আনিসুল হক সম্পর্কে মজার মজার সব তথ্য!

53

593

আনিসুল হক সম্পর্কে মজার মজার সব তথ্য!

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

আনিসুল হক ব্যক্তিজীবনে একজন প্রকৌশলী। কিন্তু তারচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন দেশবরেণ্য লেখক। তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেও লেখালেখির টানে ফিরে এসেছেন সাহিত্য জগতে। লেখালেখির প্রতি কতটা নিবেদিত হলে সোনার চাকরি ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন অনিশ্চয়তার পথে। কিন্তু তার মেধা, মনন, সৃষ্টিশীলতায় জীবনের সঙ্কুল পথ অতিক্রম করে উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক। তার লেখায় ফুটে উঠে সমাজের চালচিত্র। তিনি লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প-কবিতা-উপন্যাস। তার লেখা মা উপন্যাস বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিকতা লাভ করেছে। আনিসুল হকের কিছু মজার তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।

জন্ম

আনিসুল হকের জন্মতারিখ তিনটা।
একটা ১ জানুয়ারি, এটা সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্টে আছে; একটা ৩ মার্চ এবং আরেকটা ৪ মার্চ, এই দুটো বইয়ের পেছনে আছে। ১লা জানুয়ারি টা ভর্তির সময় থেকে বাবা-মা দিয়ে রেখেছেন, হিসাবের সুবিধার্থে। তাঁদের প্রায় সব ভাই-বোনেরই জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি দেয়া আছে। আনিসুল হকের আসল জন্মতারিখ কবে সেটা জানার প্রয়োজনবোধ করেননি অনেকদিন।

তিনি যখন বুয়েটে পড়েন, তখন একদিন তাঁদের রংপুরের বাসায় পুরোনো ট্রাংক খুলে একটা ডাইরি পাওয়া গেল। সেখানে লেখা ছিল যে, আনিসুল হকের জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৫। এটা দেখে রংপুর থেকে ছুটি শেষে আবার ঢাকায় আসেন, তারপর মার্চ আসে, তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি তাঁর বন্ধুদেরকে খাওয়াবেন। কিন্তু আনিসুল হকের মস্তিষ্কের একটা বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সংখ্যা বা নাম্বার মনে রাখতে পারেন না। ৪ মার্চ সেটা দেখে এসেছিলেন ঠিকই কিন্তু ঢাকায় আসতে আসতে সেটা ভুলে যান, তাঁর মনে হচ্ছিল তারিখটা ৩ মার্চ, তাই ৩ মার্চ জন্মদিন পালন করেন। বইয়ের পেছনে লেখেন ৩ মার্চ। আর সংখ্যাতত্ত্ব হিসেবে দেখা যায়, তাঁর জন্ম মার্চ মাসে, মার্চ ৩ নম্বর মাস। (তথ্যসুত্রঃ মাসউদ আহমেদ কে দেয়া সাক্ষাৎকার)

আনিসুল হক একটা তিনের জাতক, এই ভেবেই বহুদিন চলাফেরা করেছিলেন। এরপর আবার যখন বাড়ি যান তখন দেখেন, বাবার নিজের হাতে লেখা এটা ৪ মার্চ। এই ভুলটা তিনি বহন করে চলতে পারতেন, কিন্তু এটা সংশোধন করে ৪ মার্চে নিয়ে গেছেন। ফলে যেটা দাঁড়িয়েছে যে, তাঁর যে সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস ছিল বা তিনি ভাবতেন, ৩ তাঁর জন্য বিশেষ সংখ্যা এবং দেখতেন যে ৩ অনেকাংশে মিলে যায়, সেটা যে ভুয়া তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। আনিসুল হকের জন্ম হয়েছে নীলফামারিতে, এটা তখন রংপুর জেলার অন্তর্গত ছিল। জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে তাঁরা রংপুর শহরে চলে আসেন।

দস্যিপনার শৈশব

শৈশবের জীবিন ছিলো স্বাধীন, সাথে ছিলো নিরাপত্তার বোধ। তিনি যে বন্যার জলে নৌকা নিয়ে গেছেন সেই নৌকা ডুবে গিয়েছিল, তিনি সাঁতরে উঠেছেন।

তিনি গরুর গাড়ি করে ধান আনতে গিয়ে ব্রিজের নিচে পড়ে গিয়েছেন, তিনি সেই ধানের বস্তার নিচে চাপা পড়তে পারতেন। তিনি গাছের মগডালে অনেক উঁচুতে উঠে আর নামতে পারছিলেন না, কীভাবে যে বুকে বেয়ে বেয়ে নিঃসঙ্গ উঁচু একটা শাখা পার হয়েছেন সেটা শুধু তিনিই জানেন। দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি মারা যেতে পারতেন। কিন্তু এগুলি করার ব্যাপারে তাঁর বাবা-মা’রা অনুমতি দিয়েছেন। তাঁকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।

নিজ যোগ্যতায় সব

তাঁর কোনো মামা, চাচা, ভাই লেখালেখির জগতে তাঁকে নিয়ে আসেননি, তিনি নিজে নিজে এসেছেন। তিনি যে আজকে প্রথম আলোতে কাজ করেন, তাঁর বাবা, চাচা বা মামা সম্পাদককে ফোন করে বলে দেয়নি যে আনিস যাচ্ছে, তাকে একটা জায়গা করে দেন। তাঁর লেখা যে ছাপা হয়েছে, কেউ কোন ফোন করে বলে নাই যে, ওর লেখা ছাপো। টেলিভিশনে তাঁর যে নাটক প্রচারিত হয়েছে কেউ ফোন দিয়ে অনুরোধ করে বলে দেয়নি, আনিসের নাটকটা প্রচার করে দাও।

তার লেখা নাটক কিংবা সিনেমার যে গ্রহনযোগ্যতা বুঝা যায় তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা থেকে।  এই ভালোবাসাটা তিনি পাচ্ছেন, এটা তিনি তাঁর নিজের যোগ্যতায় নিজের সংগ্রাম দিয়ে অর্জন করেছেন।

লেখালেখির শুরু

আনিসুল হকের প্রথম লেখা ছাপার অক্ষরে বেরিয়েছে যখন তিনি ইন্টারমেডিয়েট পড়েন। অনিক রেজা নামে একটা ছেলে, সে পরে আর্ট কলেজে পড়াশুনা করে, রংপুরে আছে। ও একটা লিটল ম্যাগাজিন বের করবে। সে আনিসুলকে বলল, আমাকে একটা কবিতা দেন। তিনি বললেন, কবিতা মানে কি বড়দের কবিতা না ছোটদের কবিতা? সে বলল, বড়দের কবিতা। আনিসুল বললেন, মিলটিল দিয়ে ছড়া লিখলে চলবে না।

তখনও তিনি কচি-কাঁচার মেলা করেন, বাচ্চাদের জন্য পদ্য লেখেন, কিন্তু কবিতা বলতে আসলে কী বোঝায় সেসব ভাবছেন এবং রবীন্দ্রাথের ক্যামেলিয়া, বাঁশি ইত্যাদি গদ্য কবিতাগুলো পড়ছেন, ভাবছেন, ছন্দ ছাড়া কীভাবে কবিতা হয়। তখন পড়া শুরু করলেন শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণের কবিতা এর আগে সুকান্ত পর্যন্ত মুগ্ধ ছিলেন কিন্তু কবিতার যে একটা নতুন ধরন সেই জগতই খুলতে শুরু করল। তখনি তাকে দুটো কবিতা লিখে দিলেন। 

আনিসুল হককে অনীক রেজা সেই যে কবিতার মধ্যে ঠেলে দিল এরপর থেকে তিনি ক্রমাগত কবিতা পড়েছেন এবং বোঝার চেষ্টা করছেন কেন গদ্যে লেখা সত্ত্বেও একটা কবিতা হয় আরেকটা গদ্য হয়। ঐটা আবিষ্কারের নেশা থেকে তিনি লিখে গেছেন ক্রমাগত ।

প্রথম লেখার প্রেরণা


আনিসুল হক একদম ছোটবেলা থেকেই লেখেন। প্রথম লেখা লিখেছিলেন ক্লাস ওয়ানে। ছোটবেলায় রংপুরে তাঁরা শ্লোক বলতেন। আসলে ধাঁধাকে শ্লোক বলতেন। যেমন- তিন অক্ষরে নাম যার জলে বাস করে, মধ্যের অক্ষর কেটে দিলে আকাশেতে ওড়ে। এগুলো তিনি ছোটবেলায় বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। অন্ত্যমিল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর স্কুলে যখন ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান হতো তিনি নিজের লেখা কবিতা পড়ে শোনাতেন।


লেখক হবার প্রতিজ্ঞা
বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর আনিসুল হক ঘোষণা দিলেন, তিনি কবি হবেন এবং এ জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত ছিলেন। ফার্স্টইয়ারে তাঁর একটা বন্ধু ছিল, শহীদ স্মৃতি হলে তাঁর সাথে থাকত, নাম শাহিন। সেও বলেছিল, তাকে কবি হতে হবে , ফার্স্টক্লাস পেতে হবে এবং প্রথম শ্রেণীর প্রকৌশলী হতে হবে। কিন্তু ফার্স্টক্লাস পেলেন না। ফার্স্টক্লাস না পাবার একটা কারণ, পরীক্ষার মাঝখানে বাবার মৃত্যু কিন্তু পরে ভালো প্রকৌশলী হবার ট্র্যাকটা আর ধরতে পারেননি। তাঁর ক্লাসের মেয়েরা বলল, তুমি যে পড়ালেখা করছ না, তুমি কী করবে? তখন বলেছিলেন, আমি সংবাদপত্রে কাজ নেব এবং লেখালেখি করব।

প্রথম বই
আনিসুল হকের প্রথম বই কবিতার- খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে। এটি বেরিয়েছিল ১৯৮৯ সালে। তিনি তখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষে পড়েন। কবিতাগুলো লেখা হয়েছিল ১৯৮৩-৮৪ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত। সেই হিসেবে তাঁর নিজের বয়স ১৮/১৯ থেকে শুরু করে ২৩/২৪ বছরের একজন কিশোর তরুণ যা লিখতে পারে, তা এখানে ছিল এবং আবেগ ছিল। খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে এই নামটি শুনলেই বোঝা যায় যে, একটা লক্ষ্য থেকে এটা লেখা। যদিও কয়েকজন সমালোচক-কবি কবিতাগুলো পছন্দই করেছিলেন। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন হুমায়ুন আজাদ। তিনি আনিসুল হকের গদ্যকার্টুন বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন যে, আনিসুল হক যখন নিষ্পাপ ছিল তখন সে খোলা চিঠি লিখেছিল সুন্দরের কাছে।

আনিসুল হকের সকল বই পেতে

আরও পড়ুন আবু ইসহাক এর এই গল্পগুলো হয়তো আপনি জানেনই না !

Write a Comment