প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে বাসায় বসে কাজের ২০টি কার্যকর কৌশল এবং ৯টি টুলস

বাড়িতে বসেই অফিসের কাজ

বাড়িতে বসেই অফিসের কাজ করাআধুনিক কর্মক্ষেত্রের এই ধারণাটি মানুষের নজর কেড়েছে খুব সহজেই বিশেষত করোনার এই দিনগুলিতে বাড়িতে বসে অফিস বাওয়ার্ক ফ্রম হোমযেন রীতিমতো আশীর্বাদ অফিসে উপস্থিত না থেকেও প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই অফিসের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে করার এই পদ্ধতি সকলের জন্যই এক চমৎকার বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে

অনেকের মতে, বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য একধরনের বিলাসিতা কিন্তু তারপরেও একটা প্রশ্ন থেকে যায়কোন ধরনের অফিস তার কর্মীদের ভেতর থেকে সর্বোচ্চটুকু বের করে আনতে পারেবাড়ি থেকে অফিস করা? নাকি প্রথাগত সেই ৮টা-৫টার অফিস?

Image Source: KSAT.com

অফিসে সহকর্মীরা আপনার ডেস্কে আসবে, আপনার সাথে গল্পগুজবে মেতে উঠবে, একসাথে দুপুরে খাওয়া-দাওয়াও হবে সরাসরি যোগাযোগের ফলে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা আপনি পাবেন, কিন্তু বাধাধরা কাজের একঘেয়েমিতে পড়ার সুযোগও আছে সেখানে আর কোনোভাবে পারিপার্শ্বিক ঘটনায় মেজাজ ঠিক না থাকলে সবকিছু তখন আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, আপনার বাসাই যখন অস্থায়ী অফিসের ভূমিকা পালন করে, তখন পেশাদারিত্বের চাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায় এখানে সহকর্মীরা কেউ আপনাকে দেখছে না দলগত কাজের যে চাপ, সেটাও থাকছে না বাসায় বসেই অফিসের কাজ করা তথাওয়ার্ক ফ্রম হোমএর কিছু পরামর্শ কৌশল নিয়েই সাজানো হয়েছে এই লেখাটি, যা মেনে চললে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন দক্ষ কর্মী

. আগেভাগেই কাজ শুরু করা

অফিসে যাওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় রাখতে হয় প্রস্তুতি এবং যাতায়াতের জন্য ঘুম থেকে উঠে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হতে হয় জ্যামের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরে গিয়ে বসের ঝাড়ি খাওয়াও অসম্ভব কিছু নয় কিন্তু আপনার বাসাটাই যখন অফিস, তখন আপনাকে সেই ঝামেলা পোহাতে হবে না

তাইওয়ার্ক ফ্রম হোমএর অন্যতম একটি সুবিধা হলো সকালে উঠেই আপনি অফিসের কাজ শুরু করে দিতে পারবেনখুব দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে“–এই মানসিকতা থাকলে তো খুবই ভালো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার প্রথম কাজ যেটা হতে পারে তা হলো আগের দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা ফলে বাড়তি কাজের বোঝা থেকে একঘেয়েমি আসবে না।

. অফিসে যাওয়ার ভান করুন

অফিসে যাচ্ছেন না, তারপরও অফিসে যাওয়ার সময় যে প্রস্তুতি নিতেন, তা চালিয়ে যান

বাসায় বসে কাজের ক্ষেত্রে ঢিলেমি আসাটা অস্বাভাবিক নয়সেটা কাজের বেলায় যেমন আসতে পারে, তেমনি ফুটে উঠতে পারে আপনার শারীরিক ভাষাতেও তাই মানসিকভাবে নিজেকে চাঙ্গা রাখার কোনো বিকল্প নেই অফিসে গেলে যেমন আপনি আগের দিনই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, বাড়িতে কাজ করলেও আপনাকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে সকালে ওঠার জন্য অ্যালার্ম দিন, কফি তৈরি করুন, মার্জিত পোশাক পরুন

অফিসে যাওয়ার মতো করে প্রস্তুতি না দিলে দিনের মধ্যভাগে নিজেকে আবার বিছানায় খুজে পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু হবে না

Image Source: Medium

. এমনভাবে দিনটি কাটান যেন আপনি অফিসেই আছেন

যখন আপনি বাসায় কাজ করছেন, তখন আপনি নিজেই নিজের পরিচালক বাসায় থাকলে হয়তো আপনি যখনতখন বাইরে যেতে পারেন, বন্ধুদের নিয়ে ঘরে আড্ডার আসরও বসাতে পারেন। কিন্তু অফিসে তো এসবের প্রশ্নই আসে না তাই বাসায় থাকলেও আপনাকে অফিসের ভাবগাম্ভীর্য ধরে রাখতে হবে

সেই সাথে আপনার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিয়ে টেবিলে বসুন, তারপর নির্ধারণ করুন দিনের কোন সময় কোন কাজে ব্যয় করবেন, এবং কখন বিরতি নিবেন

. কাজের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করুন

বাসা যদি কোলাহলপূর্ণ হয়, তাহলে আপনার কাজকর্মে বেশ অসুবিধা হবে তাই বাসার সবচেয়ে নিরিবিলি ঘর বা জায়গাটি আপনার কাজের জন্য বেছে নিন এতে কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে প্রতিদিন সেই নির্দিষ্ট জায়গাতেই কাজ শুরু করুন

. সবসময় ঘরে বসে থাকার দরকার নেই

সবসময় বাসায় বসে থাকলে আপনি বিরক্ত হয়ে যেতে পারেন এতে কাজের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে তাই মাঝে মাঝে বাইরে যান কফি শপ, লাইব্রেরি এরকম জায়গাগুলো যেখানে ওয়াইফাই এর সুবিধা আছে সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ কাটিয়ে আসতে পারেন এতে যেমন আপনার একঘেয়েমি কাটবে, তেমনই কাজের সাথেও যুক্ত থাকতে পারবেন

. সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে দূরে থাকুন

অফিস থেকে বাসায় এসে একঘেয়েমি কাটাতে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করি কিন্তু আপনি যখন বাসায় বসে কাজ করবেন তখন নিজের সর্বোচ্চটা বের করে আনার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকাই ভাল

Image Source: Relevance

সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ঘটনা আমাদের প্রভাবিত করে অফিসের কাজ ঠিকমতো করতে দুশ্চিন্তামুক্ত মন অপরিহার্য তাই ঘরে বসে কাজের সময় সকল প্রকার সোশ্যাল মিডিয়া আইডি থেকে লগআউট করে ফেলুন

. প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কাজ করার মনোভাব গড়ে তুলুন

অফিসের প্রজেক্টগুলো সবসময় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেয় তাই আপনাকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে তাহলেই করে আপনি প্রজেক্টগুলো সময়মতো শেষ করতে পারবেন

“Do the hard jobs first. The easy jobs will take care of themselves.” – Dale Carnegie, American writer

. কাজে সর্বোচ্চ মনোযোগের সময়টাকে কাজে লাগান

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ সমান তালে কাজ করতে পারে না দিনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাজের দক্ষতা ওঠানামা করে আপনাকে জানতে হবে দিনের কোন সময়ে আপনার কাজ করতে সবচেয়ে ভালো লাগে সময়েই আপনার দক্ষতা বেশি হবে দিকটি লক্ষ্য রেখে আপনার পুরো দিনের পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত

. ফোনকলগুলো দুপুরের জন্য রেখে দিন

অধিকাংশ কর্মীর মতে, সকালবেলা সবচেয়ে বেশি ‘প্রোডাক্টিভসময় কারণ সারারাত ঘুমানোর পর একটি সতেজ মন নিয়ে কর্মীরা অফিসের কাজ শুরু করতে পারে মাথায় তখন কোনো বাড়তি চিন্তা থাকে না

Image Source: Entrepreneur

তাই এই সময়কে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত সকালে ফোনকলগুলো না ধরে সেগুলো বরং দুপুরের জন্য রেখে দিন আর দুপুরের অলস সময়ে পরিবার কিংবা প্রিয়জনের সাথে কথা বলুন

১০. কোনো কিছুতে ফোকাস করে সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকুন

প্রোডাক্টিভিটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যত ব্যস্ত থাকবেন, তত বেশি কাজ করতে পারবেন বাড়িতে থাকলে নিজেকে ব্যস্ত রাখাটা কঠিন, কারণ একটা গাছাড়া ভাব থাকেই তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, একাধিক বিষয়ের উপর মনোনিবেশ না করে একই সময়ে একটি বিষয়ের উপরই ফোকাস করা উচিত

১১. আগেই পরিকল্পনা করে রাখুন

আগামীকাল আপনি কী করতে যাচ্ছেন, তা আজই ঠিক করে রাখুন পরদিন যদি আপনার কোনো সমস্যাও হয়, তাহলে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারবেন সেই সময়টা আপনার হাতে থাকবে

আগেই পরিকল্পনা করে রাখা আপনাকে একাধিক সুবিধা দেবে এতে আপনার মধ্যে কাজ শেষ করার একটি তাড়া থাকবে মানসিক প্রস্তুতিও হয়ে যাবে ঠিকমতোই

১২. প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন

ওয়ার্ক ফ্রম হোমএর মূল ভিত্তি প্রযুক্তি প্রযুক্তি ছাড়া এটা কল্পনাতীত তাই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে আপনার এই প্রচেষ্টা একেবারেই ব্যর্থ হয়ে যাবে

Image Source: Inman

এজন্য সার্বক্ষণিক ওয়াইফাই, ল্যাপটপ ওয়েবক্যাম অবশ্যই দরকার ডিভাইসগুলো যেন ঠিকঠাক থাকে সেদিকে অবশ্যই সতর্ক নজর রাখতে হবে

১৩. কাজের ফাঁকে ফাঁকে গান শুনুন

আপনার প্লেলিস্টে সবচেয়ে পছন্দের গানগুলো ডাউনলোড করে রাখুন এরপর যখনই কাজের সময় একঘেয়েমি চেপে বসবে, তখনই কানে ইয়ারফোন গুঁজে দিয়ে পছন্দের গানগুলো ছেড়ে দিন

ভিডিও গেমের সাউন্ডট্র্যাকগুলো আপনাকে বেশ সাহায্য করতে পারে ক্ষেত্রে গেমারদের অনুপ্রাণিত করতে এগুলোর জুড়ি মেলা ভার তাই আপনার প্লেলিস্টে ভালো কিছু গেমিং সাউন্ডট্র্যাকও রাখতে পারেন

১৪. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন

কাজ ঠিকভাবে শেষ করার জন্য শারীরিক মানসিক শক্তি দরকার আপনি যদি পুষ্টিকর খাবার না খান, তাহলে কাজের জন্য দরকারি শক্তি পাবেন না খাবার আপনাকে শারীরিক মানসিক শক্তি জোগাবে তাই কাজের বিরতিতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন

১৫. বাসার মানুষদের আপনার প্রত্যাশার ব্যাপারে জানান

বাসায় বসেই যখন আপনি কাজ করবেন, তখন নিশ্চয়ই বাকিদের ঘর থেকে বের করে দেবেন না তাদেরকে আপনার কাজের ব্যাপারে বলুন। এতে করে তারাও আপনার কাজের বিষয়টি বুঝবে। আপনিও কাজের জন্য উপযুক্ত একটি পরিবেশ পাবেন।

১৬. কাজের ফাঁকে বিরতি নিন

নির্দিষ্ট সময় পর পর একটু বিরতি নিন মানুষ যন্ত্র নয় তাই একটানা কাজ করা সম্ভবও নয় কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নিলে সামগ্রিকভাবে তেমন একটা ব্যাঘাত ঘটে না তবে লক্ষ্য রাখতে হবে এই বিরতি যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয় তা না হলে আপনি কাজের সময় হারাবেন ফলে সময়মতো কাজ শেষ করা হবে না

Image Source: University of Rochester Blogs

১৭. মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখুন

আপনি তো ঘরে বসেই কাজ করছেন, পৃথিবীর বাইরের কোনো গ্রহ থেকে না। তাই কাজের সময় বাইরের মানুষ আসতেই পারে। সারাদিন কাজের মাঝে ডুবে থাকার মাঝে এমন অল্প কিছু মানুষের সাথে হালকা গল্প আপনাকে বরং কাজের জন্য আরও বেশি চাঙ্গা করে রাখবে।

১৮. আগের রাতেই খাবার তৈরি করে রাখুন

আপনি যদি ব্যাচেলর হন এবং নিজের খাবার নিজেই তৈরি করেন, তবে পরদিনের খাবার আপনার আগের রাতেই তৈরি করে রাখা উচিত খাবার তৈরিতে বেশ সময় ব্যয় হয় তাই আগের দিনই খাবার তৈরি করে রাখতে পারলে আপনার কাজের সময় নষ্ট হবে না।

১৯. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করুন

আপনি বাসায় বসে কাজ করছেন, এজন্য আপনার মনে হতে পারে কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই আসলে বিষয়টি সেরকম নয় আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে হবে এই প্রবণতা গড়ে উঠলে আপনি পরের দিনের পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলাটা জরুরি

Image Source: EMOttawa

২০. রুম থেকে টিভি সরিয়ে রাখুন

আপনি যে রুমে বসে কাজ করবেন, সেই রুম থেকে টিভি সরিয়ে রাখুন টিভি সামনে থাকলে বিরতির সময় আপনার টিভি দেখতে ইচ্ছা করবে আর এই নেশা একবার পেয়ে বসলে তো ব্যস, সব গোল্লায় যাবে তাই কাজের রুম থেকে টিভি সরিয়ে রাখুন 

“You see, in life, lots of people know what to do, but few people actually do what they know. Knowing is not enough! You must take action.”
Tony Robbins, American author, philanthropist and life coach

আগেই বলা হয়েছে, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমপুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর একটি অফিস ব্যবস্থা এখানে প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া একচুলও আগানো সম্ভব নয় আপনাকে অফিসের কর্মীদের সাথে যুক্ত থাকতে হবে সবসময়জন্য ইন্টারনেটে অসংখ্য টুল রয়েছে কিন্তু সব টুল আবার কর্মীবান্ধব নয় সেসব টুলের মধ্য থেকে এমন কিছু টুলের কথাই এখন আপনাদের বলা হবে, যেগুলো দিয়ে ঘরে বসে কাজগুলো খুব সুন্দর করে এগিয়ে নিতে পারবেন।

. টিমভিউয়ার (TEAMVIEWER)

ওয়ার্ক ফ্রম হোমএর সাথে জড়িত সবাই মোটামুটিটিমভিউয়ারসম্পর্কে পরিচিত অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ কিংবা লিনাক্সসহ সকল ধরনের প্লাটফর্মে চলার উপযোগী করেই এটি বানানো হয়েছে ফাইল, ক্লিপবোর্ড এবং পোর্ট ট্রান্সফারের মতো সুবিধা থাকায় দূরে বসে অফিসের কাজ করা যেকারো প্রথম পছন্দ এই সফটওয়্যারটি সবচেয়ে বড় কথা হলো- ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এই টুলটি একদম ফ্রি!

. স্প্ল্যাশটপ (SplashTop)

টিমভিউয়ারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এই স্প্ল্যাশটপ এই টুলটিও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একদম ফ্রি! তবে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু হালকা চার্জ রয়েছে বটে। ছোট ফাইল শেয়ারের সুবিধার জন্য এর সুখ্যাতি রয়েছে

. মিটিং আউল ( Meeting Owl)

ঘরে বসে কাজের জন্য ভিডিও কনফারেন্স অপরিহার্য আর এজন্য সবচেয়ে ভালো ক্যামেরাগুলোর একটি মিটিং আউল এটি একটি ৩৬০ ডিগ্রি কোনে ঘুরতে পারা ক্যামেরা এখানে যিনি কথা বলছেন তার দিকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাস করে থাকে। আটটি মাইক্রোফোনের মাধ্যমে এটি শব্দ সংগ্রহ করেফলে অপরপ্রান্তে একদম অপরিবর্তিত অবস্থায় শব্দ শোনা যায় তাই ভিডিও কনফারেন্সের ক্যামেরার ক্ষেত্রে মিটিং আউল হতে পারে একটি চমৎকার টুল

. জুম (Zoom)

বড় অনলাইন মিটিং, ওয়েবিনারের জন্য জুম একটি ভালো অ্যাপ্লিকেশন কয়েক ডজনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী নিয়ে এই ভিডিও চ্যাট অ্যাপটি বেশ সুন্দরভাবে কাজ করে এমনকি বিশেষ ফিচার ব্যবহার করে ৫০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী নিয়ে মিটিং করা যায় এর মাধ্যমে

. জয়েন.মি (Join.me)

এবার আর কোনো অ্যাপের কারসাজি নয় জয়েন.মি পুরোপুরিই ইন্টারনেটভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্মহোয়াইটবোর্ডিংনামের অসাধারণ একটি ফিচার একে করে তুলেছে অনন্য এর মাধ্যমে কথোপকথন চলার সময়েই ফাইল আদানপ্রদান করা যায় কোনো এজেন্ডা নির্ধারণের চিন্তা অন্যদের সাথে শেয়ারে জয়েন.মি দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করে

. টোগল (Toggl)

কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা পরিমাপের একটি দুর্দান্ত টাইম ট্র্যাকার টোগল অফিসের প্রতিটি মুহুর্ত আপনি কীভাবে ব্যয় করছেন, তার সব হিসাব রাখে এটি আরও চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়

. স্ল্যাক (Slack)

রিয়েলটাইম মেসেজ আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে স্ল্যাক একটি অসাধারণ টুল বিভিন্ন চ্যানেলে কাজ অনুযায়ী যোগাযোগের সুবিধা থাকায় কাজ থেকে অন্যদিকে মন সরে যাবার সম্ভাবনাও কম। ফলে ঘরে বসে যারা কাজ করেন তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি টুল এই স্ল্যাক।

. গুগল ড্রাইভ (Google Drive)

ইন্টারনেট চালান কিন্তু গুগল ড্রাইভের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ক্লাউড স্টোরেজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দরকার মতো ফাইল কিংবা ছবি বিনিময় করা যায় যে কেউ যেকোনো জায়গা থেকে এখান থেকে কন্টেন্ট আপলোড কিংবা ডাউনলোড করতে পারে।

. এভারনোট (Evernote)

সহকর্মীদের নোট সংরক্ষণে এভারনোট চমৎকার ভূমিকা পালন করে থাকে এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সবার নোট একসাথে থাকে। ব্যক্তিগতভাবে এই প্লাটফর্মে প্রবেশ করে সবার নোটের সাথেই আপডেট থাকা যায়

প্রযুক্তির বলে মানুষ অফিসকেও ঘরের মধ্যে নিয়ে এসেছে, যাকে আমরা বলছিওয়ার্ক ফ্রম হোম তবে এটি স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থা নয় মানুষের দক্ষতা কার্যকরী টুলগুলোই পারেওয়ার্ক ফ্রম হোমথেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে এজন্য যেমন প্রয়োজনীয় পরামর্শের দরকার রয়েছে, তেমনই প্রয়োজন কার্যকর টুলস তাই উপরের পরামর্শ টুলসগুলো হতে পারে আপনার জন্য বেশ কাজের।

প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে অবশ্যপাঠ্য ৭ বই

*এই ব্লগটি লিখেছেন সাদমান সাকিব

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png