জেনে নিন কাফকা’র প্রেম, অদ্ভুত অনুরোধ ও ব্যক্তিগত জীবনের অলিগলি

74

763

জেনে নিন কাফকা’র প্রেম, অদ্ভুত অনুরোধ ও ব্যক্তিগত জীবনের অলিগলি

  • 0
  • #লেখক কুঞ্জ
  • Author: rokomari
  • Share

কাফকা,  জগতবিখ্যাত লেখক। লেখালেখি করতেন জার্মান ভাষায়। উপন্যাস ও ছোটগল্পে ছিল তার বিচরণ। বিংশশতাব্দীর সর্বাধিক প্রভাবশালী লেখক বলা হয় তাঁকে। জনপ্রিয় এই লেখকের জানা-অজানা অধ্যায় এখানে উন্মোচন করা হলো।

জন্ম-

কাফলা ৩ জুলাই ১৮৮৩ সালে তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের প্রাগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। একটি ইহুদী মধ্যবিত্ত পরিবারে তার শৈশব কাটে।

ভাষা-

কাফকা জার্মান ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা হিসেবে মানতেন। তাঁর সময়কালে চেক ভাষা ও জার্মান ভাষা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিভাজন ছিল। প্রাগের অধিকাংশ মানুষ চেক ভাষায় কথা বলতো। কাফকা উভয় ভাষাতেই পারদর্শী ছিলেন।

লেখার বিষয়বস্তু-

কাফকাকে বিবেচনা করা হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হিসাবে। কাফকা তাঁর লেখায় অস্তিত্ববাদ তত্ত্বকে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ লেখা, যেমন- ‘ডি ভারভাণ্ডলাঙ্গ'(রুপান্তর), ‘ডের প্রোজেন্স’ (পথানুসরণ), ‘ডাস স্কোলস’ (দুর্গ) ইত্যাদির বিষয়বস্তু এবং আদর্শিক দিক মূলত বিচ্ছিনতাবোধ, শারীরিক এবং মানসিক নিষ্ঠুরতা, অভিভাবক-সন্তান সম্পর্কের সংঘর্ষ,আতঙ্কজনক উদ্দেশ্য চরিতার্থে ব্যস্ত এমন চরিত্র, মানবজীবনে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ এবং রহস্যময় রূপান্তর।

পরিবারবৃত্তান্ত-

প্রাগ শহরের ‘ওল্ড টাউন স্কয়ার’ নামক শহরে বেড়ে ওঠেন কাফকা। তাঁর বাবার নাম হারমেইন কাফকা। দাদার নাম জ্যাকব কাফকা। প্রথমে তাঁরা গ্রামে বসবাস করতেন। পরে তারা শহরে বসবাস করা শুরু করেন। কাফকার বাবা প্রাগ শহরের রাস্তায় ফেরি করে বিভিন্ন জিনিস বিক্রয় করতেন। পরে অবশ্য একটি পোশাকের দোকান দেন। কাফকার মায়ের নাম জুলি। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পোশাকবিক্রেতার মেয়ে। কাফকা ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ সন্তান। বয়স যখন মাত্র সাত বছর তখন তাঁর ছোট দুই ভাই জর্জ এবং হাইনরিখ শিশুকালেই মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্য তিন বোন এলি, ভেলি এবং ওতল; প্রত্যেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হত্যাকাণ্ডে নিহত হন। কাফকার সাথে তাঁর বাবার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না।

পড়াশোনা-

১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত কাফকা ডয়েচ ক্যানাবেনশুল জার্মান বয়েজ এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ালেখা করেন। ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে পড়ালেখা করার পর তাঁর শিক্ষার ইতি ঘটে। ১৮৯৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তার বাবা তাকে একটি প্রথাগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। সেই বিদ্যালয়ে জার্মান ভাষার মাধ্যমে পাঠদান করা হলেও কাফকা কথা বলা ও লেখার ক্ষেত্রে চেক চেক ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী ছিলেন। সেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাফকা পূরো আট বছর অধ্যয়ন করেন এবং বেশ ভাল ফলাফলঅর্জন করেন। তার চেক ভাষার ওপর ভাল দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে চেক ভাষায় মোটেও দক্ষ মনে করতেন না এবং চেক ভঙ্গিতে জার্মান বলতেন। ১৯০১ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। একই সালে কাফকা প্রাগ সহরের জার্মান চার্লস-ফার্দিন্যান্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে ভর্তি হন। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি রসায়ন ছেড়ে আইন শাস্ত্রে ভর্তি হন। আইনশাস্ত্রে কাফকার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না কিন্তু তার পরও দুটি কারণে তিনি এই বিষয়ে অধ্যয়ন করার জন্য মনস্থির করেন। প্রথম কারণ হল আইন পেশায় যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকায় তার বাবা খুশি থাকবেন অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনেক দীর্ঘ কোর্স হওয়ায় তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করতে পারবেন এবং তার প্রিয় বিষয় যেমন ইতিহাস, কলা ও জার্মান শিক্ষায় ছোট ছোট কোর্স করতে পারবেন।

বন্ধুত্ব-

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় কাফকার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন। পরবর্তী জীবনে সাহিত্য ও কলার বিভিন্ন বিভাগে জনপ্রিয় হয়েছিলেন সবাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের অধ্যয়নের শেষের দিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্স বোর্ড নামে একজন ছাত্রের সাথে পরিচিত হন তিনি। যার সাথে কাফকার আজীবন বন্ধুত্ব ছিল।

স্বভাব-

কাফকা অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। মিতভাষী হওয়া স্বত্তেও তার কথার মধ্যে নিগূঢ় উপলব্ধি থাকত।

প্রেম-

কাফকা একাধিকবার প্রেমে পড়েছেন বলে জানা যায়। কিন্তু কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বা বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়নি৷

অদ্ভুত অনুরোধ-

মৃত্যুর কিছুকাল আগে নিজের যাবতীয় পাণ্ডুলিপি এবং না পাঠানো চিঠি ও স্মৃতিচারণামূলক বই দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘকালের বন্ধু, সাহিত্যিক ও প্রকাশক মাক্স ব্রোডকে৷ দেয়ার সময় একটা অনুরোধও করেছিলেন– সবকিছুই যেন তাঁর মৃত্যুর পর ধ্বংস করে ফেলা হয়৷ ব্রোড তা করেননি৷

কাফকার সকল বই দেখতে এবং সংগ্রহ করতে

মৃত্যু-

এই লেখকের প্রায় সারাটি জীবনই কেটেছে অসুস্থতাজনিত বিষণ্ণতা এবং সামাজিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে৷ ৩৪ বছর বয়সে তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন। মারা যান ৪১ বছর বয়সে৷

কাফকা বেঁচে থাকতে তাঁর খুব কম রচনাই প্রকাশিত হয়েছিল৷ মৃত্যুর পরই সিংহভাগ প্রকাশিত হয়৷ তাঁর সাহিত্যকর্মই তাঁর লেখক সত্তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে৷

Write a Comment