আকর্ষণীয় ফিকশন-চরিত্র নির্মাণের কলাকৌশল

ফিকশন-চরিত্র

সিদ্ধহস্ত লেখকের কাছেও ফিকশনের চরিত্রগুলো যথাযথভাবে নির্মাণ করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। বর্তমান নিবন্ধে স্বতন্ত্র মেজাজ ও গল্পের প্রয়োজন অনুসারে একটি নন-ফিকশনের চরিত্রগুলো আকর্ষণীয় করে তোলার কতিপয় কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া কিভাবে গল্পে চরিত্রগুলো পছন্দসই করে তুলতে হয় সে বিষয়েও লেখক আলোচনা করেছেন।

টম ব্রুমলিই
সৃজনশীল লেখাবিষয়ক প্রশিক্ষক ও ফিকশন ফর দ্য প্রফেশনাল রাইটিং একাডেমি’র পরিচালক টম ব্রুমলিই

ফিকশন চরিত্রগুলোর সঙ্গে আত্ম-বুঝাপড়ার বিষয়টি সিদ্ধহস্ত ও নবিশ লেখকদের কাছে অজানা কোনো বিষয় নয়। পাঠকের কাছে চরিত্রগুলো বাস্তব জগতের মতোই তুলে ধরা লেখকের জন্য একটি নিরন্তর সংগ্রাম। এমনকি এই সত্য কথাটি একজন সিদ্ধহস্ত লেখকের পক্ষেও প্রযোজ্য, যারা ইতোমধ্যে একাজটি করেছেন। গল্পের সঙ্গে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে জীবন ও জগতের মধ্যে চরিত্রগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়া প্রত্যেক লেখকের জন্য একটি অন্তহীন যাত্রা।

বর্তমান নিবন্ধে সিদ্ধহস্ত ও গোস্ট-রাইটার (নেপথ্য লেখক), ফেবার একাডেমি ও পিডব্লিউএ উভয় কোর্সের প্রশিক্ষক ট্রম ব্রুমলি চরিত্র নির্মাণের মৌলিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাস্তব জগতকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা এবং আপনার গল্পের চরিত্রগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরার কতিপয় কৌশল ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি যে কোনো মতাদর্শের ব্যক্তির মনোযোগ আকর্ষণ করে। তার চরিত্রের কোন বিষয়টি অন্যদের মনোযোগ কেড়ে নেয়? ফিকশন-চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে বাস্তব জগতের কাছের ব্যক্তিদের কল্পনায় রূপ দেওয়া সম্ভব।

ঝাঁক থেকে দূরে থাকুন:

যেকোনো গল্পে চরিত্রগুলো সক্রিয় আছে কিনা তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, প্রতিটি চরিত্র নিজের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারছে কিনা তা যাচাই করা। এবিষয়টি যাচাইকরণে টম চরিত্রগুলোর মেজাজ (সাউন্ড) গভীর পর্যালোচনা করে শুরু করার পরামর্শ প্রদান করেন। আপনার গল্পে চরিত্রগুলো রক্ত-মাংসের মানুষের মতো সক্রিয়ভাবে কথা বলছে কিনা?

‘চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্রেইজ বা বাগধারাগুলোর যথাযথভাবে ব্যবহার করা।’ এবিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য স্থান, কাল, পাত্রভেদে চরিত্রগুলোর কথোকপথন থেকে কাঁটছাট করা ও সঠিক কথোপকথনটি নির্বাচন করার সক্ষমতা আপনার থাকা উচিত।

এর মানে কোনো বিষয়ে অতিরঞ্জিত করা নয়। কেননা, যথাযথভাবে ফ্রেইজের ব্যবহার করতে পারলে তা উদ্ধৃতির চেয়ে বেশি উপলব্ধি করা যাবে এবং উপন্যাস পড়ার ক্লান্তিকর দিকটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

টমের মতে, উত্তম পুরুষের (ফাস্ট পার্সন। যেমন- ‘আমি, আমার’ ভাষ্যে) ভাষ্যে গল্প লিখলে চরিত্রগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা ও অতিরঞ্জিত করা উভয় কাজটি করা সহজ বিষয়। উত্তম পুরুষ দিয়ে লিখিত সফল কথোপকথনের দৃষ্টান্ত হলো ব্রাইডগেট জোনস বুকস।

বিখ্যাত সব ইংরেজি সায়েন্স ফিকশন বইয়ের বাংলায় অনুবাদকৃত বই কিনতে ক্লিক করুন !

নাম পুরুষের (থার্ড পার্সন) ভাষ্যে লিখিত বইয়ের গঠনশৈলী একটু আলাদা। আর চরিত্রের মেজাজ কেবল কথোপকথনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে এক্ষেত্রে কতিপয় জটিলতা রয়েছে। গল্পের একক ব্যক্তির কথন বা মনোলগের অভাবে তা লেখকের মধ্যে অতি উৎসাহজনিত কারণে কথোপকথন ‘অসাধারণত্ব’ লাভ করলেও প্রত্যেক চরিত্রকে যথাযথভাবে গুছিয়ে নির্মাণ করা যায় না।

এর ফলে অতিরঞ্জিত কোনো চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেয়ে প্রত্যেকের সুবিন্যস্ত চিত্র তুলে ধরা যায়। তাছাড়া চরিত্র যথাযথভাবে নির্মাণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রক্ষা করা ও পরিমিতিবোধ প্রধানতম ভূমিকা পালন করে। কতিপয় লক্ষ্যণীয় আচরণ (ইডিওসিনক্রেসিস) গল্পে যাতে ভূমিকা রাখে তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমেরিকান সাহিত্যিক জন কেনেডি টোল লিখিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘অ্যা কনফেডারেসি অব ডান্সেস’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ

স্পষ্টত, গল্পের শুরুর প্রকাশভঙ্গী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিবরণ তাৎপর্যপূর্ণ। টম বলেন, গল্পের বিষয়গুলো আপনি যতোই সুনির্দিষ্ট করে তুলে ধরতে পারবেন, ততই তা পাঠকদের মনে গেঁথে থাকবে। এটি অনেকটা মারমাইট (এক চুমুকে পড়ে শেষ করার মতো) বইয়ের মতো। এক্ষেত্রে জন কেনেডির ‘টোলস অ্যা কনফেডারেসি অব ডান্সেস’ গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য। বইটিতে আগনেটিয়াসের কেবল জীবনচিত্র তুলে ধরার চেয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে। বইয়ের সকল চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আপনার মনের মতো শতভাগ নাও হতে পারে। তবে, টোলস-এর বইয়ের ভূমিকাটি পাঠযোগ্য। যদিও আপনার গল্পের চরিত্রগলো মোটেও ইগনাটিয়াসের মতো নয়।

টম অপরাধ বিষয়ক ফিকশন থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। লেখক মাঝে মাঝে তাদের গল্পের প্রধান চরিত্রকে কতিপয় বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা আচরণ দিয়ে নির্মাণ করেন। অগথা ক্রাইস্ট তার ‘পাইরট হিজ লিম্প’ গ্রন্থে চরিত্রগুলো সেভাবে নির্মাণ করেছিলেন। কলিন ডেক্সটার একই কাজ করেছিলেন তার ‘ইন্সপেক্টর মোর্স অ্যান্ড হিজ ক্রস ওয়ার্ডস’ গ্রন্থে। আমার মনে হয় এটি দুই দিকেই ধারালো তলোয়ারের মতো ভূমিকা রাখে। চরিত্রগুলো সহজে বোধগম্য করে সৃষ্টি করলে তা খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।

তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দেশিকা হিসেবে টম মনে করেন যে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে একসঙ্গে করার উপর স্বতন্ত্রভাবে প্রধান চরিত্র নির্মাণের সফলতা নির্ভর করে। সুতরাং চরিত্রগুলো সম্পর্কে আপনার যত গভীর জ্ঞান থাকবে ততই চরিত্রগুলোর গভীরে যেয়ে নির্মাণ করা সম্ভব। এতে করে চরিত্রগুলো আরো স্মরণীয় হয়ে উঠবে।

পছন্দ করা বা না করা

অনেক লেখক বিচিত্র সমস্যার সম্মুখীন হন। তার মধ্যে একটি হলো কতসংখ্যক পাঠক তাদের চরিত্রগুলো পছন্দ করবে— এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রথমত, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটি চরিত্রকে লালন করা এবং পছন্দ করার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। টম বলেন যে, আগেরটি একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর যথাযথভাবে তা ফুটিয়ে তুলতে পারলে আপনার পাঠকরা পড়ার সময় কেবল পৃষ্ঠা উল্টাতেই থাকবেন।

আবার, উত্তম পুরুষে লিখলেও তা আমদের সহায়তা করতে পারে। যদি আপনি একটি শক্তিশালী কথোপকথন এবং চরিত্রের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্বদৃষ্টি তৈরি করতে পারেন, তাহলে নিশ্চিভাবে তা পাঠককে চুম্বকের মতোই ধরে রাখবে। উত্তম পুরুষের ভাষ্যে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে অধিকতর সাহায্য করে। অন্য পুরুষের ভাষ্যেও আপনি লিখতে পারেন। তবে উত্তম পুরুষের ভাষ্যে তা সবচেয়ে স্বাভাবিক চিত্র তুলে ধরা যায়।

একজন পাঠকের সহানুভূতি তথা এমপ্্যাথি নেওয়ার জন্য টম বলেন, একটি চরিত্রের ‘দুর্দশা’ বা ‘দুরাবস্থা’ ফুটিয়ে তোলাও আরেকটি খুবই কার্যকর পদ্ধতি। তার মতে, এরই মধ্যদিয়ে চরিত্রগলো দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আর মানুষ হিসেবে বহির্জগতে তাদের উপস্থিতি এবং অন্তর্গত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। গল্পের ঘটনাগুলোর দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক ও চরিত্রগুলোর অন্তর্গত মানসিক দ্বন্ধের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পাঠকের কাছে চরিত্র ও ঘটনা এভাবে তুলে ধরে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যেতে পারে।

বিখ্যাত ফিকশন চরিত্র ‘হারকিউল পয়রট’-এর নির্মাতা ইংরেজ  সাহিত্যিক ওগাথা ক্রাইস্টি

একজন আকর্ষণীয় কেন্দ্রিয় চরিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো তাদের ভূমিকাকে সুনিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে এখানো বুঝানো হচ্ছে যে, অসংখ্য দৈহিক কর্মকা- উপস্থাপনের মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকার চেয়ে বিপরীত কোনো কিছু প্রদর্শন করা। এভাবে চরিত্রগুলোর মধ্যে দুর্বল দিক বা নেতিবাচক দিকগুলোর সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে তা আরো শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।

বাস্তব জীবনে চারপাশের চরিত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা। চরিত্রগলো আপনার পছন্দ না হলেও তা উপকার দিবে। কিন্তু এসব চরিত্র আপনার মনোযোগ ধরে রাখবে।… দৃষ্টান্তস্বরূপ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে বিবেচনায় নেওয়া যায়। টমের মতে, আপনি যে কোনো ধরণের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতেই পারেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করবেই। এটা কেন ঘটে? কোন বিষয়টি মিডিয়ার কাছে তাকে এতো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। …একজন ব্যক্তি নিয়ে পড়ার সময় কোন দিকটি সবচেয়ে আপনার মনোযোগ কেড়ে নেয়- এভাবে চিন্তা করলে অবশ্যই নতুন কিছু বেরিয়ে আসবে।…

আপনি কি বিশ্বাস করেন?

আমাদের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্যতা কম পেয়েছে এমন অনেক চরিত্র রয়েছে যেগুলো পাঠকদের তেমন আকর্ষণ করে না। এসব চরিত্রকে গ্রহণযোগ্য করে তোলাও একটি বিশেষ কাজ। টম বলেন, অধিকাংশ চরিত্রের সঙ্গে কিছু সাধারণ ও অসাধারণ চরিত্রের মিশ্রণ ঘটানো। এই পদ্ধতিতে, সকল নিয়ম অনুসরণ করে একটি আকর্ষণীয়, আবেগময় চরিত্র সৃষ্টি করা যায়। সাধারণত বাস্তব জগতের সঙ্গে চরিত্রের সামঞ্জস্য রেখে আকর্ষণীয় চরিত্র সৃষ্টি করা সহজ। কোন দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠক চরিত্রগুলোর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে।

উদাহরণস্বরূপ টম বলেন যে, চরিত্রকে আকর্ষণীয় করে তোলার আরেকটি পদ্ধতি হলো ভুলগুলো বিবেচনায় নেওয়া। আপনার চরিত্রের সবচেয়ে কোন ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো দুর্বল দিকগুলোকে আবৃত করে রাখে? যদি আপনি কোনো চরিত্রের গুণগুলো বিবেচনায় নেন তাহলে প্রতিটি গুণের বিপরীত দিকগুলোও আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে।

সর্বোপরি, সাধারণত মানুষের চরিত্রই আমরা নির্মাণ করি। আমাদের চারপাশের মানুষদের চরিত্রগুলোকে বাস্তব মানুষের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আপনার পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ভাবুন এবং তাদেরকে গল্পে রূপ দিন। এতে করে তাদেরকে কাল্পনিক চরিত্রে রূপান্তর করতে পারবেন।… বাস্তব মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করলে তা আপনার চরিত্র নির্মাণকে আরো বাস্তব করে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। এর মানে হলো চরিত্রগুলোর মধ্যে চারিত্রিক বৈচিত্র্য, ভুল-ভ্রান্তির মিশ্রণ এবং ব্যক্তি জীবনের জটিল দিকগুলো উপস্থাপন করা। মূলত পাঠক এগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং আকর্ষণ বোধ করবে।

অনেক লেখকের মধ্যে একই ধরণের চরিত্র নির্মাণের মতো বড় ধরণের ভুল করার প্রবণতা রয়েছে। টম বলেন, বাস্তবে কেউই শতভাগ সময় দুঃখী, সুখী, রাগান্বিত বা দয়ালু নয়। মানবজীবনের এসব বাস্তবতাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে চরিত্রকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তোলা আদর্শ লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা গল্পের চরিত্রকে বাস্তবে উপলব্ধিযোগ্য করে তোলার প্রথম পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ  ফিকশন লেখক হেলেন ফিল্ডিং-এর বিখ্যাত ফিকশন ‘ব্রাইডগেট  জোনস ডায়েরি’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ

কত সংখ্যক মানে অসংখ্য:

প্রতিটি কেন্দ্রিয় চরিত্রের পেছনে বিচিত্র ঘটনার সংযোগ করতে হয়। চরিত্রকে খুব বেশি গভীর করে তুলতে আপনি কি পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করবেন? টমের মতে, এক্ষেত্রে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। যতই আপনার কাছে প্রধান চরিত্র থাকবে ততই সামঞ্জস্য বজায় রেখে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা আপনার কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এটি তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব দেয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যদি আপনার কাছে একই গুরুত্ব বহন করে এমন চারটি চরিত্র থাকে, তাহলে পাঠকের জন্য মূল চরিত্র বাছাই করা খুব কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কোনো ফিকশন সহজে লেখা ও বুঝার জন্য আমার পরামর্শ হলো কয়েকটি খুবই শক্তিশালী চরিত্র নির্মাণ করা, যার মধ্যে অল্পকটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাবে।

গল্পে মাঝে মাঝে মুখ্য (থীন) ও গৌণ (ফ্যাট) চরিত্রগুলোর বিবরণ প্রদান করতে হয়। গৌণ চরিত্রগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করার শক্তি রয়েছে। গৌণ চরিত্রগুলো প্রধান চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন না করে স্মরণীয় হিসেবে তুলে ধরার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের জনপ্রিয় সব সায়েন্স ফিকশন বই কিনতে ক্লিক করুন !

টম আরো বলেন যে, আমি মনে করি না যে, আপনার বইয়ে সকল চরিত্রের উপর জোর দিয়েই তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। তুনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগলোর নাম উল্লেখ করলে তা দ্বিধার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া গল্পে কয়েকটি গৌণ চরিত্রের নাম উল্লেখের মধ্যদিয়ে পাঠকদের মনে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। মাঝে মাঝে তা খুব সাধারণভাবে তুলে ধরাই ভালো। এতে পাঠক বুঝতে পারে যে, এসব চরিত্র কম গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে, অন্য একটি কৌশলের কথা বলব যা চরিত্রকে আকর্ষণী করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ- যদি আপনি একটি ডিনার পার্টির ৪টি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে চান, তাহলে একজনের মাধ্যমে সবার পরিচয় তুলে ধরলে তা পাঠকের কাছে দ্বিধা সৃষ্টি করবে। যদি আপনি চরিত্রগুলোর আকর্ষণীয়ভাবে একটি পরিচিতি তুলে ধরতে পারেন তাহলে পাঠকের জন্য তা বুঝা সহজ হবে।

আরও পড়ুনঃ 

ঘনশ্যাম থেকে ঘনাদা – জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্রটির ইতিবৃত্ত !

টেনিদার বায়োগ্রাফিঃ যেমন ছিল কাল্পনিক চরিত্রটি !

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png