থ্রিলার বইয়ের জগৎ কাঁপিয়ে আজও সমান জনপ্রিয় যারা

থ্রিলার

এই সময়ের তরুণ যুবক, অন্য কথায় বলতে গেলে নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোররা গল্পের বই পড়েছেন, কিন্তু ‘তিন গোয়েন্দা‘ থ্রিলার বা থ্রিলারধর্মী বই পড়েননি এমন ক’জন খুঁজে পাওয়া যাবে? এবার আরো এক প্রজন্ম আগে থেকে যদি হিসেব করি, ‘মাসুদ রানা‘ সিরিজের জনপ্রিয়তা তখন থেকে।

জনপ্রিয়তার তুমুল পর্যায়ে একটা সময় পর্যন্ত অনেকেই ধারণা করতে পারত না এসব বই ইংরেজী বইয়ের ছায়াবলম্বনে রচিত। হ্যাঁ, অনুবাদের মান বা ধরনটা সেরকমই রাখা হত বলেই। তাছাড়া এসব সিরিজকে হুবহু অনুবাদ বললেও ভুল হবে, কেননা মূল গল্পের অনেক কিছুতেই বদল আনা হয়েছিল সিরিজের ধারায় আনতে। সেক্ষেত্রে কোন বইয়ের কাহিনী কোন ইংরেজী উপন্যাসের তা যেমন বইয়ে উল্লেখ করা হয়নি, লেখক নিজে কখনো তা মৌলিক বই বলেও দাবি করেননি। তবে অনুবাদ বইয়ের বাজারে আছে আরও অনেক থ্রিলার বই, যেসব বই দূরন্ত শিশু-কিশোরদের বই পড়তে শিখিয়েছে, টান টান উত্তেজনার আকর্ষণে আটকে রেখেছে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত।

fwerf

বইপোকাদের একাল-সেকালে তফাৎ বেশ ভালোই আছে। একটা সময় বাংলা থ্রিলার এর নাম আনতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম উঠতো সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা‘ কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা‘ সিরিজের। কারণ ছিল পেপারব্যাক বইয়ের সহজলভ্যতা। যেসময় বাস ভাড়া, টিফিনের টাকা বাঁচিয়েই সিরিজের সবক’টা বই সংগ্রহে এনে ফেলত বইপোকারা। কীসের নেশায় একেকটা সিরিজের বইয়ে ভরিয়ে ফেলত বুক শেলফ? সেটা জানতে হলে সত্যিই সিরিজগুলোতে ডুব দিয়ে আসা ছাড়া উপায় নেই। একবার এই নেশার জগতে ঢুকে পড়লে সত্যিই বেরোনো মুশকিল।

অন্যদিকে, এখনকার সময়ের ঝা চকচকে শক্ত মলাট আর হোয়াইট প্রিন্ট কাগজের মোটা মোটা বইগুলো হয়তো দামের কারণেই পেপারব্যাক সিরিজ কিনে পাল্লা দিতে থাকা মধ্যবিত্ত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আর ওভাবে টানে না। তাছাড়া ইন্টারনেটের সুবাদে অনলাইনেই তারা পাচ্ছে নানা মুভি ও বইয়ের সন্ধান, যা থ্রিলারপ্রেমীদের ইন্টারনেটমুখী করে দিচ্ছে। তবে হার্ডকপি থ্রিলার নিস্তব্ধ দুপুর বা নিঃসঙ্গ রাতে যে আনন্দ আর শিহরণ দেয়, তা কি স্ক্রিনের আলোয় পিডিএফ পড়ে পাওয়া সম্ভব? আর থ্রিলার পড়ার প্রতি কিশোর-কিশোরীদের আগ্রহও চিরায়ত। থ্রিলারে যদি খাসা অনুবাদেই যেতে হয় বেশ কিছু বইয়ের নাম না বললেই নয়। যেমন- ড্যান ব্রাউনের ‘দা ভিঞ্চি কোড‘ ও ‘অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমনস‘। বিখ্যাত ব্লকবাস্টার হিট হলিউড ছবির সুবাদে এই নামগুলো থ্রিলারপ্রেমী সবারই কম-বেশি জানা, কিন্তু বাংলা বইপ্রেমীদের জন্য আরেকটু বাড়তি খুশি এনে দিয়েছে এই বইগুলোর বাংলা অনুবাদ।

নিজের লেখনীশক্তির মাধ্যমে পাঠকদের এক অন্যরকম মায়াজালে আটকে রাখেন ড্যান ব্রাউন; Photo: moneyinc.com

এছাড়াও অরিজিন‘, ‘দ্য লস্ট সিম্বল‘, ‘ডিসেপশন পয়েন্ট ইত্যাদিও রয়েছে ড্যান ব্রাউনের বইয়ের মাঝে বাংলা অনুবাদের তালিকায়। আর্ন্তজাতিক বেস্টসেলার খুঁজতে গেলে উঠে আসবে গ্রাহাম ব্রাউন এর ‘দ্য মায়ান কনস্পিরেসি‘ এর নাম। বইয়ের গল্পটি গড়ে উঠেছে আমাজনের গহীনে মানবজাতির সবচেয়ে মারাত্মক গোপন রহস্য উদ্ধারের অভিযানকে কেন্দ্র করে। বইটি সম্পর্কে একটি বাক্যে যদি বলতে হয়, তবে এটি রোমাঞ্চসন্ধানী দুর্দান্ত এক অভিযান, যেখানে ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার, ফিকশন সব রকম স্বাদই পাওয়া যাবে।

terf

টেস গেরিটসেন এর দ্য সার্জন অন্যদিকে অনুদিত থ্রিলার হিসেবে আরেক মাস্টারপিস। মূল চরিত্রে পাওয়া যাবে মেডিকেল জ্ঞানে দক্ষ, কিন্তু সাইকো এক লোককে, যে কি না রাতের বেলায় ঘুমন্ত অবস্থাতে আক্রমণ করছে মেয়েদের। ভয়ঙ্কর এই খুনি এমনভাবে মেয়েদের শরীরে সার্জারি করে খুন করে যে, সবাই এই সাইকোর নাম দিয়েছে ‘সার্জন‘। কেন করছে সে এই খুনগুলো? শেষ পর্যন্ত কি ধরা পড়বে সে? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। পরিশেষে বলতে গেলে, একদম মেদহীন, খুঁতবিহীন ঝরঝরে থ্রিলার, যা পড়ে আপনি একেবারেই হতাশ হবেন না।

টেস গেরিটসেন; Photo: tessgerritsen.com

জিম বুচার এর ‘ড্রেসডেন ফাইলস- স্টর্ম ফ্রন্ট‘ আরেক অনূদিত থ্রিলার, যা গড়ে উঠেছে হ্যারি ড্রেসডেন, শহরের একমাত্র জাদুকর গোয়েন্দাকে ঘিরে, যে কি না পুলিশের হাতে আসা এমন কেস, যেটার জট যুক্তি দিয়ে খোলা সম্ভব নয়– সেসব কেসের সমাধান দিয়ে থাকেন। এমনকি অতিপ্রাকৃত শক্তির হাতে জিম্মি মানুষদেরও সাহায্য করেন হ্যারি। হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে কঠিন কেসে জড়িয়ে পড়েন হ্যারি। ভয়ংকর নিষ্ঠুর এবং বুদ্ধিমান এক শত্রুর মোকাবেলা করতে হয় তাকে। কিন্তু সেখান থেকে তিনি কীভাবে বেরিয়ে আসেন জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। ফ্যান্টাসি ঘরানার হলেও থ্রিলারপ্রেমীরা একেবারেই হতাশ হবেন না; বইটির ভাঁজে ভাঁজে এতগুলো মোচড় রয়েছে কাহিনীর!

gher

সিডনি শেলডন এর ‘দ্য নেকেড ফেইস‘ থ্রিলারের জগতে আরেক মাস্টারপিসের নাম। শুরুতেই একজন সাইকো অ্যানালিস্টের সাথে সম্পর্ক আছে এমন দুজন একই দিনে খুন হয়ে যায়, যার দরুন সন্দেহের তীরটা পুলিশ তার দিকেই তাক করে। কিন্তু পরের অধ্যায়েই বোঝা যায়, তার নিজের জীবনই বিপন্ন। জীবন বাজি নিয়ে সে আসল খুনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে থাকে। আর তারপর কী হয়? সেই আকস্মিকতার স্বাদ পেতে হলে পড়তে হবে বইটি। যারা থ্রিলার ভক্ত তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন- থ্রিলার তৈরিই করা হয় সেভাবে যা একবার পড়া শুরু করলে আপনি সেই টান টান উত্তেজনা ছেড়ে উঠতে পারবেন না। আর একটা-দুটো বই নিয়ে থ্রিলারের শীর্ষ তালিকা করে রিভিউ লেখাও সম্ভব না, কেননা প্রত্যেকটি বইয়েই রোমাঞ্চের ধরন ও মাত্রাটা ভিন্ন। আর কথা যদি হয় অনুবাদ করা বিদেশি থ্রিলারের, তবে বলাই বাহুল্য, বিশ্ববিখ্যাত থ্রিলারগুলোর পাঠক জনপ্রিয়তাই তাদেরকে অনুবাদ হয়ে অন্য ভাষায় ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।

সিডনি শেলডন; Photo: Sala Literária

তাই বেশি বেশি বই পড়ুন এবং তৈরি করুন আপনার পছন্দের থ্রিলারের টপ লিস্ট। একঘেয়ে জীবনে বইয়ের পাতার মোচড়গুলো হয়তো নতুন রঙ এনে দেবে আপনার জীবনে।

থ্রিলার বইসমূহ থেকে আপনার পছন্দেরটি বাছাই করতে ক্লিক করুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png