এ টেস্ট অব অরিজিনালিটি- খাস ফুড।  পর্ব-১

65

374

এ টেস্ট অব অরিজিনালিটি- খাস ফুড। পর্ব-১

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

মানুষের মৌলিক চাহিদার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) মধ্যে খাদ্য একটি প্রধান ও অন্যতম মৌলিক চাহিদা। জীবন ধারণের জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য। আর এ বিশুদ্ধ খাদ্য সুস্থ ও সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনে একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিশুদ্ধ খাবার প্রাপ্তি কঠিন করে ফেলছে কিছু বিবেকহীন ব্যবসায়ী ও আড়তদার।

১৯৯৪ সালে আমেরিকার এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশ, ফরমালিন ফুসফুস ও গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য ফরমালিনকে দায়ী করে। টেক্সটাইল কালারগুলো খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশের পর এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যার ক্ষতি করে না। তবে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান ক্ষতিগুলো হয় আমাদের লিভার, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জার। ধীরে ধীরে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের বেলায় নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি, তরুণদের কিছুটা দেরিতে।

খাদ্যপণ্য ভেজালের কারণেই দেশে বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেলিউর, হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানি এগুলো অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আর আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রোগীদের লম্বা লাইন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের ‘বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার, কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ। এ ছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা দেশে প্রায় ১৫ লাখ।

কেমিক্যাল মিশ্রিত বা ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে যে উপসর্গগুলো দেখা যায় সেগুলো হলো- পেটব্যথাসহ বমি হওয়া, মাথাঘোরা, মল পাতলা বা হজম বিঘ্নিত মল, শরীরে ঘাম বেশি হওয়া এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া, পালস্ রেট কমে বা বেড়ে যেতে পারে। ইউরিয়া ও হাইড্রোজ হচ্ছে এক ধরনের ক্ষার। এগুলো পেটে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে পেপটিন এসিড তৈরি করে যা ক্ষুদামন্দা, খাবারে অরুচি, বৃহদান্ত ও ক্ষুদ্রান্তে প্রদাহসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। মেটাল বেইজড ভেজাল খাবারে কিডনি স্বল্পমাত্রা থেকে সম্পূর্ণ বিকল হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে ভেজাল খাবারের জন্য হজমের গণ্ডগোল, ডায়েরিয়া এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে এ খাবারগুলোতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিষক্রিয়া কার্যকর থাকে। যা রান্না করার পরও অটুট থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার ও ফলমূল আকর্ষণীয় করে ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ক্ষতিকর কার্বাইড, ইন্ডাসট্রিয়াল রঙ, ফরমালিন, প্যারাথিয়ন ব্যবহার করা হয়। এগুলো গ্রহণের ফলে কিডনি, লিভার ফাংশন, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভেজাল খাবারের কারণে যে রোগগুলো দ্বারা মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় তাহলো অ্যালার্জি, অ্যাজমা, চর্মরোগ, বমি, মাথাব্যথা, খাদ্য  বিষক্রিয়া, অরুচি, উচ্চরক্তচাপ, ব্রেন স্ট্রোক, কিডনি ফেলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি।

২০১৫ সালে খাস ফুডের যাত্রাটা শুরু হয় এই সমস্যার মোকাবেলা করার মাধ্যমে। যখন উনারা দেখলেন ভেজাল খাবার গ্রহনের কারনে আমাদের দেশের মানুষরা অসুস্থতার কাছে আত্মসমর্পণ করছে। কালের কণ্ঠের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর চার শতাংশ পরিবার শুধুমাত্র চিকিৎসা করাতে গিয়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে আসে। খাদ্যে ভেজালের কারনে মানুষের মাঝে চিকিৎসা গ্রহনের হার বাড়ছেই। অথচ খাবারের মাধ্যমেই সকল রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিরাপদ খাবার গ্রহনের মাধ্যমে ওষুধ এবং চিকিৎসা খরচের হাত থেকে বাঁচতে পারে সবাই।

খাস ফুড পরিকল্পনা করলেন আমাদের দেশের জনগণকে নিরাপদ খাবার সরবরাহ করবো। কারন নিরাপদ খাদ্য গ্রহন সকলের অধিকার। প্রথম দিকে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেইসবুকের মাধ্যমে আমরা যাত্রা শুরু করে খাস ফুড। ভেজাল যেহেতু মিশ্রিত হয় বেশিরভাগ সময় মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে, আমরা তাদেরকে বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই পণ্য কিনে সেগুলো কাস্টমারদেরকে পোঁছে দেয় খাস ফুড।

কৃষকরা সাধারণত পণ্য উৎপন্ন করে মহাজনের কাছে বিক্রি করে। মহাজনরা ভেজাল মিশ্রণ করে পণ্য রেখে দেয় যেন পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। আমরা সেই শিকলটাই ভেঙে দিলো খাস ফুড। উপরন্তু বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের অংশীদার হওয়ার ফলে কৃষকরাও তাঁদের পণ্য উৎপাদন আরো বেশি বাড়াতে সক্ষম হলো। এর মাধ্যমে লাভ হলো উভয় পক্ষের। খাস ফুড কম খরচে পণ্য পেতে থাকলো এবং  ক্রেতাদেরও অনেক কম মূল্যে পন্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হল।  খাস ফুড বিশ্বাস করে কাস্টমাররা যেমন উনাদের অংশীদার, তেমনি এসকল কৃষকরাও তাদের অংশীদার।

কখনো যদি কোন কাস্টমার যদি পণ্য নিয়ে অভিযোগ করে, সন্তুষ্ট না হয় তবে তাঁকে নতুন পণ্য সরবরাহ করে খাস ফুড। অথবা কাস্টমার যদি চায় তাঁকে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়া হয়।  কাস্টমার রিটেনশন অনেক বেশি খাস ফুডের। যদি কেউ একবার খাসফুডের থেকে পণ্য কিনে পরবর্তীতে আমাদের প্রতি তাঁর বিশ্বাস জন্মে যায়। এবং আবার তারা পন্য কিনতে মুখিয়ে থাকে।

২০১৫ সালে যখন তিন বন্ধু মিলে শুরু করেন খাস ফুড তখন  কখনো ভাবেননি মাত্র তিন বছরেই উনাদের পরিবারটা বড় হতে হতে সত্তরে দাড়াবে। অথচ এটাই সত্যি। কাস্টমারদের চাহিদার কারনে খুব দ্রুতই টিম বড় করতে হয়েছে। সরিষার তেল, মধু, কালো জিরা এবং বিভিন্ন মসলা নিয়ে শুরু করলেও এখন  একশোর উপরে পণ্য সরবরাহ করে থাকে এই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পণ্য যোগ হচ্ছে।

ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় মোট ছয়টি আউটলেট রয়েছে খাস ফুডের।  অনলাইন কিংবা অফলাইন দুই জায়গায়ই যেন  কাস্টমাররা পাশে পায় সেজন্য এই চেষ্টা। মান বজায় রাখতে খাস ফুড বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্রেতা যেসব পণ্য মার্কেট থেকে কিনেন তাদের ওগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু অফার করে থাকেন খাস ফুড। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে নিজস্ব ল্যাব এবং দক্ষ জনশক্তি। যারা প্রতিটা পন্য বাজারে ছাড়ার পূর্বেই পরীক্ষা করে দেখে কারন এনারা নিরাপদ খাবার বাজারজাতকরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শের ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শ সর্বদা গ্রহন করে চলেছেন এই প্রতিষ্ঠানটি।

এভাবেই প্রতিটা ভোক্তাকে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে খাস ফুড।

“দেশটা আমাদের, দেশের মানুষরা আমাদেরই আপনজন। তাঁরা ভেজাল খাদ্য গ্রহন করে দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে তা মানতে পারিনা।  আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি যেন কোন মানুষ ভেজাল খাবার গ্রহন করে মৃত্যু বরণ না করে। আমরা কখনো খাস ফুডকে স্রেফ ব্যবসা হিসেবে দেখিনা। বরং সেবা হিসেবে দেখি। আমরা মনে করি এটা হচ্ছে মানুষের সেবা করার সুযোগ যা আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে দিয়েছেন। ”  -বললেন খাসফুডের সিইও হাবিবুল মোস্তফা আরমান

আপাতত ঢাকা এবং চট্টগ্রামে শুরু করলেও খুব শীঘ্রই বিভিন্ন শহরাঞ্চল সহ প্রতিটা গ্রামেই আমাদের পৌঁছে যেতে চায় এই প্রতিষ্ঠান। খাস ফুড হবে নিরাপদ খাবার গ্রহনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে রকমারি ডট কম স্বপ্ন দ্যাখে আমাদের প্রিয় দেশে কোন ভেজাল পণ্য থাকবেনা। সকলেই নিরাপদ খাবার গ্রহণ করতে পারবে।

Write a Comment