদ্ধার দিকে, যেন তার মৃত্যুর পর তা শত্রুসেনার হাতে না পড়ে… সহযোদ্ধার ছেড়ে যাওয়া একটি মাত্র অস্ত্র সম্বল করে চালিয়ে যেতে লাগলেন কাভার ফায়ার- যেন তারা সরে যেতে পারে নিরাপদে। তীব্র রক্তপাতে আস্তে আস্তে চোখ বুজে আসে বিশাল বাহিনীর সাথে একাই লড়ে যাওয়া এক মহান যোদ্ধার! বাংলার গর্বিত মাটি লাল হয় এক সিংহহৃদয় বীরের রক্তে- নাম তার নূর মোহাম্মদ শেখ!

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

(২)

একাত্তরের সেপ্টেম্বর মাস! বিপুল বিক্রমে এগিয়ে চলেছে মুক্তিবাহিনীর জয়যাত্রা। মুক্তিফৌজের একের পর এক বীরত্বে নাজেহাল পাকবাহিনী। মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষিত হয়েছে অনেক এলাকা, তারই একটি সীমান্তবর্তী সুতিপুর। এখানেই রয়েছে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প। সীমান্তবর্তী হবার কারণে কৌশলগতভাবেই সুতিপুর খুব গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যশোর সেনানিবাসের কাছেই এর অবস্থান। একদিকে এর অধিকার হারাতে চায় না মুক্তিসেনারা, অন্যদিকে বারংবার এর দখল নিতে এসে পর্যুদস্ত হয়ে ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফিরে গেছে পাকবাহিনী। সুতিপুরের পূর্ববর্তী গ্রাম গোয়ালহাটি। সেখানে নিয়োজিত ছিল সুতিপুরস্থ মুক্তিফৌজের টহলবাহিনী। তাদের কাজ ছিল হানাদারদের গতিবিধির ওপর নজরদারী। পাকসেনাদের আসার খবর পাওয়ামাত্র সময় থাকতে ক্যাম্পে অবহিত করা। এতে যোদ্ধারা পাবেন সিদ্ধান্ত নেবার ও তৈরি হবার পর্যাপ্ত সময়! টহলবাহিনীর দলনেতা ছিলেন নূর মোহাম্মদ শেখ! ’৬৫ এর পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বের জন্য যার ছিল ‘তামঘা-ই-জং’ ও ‘সিতারা-ই-হার্ব’ উপাধি।

তামঘা-ই-জং' ও ‘সিতারা-ই-হার্ব' উপাধি।
৬৫ এর পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বের জন্য নূর মোহাম্মদ শেখ পেয়েছিলেন ‘তামঘা-ই-জং’ ও ‘সিতারা-ই-হার্ব’ উপাধি।

(৩)

৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১! আর পাঁচটা দিনের মতোই হয়তো শুরু হয়েছিল গোয়ালহাটির ভোর। কিন্তু ভোর পেরিয়ে সকাল হতেই যেন মিলিয়ে গেল স্বাভাবিকতার সেই রেশ! নূর মোহাম্মদ শেখের নেতৃত্বাধীন টহল দলটি সেদিন অবস্থান করছিল গোয়ালহাটির ছুটিপুরে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সন্তর্পণে তাদের তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে হানাদারবাহিনী। হঠাৎই শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি ও আক্রমণ। টহলদারী দলে তখন ছিলেন নূর মোহাম্মদসহ মাত্র চারজন! আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লেন দলের এলএমজিম্যান সিপাহী নান্নু মিয়া। প্রচণ্ড বিপদেও নার্ভ শক্ত রাখলেন নূর মোহাম্মদ।সম্বল মাত্র ৪টি রাইফেল ও একটি এলএমজি! নিলেন তাই নিয়ে লড়ে যাবার সিদ্ধান্ত। একজনকে পাঠালেন বার্তাবাহক হিসেবে দ্রুত সুতিপুর ক্যাম্পে। যেন তারা পান উপযুক্ত প্রস্তুতি ও করণীয়তা নির্ধারণের সময়! যদি ক্যাপ্টেন নাজমুল সহায়তাকল্পে এগিয়ে আসতে চান সেক্ষেত্রে এই বার্তাবাহকই পালন করবেন পথনির্দেশকের ভূমিকা। তাকে পাঠিয়ে এবার মনোযোগী হলেন গোলাগুলিতে শত্রুকে ব্যস্ত রাখায়।

পাকসেনাদের আক্রমণের ছবি ।
পাকসেনাদের আক্রমণের ছবি ।

(৪)

তিনজন মিলে দিতে শুরু করলেন পাকিস্তানি সেনাদের হামলার পাল্টা জবাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই নূর মোহাম্মদ বুঝতে পারলেন হানাদাররা রাজাকারদের থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পাকাপোক্ত ধারণা নিয়েই এসেছে। কিন্তু রণেভঙ্গ দিয়ে পশ্চাদপসরণের ফলাফল হবে ভয়ানক! তারা পিছু হটা মাত্রই পাকসেনারা কালক্ষেপণ না করে হামলা করবে সুতিপুর ডিফেন্সে। অপ্রস্তুত মুক্তিবাহিনীর জন্য তা হতো অত্যন্ত বিপদজনক। এমতাবস্থায় খোলা মাত্র দুটি পথ! এক, সুতিপুর থেকে সাহায্য আসার পূর্ব পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে পাকবাহিনীকে সেখানেই আটকে রাখা। দুই, একে অন্যকে কাভার ফায়ার দিতে দিতে পিছু হটে নিরাপদ দূরত্বে সরে আসা। এত কম অস্ত্রসরঞ্জাম দিয়ে শত্রুদের অতক্ষণ আটকে রাখা ছিল অসম্ভব! ততক্ষণে হানাদাররা ছুঁড়তে শুরু করেছে ২ ইঞ্চি মর্টার গোলা। পরিস্থিতি অনুসারে দ্বিতীয় পন্থাটাই বেছে নিলেন নূর মোহাম্মদ।

মর্টার শেল দ্বারা আক্রমণের ছবি।
হানাদার বাহিনীর মুক্তিসেনাদের দিকে লক্ষ্য করে মর্টার শেল দ্বারা আক্রমণের ছবি।

(৫)

তারা বুঝতে পারলেন তাদের অবস্থান সম্পর্কে জেনে এলেও পাকসেনারা তাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে সন্দিহান। এই সুযোগটিকে কাজে লাগালেন তারা। বিভ্রান্ত করতে চাইলেন শত্রুকে। ক্রমাগত জায়গা পাল্টে ফায়ার করতে থাকলেন যেন তাদের সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে খুঁজতে থাকলেন পিছু হটে যাবার সুযোগ। কিন্তু বিধিবাম! তাদের আক্রমণে পাকিস্তানিরা প্রাথমিকভাবে পিছু হটলেও নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে নিক্ষেপ করতে থাকলো মর্টার শেল। নূর মোহাম্মদের অবস্থান লক্ষ্য করে ছুটে আসে একের পর এক গোলা। আহত নান্নুকে কাঁধে নিয়ে এতক্ষণ ভালোভাবেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যোদ্ধাদের দেখা দিল শিরে সংক্রান্তি। কারণ হঠাৎ একটি মর্টার শেল বিধ্বস্ত হলো নূর মোহাম্মদের খুব কাছেই! বৃষ্টির মতো ছুটে এলো একরাশ স্প্লিন্টার। ক্ষতবিক্ষত হলো নূর মোহাম্মদের ডান পা ও হাত! রক্তে ভিজে গেল বাংলার মাটি!

 

এক মুক্তিযোদ্ধা
শত্রুদের লক্ষ্য করে ক্রমাগত ফায়ার করতে থাকা এক মুক্তিযোদ্ধা !

(৬)

দ্রুতই অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেন নূর মোহাম্মদ। তিনি ও নান্নু উভয়েই আহত, একমাত্র অক্ষত মোস্তফার পক্ষে তাদের দুজনকেই বয়ে নেয়া অসম্ভব। হয় তিনজনেরই আলিঙ্গন করতে হবে মৃত্যুকে, নতুবা মোস্তফা একজনকে নিয়ে সরে যাবেন, অন্যজন দেবেন কাভার ফায়ার। তাতে অবধারিত কাভার ফায়ারিংয়ে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু । নিজেকেই এই বলিদানের জন্য প্রস্তুত করলেন এই সাহসী বীর! মোস্তফাকে নির্দেশ দিলেন নান্নুকে নিয়ে সরে যেতে। দলপতিকে এভাবে ফেলে যেতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না মোস্তফা! তিনি চাইছিলেন তিনজনই একত্রে সরে যেতে। মোস্তফা তাকে টানাটানি করলে সিদ্ধান্তে অনড় নূর বাঁ হাতে গাছের শেকড় জড়িয়ে বসে রইলেন। নিজের এলএমজিটি এগিয়ে দিলেন সহযোদ্ধার প্রতি যেন তা শত্রুসেনার হস্তগত না হয়। সকল অস্ত্রশস্ত্র কুড়িয়ে শেষবারের মতোন দলনেতাকে দেখলেন মোস্তফা। নান্নুকে পিঠে ঝুলিয়ে এরপর চলে যেতে থাকলেন নিরাপদ স্থানে। যাবার আগে নূরকে দিয়ে গেলেন একটি লোডেড রাইফেল।

আহত সহযোদ্ধা কে কাধে করে নিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা
আহত সহযোদ্ধা কে কাধে করে নিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা !

তারা চলে যেতেই আহত নূর শক্তি সঞ্চয় করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লেন পাকসেনাদের লক্ষ্য করে। উদ্দেশ্য আর শত্রুসেনা নিধন নয়, তাদের গোলাগুলিতে বিভ্রান্তকরণ- যেন এই সুযোগে মোস্তফারা নিরাপদে চলে যেতে পারেন। দ্রুতই শক্তি ফুরিয়ে এলো তার, কাহিল হয়ে গেলেন অতিরিক্ত রক্তপাতে। আস্তে আস্তে চিরনিদ্রায় নিমীলিত হলো এই যোদ্ধার চোখ। বঙ্গভূমির স্নেহমমতায় দেহত্যাগ করলেন এক দুঃসাহসী লড়াকু বীর। গুলি বন্ধ হতেই ক্রমশ এগিয়ে এলো পাকসেনারা। একসময় পেয়ে গেলো নূরের মৃতদেহ। বেয়নেটের আঘাতে মৃতদেহ ক্ষতবিক্ষত করেই ক্ষান্ত দিলো না তারা, উপড়ে নিলো শহীদের দুটো চোখ! তারপর এগিয়ে গেল সুতিপুরের দিকে…

মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে ছুতে আসতে
মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে ছুতে আসতে থাকা পাক হানাদার বাহিনীর ছবি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রবন্ধ ও কলাম সংকলন বিষয়ক বইসমুহ

(৭)

চিত্রানদীর তীরবর্তী নড়াইল জেলার মহেশখালী গ্রামে ১৯৩৬ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। তার পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মা মোসাম্মাৎ জিন্নাতুন্নেসা খানম। দশ বছর বয়সে মা-কে হারান তিনি, এর তিন বছর পর বাবাকেও। অর্থাভাবে বিক্রয় করতে হয় পৈতৃক জমিজমা। সপ্তম শ্রেণীর পর আর পড়াশোনা করেননি তিনি। ১৯৫২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিজ গ্রামের সম্পন্ন কৃষক পরিবারের মেয়ে তোতাল বিবির সাথে। তোতাল বিবির বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয় প্রথম সন্তান হাসিনা খাতুন। সাংসারিক অভাব মেটাতে যোগ দেন মুজাহিদ বাহিনীতে। ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যোগ দেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর)। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন রাজশাহীতে। অতঃপর তাকে পাঠানো হয় দিনাজপুরে। ১৯৬৪ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় সন্তান শেখ মোঃ গোলাম মোস্তফার জন্মের কিছুদিন পরই আত্মীয়স্বজনের অনুরোধে বিবাহ করেন মৃত শ্যালকের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসাকে। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে দিনাজপুর সেক্টরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করায় যুদ্ধশেষে পান ‘তামঘা-ই-জং’ ও ‘সিতারা-ই-হার্ব’ উপাধি। ১৯৭০ সালের ১০ই জুলাই বদলী হয়ে যশোর সেক্টরে আসেন। পদোন্নতি পেয়ে হন ‘ল্যান্স নায়েক’।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

(৮)

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ছুটিতে ছিলেন গ্রামের বাড়ি। ২৫ই মার্চের গণহত্যার সংবাদ শুনে অসুস্থতা নিয়েই যোগ দেন চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর এর ৪ নং উইং এর নিজস্ব কোম্পানির সাথে। অংশ নেন বেশ কিছু অপারেশনে। এরপর যোগ দেন যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত মুক্তিবাহিনীর ৮ নং সেক্টরে। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার অধীনে যুদ্ধ করেন। বয়রা সাব-সেক্টরের অধীনে বীরত্বের সাথে অংশ নেন গোয়ালহাটি, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, ছুটিপুর ঘাট ও বরনী অপারেশনে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করেন সাব সেক্টর কমান্ডার নাজমুল হুদার প্রাণ! গোয়ালহাটির যুদ্ধে প্রাণত্যাগের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের পিছু হটিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয় এই সাহসী বঙ্গসন্তানকে। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত দেখানো এই মুক্তিযোদ্ধাকে ১৯৭৩ সালে ভূষিত করা হয় দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবে! গর্বভরে উচ্চারিত হয়- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ!

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি
সহযোদ্ধাদের সমাধির সাথে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি (মাঝখানে)

(৯)

সহস্র শহীদের রক্ত, দেশপ্রেম ও বলিদানে জন্ম নিয়েছে একটি বাংলাদেশ! জীবন তুচ্ছ করে দেশের তরে লড়ে যাওয়া বীরদের আত্মত্যাগ কখনোই ভুলবার নয়। বুকের রক্ত দিয়ে তারা বপন করে গেছেন এই ভূখণ্ডের স্বাধীন অস্তিত্বের বীজ। প্রতিটি আত্মদান লেখা রবে গৌরবের সোনালী হরফে…

সশ্রদ্ধ সালাম বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ!

মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা বিষয়ক বইসমুহ

 

তথ্যসূত্র:

https://roar.media/bangla/main/liberation-war/nur-mohammad-sehikh/

http://www.narail.gov.bd/

https://www.army.mil.bd/Bir-Sreshtho

https://www.banglanews24.com/index.php/national/article/27131/A-Tribute-to-Bir-Sreshtho-Nur-Mohammad

http://bn.banglapedia.org/

https://www.thedailystar.net/news-detail-248380?amp

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
  1      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png