The Body Language of Liars – মিথ্যা তুমি দশ পিপড়া

0

179

The Body Language of Liars – মিথ্যা তুমি দশ পিপড়া

  • 0
  • #অন্যান্য
  • Author: rokomari
  • Share

নানান মানুষের কাছে প্রতিদিন নানা ধরনের রকমের মিথ্যা শুনতে হয় আমাদের। কত ঝামেলাই না হয় এইসব বানানো গালভরা  কথার মধ্যে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা সেটা  খুজে বের করা। সমস্যা আছে সত্যি, কিন্তু খুশির বিষয় সমাধানও আছে। Dr. Lillian Glass নামের এই  বিশেষজ্ঞ কাজ করেন আমেরিকান FBI এর সাথে। দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন মানুষের আচারনগত বৈশিষ্ট্য এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপরে। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ সত্যি কথা বলছে নাকি মিথ্যা কথা বলছে সেটা  বোঝার জন্য তার চেহারার অভিব্যক্তি,বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং তার কথা বলার ধরনের উপর বিশেষভাবে নজর দেয়া উচিত।  কারণটা সোজা। কানকে ফাকি দেয়া যায়, কিন্তু চোখকে না।

The Body Language of Liars বইতে Dr. Lillian Glass উল্লেখ করেছেন কিছু টিপস যেগুলো দিয়ে যাচাই বাছাই করা যায় বক্তার ব্যক্তব্যের সত্যতা।

বডি ল্যাংগুয়েজ এর সব জনপ্রিয় বই দেখুন এখানে

এমন কিছু টিপস নিয়েই আজকে কথা বলবো আমরা।

হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে ফেলাঃ

তুমি সরাসরি একজনের দিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাস করলে। উত্তর দেবার সময় সেই একজন তার মাথাটা ধুম করে অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেললো। সুন্দরভাবে বলতে গেলে তার মাথার পজিশন পরিবরতন করলো। সতর্ক হয়ে যাও, কারণ তোমার প্রশ্নের উত্তরদাতা বোধহয় সত্যি কথা বলছে না  সেক্ষেত্রে।

শ্বাস প্রশ্বাসে ধরন পাল্টে গেছেঃ

একজন মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে তখন তার মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের  চেয়ে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। আর সেই সক্রিয়তা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন জন্য বেশি পরিমানের অক্সিজেন। একজন মিথ্যুক এক্তু বেশিই অক্সিজেন নেবে বাতাস থেকে, এক্তু বেশিই ভারি হবে তার শ্বাস প্রশ্বাস। সুতরাং নজর দাও সেইদিকেও।

মানুষ থেকে পাহাড়ঃ

হাত পা নারিয়ে চাড়িয়ে কথা বলাটা প্রত্যেক মানুষের অভ্যাস। মানুষ কথা বলার সময় অবচেতন মনেই না হয় হাত নাড়ায়, না হলে পা, না হলে মাথা (অথবা সবকটাই)। কিন্তু মিথ্যা কথা ত সাধারনভাবে হেসে খেলে বলা যায় না, চিন্তা ভাবনা করে হিসাব নিকাশ করে বলতে হয়। মস্তিষ্ক সচেতনভাবে গল্প বানাচ্ছে, আর সেই সচেতনতা স্থিরতা এনেছে শরীরে প্রতিতি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। সুতরাং  যে মানুষটি পাহাড়ের মতো ঠায় দাড়িয়ে কথা বলে, তার কথা একটু  ভেবেচিন্তে বিশ্বাস করাই ভাল।

একই কথা বার বার বলাঃ

একজন মিথ্যেবাদী তোমাকে এই মুহূর্তে যে গল্পটা শুনাচ্ছে সেটা বোধয় কিছুক্ষন আগে সে নিজেও জানত না। তোমার সামনে এবং সবচেয়ে মজার কথা তার নিজের কাছে সেই বাননো গল্পটাকে  বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সেই একই গল্প বার বার একই ভাবে কিংবা বিভিন্ন ভাবে  বলবে ।

৫। কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখাঃ

মানুষজন সচারচার যে প্রশ্নের উত্তর দিতে চায় না,কিন্তু বাধ্য হয় উত্তর দিতে;বেশীররভাগ সময়ে দেখা যায় সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় তারা  বার বার মুখে হাত  দিচ্ছে কিংবা কথা বলার সময়  মুখ ঢেকে রাখছে।  সচেতনভাবে হোক আর অবচেতনভাবে হোক, এইভাবে মুখে হাত দেয়ার ভঙ্গি তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রতি উদাসীনতাটাকেই প্রকাশ করে।

বডি ল্যাংগুয়েজ সর্বাধিক জনপ্রিয় বইটির নামই হলো বডি ল্যাংগুয়েজ, লিখেছেন এলান পিস। বইটির কিছু অংশ এখানে পড়ুন

খবরগুলো একটু বেশিই রঙিনঃ

একটা সত্যি ঘটনাতে ততটা রং মাখানো কখনই সম্ভব না যতটা একটা মিথ্যে ঘটনাতে মাখানো সম্ভব। কবে, কখন ,কোথায়, কি, কখন হয়েছিলো, কিভাবে, কেন সহ আরও অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর যখন কেউ খুব  নির্ভেজাল ভাবে বলে দিবে, তখন এটাই মনে করাই শ্রেয় যে সেখানে ভেজাল থাকার  সম্ভবনা প্রবল।

  গুরুত্ব  দেয়া প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায়ঃ

সত্যিকে ঢেকে রাখার ভয় প্রত্যেক মিথ্যেবাদীর মধ্যেই থাকে। কোনভাবে যদি তুমি তাদের মিথ্যে ধরে ফেলতে পারো, এই ভয়ে তারা তোমাকে তাদের মিথ্যে কথা বিশ্বাস করানোর জন্য অতিরিক্ত যে শ্রম তা দিবে, তা ফুটে উঠবে তাদের কথা বলার ভঙ্গিতে। সাধারনের চেয়ে একটু বেশি আক্রমণাত্মক হবে সে ভঙ্গি।সুতরাং নজর রাখতে হবে বক্তার কথা বলার ভঙ্গিমায়।

অবচেতন মনে হাত যাবে শরীরের দুর্বলতম জায়গাগুলোতেঃ

মানুষ তার শরীরের দুর্বলতম জায়গাগুলোকে সবসময়ই নিরাপদে রাখতে চায়। মাথা,গলা,ঘাড়,পেট- এইগুলো হচ্ছে শরীরের দুর্বলতর অংশ। যে মিথ্যে বলছে সে ত জানে সে মিথ্যে বলছে এবং এও জানে ধরা পড়ে গেলে গণ পিটুনিও হয়তোবা খেতে হতে পারে। তার এই ভয় তার অজান্তেই তার মস্তিষ্ককে নির্দেশ দিচ্ছে তার শরীরের দুর্বল অংশগুলোকে সাবধানে রাখতে। সেই নির্দেশমতো চলছে তার হাত। সুতরাং হাতের দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।

মিথ্যে কথা একটানা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকরঃ

দুশ্চিন্তায় থাকার সময় এবং মিথ্যে কথা বলার সময় শারীরিক গঠনগত কারণে আমদের  মুখ শুকিয়ে যায়। একজন মিথ্যেবাদী এই ‘গলা শুকিয়ে কাঠ’ হবার মতো অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। সে যদি হঠাৎ কথা বলা থামিয়ে দেয়, কিংবা কথার মাঝখানে দাত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো শুরু করে- তাহলে তার এই আকস্মিক পরিবর্তনটা নিয়ে অবশ্যই মাথা ঘামাবে।

১০এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকাঃ

‘পড়ে না চোখের পলক’- আক্ষরিক অর্থে এই গানটা একজন মিথ্যেবাদীর জন্য প্রযোজ্য। সাধারণত একজন মানুষ চোখে চোখ রেখে মিথ্যে কথা বলতে পারে না। কিন্তু যখন সে স্মার্ট, তখন সে তার মিথ্যেকে  সত্যি বানানোর জন্য এক দৃষ্টিতে তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং চোখের পলক ফেলতেই ভুলে যাবে।

রকমারি ডট কম-এ একটু পড়ে দেখুন বডি ল্যাংগুয়েজ নিয়ে লেখা সেরা একটি বই, বডি ল্যাংগুয়েজ  ,লিঙ্কঃ https://bit.ly/2Tho41U

Write a Comment