ক্যাসিনোর ইতিহাস: সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক  প্রভাব

15

430

ক্যাসিনোর ইতিহাস: সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

সম্প্রতি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় জুয়া খেলার আড়ত হিসেবে বেশ কয়েকটি ক্যাসিনো খুঁজে পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্যাসিনোগুলো পরিচালিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জনগণের মনে ঘটনাটি ব্যাপক শোরগোলের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারত্ম এতো প্রকট হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে এসব ক্যাসিনোর মতো জুয়ার আড়ত চালু রয়েছে ! এই প্রশ্ন এখন সবার মনে।

গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জুয়াখেলার ফলাফল হলো মাদকাসক্ত, ভারসাম্যহীনতা, উদ্বাস্তুমুখীতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এটি সমাজে অসংখ্য সমস্যার জন্ম দেয়। আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা সমাজে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জুয়াখেলায় আসক্ত পরিবারে অন্যান্য পরিবারের চেয়ে হতাশা, দুর্ব্যবহার, অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, হিংসা-বিদ্বেষের প্রবণতা অনেক বেশি। একজন জুয়াড়ির সামাজিক খাপ খাওয়ার ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। এক পর্যায়ে মানসিকভাবে সমাজ থেকে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

জুয়াখেলার সঙ্গে আত্মহত্যার সম্পর্ক রয়েছে, এ বিষয়ে প্রায় কোনো সন্দেহ নেই বলে গবেষকরা মনে করেন। জরিপে উঠে এসেছে যে, জুয়াখেলার কারণে আমেরিকার লাস ভেগাসের মতো জায়গায় আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকার মতো বহুমুখী সমস্যাকবলিত শহরে ক্যাসিনোগুলো বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে আরো তীব্র ও প্রকট করে তুলছে। বেকারত্ব ও হতাশাকে পুঞ্জিভূত করে স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীগুলো কেবল অর্থের পাহাড় তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো রাষ্ট্রে। বিচারহীনতা, বৈষম্য, বেকারত্ম, হতাশা, অপরাধ, আত্নহত্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমস্যাগুলো রাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এসবকিছু বিবেচনায় রেখে বর্তমান প্রবন্ধে আলোচিত ক্যাসিনোর উদ্ভবের ইতিহাস এবং জুয়াখেলার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরা হলো।

জুয়াখেলার ইতিহাস:

মানবজাতির বিবর্তনের সঙ্গে জুয়াখেলার সর্ম্পক অবিচ্ছেদ্য। অতীতে সংঘবদ্ধ মানুষের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে জুয়াখেলার খোঁজ পাওয়া যায়। প্রবন্ধে জুয়াখেলার প্রতিটি ধাপের বিবর্তন দেখানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিশ শতক পর্যন্ত বশ্বিে জুয়াখেলার ইতিহাসের মাইলফলকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।

জুয়াখেলার ইতিহাস
জুয়াখেলার সর্বপ্রাচীন নিদর্শন

২৩০০ খ্রীস্টপূর্ব

মানব ইতিহাসের প্রথম যুগ থেকে বাজি ধরার কতিপয় ধরণ পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পুরনো প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাচীন চৈনিক সভ্যতায়। আবিষ্কৃত টাইলসগুলো প্রাথমিকভাবে ভাগ্যনির্ভর খেলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো বলো মনে হয়েছে। চীনা ভাষার ‘বুক অব সঙ’ গ্রন্থের ‘দ্য ড্রয়িং অব ওড’ প্রসঙ্গে লটারির মতো এক ধরণের খেলার  উদ্দেশ্যে টাইলসের ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সরকারের চাঁদা তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোনো স্লিপে (জুয়াখেলার কার্ড) এক ধরণের লটারির সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্ভবত চীনের গ্রেট ওয়াল নির্মাণেও এই লটারির ব্যবহার হয়েছিলো বলে গবেষকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন। হাভার্ড ও ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠায় এধরণের লটারি ব্যবহৃত হয়েছে, যা এখনো সেখানে চালু রয়েছে।

জরিপে উঠে এসেছে যে, জুয়াখেলার কারণে আমেরিকার লাস ভেগাসের মতো জায়গায় আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকার মতো বহুমুখী সমস্যাকবলিত শহরে ক্যাসিনোগুলো বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে আরো তীব্র ও প্রকট করে তুলছে। বেকারত্ব ও হতাশাকে পুঞ্জিভূত করে স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীগুলো কেবল অর্থের পাহাড় তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো রাষ্ট্রে। বিচারহীনতা, বৈষম্য, বেকারত্ম, হতাশা, অপরাধ, আত্নহত্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমস্যাগুলো রাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এসবকিছু বিবেচনায় রেখে বর্তমান প্রবন্ধে আলোচিত ক্যাসিনোর উদ্ভবের ইতিহাস এবং জুয়াখেলার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরা হলো।

জুয়াখেলার ইতিহাস ১
প্রাচীন রোমে ‘পাশাখেলা’

প্রায় ৫০০ খ্রীস্টপূর্ব      

গ্রিক কবি সপেক্লিস উল্লেখ করেছেন যে, ট্রয় অবরোধের সময় একজন পৌরাণিক নায়ক পাশাখেলার উদ্ভাবন করেছিলেন। যদিও এনিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। খ্রীস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে গ্রিক ইতিহাসে সর্বপ্রথম পাশাখেলার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। আজকের মতোই অতীতের প্রাথমিক পর্যায়েও পাশাখেলার অস্তিত্ব ছিলো। কেননা, খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে মিশরের একটি গোরস্থানে এক জোড়া এধরণের নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে, প্রাচীন গ্রিক ও রোমানবাসীরা সুযোগ পেলেই প্রাত্যহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে জুয়াখেলতে পছন্দ করতো।  প্রাচীন রোম শহরে পাশাখেলাসহ সকল ধরণের জুয়াখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। তাছাড়া, সাধারণ বাজি খেলার চেয়ে জুয়াড়িদের চারগুণ বেশি শাস্তি দেয়া হতো। একারণে রোমান বুদ্ধিমান নাগরিকরা অন্যভাবে জুয়াখেলার ব্যবস্থা করলেন। তারা প্রথম জুয়ার চিপস (পয়সার মতো ক্ষুদ্র প্লেট) উদ্ভাবন করলেন। আর প্রহরীদের হাতে ধরা পড়লে তারা বলতেন যে, কেবল চিপস পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা এভাবে মজা করছেন, কোনো অর্থ লাভের জন্য নয়। উল্লেখ্য, বাচ্চাদের চিপসের সঙ্গে জুয়াখেলার এসব কার্ডের ধরণগত সাদৃশ্য রয়েছে। সম্ভবতে একারণে এই খাবারটিকে আমরা চিপস বলি।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৩
চীনে কার্ডখেলার প্রাথমিক পর্যায়

প্রায় ৮০০ খ্রীস্টাব্দ    

অধিকাংশ গবেষকরা একমত হয়েছেন যে, নবম শতাব্দিতে চীনে প্রথম কার্ড খেলা দেখা যায়। যদিও খেলার মূল পদ্ধতি নিয়ে ইতিহাসে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কেউ কেউ মনে করেন যে, বর্তমানে শিশুদের ট্রেডিং কার্ডের মতো তৎকালীন চীনে সাধারণ খেলা ও বাজি ধরতে কার্ডগুলো ব্যবহৃত হতো। অন্যান্য উৎস থেকে জানা যায় যে, কার্ডের প্রথম প্যাকগুলো চীনা কাগজের তৈরি ছিলো। তবে, বর্তমানে ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড ৫২ কার্ড ডেকের সঙ্গে তৎকালীন কার্ডের মিল খুবই কম, যা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৪
ইতালি ও ফ্রান্সের ‘বেকারেট বা বাকারা’

১৪০০ শতাব্দি

বেকারেট বা বাকারা এক ধরণের কার্ড খেলা। এ খেলায় দুইজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ক্যাসিনোগুলোতে এই প্রাচীন খেলা এখনো দেখা যায়। ১৪০০ শতাব্দিতে বেকারেটের উল্লেখ পাওয়া যায়। এসময় খেলাটি ইতালি থেকে ফ্রান্সে প্রবেশ করে। কিন্তু বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে খেলাটির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। যদিও এরই মধ্যে খেলাটির বিভিন্ন রূপ এসে সেকেলে হয়ে গেছে। বেকারেটের বর্তমান স্টান্ডার্ড ভার্সনটি বিশ্বব্যাপী প্রায় সব ক্যাসিনোতে দেখা যায়, যা কিউবা থেকে বিট্রেন হয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করে। যদিও এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মূল খেলার ধরণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। দর্শকদের কাছে এটি অন্য যে কোনো খেলার চেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া খেলাটি বর্তমানে প্রায় সব ক্যাসিনোতে দেখা যায়।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৫
‘ব্ল্যাকজেক’ খেলারত কয়েকজন যুবক

প্রায় ১৬০০ খ্রীস্টাব্দ

ব্ল্যাকজেক মূলত একধরণের ব্যাংকিং গেম। স্পেন এ  খেলাটির উদ্ভব ঘটেছিলো, যা ভেনটিওনা (২১) নামে পরিচিত। ১৬০১ সালে লেখক ডন কুইক্সোটা (Don Quixote) তার একটি বইয়ে খেলাটির উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ১৫৭০ খ্রীস্টাব্দ থেকে ট্রেনটে-আন (৩১) নামে একটি খেলার চল ছিলো। একই সময়ে ফ্রান্সে কুইনযো (১৫) নামে এক ধরণের খেলার প্রচলন দেখা যায়। উল্লিখিত সকল ধরণের খেলার ইতিহাসে ভাগ্যের নির্ধারণের বিষয়টি প্রায় ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

গ্রিক কবি সপেক্লিস উল্লেখ করেছেন যে, ট্রয় অবরোধের সময় একজন পৌরাণিক নায়ক পাশা খেলার উদ্ভাবন করেছিলেন। যদিও এনিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। খ্রীস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে গ্রিক ইতিহাসে সর্বপ্রথম পাশা খেলার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। আজকের মতোই অতীতের প্রাথমিক পর্যায়েও পাশা খেলার অস্তিত্ব ছিলো।

সতেরো শতাব্দিতে উদ্ভুত ফ্রান্সের ভিঙ্গট-এট-আন খেলা নিঃসন্দেহে আধুনিক গেমসের পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে। এটি আমেরিকায় প্রথমদিককার ফ্রান্স অধিবাসীদের মাধ্যমে সেদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। ‘ব্ল্যাকজেক’ নামটি আমেরিকাবাসীদের উদ্ভাবন। ১৯৩০’র দশকে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যের ক্যাসিনো গুলোতে এটি বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষণা লাভ করে। খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে যদি কেউ এইচ অব স্পেডস’র সঙ্গে (স্টান্ডার্ড ৫২ কার্ড ডেকের খেলায় সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং) একটি ব্ল্যাকজেক ক্লাবস বা স্পেডস (ক্লাবস ও স্পেডস কার্ড খেলায় দুটি খেলার ধরণ। এখানে পুরস্কার উদ্দেশ্যে) লাভ করেন তাহলে তাকে ১০ থেকে ১ জোড়া নাম্বার পুরস্কার দেয়া হয়। এই বিশেষ পুরস্কার প্রদানের নিয়ম বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিন্তু নামগুলো এখনো আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৬
ইতালির প্রথম ক্যাসিনো

১৬৩৮ খ্রীস্টাব্দ

১৭ শতাব্দির শুরুতে ইতালিতে এক ধরণের জুয়াখেলার ঘরোয়া ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়, যার সঙ্গে প্রথম ক্যাসিনোর তুলনা করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ১৬৩৮ সালে বার্ষিক কার্নিভাল সেশনে (ক্যাথোলিকদের বার্ষিক অনুষ্ঠান) জুয়াখেলার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানায় ফ্রান্সের ভেনিসে রিডোট্টো (ব্যক্তিগত কক্ষ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরই মধ্যদিয়ে জুয়াখেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়া হয়।

উনিশ শতক জুড়ে সমগ্র ইউরোপে ক্যাসিনো প্রসার লাভ করে। একই সময় আমেরিকায় অনানুষ্ঠানিক অনেক ঘরোয়া-ক্যাসিনো গড়ে উঠে। বস্তুত, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাষ্পচালিত নৌকাগুলো মিসিসিপিতে অসংখ্য জুয়াখেলার আড়ত তৈরি করেছিলো। এখন, ক্যাসিনো মানেই আমাদের মনে লাস ভেগাসের সড়কগুলোর চিত্র ফুটে উঠে, যা মূলত হতাশা থেকে আমেরিকায় উদ্ভব ঘটেছিলো।

প্রাচীন রোম শহরে পাশা খেলাসহ সকল ধরণের জুয়াখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। তাছাড়া, সাধারণ বাজি খেলার চেয়ে জুয়াড়িদের চারগুণ বেশি শাস্তি দেয়া হতো। একারণে রোমান বুদ্ধিমান নাগরিকরা অন্যভাবে জুয়াখেলার ব্যবস্থা করলেন। তারা প্রথম জুয়ার চিপস (পয়সার মতো ক্ষুদ্র প্লেট) উদ্ভাবন করলেন। আর প্রহরীদের হাতে ধরা পড়লে তারা বলতেন যে, কেবল চিপস পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা এভাবে মজা করছেন, কোনো অর্থ লাভের জন্য নয়। উল্লেখ্য, বাচ্চাদের চিপসের সঙ্গে জুয়াখেলার এসব কার্ডের ধরণগত সাদৃশ্য রয়েছে। সম্ভবতে একারণে এই খাবারটিকে আমরা চিপস বলি।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৭
প্যারিসের ‘দ্য লিটল হুইল’

১৭৯৬ খ্রীস্টাব্দ

রোলেট্টো  ক্যাসিনোগুলোতে প্রচলিত এক ধরণের খেলা। এটি একটি ফ্র্যান্স শব্দ। যার ইংরেজি অর্থ দাঁড়ায় ‘দ্য লিটল হইল’। প্যারিসে রোলেট্টোর মাধ্যমে জুয়াখেলার ঘরোয়া পরিবেশের সূত্রপাত ঘটেছিলো। এরই মাধ্যমে প্যারিসবাসী ভাগ্য চাকার সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছিলো, যা বর্তমানে ‘আমেরিকান রোলেট্টো হুইল’ বলে বেশ পরিচিত। কেবল ওয়ান গ্রিন জিরোর ধারণাসহ রোলেট্টোর বর্তমান ইউরোপীয় রূপটি পরিগ্রহ করতে পঞ্চাশ বছর লেগে গেছে, যার কাছে রোলেট্টো খেলোয়াড় প্রজন্ম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। উনিশ শতকে খেলাটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। মন্টো কার্লো ক্যাসিনো (ফ্রান্সের একটি ক্যাসিনো) সিঙ্গল জিরোর রূপটি অধিগ্রহ করার মাধ্যমে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে খেলাটি সুপরিচিতি লাভ করে। যদিও আমেরিকানবাসী এখনো খেলাটির মূলরূপ ডাবল জিরো হুইলে আটকে আছে।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৮
পোকার খেলছেন কয়েকজন জুয়াড়ি

১৮২৯ খ্রীস্টাব্দ

পোকারের প্রকৃত ইতিহাসের সারমর্ম তুলে ধরা দুঃসাধ্য বিষয়। এখানে যেসব খেলা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে পোকার কয়েক দশকের মধ্যে খুব দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে। তাছাড়া কয়েক শতাব্দির মধ্যে  পোকার বিভিন্ন কার্ড খেলার জন্ম দিয়েছে। কারো কারো মতে, সপ্তদশ শতাব্দিতে পারস্য তথা ইরান থেকে এই খেলার উদ্ভব ঘটেছিলো। অন্যদিকে, অনেকেই ফ্রান্সের ‘পোক’ খেলা থেকে পোকারের সূচনা বলে মনে করেন। তবে, ইংরেজ অভিনেতা জোসেফ ক্রোয়েল আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন যে, ১৮২৯ সালে নিউ ওর‌ল্যান্ডে এধরণের একটি খেলা প্রচলিত ছিলো। সুতরাং, তারিখটিতে পোকার খেলার সূচকাল ধরা যায়। ১৯৭০’র দশকে ভেগাসে বিশ্ব পোকার টুর্নাামেন্টস অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত খেলাটির জনপ্রিয়তা খুবই ধীর গতিতে এগোচ্ছিলো। যাই হউক, অনলাইন পোকার ও সরাসরি ইভেন্টগুলো সম্প্রচারের ফলে পোকার সত্যিকারভাবে বিস্তৃত পরিসরে প্রসার লাভ করেছে। ক্রিশ মানিমেকার নামের একজন অপেশাদার খেলোয়াড় অনলাইনে ২০০৩ সালে ‘বিশ্ব পোকার চ্যাম্পিয়নশীপ’ জয়লাভ করার মধ্যদিয়ে যে কেউ অনলাইন পোকার মিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজেকে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।

১৭ শতাব্দির শুরুতে ইতালিতে এক ধরণের জুয়াখেলার ঘরোয়া ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়, যার সঙ্গে প্রথম ক্যাসিনোর তুলনা করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ১৬৩৮ সালে বার্ষিক কার্নিভাল সেশনে (ক্যাথোলিকদের বার্ষিক অনুষ্ঠান) জুয়াখেলার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানায় ফ্রান্সের ভেনিসে রিডোট্টো (ব্যক্তিগত কক্ষ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরই মধ্যদিয়ে জুয়াখেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়া হয়।

জুয়াখেলার ইতিহাস ৯
নিউইয়র্কে উদ্ভাবিত জুয়াখেলার প্রথম যান্ত্রিক মাধ্যম

১৮৯১ খ্রীস্টাব্দ

স্লটের মতে জুয়াখেলার প্রথম যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন নিউইয়র্কের মেশরস সিটম্যান ও পিট। যন্ত্রটি একটি পোকার গেমের জন্য ৫২টি কার্ড ব্যবহার করেছে। একই সময়ে সানফ্রান্সিসকোতে চার্লস ফে লিবার্টি বেল যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন। লিবার্টি বেল প্রায়োগিক দিক থেকে অন্য যন্ত্রের তুলনায় বেশি কার্যকর। উল্লেখ্য, কিছু নতুন ভিডিও স্লট গেমসে এখনো বেলের প্রতীক দেখা যায়, যা যন্ত্রটির প্রথমদিককার উদ্ভাবনের বিষয়টি সামনে তুলে ধরে। প্রাথমিক পর্যায়ের যন্ত্রগুলো অর্থের বিনিময়ে সিগার ও গাম সরবরাহ করে। পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে বার ও ক্যাসিনোগুলোতে অর্থের ছড়াছড়ি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা দেয়। ১৯৭৬ সালে প্রথম অনলাইন ভিডিও স্লটটি উদ্ভাবনের পর এটি দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে, যা অদ্যাবধি অনুসরণ করা হচ্ছে।

জুয়াখেলার ইতিহাস ১০
জুয়াখেলার আড়ত হিসেবে পৃথিবী জুড়ে লাস
ভেগাসের খ্বিযাতি রয়েছে

১৯১০ খ্রীস্টাব্দ

ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা আমেরিকায় প্রথম আগমনের সময় থেকে সেখানে জুয়াখেলার উত্থান-পতন দুটিই ঘটেছে। ঔপনিবেশিকদের মধ্যে বিশুদ্ধবাদীরা (পিউরিটান) জুয়াখেলাকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ইংল্যান্ড থেকে আগত অভিবাসীরা জুয়াখেলার প্রতি একটু বেশি উৎসাহী ছিলো। এই দ্বৈত অবস্থা এখনো সেখানে অব্যাহত রয়েছে। ১৯১০ সালে জনসাধারণের চাপে জুয়াখেলা জাতীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। একই সময়ে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করে বাস্তবায়ন করার মতো জুয়াখেলার বিষয়টিও দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ালো। তবে, কিছুটা বিচক্ষণ পদ্ধতিতে জুয়াখেলা চলতে লাগলো। ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশ ও মহা দুর্ভিক্ষের সময় দারিদ্রের কবল থেকে মুক্তির আশা করে পুনরায় জুয়াখেলাকে আইনগত বৈধতা দেয়া হলো।  যদিও আমেরিকার কয়েকটি রাজ্যে জুয়াখেলার বৈধতা রয়েছে। বিশেষত লাস ভেগাসে। নেভাদা রাজ্য অনলাইন জুয়াখেলার জায়গা হিসেবে এখনো খুব বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। যদিও বর্তমানে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ক্যাসিনো ইন্টারনেটে আমেরিকান ক্লায়েন্টের সঙ্গে লেনদেন করতে সক্ষম হচ্ছে না। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে এই অবস্থা দূর হবে।

লাইভ ক্যাসিনো ডিলার

১৯৯৪ খ্রীস্টাব্দ

বর্তমান বিশ্বে মাইক্রোগেমিং ক্যাসিনো ও স্লট গেমের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন গেমের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৯৪ সালে ক্যাসিনো পুরোপুরিভাবে ভার্সুয়াল জগতে প্রবেশ করে, যা ইন্টারনেটে ২৩০০বিসি জায়গা জুড়ে আছে। পাঁচ বছরের মধ্যে অনলাইন গেমের মাধ্যমে এক বিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে হাজার হাজার ক্যাসিনোর উদ্ভবের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ কারখানা সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৩ সালে আমাদেরকে ভার্সুয়াল ওয়ার্ল্ড, ব্রিক ও মোর্টার ক্যাসিনোর কাছাকাছি নিয়ে আসতে প্ল্যাটেক (Playtech)-এর সৌজন্যে প্রথম লাইভ ডিলার ক্যাসিনোর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

জুয়াখেলার আর্থ-সামাজিক প্রভাব

অস্ট্রেলিয়ায় জুয়াখেলার কারণে প্রতি বছর ১৬০০ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। জুয়াখেলার কারণে পুরো সমাজে একধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জুয়াড়ি পরিবারে সন্তান বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, জুয়াড়িদের কারণে সৃষ্ট সমস্যা মাদকাসক্তের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জুয়াখেলা মাদকাসক্তের সূচনা করে। জুয়াড়িদের স্ত্রীদের ভাষ্য মতে, তারা হতাশা, মৌখিক ও দৈহিক র্দুব্যবহার ও আত্মহত্যার পদক্ষেপ গ্রহণের মুখোমুখি হন (Lorenz and Yaffee 1988)

সাধারণত দেখা গেছে যে, জুয়াখেলায় আসক্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হতাশা, দুর্বল স্বাস্থ্য, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা, অনিদ্রা, বিদ্বেষ, রাগ, মাথাব্যাথা, পেটব্যাথায় ভুগেন, যা ব্যক্তির মধ্যে কর্মহীনতার মানসিকতাকে তীব্র করে তোলে (PC 1991; Gerstein et al 1991)

অস্ট্রেলিয়ান প্রোডাকটিভিটি কমিশন মতে, জুয়াখেলায় অভ্যস্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশ হতাশার কথা উঠে এসেছে। কাউন্সিলিংকালে দেখা গেছে, জুয়াড়িদের মধ্যে ৬০ শতাংশের আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমেরিকার লাস ভেগাসে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি (Phillips 1997)। লাস ভেগাসের মতো শহরগুলোর বিস্তৃতির ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো দুর্বল হতে শুরু করেছে। সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের Gamblers Annonymous-এর একটি প্রতিবেদনের দেখা গেছে যে, জুয়াড়িদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ব্যক্তি ইতোমধ্যে আত্মহত্যা করেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে মাত্র ১.১ শতাংশ (Frank et al 1991)

জুয়াখেলার কারণে প্রাত্যহিক জীবনকে স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তি দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিকভাবে দুরাবস্থায় পতিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন যে, জুয়াখেলার সঙ্গে আত্মহত্যার সম্পর্ক রয়েছে, এ বিষয়ে প্রায় কোনো সন্দেহ নেই। দেখা গেছে কোনো কোনো জায়গায় বছরে ৩৫ থেকে ৬০ জন আত্মহত্যা করেছে (PC 1999 : 7-23)

ইসলামের দৃষ্টিতে মদ জুয়া লটারী বইটি কিনতে পারেন রকমারি ডট কম থেকে !

এটি স্পষ্ট যে, জুয়াড়িরা প্রায় সময় অর্থনৈতিক সংকটে থাকেন। জুয়াখেলার কারণে ৪০ থেকে ৫২ শতাংশ লোক জুয়ার ঋণ পরিশোধ করতে নিজেদের জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হন। ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের GamCare Service Report অনুসারে, জুয়াখেলায় ঋণের সম্পৃক্ততার কারণে প্রতি বছর গড়ে চিকিৎসাবাবদ খরচ হয়েছে ২৮০০০ ইউরো।

সাধারণত দেখা গেছে যে, জুয়াখেলায় আসক্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হতাশা, দুর্বল স্বাস্থ্য, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা, অনিদ্রা, বিদ্বেষ, রাগ, মাথাব্যাথা, পেটব্যাথায় ভুগেন, যা ব্যক্তির মধ্যে কর্মহীনতার মানসিকতাকে তীব্র করে তোলে (PC 1991; Gerstein et al 1991)

The NORC প্রতিবেদন অনুসারে, প্যাথোলজিক্যাল জুয়াড়িদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ দেওলিয়া হওয়ার কথা বলেছেন। কম ঝুঁকি নেওয়া জুয়াড়িদের ক্ষেত্রে দেওলিয়ার পরিমাণ ৫.৫ শতাংশ এবং সাধারণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ ছিলো ৪.২ শতাংশ (NGISC 1999: 7-16)

জুয়াখেলার ইতিহাস ১১
মোবাইল ফোনে জুয়া

২০১৯ সাল

২০১১ সালে নিউ জার্সিতে অনলাইন জুয়া আইনগত বৈধতালাভের পর থেকে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকা একের পর এক রাজ্যে জুয়াখেলাকে আইনগত বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে সেখানে মোবাইলের মাধ্যমেও জুয়াখেলার দ্রুত প্রসার লাভ করছে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা জুয়াখেলার জন্য ডেস্কটপ থেকে সরে এসে হাতের ডিভাইসগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। জুয়াখেলার অনলাইন বাজার দ্রুত গতিতে বিস্তৃতি লাভ করেছে। তাছাড়া ইতোমধ্যে কিছু ওয়েবসাইট মার্কেট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মোবাইলে অনলাইন জুয়াখেলা পুরো পৃথিবীতে ঝড় তুলেছে। বর্তমানে ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে মোবাইল ডিভাইস ব্যাপকজুড়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এটি স্পষ্ট যে, জুয়াড়িরা প্রায় সময় অর্থনৈতিক সংকটে থাকেন। জুয়াখেলার কারণে ৪০ থেকে ৫২ শতাংশ লোক জুয়ার ঋণ পরিশোধ করতে নিজেদের জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হন। ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের GamCare Service Report অনুসারে, জুয়াখেলায় ঋণের সম্পৃক্ততার কারণে প্রতি বছর গড়ে চিকিৎসাবাবদ খরচ হয়েছে ২৮০০০ ইউরো।

২০১৯ সাল

… ভবিষ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে ?

জুয়াখেলার ভবিষ্যত রূপ নিয়ে কথা বলা খুবই মুশকিল। কেননা, এই খেলার প্রাচীন অনেক রূপ এখনো আমাদের কাছে অজানা। বর্তমানে জুয়াখেলার মোবাইল ভার্সনের উপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে গেমসের বিষয়বস্তুর উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ভার্সুয়াল জগতটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে জুয়াকে পৃষ্ঠপোষণ করছে। হয়তো জুয়া একটি নিত্যদিনের ব্যাপার হিসেবে দাঁড়াতে পারে। এমনো হতে পারে যে, আপনি সারাবিশ্বের বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে জুয়ায় মেতে আছেন। তবুও ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য করা বেশ মুশকিল। তবে, ভবিষ্যতও অনেকটা জুয়ার মতো !

নির্মলেন্দু গুণ এর ‘আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি ও অন্যান্য‘ বইটি কিনতে পারেন রকমারি ডট কম থেকে !

 

সূত্র:

  1. https://www.gambling.net/history/
  2. Productivity Commission. (1999). Australia’s Gambling Industries, Report No. 10. Canberra: AusInfo. Available at http://www.pc.gov.au/.
  3. Lorenz, V.C. & Yaffe, R.A. (1988). ‘Pathological gambling: psychosomatic, emotional and marital difficulties as reported by the spouse’. Journal of Gambling Behavior, 4, 13-26.
  4. Lesieur, H.R., Cross, J., Frank, M., Welch, M., White, C.M., Rubenstein, G., Moseley, K. & Mark, M. (1991). ‘Gambling and pathological gambling among university students’. Addictive Behaviors, 16, 517-527
  5. National Gambling Impact Study Commission. (1999). Final report. Washington, DC: Government Printing Office. Available at http://govinfo.library.unt.edu/ngisc/index.html.
  6. GamCare Services Report 2003

আরও পড়ুনঃ

জাপানের বৈধ জুয়া !!

আকর্ষণীয় ফিকশন-চরিত্র নির্মাণের কলাকৌশল

Write a Comment

Related Stories