বইয়ের সঙ্গে পাঠকের যত রসায়ন !

পাঠক

আপনি কোন ধরণের পাঠক?

পাঠক বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। একারণে পাঠকের পাঠগতির মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। নবিশ পাঠক ও পরিপক্ব পাঠকের মধ্যেও পাঠরীতির দিক থেকে ব্যাপক তফাৎ পরিলক্ষিত হয়। কেউ কেউ বইয়ের প্রতিটি শব্দ পড়েন এবং সব বুঝার চেষ্টা করেন। আবার অনেক পাঠক রয়েছে, যারা কেবল বইয়ের সারাংশ বুঝতে চান। তাই, একটি বইয়ের পড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কলাকৌশল আছে। তবে, তা পাঠকের চাহিদার উপর নির্ভর করে। এমন এক ধরণের পাঠক রয়েছে যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল পৃষ্ঠা ওল্টাতে থাকেন। এতে একজন নবিশের জন্য তেমন উপকার না হলেও পরিপক্ব লেখকের কাছে তা উপকার নিয়ে আসতেও পারে।

পড়ার সময় আপনি ঠোঁট নাড়েন

শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চারণকে সাবকোলাইজেশন বলা হয়। সম্ভবত যখন আপনি কেবল কথা বলা শুরু করেছিলেন তখনই এই অভ্যেস আপনার মধ্যে গড়ে উঠে। কিন্তু বর্তমানে এধরণের অভ্যেস আপনার পাঠগতির ক্ষতিসাধন করতে পারে। আলবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাকাডেমি সাকসেস-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, শব্দ করে পড়লে আপনার পাঠগতি যেমন হ্রাস পায়, তেমনি অল্প সময়ে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আপনি এই অভ্যেস কিভাবে দূর করবেন? এই অভ্যেস থেকে মুক্ত থাকতে ঠোঁটে আপনার আঙুল রাখলে দ্রুত এই অভ্যেস ছাড়তে পারবেন।

নোবেল বিজয়ীদের বিখ্যাত বইসমূহ কিনতে ক্লিক করুন

প্রথমেই আপনি বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা পড়েন

যেসব ব্যক্তির এই অভ্যেস নেই তাদেরকে অনেক বোকা বলে মনে হবে। বই পড়া শুরু না করার আগে কেন একজন পাঠক শেষের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে অস্থির থাকে? ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, কিছু পাঠক প্রথমেই শেষের পৃষ্ঠা পড়ে গল্পের তৃপ্তি নিঃশেষ করে ফেলে অনেক বেশি মজা পান। যদি আপনি এধরণের পাঠক হন, তাহলে আপনার সম্পর্কে আমাদের কিছু বলার নেই। আপনি চালিয়ে যান। তবে এধরণের অভ্যেস পাঠকের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ কোনো লেখা ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার অভ্যেস গড়ে উঠে না।

আপনি নিজের বইয়ের গন্ধ নেন

অনেকেই মনে করেন যে, পাঠ করা মানে বইয়ের নিজের নাক স্থাপন করা। সুতরাং এটা কোনো আশ্চর্যজনক ঘটনা নয় যে, আপনি বইয়ের পাতায় নিজের নাক দিয়ে গন্ধ নেন। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, বইয়ের গন্ধ নেওয়ার সময় বই থেকে কমপক্ষে একসঙ্গে ১৫টি ক্যামিকেলের আদান ঘটে। এছাড়াও একটি বই পরিবেশ থেকে গন্ধ বহন করতে পারে। যেমন- কর্পূর (moth balls), উদ্ভিদবিশেষ বা সিগারেট থেকে বই গন্ধ বহন করতে পারে। আবেগের বশে হয়তো আপনি বইয়ের পাতার গন্ধ নেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

প্রথম আলো বর্ষসেরা বইসমূহ কিনতে ক্লিক করুন

বই পড়া শুরু করে শেষ করেন না

Huffington Post- এর পেননড (বিশেষ একটি বিষয়ে যিনি লিখেন) গবেষক ইভান গটলিব (পিএইচডি ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক)-এর মতে, পড়ার বিচিত্র ক্ষেত্র, দেখা, শুনা কিংবা কোনো কিছু করার অসংখ্য সুযোগ থাকায় এধরণের ঘটনা ঘটে। যদি আপনি কোনো দীর্ঘ কালজয়ী কিছু উপভোগ করতে মনস্থির করেন তাহলে আপনার আকাঙ্ক্ষার জোরে তা সম্ভব হয়ে উঠবে। গটলিব মনে করেন যে, এভাবে ঝাপ দেওয়ার প্রবণতার সঙ্গে অনলাইন পাঠের সম্পর্ক রয়েছে। অনলাইনে পড়ার সময় আপনি বিভিন্ন লিঙ্কে ক্লিক করে কেবল লাফাতে থাকেন কিংবা একটি গল্পের মধ্য থেকে অন্য কোনো গল্পে ঢুকে পড়েন। এধরণের পাঠ আপনার মস্তিষ্কে অস্থিরতার সৃষ্টি করে। তাছাড়া এতে সময় ও শক্তি দুটোই নষ্ট হয় এবং সুফল কিছু পাওয়া সম্ভব হয় না।

আঙুল দিয়ে প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে পড়া

যখন আপনি প্রথম পড়তে শুরু করেছিলেন, সম্ভবত তখন টেক্সটের যথাযথ জায়গায় অবস্থান করা অথবা দৃষ্টি যাতে বিচ্যুত না হয় সেইজন্য আপনি শব্দ ধরে ধরে পড়তেন। (একে ডিরেকশনাল ট্র্যাকিং বলে)। শিশুকালে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে এধরণের অভ্যেস ছিলো। যদি আপনি কফি শপের মতো একটি হৈচৈপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে এধরণের অভ্যেসের কারণে আপনার কাছে এ পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কিন্তু যদি আপনি এমন কোনো অনভ্যস্ত পরিবেশে বই পড়তে বসেন তাহলে তা আপনার পাঠগতি হ্রাস করে দিবে। সাধারণত পড়ার জন্য নিরিবিলি পরিবেশটাই বেশি কার্যকর।

এক পলকে অনেক বই পড়া

কেন আপনি কাঙ্ক্ষিত ও পাঠযোগ্য অসংখ্য বইয়ের মধ্যে কেবল একটি পছন্দ করেন? আপনার কাছে বিচিত্র ভলিউমের বই রয়েছে। এরই মধ্যেও আপনি একটি বাছাই করেন। শিকাগো ট্রিবিউন-এর সংস্কৃতি সমালোচক জুলিয়া কেলার সম্প্র্রতি তার একটি নিবন্ধে বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ি। আমরা চাইলেই অসংখ্য বইয়ের মধ্যে কোনো একটি বাছাই করতে পারি না। আমরা এক পলকে সব বই-ই পড়ে ফেলি। আমরা মাছ ধরার মতো করি, চলতে থাকি, অস্থিরভাবে ছুটতে থাকি, নমুনাও বাছাই করে থাকি। বইয়ের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়ি। এভাবে অসংখ্য বইয়ের মধ্যে আমরা হাবুডুবু খাই বটে, কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রে কোনো বই-ই পড়তে পারি না।

আপনি মুভি দেখার পর সেই বইটি পড়েন

Goodreads.com পরিচালিত একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ৪৪ শতাংশ তাদের সাইট ব্যবহারকারী মুভি দেখার চেয়ে বই পড়ার উপর প্রাধান্য দেন। কেবল ৬ শতাংশ লোক প্রথমে মুভি দেখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাড়া প্রদানকারীদের মধ্যে অবশিষ্টাংশরা মনে করেন যে, এটি আমাদের অবস্থার উপর নির্ভর করে। মন্তব্যকারীদের মতামত হলো যে, প্রথমে বই পড়লে মুভি দেখার জন্য অত্যুৎসাহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রথমে মুভি দেখলে বইটি খুবই সাধারণ বলে মনে হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের বইসমূহ কিনতে ক্লিক করুন

অসংখ্য চরিত্র ও স্থানের নাম পড়া সত্ত্বেও আপনি তা বলতে পারেন না

সাধারণত বয়োজ্যেষ্ঠরা পড়ার সময় শব্দসহ উচ্চারণ করে পড়ি না। কঠিন নামগুলো আমরা উচ্চারণ করতে শেখি না- এটি একটি কারণ হতে পারে। সহজ কথা হলো এগুলো আমাদের বলার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সহজ নামগুলো মনে রাখা ও কঠিত নামগুলোকে এড়িয়ে চলার মধ্যদিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে পক্ষপাত দৃষ্টিভঙ্গীর বিকাশ করি। একটি জরিপে উঠে এসেছে যে, সাধারণত লোকেরা কঠিন নামগুলোর চেয়ে সহজ নামগুলো বেশি মনে রাখে।

ম্যাগাজিনের শেষ পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করা

যদি আপনি সম্পাদকীয় সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ পছন্দ করেন তাহলে আপনি স্বভাবতই অবহিত আছেন যে, এধরণের লেখাগুলো সাধারণত পত্রিকার পিছনের পৃষ্ঠাগুলোতে ছাপা হয়। অথবা আপনি ম্যাগাজিনের পেছন থেকে পড়া শুরু করতে পারেন। ম্যাগাজিনে বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ ছাপানো হয়। সুতরাং আপনি প্রথম, পেছন কিংবা ম্যাগাজিনের মাঝের পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করতে পারেন। এতে কোনো কিছুই আপনার চোখ এড়িয়ে যাবে না। উল্লিখিত যে কোনো পদ্ধতিই আপনি অনুসরণ করতে পারেন। আপনি পড়তে কেমন পছন্দ করেন তার চেয়ে নিয়মিত পড়ছেন কিনা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ 

অবসর উৎযাপনে সঙ্গী হোক প্রিয় লেখকদের এই ৫ টি বই !

পাঠক প্রিয় ৭টি বই যা আপনার মনকে উজ্জীবিত করবে !

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png