অমুসলিম লেখকদের ইসলাম নিয়ে যে ৪টি বই আপনাকে চমকে দেবে

অমুসলিম লেখকদের ইসলাম

শুধু মুসলিম পন্ডিতেরাই ইসলামকে যুক্তি, তথ্য জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সাধনার বলে প্রতিষ্ঠা ও নব জাগরনী তেজ দেয়ার চেষ্টা করেছেন তা নয়। যুগে যুগে কিছু বিরল অমুসলিম প্রতিভা ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে সে আলোর মহিমা গেয়ে গেছেন। তাদের কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কেউ করেননি আবার কেউ সেটা প্রকাশ করে যাননি তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিনা? আসলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই ভালো জানেন তিনি কখন কাকে কি কাজের জন্য কবুল করবেন।

আমরা আজ অমুসলিম লেখকদের লেখা ৪টি জগদ্বিখ্যাত বই নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো বাংলাভাষায় অনুবাদ হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

অমুসলিম লেখকদের ইসলাম - ইসলাম আতংক না আদর্শইসলাম আতংক না আদর্শ

স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য

বছর কয়েক আগে আমি একধরনের সত্য জানলাম। সেটা ছিল দৈনিক জাগরনে ‘দাঙ্গা কেন হয়’ শিরোনামে একটি লেখা পড়ার পর। কারণ এই প্রবন্ধে হিন্দু কুরআন মাজীদে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সংক্রান্ত জন্য কিছু আয়াতকে মুসলিম দাঙ্গা হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে প্রবন্ধে কুরআন মাজীদের সেইসব আয়াতগুলোর উদ্বৃতি দেয়া ছিল। পরে দিল্লি থেকে প্রকাশিত কুরআনের চব্বিশটি আয়াত সম্বলিত একটি পুস্তিকাও কোনো ব্যক্তি আমাকে দিয়েছিল। যেসব আয়াতে মুসলিমদের যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে অন্য দেবতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সেগুলো সে কাগজে ছিল।

এটা পড়ার পর আমার মনে ইচ্ছা হলো যে, আমিও কুরআন পড়ে দেখব। তাই আমি একটি ইসলামী বইদোকানে গিয়ে কুরআনের হিন্দী অনুবাদও পেয়ে গেলাম। কুরআন মাজীদের অনুবাদ থেকে আমি সেসব আয়াত পেলাম যেগুলি ওই চটি বইটাতেও ছিল। এতে করে আমার মনে এক ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হলো যে, ইতিহাসে হিন্দু রাজা ও মুসলিম বাদশাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহ এবং বর্তমানে সংঘটিত দাঙ্গা-হাঙ্গামার কারণ হলো ইসলাম এবং কোরআনের এইসব আয়াত।  আমার মাথায় এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল আর আমি প্রতিটি সন্ত্রাসী ঘটনায় আমি ইসলামের সম্পর্ক দেখতে শুরু করলাম।

আমার মন সত্যি বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। এই বিভ্রান্তিকর মন নিয়ে আমি ধারণা তৈরি করেছি যে, আমার আশপাশে যে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে, তাকে আমি ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলছি। তখন ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান, মুসলিম বাদশাহদের অতীত ইতিহাস এবং আজকের বিভিন্ন জঙ্গিবাদী ঘটনা মিলিয়ে একটি বই লিখেছি, ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস’, যার ইংরেজি অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে। (সিতা কুঞ্জ, লিবার্টি গার্ডেন, রোড নং ৩, মালাদ (পশ্চিম) মুম্বাই ৪০০ ০৬৪ থেকে।

পরবর্তীতে আমি ইসলাম ধর্মের আলেমদের কাছ থেকে জেনেছি যে, ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই। প্রেম, সদ্ভাব এবং ভ্রাতৃ-প্রতীম ধর্ম হলো ইসলাম। কোন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ইসলাম ধর্ম বিরোধী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়াও বা ধর্মাদেশ জারি আছে ইসলামে।

এখন প্রশ্ন হলো, সেসব আয়াত আমি পড়েছি ও সেগুলো এবং তাদের সে অর্থ বা ব্যাখ্যা কোথা থেকে এলো।

এরপর আমি কুরআন মাজীদে থাকা সেসব জিহাদ সম্পর্কিত বাক্যগুলি সম্পর্কে জানার জন্য মুসলিম পন্ডিতদের কাছে গেলাম। তাঁরা আমাকে বললেন কুরআন মজীদের সব আয়াতই তৎকালীন ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে এসেছে। এজন্য কেবল কুরআন মজীদের শুধু অনুবাদ না দেখে বরং সেই সঙ্গে এটাও দেখা দরকার যে, কোন্্ আয়াতটি কোন পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। তাহলেই তার মর্মার্থ ও উদ্দেশ্য বোঝা যাবে এবং কুরআন ও ইসলাম বুঝা সহজ হবে।

এসব আয়াত আসলে এমনসব লোকদের সর্ম্পকে এসেছে যারা সত্যেকে বাঁধাগ্রস্থ করছিল আর ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। সত্য ধর্মের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে কুরআনে জিহাদের নির্দেশ রয়েছে। তারা আমাকে এও বলেছিলেন যে ইসলাম সম্পর্কে না জানার কারণে লোকেরা কুরআনের পবিত্র আয়াতের আসল অর্থ বুঝতে পারে না। কুরআন মাজিদের সাথে সাথে আপনি যদি হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর জীবনী পড়ে নেন তাহলে আপনি আর বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ রসূল (স.) জীবনী হচ্ছে কুরআনের ব্যবহারিক প্রয়োগ।

মুসলিম আলিমদের পরামর্শ অনুযায়ী, আমি প্রত্যেকের সামনে নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)  এর জীবনী পড়ি। তারপর, খোলা ও পবিত্র মন নিয়ে কুরআন মজিদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ি। তখন আমি সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারি। পড়ার পর কুরআন মজীদের সেসব আয়াত আমি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। সত্য অনুধাবনের পর আমি বুঝতে পারলাম যে আমি অজ্ঞাত ও বিভ্রান্ত ছিলাম এবং এজন্যই আমি আমার বই ‘ইসলামিক সন্ত্রাসের ইতিহাস’ লিখেছি। এখন সন্ত্রাস ইসলামের সাথে যুক্ত, একথা ভাবতেই আমার মনে কষ্ট লাগে। এই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, পরিবত্র কুরআন মাজীদ ইসলামের নবী মুহাম্মদ (স.)  এর উপর প্রেরিত করা হয়েছিল। অতএব কুরআনের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবন করার জন্য আল্লাহর প্রেরিত প্রতিনিধ মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটা দরকার।

আমি আল্লাহর কাছে, রসূল মুহাম্মদ (স.)-এর কাছে এবং সমস্ত মুসলিম ভাইদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার অজ্ঞানতাবশত লিখিত ও ব্যক্ত কথাগুলি আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি। জনগণের আছে আমার নিবেদন এই যে ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস’ গ্রন্থে যা কিছু লিখেছি সে সবকে কিছুই মনে করবেন না। মনে করবেন তা বাতিল বা শুণ্য।

অমুসলিম লেখকদের ইসলাম -মুহাম্মদ (স) নিকটতম সূত্র নির্ভর জীবনীমুহাম্মদ (স)/মহানবীর নিকটতম সূত্র নির্ভর জীবনী

মার্টিন লিংগস

মার্টিন লিংগস পশ্চিমা বিশ্বের একজন পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।জন্ম ১৯০৯ সালে  আমেরিকার একটি খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। লিংগস ১৯৩৯ সালে মিশরে গমন করেন। কায়রোতে এক যুগের অধিক সময় বসবাস কালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ভাষার শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। লিংগস ১৯৪৪ সালে ল্যাসলি স্মাল্লির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে মিশর থেকে এসে তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে কাজ নেন। তার লেখা মোহাম্মদ: হিজ লাইফ বেইসড অন দ্যা আর্লিয়ার সোর্স  বইটি ব্যাপক জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত । ১২ মে ২০০৫ সালে এই প্রতিভাবান মানুষটির মৃত্যু হয়।  বইটি ১৯৮৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় তারপর থেকে আজো এটি সমান জনপ্রিয়। বিশ্বের বহুভাষায় অনুবাদ হয়েছে বইটি।  তার এই বইটিকে বলা হয় পশ্চিমা লেখকের লেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বই। যদিও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।  এই বইটা সীরাত গবেষকদের কাছে এবং নিরপেক্ষ লোকদের কাছে একটা শক্ত সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।অমুসলিম লেখকদের ইসলাম -বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞানবাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান

ড. মরিস বুকাইলি

ড. বুকাইলি একজন ফরাসি চিকিৎসাবিদ। জন্ম নেন ১৯২০ সালে। বুকাইলি ১৯৪৫ সাল থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত মেডিসিন বিজ্ঞান চর্চা করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির উপর একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন । ১৯৭৩ সালে, বুকাইলি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিৎসক নিযুক্ত হন। মরিস বুকাইলি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ গবেষক ছিলেন, তবে তিনি কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। অনেকে দাবী করেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো বিশ্বস্তসূত্রে এই তথ্য জানা যায়নি।

তাই বই বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে, বাইবেলে থাকা বৈজ্ঞানিক মতসমমূহে “তাত্বিক ত্রুটি” রয়েছে। যা কুরআনে নেই।. প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহ ও তার ব্যাখ্যায় কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান সামঞ্জস্যপূর্ণ । কুরআন যে ঈশ্বরের শব্দ, উপসংহারে. তিনি যে যুক্তি দিয়েছেন তাতে ২০ শতকের সবচেয়ে সুপ্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাথে কুরআনের বক্তেব্যের মিল দেখিয়েছেন। এই বইটি শুধু বিশ্বময় এক ধাক্কা দিয়েছে তা নয়। সবসময় হিটলিস্টে থাকা বইটি পাঠকের চিন্তার খোরাক মিটিয়ে চলেছে অবিরত। বাংলাভাষায় বেশ কয়েকটি প্রকাশনালয় বইটির অনুবাদ প্রকাশ করেছে।

তোমাকে ভালবাসি হে নবী
‘রাসূলে আরাবী ‘বই এর বাংলায় অনূদিত  ‘তোমাকে ভালবাসি হে নবী ‘বই ।

রাসূলে আরাবী

গুরুদত্ত সিং

গুরুদত্ত সিং ভারতের একজন শিখ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব জ্ঞানের আরাধনায় তিনি ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে তিনি এক পর্যায়ে রাসুল (স) এর জীবনী পড়েন। এবং তিনি এক অনন্য সত্যের সন্ধান পান। যে সত্যকে রাসুল (স) শুধু প্রচার করেন নি। বরং ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারপর তিনি এই বই রচনা করেন।

‘রাসূলে আরাবী’ নামে গুরুদত্ত সিং এর লিখা বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ। নাম তোমাকে ভালবাসি হে নবী (স)| ছোট বইটির বিষয়বস্তু রাসূল সা: এর জীবনীতে সীমাবদ্ধ নয় নবী জীবনের নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কাব্যিক ভাষায় লেখা বইটিতে রাসূল সা: এর দীর্ঘ ৬৩ বছরের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো সংক্ষেপে যে উপমায় লেখক বর্ণনা করেছেন আর অনুবাদক যেভাবে অনুবাদ করেছেন যা খুব সুখপাঠ্য।

ইসলাম নিয়ে লেখা অমুসলিম লেখকদের বই ৪টি বইয়ের কালেকশন কিনতে এখানে ক্লিক করুন  !!

 

আরও পড়ুনঃ

নবদম্পতি কে উপহার দিতে পারেন যে ৫টি বই !

‘নবীজী’ হুমায়ূন আহমেদের একটি অসমাপ্ত গল্প !

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png