যে ৯ টি আত্মজীবনী জীবনে ১বার হলেও আপনার পড়া উচিৎ

2

1434

যে ৯ টি আত্মজীবনী জীবনে ১বার হলেও আপনার পড়া উচিৎ

  • 0
  • #বই রিভিউ
  • Author: rokomari
  • Share

যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে এসেছেন অনেক ব্যক্তিত্ব যারা নিজেদের প্রতিভাকে কোন না কোন মাধ্যমে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন সকলের কাছে। হয়তো কাজের মাধ্যমে, লেখনীর মাধ্যমে কিংবা অন্যকোন সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে। তবে তাদের সবাইকেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে আর সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পার হতে হয়েছে লম্বা একটা জীবন। জানতে হয়েছে জীবনের অসহ্য রকমের সুখ আর যন্ত্রণাকে। স্বাদ পেয়েছেন তারা জীবনের সবচাইতে আলো আর অন্ধকারের সময়গুলোকে খুব কাছ থেকে। ভেবেছেন সেগুলোকে নিয়ে নিজেদের মত করে। আর নিজের সেই জানা সময় আর স্মৃতিকে তারা কেবল নিজেদের ভেতরেই আবদ্ধ রাখতে চাননি, তাই আসুন দেখে নেই রকমারি ডট কম নির্বাচিত অসাধারন কিছু আত্মজীবনী যা আপনার ১ বার হলেও অবশ্যই পড়া উচিৎ।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

ছবিঃ রকমারি ডট কম

২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়। খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাঁকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেনও, এই বইটি তার সাক্ষর বহন করছে।

কারাগারের রোজনামচা ঃ বঙ্গবন্ধুর লেখা আরো একটি অনবদ্য বই।

বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, লেখকের বংশ পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। আছে লেখকের কারাজীবন, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণীর কথা, যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সকল দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন। একইসঙ্গে লেখকের চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

পড়ুনঃ বইটি নিয়ে জাফর ইকবালের রিভিউ

উইংস অফ ফায়ার

ছবিঃ রকমারি ডট কম

মাত্র ২০২ পৃষ্ঠার বইটি যারা পড়েছেন তাদের জন্য নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু যারা বইটি পড়েননি তাদের জন্য এই বই । কিছু কিছু সাহসী মানুষের জীবনকথা কখনও কখনও ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়নি ঠিকই, কিন্তও এসব নীরব মানুষই তাদের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে জাতির প্রগতিকে কয়েক প্রজন্ম এগিয়ে দিয়েছেন। বইটির ভাষা খুব সরল ও সুখপাঠ্য। এ পি জে আবদুল কালাম ইচ্ছে করেই ছোট ছোট বাক্যে এবং কমিউনিকেটিভ স্ট্যাইলে লিখেছেন। পড়তে পড়তে মনে হয় যেন তিনি পাঠকের সঙ্গে কথা বলছেন। ভারতের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষের খেতাব অর্জন করা এই মহান মানুষটির আত্মজীবনী পাঠকদের, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই।

এপিজে আব্দুল কালামের নির্বাচিত সকল বইয়ের লুক ইনসাইডদেখুন রকমারিতে

এই বইয়ের শেষ দিকে আবদুল কালাম তাঁর তৈরি অগ্নি, পৃথ্বী, আবাশ, ত্রিশূল ও নাগ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নেপথ্য-কাহিনী শুনিয়েছেন। তবে তিনি তাঁর আবেগ ও অনুভূতিকে দিব্যি চেপে গেছেন। তিনি যে কেন চিরকুমার হয়ে কাটিয়ে দিলেন, তার উত্তর দিলেন না। সাধারণত জীবনীমূলক গ্রন্থে একজন ব্যক্তিকে আমরা যেভাবে পাই, এখানে সেভাবে আবদুল কালাম আমাদের সামনে আসেন না, তবুও বলা যায় এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’- এমনটি ঘটেনি এ পি জে কালামের বেলায়। তাঁকে সব কিছু সংগ্রাম করে অর্জন করে নিতে হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় এয়ার ফোর্স অফিসার হওয়া হলো না- ভেঙে পড়লেন তিনি। বরং বলা যায় এই বই তাদের জন্য ঘুরে দাড়াতে চায়… বইটির ইংরেজী ভার্শন এই লিঙ্কে

লং ওয়াক টু ফ্রিডম

কালো রঙের মানুষের সবুজ রংয়ের দেশের কথা। তার মাঝে অতি সাধারন মানুষের জীবন। এত সাধারণ, যা ভাবাই যায় না। সাদা চোখে দেখা মানুষ কি শুধুই একজন মানুষ, নাকি এর মধ্যে অন্য কিছু আছে? যে শিশু আজ আমার আংগীনায় ঘুরে বেড়াই তার মধ্যে কি আছে? সে কি প্রকৃতির সন্তান নাকি আমার? সে কি প্রভুর কাছে থেকে কিছু নিয়ে এসেছে এই জগত দুনিয়ার কল্যানের জন্য? কে এই শিশু যে আমার চারিদিকে ঘুরে ঘুরে সবুজের সাথে খেলে যায়? আপন মনে ভাংগে আর গড়ে? প্রকৃতি আর মায়ের কাছে থেকে সে কিভাবে ভালবাসতে শিখে?-আমি কয়েকদিন ধরে এভাবেই ভেবেছি অবাক হয়ে? শুধু অবাক হয়েছি…কখনো মনে হয়েছে আমি অবসেসড (Obsessed) হয়ে গেছি এমন চিন্তাধারার মধ্যে- কিভাবে বায়বীয় চিন্তাধারার একটা শিশু বেড়ে ওঠে? কিভাবে সে নিজের মধ্যে মানব স্বত্তা খুজে পায়,  নিজের মধ্যে নিজেকে ধারণ করে? কিভাবে সে স্বত্ত্বার সাথে কথা বলা শেখে? কখন জানতে পারে শুধু সাফল্য পাওয়ার জন্য তার জন্ম হয়েছে এ পৃথিবীতে? আবার কখন বা হাজারো দারিদ্র আর বাস্তবতার আঘাতের মধ্যেও মানুষের জন্য দেখা স্বপ্নকে বাচায়ে চলে?

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’কে পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী বলা যায়? জবাব ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটোই হতে পারে। হ্যাঁ— কারণ তিনি যে সময়টাকে ধারণ করতে চেয়েছেন; শৈশব থেকে শুরু করে ২৭ বছরের কারাবন্দি জীবন এবং মুক্তি— তার পুরোটাই কমবেশি এতে লিখেছেন। না— এটি অসমাপ্ত, সে কারণেই নেলসন ম্যান্ডেলা ‘কনভার্সেশন উইথ মাইসেলফ’ প্রকাশ করতে হয়েছে। অপরাহ উইনফ্রেকে দেয়া সাক্ষাত্কারে আরো কিছু কথা বলতে হয়েছে। কারামুক্তির পর সদ্য স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকাকে একটি শক্তিশালী স্টেট হিসেবে দাঁড় করিয়ে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে থেকে কত দ্রুত নিজেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরিয়ে নিতে হয়, সেসব কথার আভাস হয়তো রয়েছে কিন্তু আত্মজীবনী হিসেবে চিহ্নিত ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ গ্রন্থে এ বিবরণী আসেনি, আসার কথাও না। না বলা আরো কথার একই রকম আরো একটি গ্রন্থ যোগ হলে হয়তো পূর্ণাঙ্গ মনে হতো।

অটোবায়োগ্রাফি

পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (১৪ই নভেম্বর, ১৯৮৯—২৭শে মে, ১৯৬৪) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পন্ডিত এবং কূটনীতিবিদ নেহরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। লেখক হিসেবেও নেহরু ছিলেন বিশিষ্ট। ইংরেজীতে লেখা তাঁর তিনটি বিখ্যাত বই- ‘একটি আত্মজীবনী'(An Autobiography), ‘বিশ্ব ইতিহাসের কিছু চিত্র'(Glimpses of World History), এবং ‘ভারত আবিষ্কার'(The Discovery of India) চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। তার পিতা মতিলাল নেহেরু একজন ধনী ব্রিটিশ ভারতের নামজাদা ব্যারিস্টার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর তত্ত্বাবধানে নেহেরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীকালে তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ও দৌহিত্র রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পন্ডিত জহরলাল নেহেরুর অন্যতম আলোচিত একটি বই হচ্ছেঃ মেয়ের কাছে বাবার চিঠি , যা বেশ কয়েকবার রকমারি ডট কম-এ বেস্টসেলার ছিলো।

রকমারি ডট কম-এর বেস্টসেলার সকল বই দেখুন এই লিঙ্কে

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

আনা ফ্রাঙ্কের ডাইরী” দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের নির্মমতার ইতিহাস তুলে ধরার অসাধারন রচনা এই বইটি।আনা ফ্রাঙ্ক নামে এক কিশোরী ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তাঁর দিনলিপিতে বর্ণনা করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা৷ গেস্টাপোর হাত থেকে রক্ষা পেতে দু’বছর আত্মগোপন করে থাকতে হয় তাঁকে৷ তখনকার আশেপাশের ঘটনাবলীকে সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখেছেন আনে৷ লেখায় প্রকাশ পেয়েছে কিশোরী মনের চিন্তাধারা, গেস্টাপোর প্রতি ভীষণ ভীতি এবং তাঁর একাকিত্বের কষ্ট৷ এক জন বান্ধবীর অভাব খুব বেশি অনুভব করেছেন তিনি, প্রায় সারা জীবনই৷ তাই নিজের ডায়েরির নাম দিয়েছিলেন ‘কিটি’৷

২য় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লিখিত বইগুলোর লিস্ট দেখুন

এই কিটিই ছিল তাঁর একমাত্র বন্ধু৷ কিটিকে তিনি প্রথমদিকে তাঁর জীবন এবং পরিবার সম্পর্কে বলেছেন৷ আবার বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন৷ সে সময় ইহুদিদের দুর্দশা ও নাৎসি বন্দী শিবিরে তাঁদের নির্মম পরিণতি সম্পর্কে তাঁর গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন৷কিন্তু পনরো বছর বয়সেই তার ডায়েরি লেখায় ইতি টানতে হয়েছিল।তখন হিটলার ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। অনেক ইহুদি প্রাণ বাঁচাতে জার্মানি ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিচ্ছেন। ১৯৩৩ সালে অটো ফ্রাঙ্কও জার্মানি ছাড়েন। আনা তখন চার বছরের শিশু।  শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। ১৯৪১ সালে হিটলার হল্যান্ডও দখল করলেন। ইহুদিদের উপর অত্যাচার শুরু হল। অসংখ্য ইহুদিদের পাঠান হল বন্দি শিবিরে। তখন অটো ফ্রাঙ্ক নিজেদের বাড়ির পেছনে গোপন আস্তানায় আশ্রয় নেন স্বপরিবারে। আনার বয়স তখন ১৩ বছর ২ মাস। সদ্য কিশোরী, চোখে তার নতুন নতুন রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু ঘরে বন্দি হয়ে দেখতে হচ্ছিল নৃশংস যুদ্ধ। একের পর এক কাছের মানুষকে হারাতে হচ্ছিল চোখের সামনেই। শেষ পর্যন্ত কিশোরী আনাও রক্ষা পেল না। সব স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো তার।জার্মানির বারগান বেলসন বন্দি শিবিরে ১৫ বছর বয়সে ১৯৪৫ সালে মারা যান আনা ফ্রাঙ্ক। মৃত্যুপুরী থেকে ফিরতে পেরেছিলেন একমাত্র অটো ফ্রাঙ্ক। তিনিই আনার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন, ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ নামে। যারা এই বইটি যারা পড়নি, তাদের বলব, পড়ে ফেলো এক্ষুনি।

এ ডক্টর ইন দ্য হাউস : তুন ডা. মাহাথির মোহামাদের স্মৃতিকথা

ছবিঃ রকমারি ডট কম

‘আমাকে দশজন যুবক দাও, আমি মালয়ীদের সাথে নিয়ে বিশ্বজয় করে ফেলবো’- এমনি আদর্শিক চেতনা নিয়ে মালয়েশিয়ার নতুন প্রজন্মকে স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছেন যেন, তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে উন্নতির শিখরে পৌছে দিয়েছেন মালয়েশিয়াকে। শুধু একজনের উদার, আদর্শিক যোগ্য ভিশনারি নেতৃত্ব আর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে মালয়েশিয়ানদের জীবন চিত্র।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মাহাথিরের আগ্রহ ছিল সুগভীর। তাই একটি জাতির উন্নয়নে শিক্ষার ভ‚মিকা কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। সরকারি নীতি এবং
বেসরকারি বিনিয়োগের মাঝে তিনি একটি সমঝোতা এবং সখ্য গড়ে তুলতে পেরেছিলেন তিনি।

মালয়েশিয়া যখন স্বাধীন হয় তখন তাদের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ছিলোনা। এজন্য ব্রিটিশ জনপ্রশাসককে ৩-৫ বছর রেখে দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় দক্ষ কর্মকর্তা তৈরি করেন। সবক্ষেেত্র তিনি বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
করে মাত্র সাড়ে চার বা পাচ দশকে মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব জাতীয় জীবনের সব স্রোতধারাকে সম্মিলিত করে রূপান্তরিত করেছে স্রোতস্বিনীতে। একারণে বিশ্ব রাষ্ট্রনায়কদের তালিকায় অক্ষয়, অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে ড. মাহাথির মোহাম্মদের নাম। এটা অন্যতম সহজপাঠ্য আত্মজীবনী

মাইন ক্যাম্ফ

মাইন ক্যাম্ফ’ বইটি প্রথম ১৯২৫ সালে, হিটলার ক্ষমতায় আসার আট বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসি বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর বইটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সঙ্গে বইটির স্বত্ত্ব তুলে দেওয়া হয় বাভারিয়া রাজ্যের হাতে। কিন্তু জার্মান কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, প্রকাশনার স্বত্ত্ব ৭০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে।

হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ভাইমার প্রজাতন্ত্রে নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব লাভ করেন। অভ্যুত্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন যে কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ইহুদি বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা ছড়াতে থাকেন। এভাবেই এক সময় জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। নাৎসিরা তাদের বিরোধী পক্ষের অনেককেই হত্যা করেছিল, রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজিয়েছিল, সামরিক বাহিনীকে নতুন নতুন সব অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করেছিল এবং সর্বোপরি একটি সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। হিটলার এমন একটি বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন যাতে সকল “লেবেনস্রাউম” (জীবন্ত অঞ্চল) দখল করে নেয়ার কথা বলা হয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানরা পোল্যান্ড অধিকার করে এবং ফলশ্রুতিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

পড়ে দেখুনঃ যে ৯ টি বই উদ্যোক্তাদের অবশ্যই পড়া উচিত

স্টিভ জবস

তথ্য-প্রযুক্তির আজকের এই যুগে অ্যাপল কম্পিউটার, আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাইপড  এই শব্দগুলোর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এইসব যুগান্তকারী জিনিসের উদ্ভাবক কলেজের গণ্ডি পেরুতে না পারা একজন। নাম তাঁর স্টিভেন পল জস্‌, যিনি স্টিভ জবস্‌ নামে সুপরিচিত। তাঁর রয়েছে একক এবং যৌথভাবে ৩৪২টি পণ্যের পেটেন্ট! কিংবদন্তী এই উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবককে পারসোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়।

স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার, সবখানেই আছে তার পথচলা। শুধু এখানেই নয়, অ্যানিমেশন দুনিয়াতেও তিনি একজন অগ্রদূত। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তিনি এক মহা দার্শনিক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন।

ফ্রম থার্ড ওয়াল্ড টু ফাস্ট (লী কুয়ান ইউ র আত্মকথা)

লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকারের হয়ে কাজ করে গেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করে তুলেছিলেন এবং এর আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছিলেন।

লি কুয়ানের মতে ডেভলপিং দেশ যেভাবে উন্নত হইতে পারে

১. সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখা

২. লোকদের শিক্ষিত করা

৩. প্রতিবেশীদের সাথে সু সম্পর্ক বজায় রাখা

৪. ইনভেস্টরদের আত্মবিশ্বাস আনতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা

 

 একটা দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান যেসব মূল বিষয়ের উপর নির্ভর করে:

১. জনসংখ্যার অনুপাতে এর প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ

২. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের পরিমাণ

৩. শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মান

৪. সংস্কৃতি, নিয়মানুবর্তীতা এবং লোকদের কাজ করার মানসিকতা ( উৎস্যঃ সাম্প্রতিকডটকম )

যেহেতু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কিছু আছে, মানুষও অনেক আছে তাই এদিক থেকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ছদ্ম গণতন্ত্র, এবং সৎ ও যোগ্য নেতানেত্রীর অভাব এইখানে বর্তমান। এছাড়া শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মান একেবারে নিম্ন। নিয়মানুবর্তীতা এবং কাজ করার মানসিকতা বা উদ্যোক্তা সংস্কৃতি তৈরি করা হয় নাই। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যা হয়েছে তা গ্লোবালাইজেশনের কারণে এবং যতটুকু হওয়া প্রয়োজন ছিল তা হয় নাই। শিল্পায়নের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়।

অন্যতম ও অসাধারন একটি গ্রন্থ হচ্ছে ” লী কুয়ান ইউ এর আত্মজীবনী

 

আরো জনপ্রিয় যে পোস্টগুলো দেখতে পারেনঃ

Write a Comment