অবসর উৎযাপনে সঙ্গী হোক প্রিয় লেখকদের এই ৫ টি বই !

22

1048

অবসর উৎযাপনে সঙ্গী হোক প্রিয় লেখকদের এই ৫ টি বই !

  • 0
  • #বই রিভিউ
  • Author: rokomari
  • Share

অবসর । অলস সময়ের আরেক নাম। কথায় আছে ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। তারমানে অবসর থাকাটা ভালো কিছুকে ইঙ্গিত করে না। এই সময়টাতে শয়তান এসে বাসা বাঁধতে পারে মনে, মস্তিষ্কে। বাজে কাজ করার প্ররোচনা দিতে পারে, ফেলতে পারে বিপদে। তাই অবসর সময়টা ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকভাবেই অলস সময় ব্যয় করা যেতে পারে। তারমধ্যে ভালো একটি উপায় হচ্ছে বই পড়া।

বই চিত্তবিনোদনের মাধ্যম। এটি পড়ে আমরা যেমন আনন্দিত হতে পারি তেমনি করতে পারি জ্ঞান অর্জনও। চিন্তার গভীরতাও বাড়াতে পারে বই। কোনো বিষয়কে নতুন করে ভাবাতেও এটির জুড়ি অভাবনীয়। তাই অবসরের পুরো সময়টাই বই পড়াতে ব্যয় করা একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। যেসব বই আপনার এমন সিদ্ধান্তকে সফল করতে পারে, অবসর সময়ে ভালো সঙ্গী হতে পারে আজ সেসব কিছু বইয়ের সাথে পরিচয় হয়ে নিন-

বরফ ১বরফ গলা নদী

জহির রায়হান 

উপন্যাসটি পারিবারিক কাহিনি দিয়ে সাজানো। একটি পরিবারে যা যা থাকে সবই আছে এখানে। আছে টানাপোড়ন, আধিপত্য, বৈষম্য, আত্মমর্যাদা, প্রেম, খুনসুটি, হাসি-আনন্দ। মাহমুদ ও হাসিনা এই চরিত্র দুটি মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো। এটি অনায়াসেই অবসর উদযাপন করার মতো একটি বই।

লিলাবতি লীলাবতী

হুমায়ূন আহমেদ

সিদ্দিকুর রহমান। বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি। গ্রামের সবাই তাকে শ্রদ্ধাভক্তি করে। সিদ্দিকুরের জীবনে আছে সফলতার গল্প। দুঃখ, হতাশা, নিসঙ্গতাও কম আসেনি পার করে আসা এই ছোট্ট জীবনে। সংসারে সে এখন দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। যৌবননামক অধ্যায়ে সুরমার সাথে বিয়ে হয় তার। মেয়েটি যেমন রূপসী তেমনি বুদ্ধিমতীও ছিল। কিন্তু ঘটনার পরিক্রমায় সুরমা ও সিদ্দিকুর রহমানের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী কন্যা-সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়। এও জানতে পারেন, শিশুটির নাম রাখা হয় লীলাবতী এবং সে তার মামার বাড়িতে বড় হচ্ছে। কিন্তু মেয়েকে তিনি নিজ গৃহে আনার চেষ্টা করেননি তখন। একসময় সিদ্দিকুরের পরিবারে লীলার আবির্ভাব ঘটে। ছোট থেকেই মেয়েটি শুনে আসছে, তারপিতার মতো নিষ্ঠুর মানুষ আর এ জগতে একটিও নেই। পিতা ও কন্যার এমন করুণরসায়ন আপনার অবসরকে মাতিয়ে তুলতে পারে।

সঙ্খনিলশঙ্খনীল কারাগার

হুমায়ূন আহমেদ

উপন্যাসের একটি চরিত্র খোকা, আরেকটি রাবেয়া। ভাইবোন সম্পর্ক দুজনের। এছাড়াও তাদের আরও বোন রয়েছে। বিচিত্রময় সংসার এদের। ঘটনার ঘূর্ণনে সংসারের ছন্দ পতন শুরু হয় বাড়ির অতি অাদরের একটি কন্যার অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। সকল চরিত্র  কাছে থেকেও যেন বহু দূরে ছিটকে চলে যায় একে অপরের। এতগুলো ভাইবোনের সংসারে খোকা একাই থেকে যায় তাদের বাড়িতে। উপন্যাসের শেষে রাবেয়ার চিঠিটা আপনাকে দিতে পারে ভালো লাগার অন্যরকম ফ্লেভার।

আখি ও আমরা আঁখি এবং আমরা ক’জন

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

এই উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্রের নাম আঁখি। অন্য পাঁচ-দশটা বাচ্চা থেকে সে পুরোপুরি আলাদা। আঁখিকে নিয়ে ক্লাসের সবার মাতামাতি। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে সবাই মিলে ঘুরতে যায় কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবন। সেখানে একটা চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা। আঁখি ও তার বন্ধুরা কীভাবে উদ্ধার হয় এমন শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনি পড়তে পড়তে আপনার অবসর হয়ে উঠতে পারে ঝলমলে।

ট্রেন ত ট্রেন টু পাকিস্তান

খুশবন্ত সিং

উপন্যাসটি ৪৭ এর দেশ-ভাগ-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা। দেশ-ভাগের রোষানলে পড়ে হিন্দু-মুসলমান অনেকেই নিঃস্ব হয়ে যায়। হারাতে হয় চোখের সামনেই প্রিয়জনকে। কিন্তু এসব সহিংসতার ছোঁয়া পায়নি মনোমাজরা গ্রাম। যেখানে হিন্দু, মুসলমান, শিখ একসাথে বসবাস করে। জুগগা, এই গ্রামেরই এক ডাকাতের নাম। ভালবেসে ফেলে এক মুসলিম মেয়েকে। ভালবাসাই তাকে বদলে দেয়। কিন্তু সেসময় গ্রামে ভয়াবহ ডাকাতি হয় এবং খুনের শিকার হয় একজন। জেলা ম‍্যজিস্ট্রেটের আদেশে জুগগাকে খুন ও ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপরের কাহিনি দূর করে দিতে পারে আপনার অবসরের সকল অবসাদ।

আরও পড়ুনঃ 

দুনিয়া মাতানো যে ১০ বই অবশ্যই পড়া উচিত !

একাকীত্ব উদযাপন করতে পারেন যে ৬টি বই পড়ে!

Write a Comment

Related Stories