আসুন জেনে নেই শার্লক হোমসের পূর্ণ পরিচয়

শার্লক হোমস

শার্লক হোমস ।  বিখ্যাত লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। এই চরিত্রটির সাথে পরিচয় নেই এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছেন। সেই ১৮৮৭ সালে তার পথচলা শুরু। আজ অব্দি জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্রও কমেনি। বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেড়েই চলছে।

নামকরণ– উইলিয়াম শার্লক স্কট হোমস

লেখক ডয়েল যখন মেডিক্যালে পড়তেন, তার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক ছিলেন ‘ড. জোসেফ বেল’। ডয়েল ‘হোমস’ চরিত্রটি তার শিক্ষক ‘ড. জোসেফ বেল’ এর আদলেই গড়ে তোলেন। মানুষকে পর্যবেক্ষণের এমন অসাধারন ক্ষমতা ড. বেল-এর মধ্যেও ছিলো। ‘হোমস’ এর চেহারা এবং স্বাস্থ্যও ছিলো ড.বেল এর মতই। অর্থাৎ, ডয়েল তার ‘হোমস’ চরিত্রটি সম্পূর্ণই একজন সত্যিকার মানুষের আদল।

আত্মপ্রকাশ– ১৮৮৭ সালে

এ স্টাডি ইন স্কারলেট‘ নামক উপন্যাসের মধ্য দিয়ে পৃথিবী বিখ্যাত এই ‘হোমস’ চরিত্রের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৮৯১ সালে ‘Strand Magazine’-এ তাকে নিয়ে ছোট গল্প লেখা শুরু হলে ঝড়ো-গতিতে জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। হোমসের বেশিরভাগ গল্পগুলো বর্ণিত হয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গি ড. জন ওয়াটসনের দ্বারা। অর্থাৎ, লেখক কোনান ডয়েল ড. ওয়াটসনের মুখ দিয়েই হোমসের সব বিখ্যাত এ্যাডভেঞ্চারগুলো আমাদের কাছে বর্ণনা করেন। তাকে নিয়ে মোট ৪টি উপন্যাস ও ৫৬টি ছোট গল্প লিখেন কোনান ডয়েল। আর এগুলোই তাকে পৌঁছে দেয় খ্যাতির শীর্ষে।

পেশা– ‘কন্সালটিং ডিটেকটিভ’

লন্ডন শহরের তাবৎ পুলিশ অফিসার, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড যখন কোন রহস্যের সমাধান করতে পারতেন না, তারা ছুটতেন ‘হোমস’ এর কাছে। ‘হোমস’ তার অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর বিশ্লেষণ শক্তি দিয়ে সেইসব রহস্যের সমাধান করতেন। তার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এতটাই ধারালো ছিল যে একজন মানুষের শার্টের হাতা, কলার, প্যান্টের হাঁটু, হাতের বুড়ো আঙ্গুল দেখে তিনি লোকটার পেশা থেকে শুরু করে তার অতীত, বর্তমান নিয়ে অনেক কিছু বলে দিতে পারতেন। এবং সেগুলো হতো সম্পূর্ণ নির্ভুল। মূলত, এসব বিশেষত্বের কারণেই তার এত জনপ্রিয়তা।

জন্ম– ইংল্যান্ড, ইয়র্কশায়ার, ১৮৫৪’র ৬ জানুয়ারি, শুক্রবার।

পিতা– সাইগার হোমস।

দাদা– মাইক্রফট হোমস।

মাতা– ভায়োলেট শেরিনফোড।

বড় ভাই– শেরিনফোর্দ হোমস। ১৮৪৫ সালে জন্ম।

মেজো ভাই– মাইক্রফট হোমস। ১৮৪৭ সালে জন্ম।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা– অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।

প্রিয় গবেষণার বস্তু– তামাকের ছাই।

যেসব ব্যাপারে পারদর্শী– পিস্তল, তলোয়ার যুদ্ধ, বক্সিং, ঘোড়-সওয়ার, মার্শাল আর্টস।

ব্যক্তিত্ব:

ওয়াটসনের বর্ণনা অনুযায়ী হোমস কিছুটা ‘বোহেমিয়ান’ টাইপের ছিলেন। মুখে সবসময় একটা পাইপ থাকতো। খাওয়া- দাওয়ার ব্যাপারে তেমন একটা মনযোগ দিতেন না। ‘ফরেন্সিক সাইন্স’ নিয়ে তিনি প্রচুর গবেষণা করতেন এবং নিজের উপরেই তিনি অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। যখন হাতে কোন কেস থাকতো না তখন তিনি উত্তেজনা দমন করতেন ‘প্যাথেডিন’ ব্যাবহার করতেন। মেয়েদের ব্যাপারে সে তেমন একটা আগ্রহ বোধ করতেন না তবে একটি মাত্র মেয়ের কথা সে তার গল্পে মাঝে মাঝে টানতেন। তার নাম ‘আইরিন অ্যাডলার’।

ভূতত্ত্ব জ্ঞান – প্রাকটিক্যাল, কিন্তু সীমাবদ্ধ। প্যান্টের তলায় লেগে থাকা মাটি দেখে বলে দিতে পারতেন এটা লন্ডনের কোন এলাকার মাটি।

রসায়ন জ্ঞান – গভীর।

শরীরস্থান জ্ঞান – সঠিক, কিন্তু অগোছালো।

সাহিত্য জ্ঞান – অঢেল। সকল শতাব্দীর ভয়াবহ ঘটনাগুলো সব তার মুখস্ত।

আইনের জ্ঞান– যথেষ্ট ভালো।

শখ– বেহালা বাজানো।

 

আরও পরুনঃ

কেন পড়বেন মাসউদুল হকের গল্পগ্রন্থ ‘বৃক্ষচারী’ !!!

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png