নেলসন ম্যান্ডেলা-কিংবদন্তির জীবন থেকে নেওয়া কয়েকটি ঘটনা !

0

1025

নেলসন ম্যান্ডেলা-কিংবদন্তির জীবন থেকে নেওয়া কয়েকটি ঘটনা !

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

নেলসন ম্যান্ডেলা – জন্ম ১৯১৮ সালে ১৮ জুলাই। বাবা গাদলা হেনরি মপাকানইসা ছিলেন ইস্টার্ণ কেপ প্রদেশের থেম্বো রাজকীয় পরিবারের কাউন্সিলর। যিঁনি তাঁর নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহলা ডালিভুঙ্গা ম্যান্ডেলা। স্কুলের এক শিক্ষিকা তার ইংরেজী নাম রাখলেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘মাদিবা’ নামে পরিচিত। শুধু নিজ দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। ম্যান্ডেলা ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন মানবিক। চেয়েছেন সারাবিশ্বে শান্তি রক্ষার জন্য। কতটুকু পেরেছেন সেটা তাঁর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমেই বুঝা যায়। এ আয়োজনে থাকছে ম্যান্ডেলার জীবন থেকে নেওয়া কয়েকটি ঘটনা।

০১।  সময়মত জ্বলে ওঠা

১৯৬০ সালে শার্পভিলে কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে ৬৯ জন নিহত হয়। ফলে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আদৌ আর লাভ হবে কি না সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময়কালীন এক বক্তৃতায় নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ‘সরকার যখন নিরস্ত্র এবং প্রতিরোধবিহীন মানুষের ওপর পাশবিক আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন সরকারের সঙ্গে শান্তি এবং আলোচনার কথা বলা নিস্ফল।’ তারপর এএনসি সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করলে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়। শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কুখ্যাত রুবেন দ্বীপে দীর্ঘ কারাজীবন।

০২।  নিরপেক্ষ আদর্শ

নেলসন ম্যান্ডেলার তখনও কারাবরণ করছেন। মুক্তির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকল। শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তি পান ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী, দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর। মুক্তির দিন কারাগারের সামনে দেয়া বক্তৃতায় নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর সমর্থকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সেই কথা, যা তিঁনি তাঁর বিচারের সময় আদালতে বলেছিলেন। তিঁনি বলেন, ‘এমন এক দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখি, যেখানে সব জাতি, সব বর্ণের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারবে। এটা এমন এক আদর্শ, যেটির আশায় আমি বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু যদি দরকার হয়, এই আদর্শের জন্য আমি মরতেও প্রস্তুত।’

০৩।  প্রতিশোধ নয়, বন্ধুত্বের হাত

ম্যান্ডেলা তখন রাষ্ট্রনায়ক হলেন। পুরনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে নতুন আফ্রিকা গড়ার কাজটা অতো সহজ ছিল না। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে তার সাবেক শ্বেতাঙ্গ নিপীড়কদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখন থেকেই শুরু হলো এক নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার পথ চলা।

০৪।  মুকুট হেলে পড়া কার্টুন 

নেলসন ম্যানডেলা তখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সবাই তার উপাসনা করছিল একঅর্থে। কিন্তু ভুল তো সবাই করে। ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তখন কার্টুনিস্ট ‘জানাথন যাপিরো’ একটি কার্টুন আঁকেন তাঁকে সমালোচনা কোরে। কার্টুনের মাধ্যমে দেখানো হয় ম্যান্ডেলার মাথায় একটি মুকুট; যা সামান্য হেলে পড়ছে। কার্টুন ছাপা হলো। ম্যান্ডেলার নজরে এলো সেটি। যাপিরোকে ফোন করলেন তিনি,

– হ্যালো? যাপিরো?

– ইয়েস, মিস্টার প্রেসিডেন্ট!

– কার্টুনটি তুমি এঁকেছ?

– ইয়েস, মিস্টার প্রেসিডেন্ট!

– ওয়েল ডান।

– মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি তো আপনার সমালোচনা করেছি।

– সেটাই তো তোমার কাজ। অভিনন্দন।

পরে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের মধ্যে ঐ কার্টুন টাঙানো হয়েছিল।

০৪।  বাংলাদেশের দুই নেত্রীকে এক করা

বাংলাদেশে যখন এসেছেন ম্যান্ডেলা, তখন তিঁনি বক্তৃতা দেওয়ার সময় তৎকালিক নেত্রী শেখ হাসিনাকে যেমন ডেকেছিলেন, তেমনি বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকেও ডেকেছিলেন। দুই নেত্রীকে এক করেছিলেন এই মহান ব্যক্তি।

৪।  নির্লোভী

বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যান্ডেলা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখেননি। প্রথম কার্যকালের শেষেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অবসর নিয়েছেন। তবে ম্যান্ডেলা ও অবসর- এই দুটি শব্দ পরস্পরবিরোধী। তার প্রভাবও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের যে প্রান্তেই তিনি হাজির হয়েছেন; সেখানেই তাকে ঘিরে বিস্ময় ও শ্রদ্ধার একটা বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কখনও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাধে হাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মৃদু স্বরে কথা বলতেন। কখনও তাকে দেখা যেতো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গুরুগম্ভীর পরিবেশে অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে।

০৫।  এইডস প্রতিরোধে সোচ্চার 

তাঁর এক ছেলে মারা গিয়েছিলেন এইডসে। এ ঘটনার পর তিঁনি দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস প্রতিরোধ এবং এর চিকিৎসা নিয়ে সোচ্চার হন। অবসরের বাকি জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি দারিদ্র দূরীকরণ এবং এইডস নিরাময়ের প্রচারণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

০৬।  ম্যান্ডেলার জবাব

নেলসন ম্যান্ডেলাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে কীভাবে মনে রাখলে খুশি হবেন তিঁনি? উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমি চাই আমার সম্পর্কে এরকম কথাই বলা হোক; এখানে এমন এক মানুষ শায়িত আছেন, যিনি পৃথিবীতে তার কর্তব্য সম্পাদন করেছেন। আমি চাই এটুকুই বলা হোক আমার সম্পর্কে।’

নেলসন ম্যান্ডেলার সকল বই 

আরও পড়ুনঃ 

যে ১০ জনের জীবনী আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে !

মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর যুদ্ধজীবন ও কিছু অজানা কথা !

Write a Comment

Related Stories