বিশ্ববিখ্যাত কোটিপতিরা উদ্যোক্তা এবং দক্ষ কর্মীদের যে ১০ টি বই পড়তে বলেন

বিলিয়নিয়ারদের পঠিত ১০টি বই

গবেষণায় উঠে এসেছে, ৮৮ শতাংশ ধনবান ব্যক্তিত্ব প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট তাদের সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের ১০টি বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন। বিলিয়নিয়র যারা তারা শুধু উদ্যোক্তাদের বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন না, নিজেরাও বই পড়তে পছন্দ করেন। যেমনঃ বিল গেটস প্রতি সপ্তাহে ১ টি বই পড়েন, বছর শেষে প্রায় ৫০ টির মত বই পড়ে শেষ করেন। পড়া শেষে আবার নিজের ওয়েবসাইটে সেই বইগুলোর রিভিউ প্রকাশ করে থাকেন। আবার বই পড়াকে অন্য লেভেলে নিয়ে গিয়েছেন ওয়ারেন বাফেট, তিনি দিনের ৮০ ভাগ সময় ব্যায় করেন বই পড়ার পিছনে।

এখানে উল্লেখ্য বইগুলো যে কোনো উদ্যোক্তার জীবনে অসাধারণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা মনে করেন। সুতরাং, তাদের জীবনে যদি ফলপ্রসূ হয়, তাহলে আপনার জীবনে নয় কেন?  সাক্ষাতকারে পৃথিবী বিখ্যাত ধনবান ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, তাদের মন, মানসিকতা, পেশাজীবন ও ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে বইগুলোর বিশেষ ভূমিকা ছিলো। বিশ্ববিখ্যাত সেইসব কোটিপতিদের দেয়া তালিকা থেকেই তুলে ধরা হলো ১০ টি বই, যেবইগুলো উদ্যোক্তা এবং দক্ষ কর্মীদের অবশ্যই পড়া উচিৎ। তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায় শ্রেণিকে মাথায় রেখে এই প্রবন্ধে বইগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো।

থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ
থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ – নেপোলিয়ন হিল

১০।   থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ

নেপোলিয়ন হিল

আলোচ্য বইয়ের মধ্যে লেখক ৫০০ ব্যবসায় মোঘলদের উদ্যোক্তা জীবনের সংগ্রাম তুলে ধরেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ-আমেরিকান ব্যবসায় সম্রাট আন্ড্রু কার্নেগী (১৮৩৫-১৯১৯)। বিশ্বখ্যাত ফোর্ড ফোর্ড মটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হেনরী ফোর্ড (১৮৬৩-১৯৪৭), আমেরিকান স্টিল ম্যাগনেট চার্লস এম. শোয়াব (১৮৬২-১৯৩৯)-সহ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। ১৯৩০-এর দশকে বিশ্বমন্দা শুরুর আগেই পৃথিবীতে তারা ব্যবসায় শিল্পে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান ও পৃথিবীর যন্ত্রসভ্যতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তিত্বে মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। নেপোলিয়ন হিল বইটিতে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে, সিদ্ধান্ত কিভাবে নিতে হবে এবং মানস গঠনের কার্যকর পদক্ষেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিজনেস অ্যাডভেঞ্চার
বিজনেস অ্যাডভেঞ্চার – জন ব্রুকস

০৯।  বিজনেস অ্যাডভেঞ্চার

জন ব্রুকস

যে কোনো ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা লাভ করা। তবে, ব্যবসায়কে দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য আপনাকে বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করতে হবে। বইটিতে লেখক পৃথিবীখ্যাত সেইসব ধনকুবেরদের ব্যবসায় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষত বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের ব্যবসায় জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে এখানে কেস স্টাডির মতো ব্যবহার করা হয়েছে। বইটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি বাজারি ৯০টা বইয়ের মতো নয়। বরং এতে লেখকের যেমন পাণ্ডিত্য বুঝা যায়, তেমনি ব্যবসায় মোঘলদের বাস্তব জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ ছবির মতোই একজন উদ্যোক্তার কাছে উঠে আসবে।

দ্য লিটল বুক অব কমন
দ্য লিটল বুক অব কমন সেন্স ইনবেস্টিং – জন সি বগলে

০৮।  দ্য লিটল বুক অব কমন সেন্স ইনবেস্টিং

জন সি বগলে

জন সি বগলে ভ্যানগার্ড গ্রুপের একজন স্বনামধন্য লেখক। আলোচ্য বইটিতে তিনি বিনিয়োগের মৌলিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু বিষয়গুলো যে কোনো উদ্যোক্তার জীবনে অপরিহার্য শিক্ষণীয়। বিশেষত ব্যবসায় শুরু করার আগে যেসব বিষয়ে ধারণা থাকা অপরিহার্য সেগুলো বইটিতে খুবই সহজবোধ্য ভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন।

টোলস অব টাইটানস
টোলস অব টাইটানস – টিম ফেরিস

০৭।  টোলস অব টাইটানস

টিম ফেরিস

টিম ফেরিস আলোচ্য বইয়ে ধনকুবের হওয়ার কৌশল বাতলে দিয়েছেন। বর্তমান গতিশীল বিশ্বের অর্থনীতি মূলত কতিপয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্যবসায় জগতে বিনিয়োগের পরিবেশ এখন অনেক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তেমনি বিনিয়োগ জগতও অতীতের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। বাজারের রুচি, চাহিদা ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগসংক্রান্ত সবকিছুই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তগ্রহণের দাবি রাখে। বইটিতে টিম ফেরিস বিনিয়োগের এরূপ পরিবেশে সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কতিপয় পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন বেবিলন
দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন বেবিলন – জর্জ এস. ক্লাসন

০৬।  দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন বেবিলন

জর্জ এস. ক্লাসন

গত দুয়েক শতাব্দীতে ব্যবসায় ধরণে ব্যাপক পাল্টে গেছে। বিশেষত শিল্প বিপ্লবের ফলে ব্যবসায় শিল্পে বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে ব্যবসায় জগতের পরিসর বেড়েছে। এসব কারণে ক্রেতাদের রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। টেলিযোগাযোগ, আকাশপথ ইত্যাদির সহজলভ্যতার কারণে ব্যবসায় কোনো বিশেষ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলে ব্যবসায় উন্নতি কিংবা অবনতির সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসায়ের এসব রসায়নের পরিবর্তন, বিবর্তন ঘটলেও মৌলিক নিয়ম, নীতি এখনও অপরিবর্তনীয়। এসব বিষয় সর্বযুগে, সবমহলে একই ধরণের প্রভাব ফেলে। ৮০০০ বছর আগের ব্যাবিলন শহরের এধরণের কতিপয় অর্থনৈতিক নীতিকৌশল নিয়ে বইটিতে জর্জ এস. ক্ল্যাসন আলোচনা করেন, যার জন্য তিনি পাঠক ও সমালোচকদের কাছে বিপুল প্রশংসিত হন।

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড
রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড – রবার্ট তরু কিয়োসাকি

০৫।  রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড

রবার্ট তরু কিয়োসাকি

বইয়ের লেখক রবার্ট তরু কিয়োসাকি একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী ও লেখক। তিনি রিচ ড্যাড কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা। এই প্রতিষ্ঠান বই ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ব্যবসায় জ্ঞান ও দক্ষতা সরবরাহ করে। রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইটি মূলত তার ব্যক্তিগত ব্যবসায় জীবনের উপর ভিত্তি করে লিখিত। বইটিতে তিনি ফাইন্যান্সিশিয়াল শিক্ষা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়, ফাইন্যান্সিশিয়াল স্বাধীনতা, ব্যবসায় পরিচালনা, ফাইন্যান্সিশিয়াল বুদ্ধিমত্তাসহ ইত্যাদি ব্যবসায় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায় জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে নীতিবাক্যের মতো করে (প্যারাবলস) ব্যবসায় পরামর্শ তুলে ধরেছেন।

দ্য অটোমেটিক মিলিয়নিয়ার
দ্য অটোমেটিক মিলিয়নিয়ার – ডেবিড ব্যাচ

০৪।  দ্য অটোমেটিক মিলিয়নিয়ার

ডেবিড ব্যাচ

ডেভিড ব্যাচ একজন উদ্যোক্তা ও লেখক। তিনি FinishRich.com.-এর প্রতিষ্ঠাতা। বইটিতে নগদ অর্থ বিপথে পরিচালিত হলে কি পরিণাম হতে পারে তা তুলে ধরেছেন। লেখক নিজেও একজন উদ্যোক্তা ছিলেন। তাই, বইটিতে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেয়ে তার অভিজ্ঞতার বেশি প্রতিফলন দেখা যায়। বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের উপর গুরুত্ব প্রদান করা। তিনি প্রতিদিন কিছু না কিছু অর্থ জমা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রতিদিন কিছু না কিছু অর্থ জমা রাখার মধ্যদিয়ে বছরের পর বছর এর পরিমাণ কি গতিতে বৃদ্ধিলাভ করে। বইটি পড়ে যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে অভাবনীয় উৎসাহ, উদ্দীপনার সঞ্চার করবে। ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিদিন কিভাবে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই পরামর্শ বইটিতে পাওয়া যাবে।

হাউ রিচ পিপল থিংক
হাউ রিচ পিপল থিংক – স্টিভ সিবল্ড

০৩।  হাউ রিচ পিপল থিংক

স্টিভ সিবল্ড

বইটি ব্যবসায় মানস গঠনের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ধনবান হওয়ার প্রথম রাস্তা হলো মানসগত পরিবর্তন। একজন ধনকুবের কিরকম মানস লালন করে। তাই, ব্যবসায় শুরু করার আগেই আপনার নিজের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাতে হবে। একজন সাধারণ ও একজন বিত্তবান ব্যক্তির মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য রয়েছে। একজন ধনকুবেরের মানস নিজের দৃষ্টিভঙ্গীতে আনা ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে।

বি অবসেসড্ অর বি অ্যাভরেজ
বি অবসেসড্ অর বি অ্যাভরেজ – গ্রান্ট কার্ডোন

০২।  বি অবসেসড্ অর বি অ্যাভরেজ

গ্রান্ট কার্ডোন

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ব্যক্তিজীবনে কতিপয় নীতির লালন অপরিহার্য। নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগী, ধীরস্থির ও কাজের প্রতি অত্যুসাহী হয়ে উঠা। এছাড়া কার্ডোন বইটিতে গতানুগতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে কতিপয় ভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিয়েছেন। বইটিতে তিনি কতিপয় নিয়মের উল্লেখ করেছেন যা ব্যক্তি জীবনে মানসগত পরিবর্তন ঘটায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবসায় মানস তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

মেকিং দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড-
মেকিং দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড-ভ্যাকলাভ স্মিল

০১।  মেকিং দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড

ভ্যাকলাভ স্মিল

বইটির লেখক ভ্যাকলাভ স্মিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের একজন শিক্ষক। তার মতে, বিশ্বব্যাপী আসবাবপত্র ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরবর্তীতে এর পরিমাণ হ্রাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বিল গেটস অন্যতম প্রিয় লেখক হলেন ভ্যাকলাভ স্মিল। গেটস মনে করেন যে, তার ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে ভ্যাকলাভ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। লেখক উক্ত বইয়ে খুবই তীক্ষ্ণদৃষ্টি সম্পন্ন মন্তব্য হাজির করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমাদেও চাহিদা ও ব্যবহারের পরিমাণ বিশ্ব দরিদ্রদের জীবনমান উন্নতকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা অধিকতর উন্নত করার জন্য বইটিতে তার নির্দেশিত পরামর্শগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

জীবন পরিবর্তন করে দেয়া ১২টি বই

আপনার চিন্তার জগত পালটে দিতে পারে যে ৯ টি বই

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png