‘ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ- হাউ টু স্টার্ট উইথ…?’  যে কারনে বইটি পড়বেন।

4

614

‘ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ- হাউ টু স্টার্ট উইথ…?’ যে কারনে বইটি পড়বেন।

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

’বর্তমান বিশ্বে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শুরু হয়ে গেছে যাকে ‘ডিজিটাল বিপ্লব’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়। যেখানে শারীরিক শ্রম ব্যাপক হারে মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক শ্রমে প্রবেশ করেছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে যতটা পড়া উচিত ছিল ততটা পড়েনি বলেও বিষেশজ্ঞের মতামত। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে প্রায়  ৭০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছে যাদের মধ্যে বেশির ভাগ অর্থাৎ ৯০% প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির্নিভর  তারমানে প্রায় ৬০লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা  কুটির শিল্প, বাঁশ,  বেত, কাপড় ইত্যাদির উৎপাদনের সাথে জড়িত। যেহেতু এগুলো সবই কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, কাজেই শুধু এই উদ্যোগগুলি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে প্রভাব রাখতে পারবে না। এই উদ্যোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বেবসায়িক প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

এই বিষয়ক বই  “‘ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ- হাউ টু স্টার্ট উইথ…?রকমারি থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অনদিকে নতুন করে এর ওপর প্রতিবছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে। সরকারি হিসেবে দেশে ২৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ সপ্তাহে ১ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে আশার কথা হল, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গতানুগতিক চাকুরির পিছনে না ঘুরে অনেকে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন বা হচ্ছেন। তবে ডিজিটালের এই যুগে পড়াশোনা ছাড়া নতুন ব্যবসা শুরু করা প্রায় নিরর্থক । যেমন আমাদের নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেই জানে না কীভাবে কপিরাইট করতে হয়। অথচ উন্নত বিশ্বে একটা দ্রব্য বাজারে আসার আগেই কপিরাইট করা হয়। ঠিক একই ধারাবাহিকতায় উদ্যোক্তা হতে হলে তাঁকে প্রকল্প পরিকল্পনা, নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো, বিনিয়োগ থেকে আয়ের উপায় জানা, আয়-ব্যয়, ব্যালান্স শিট ইত্যাদি বিষয়ে জানতে হয়। সৃজনশীল চিন্তা উদ্ভাবনী শক্তি না থাকলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভবকর হবে না। আমাদের দেশের তরুন সমাজ অনেক মেধাবী, যোগ্য এবং সাহসী হলেও শুধুমাত্র সঠিক পরিচর্চার অভাবে তাদের ভেতর থেকে উদ্যোক্তা মানুষটি বের হয়ে আসছে না।

অনদিকে, তরুণ  উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য সময় উপযোগী  তেমন  বই অপ্রতুল। কিন্তু শিখতে হলে ত অবশ্যই পড়তে হবে। কেননা, জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব। একবিংশ শতাব্দির বিশ্বে আমাদের উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে হলে বাস্তব ভিত্তিক জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। আর জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বই পড়া।  বই না পড়া ব্যক্তির মধ্যে বই পড়ার মর্যাদাও জন্ম নেয় না। স্টেফেন প্রসন বলেন, “যে একটি ভালো বই পাওয়া সত্ত্বেও পড়ে না এবং একটি প্রস্ফুটিত ফুলকে ছিড়ে ফেলে তার মতো বোকা আর নেই।” প্রমথ চৌধুরী বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, আইনের মৃত্যু হয় কিন্তু বইয়ের মৃত্যু হয় না। কারণ বই হচ্ছে মস্তিষ্কের শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং জাতিকে সঠিক পথে চালনার দিশারী। দেশে সুনাগরিক গড়ে তোলার প্রধান উপায় একটা।

বিশ্ব ভান্ডারের বিশাল এই আয়োজনে  বিপুল ও অফুরন্ত বিষয় আমাদের অজানা রয়ে গেছে। আমাদের জানার সীমাবদ্ধ পরিধিতে সবই অজানা অচেনা। তবু আমরা যতটুকু সম্ভব জানা দরকার। আমাদের মধ্যে জানার যে কৌতূহল বিরাজ করে  মানুষ এসব কৌতূহলের তৃষ্ণা মিটায় বই পড়ে।

বিখ্যাত লেখক L .S Jasf বলেন  ‘Where ever there is civilization the must be books’ অর্থাৎ যেখানে সভ্যতার পদচারণা সেখানে অবশ্যই বই।

বই শুধু মাত্র জ্ঞানার্জনের উপায় নয়।নিজের ক্ষমতা, ভেতরের শক্তি প্রকাশের উপাদান। বই নির্মল সুন্দর।  তাই পড়ার আনন্দ সম্পর্কে কবি ওমর খৈয়ম লিখেছেন রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু বই খানা অনন্ত যৌবনা যদি তেমন বই হয়। নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য, তাদের পথের সাথী হওয়ার জন্য বই প্রয়োজন।

নবীন বা যুব উদ্যোক্তাদের ‘বন্ধুর’ চলার পথে ‘অনুপ্রেরণা ও সহায়তা’ জোগাতে  জার্নাল বই বই আকারে সহজ ও সাবলীল ইংরেজি ভাষায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ- হাউ টু স্টার্ট উইথ…?’

তরুণ  উদ্যোক্তা ও  ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সৈয়দ রবিউস সামস নিজের চলার পথে যে বাধার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরুর কৌশল ও প্রাথমিক ধারণার দেওয়ার উৎস হিসেবে তিনি  বইটি রচনা ও  প্রকাশ করেছেন।

যদিও বলাই যেতে পারে , দেখে দেখে সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটা যেমন সম্ভব নয় , তেমনি বই পড়ে উদ্যোক্তা হওয়া যায় না।তবে , হ্যাঁ , আশার কথা হল যে, এই বইটি পড়ে উদ্যোক্তারা অন্তত ঘাত প্রতিঘাত ব্যাপারটুকু সম্পর্কে জানতে সক্ষম হবে এবং বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

উদ্যোক্ততা হবার জন্য চাই, সৎ চিন্তা, চেষ্টা ও পরিশ্রম। কারণ পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি বলে একটা কথা রয়েছে। যে উদ্যোক্ততা যতবেশি পরিশ্রম, চেষ্টা এবং এক জায়গায় খুটি বেঁধে পড়ে থাকবে; সে অবশ্যই একজন সফল উদ্যোক্ততার মালা গলায় পড়ে ঘরে ফিরবে। সময় উপযোগী তরুণ  উদ্যোক্তা উন্নয়নে একটি বই সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে।

 

বইটি ‘উদ্যোক্তার ব্যবসায়ীক ধারণাগুলো যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া, কীভাবে শুরু করতে হবে, অর্থ জোগান ও প্রচার – প্রসার  বাড়ানো যায় কীভাবে, কীভাবে  বিভিন্ন বাধাগুলি অতিক্রম করা যায়, কীভাবে জনসংযোগ করতে হয়, সামাজিক জ  এ ছাড়া  ক্রমবর্ধমান ব্যবসার বাস্তব জীবনের উদাহরণ সন্নিবেশ করা হয়েছে।’ বইটি দেশের উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

লেখক মনে করেন, আমাদের দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতি তরুণ উদ্যোক্তাদের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে; কিন্তু উদ্যোক্তা সৃষ্টির ‘সাপোর্টিং’ পরিবেশ অভাব রয়েছে। তবে ‘ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ- হাউ টু স্টার্ট উইথ…?’ বইটি দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সফল হবার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে বলে লেখক বিশ্বাস করেন।

আমরা জানি যে, উদ্যোক্তাদের মধ্যে ভিশন থাকে, উদ্যোগ থাকে আর থাকে নতুন আইডিয়া নিয়ে লড়াই করার সাহস। তাই উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার উৎস সৃষ্টি করেতে হয়। নিঃসন্দেহে সেই অনুপ্রেরণা দিবে উক্ত বইটি। এবং বইটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামেঅন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ বলে বইটি সম্পর্কে অনেকে বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, লেখক সৈয়দ রবিউস সামস যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ২০১৬ -এর একজন ফেলো।  তিনি  ২০০৯ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ক্যালিফোর্নিয়া অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী  গ্রুপ স্টাডি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামেরও একজন অংশগ্রহণকারী। তাছাড়া, লেখক ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের আর্থিক অনুদানে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সামার স্কুল ২০০৫ অংশগ্রহণকারী। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ মেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম বি এ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।  সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিইডি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বইটি প্রকাশনার জন্য সার্বিক সহায়তা করেছে।  বইটিতে ৫ জন তরুণ লেখকের প্রবন্ধসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সফল উদ্যোক্তা, কর্পোরেট নেতৃবৃন্দ এবং উন্নয়ন কর্মীদের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের  শেষ দিকে তিনি বইটির বাংলা সংস্করণ বের করবেন বলেও আশা করছেন।

 

 

Write a Comment