আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে

0

204

আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে

  • 0
  • #লেখক কুঞ্জ
  • Author: rokomari
  • Share

রবীন্দ্রনাথ ২২ শে শ্রাবণ বেশ সকাল সকালই বের হয়েছেন তাঁর প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আয়োজন করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে। ভোরে একটা অনুষ্ঠানে তাঁর নিজের লেখা,সুর করা গান শুনে এখন যাচ্ছেন তাঁর বইগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখতে। সবাই কেবল ভাবে রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর গানের মাঝেই বিরাজিত,কিন্তু বই ই যে রবীন্দ্রনাথকে অমরত্ব দিয়েছে তা এখন কেউ মনেই করেনা। রবিবাবু এখন দাঁড়িয়ে আছেন রকমারি ডট কমের অফিসের সামনে। ভোরের শুভ্রতা এখনো কাটেনি তবুও ভেতরে কেমন যেন এক প্রাণচঞ্চলতা দেখা যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ কৌতূহলী হয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লেন দেখার জন্য। ঢুকেই দেখতে পেলেন তাঁর রবীন্দ্র রচনাবলি থরে থরে সাজানো। ৩০ টি বইয়ে সাজানো যেন তার পুরো লেখক জীবন। একের পর এক পার্সেল হচ্ছে রকমারির কাগজে, তার ওপর লেখা হচ্ছে সেসব বইয়ের গন্তব্য। রবিবাবু বুঝলেন তাঁর জন্মদিনে তাঁর রচনাবলি বেশ কিনছে পাঠকরা। কিন্তু হঠাৎ করে বই কেনার এমন তোড়জোড় কেন? রবিবাবু ঠিক বুঝতে পারলেন না। সামনে যেতেই দেখলেন এক যুবক হিজিবিজি কিছু লেখা চতুষ্কোণ এক বাক্সের সামনে বসে আছে আর গভীর মনোযোগে কিছু একটা দেখছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর চশমাটা চোখে দিয়ে নিজেও দেখার চেষ্টা করলেন-

রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে সংগ্রহ করুন ৩০ খণ্ডের “রবীন্দ্র রচনাবলি” আর রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য সকল বইও পাচ্ছেন বিভিন্ন  ছাড়ে।

“বাহ!বাহ! আমার বইগুলো নিয়ে তাহলে অনলাইনেও বেশ কদর হচ্ছে”- বেশ সন্তুষ্ট মনে হল তাঁকে। রবিবাবু বুঝতে পারলেন তাঁর বইগুলোর জন্যই এতো তোড়জোড়। তাঁর লেখা বইগুলো এতো বছর পরেও মানুষ পড়তে ভোলে নি,ভাবতেই ভালো লাগছে তাঁর।

 

ওই তো এক ছোকরা বই নিয়ে যাচ্ছে,দেখি ওর সাথে সাথে যাই- রবীন্দ্রনাথ রকমারির এক ডেলিভারি ম্যানের পিছু নিলেন, যেন দেখতে চাচ্ছেন তাঁর বইয়ের গন্তব্য কোথায়। বইয়ের দশাসই ভারি প্যাকেট নিয়ে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে ছেলেটার। তবে দরজায় টোকা দেয়ার সাথেই সাথেই নামা ঝিরিঝিরি শ্রাবণের বৃষ্টি সেই ক্লান্তি অনেকখানি কমিয়ে দিলো বুঝি।

 

“ আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে

দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে,

ঘরের বাঁধন যায় বুঝি আজ টুটে॥

ধরিত্রী তাঁর অঙ্গনেতে নাচের তালে ওঠেন মেতে,

চঞ্চল তাঁর অঞ্চল যায় লুটে

প্রথম যুগের বচন শুনি মনে

নবশ্যামল প্রাণের নিকেতনে।”

 

রবিবাবু দেখলেন দরজা খুলে দাঁড়ালো এক চঞ্চল ষোড়শী। তাঁর যুগের মতো শাড়ি পড়ে চুল বেণি করা নয়,কিন্তু ঠিক একই রকম কোমল যেন। ডেলিভারি ম্যানের হাত থেকে বইগুলো নেয়ার সময় কাজলচোখে তৃপ্তির ছায়া তাঁর চোখ এড়ায় নি। বইগুলো বের করে হাসিতে উদ্ভাসিত ষোড়শী বালিকার মুখ দেখে রবিবাবুর মনে হল এমন তৃপ্তি যেন শ্রাবণের বৃষ্টিতেও নেই।

একরাশ আত্মতৃপ্তি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ আবার রওনা হলেন না ফেরাদের দেশে। নিজ প্রয়াণদিবসে অমূলক মাতামাতি দেখার হতাশা নিয়ে ফিরে যাবেন ভেবেছিলেন আর এখন নিজেকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করার আনন্দ অভিব্যক্তিই যেন তাঁর চোখে-মুখে।

রবীন্দনাথ ঠাকুরের সকল বই দেখুন এখানে 

Write a Comment

Related Stories