সায়েন্স ফিকশন বইয়ের পাতা থেকে বাস্তবে রুপান্তরিত কিছু দারুণ আবিষ্কার!

1
3028

“রিকি তার যোগাযোগ মডিউলটি তুলে ধরে সান্তার সাথে যোগাযোগ করলো”। অথবা “হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে তার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো।“ এ ধরণের বর্ণনা বাংলা সায়েন্স ফিকশন সাহিত্যে অহরহই দেখেছেন নিশ্চয়ই। কালের পরিক্রমায় কল্পনার সেই যোগাযোগ মডিউল বাস্তব জীবনে ধরা দিয়েছে মোবাইল ফোন হিসেবে। হলোগ্রাফিক স্ক্রিনও এখন আর কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। এমনি ভাবে সায়েন্স ফিকশনে বর্ণিত এমন বহু বস্তু বাস্তব জীবনের দৈনন্দিন ব্যবহারের দ্রব্যে পরিনত হয়েছে। এই লেখায় তেমন কিছু আবিষ্কারের কথা তুলে ধরা হলো-

(১) জিপিএস

দেয়ালে দেয়ালে “একে ধরিয়ে দিন” লেখা সম্বলিত অপরাধীর ছবিওলা পোস্টার এখন আর দেখা যায় না তেমন। কী দরকার বাবা এত সব ঝামেলার! প্রযুক্তি এখন অনেক এগিয়ে গেছে। অপরাধী যদি ভুল করেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি-ধামকি দেয়ার চেষ্টা করে, তো তার সামনে মহাবিপদ! জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ণয় করা এখন সহজেই সম্ভব।

এবং আবারও চলে এলো মহান লেখক আর্থার সি ক্লার্কের স্টারট্রেক সিরিজ প্রসঙ্গ। সেই এন্টারপ্রাইজ ক্রুয়ের কথা মনে পড়ে? ভূমিতে অবতরণের পর যে বলেছিলো “Beam me up, Scotty!” আর্থার সি ক্লার্ক তাকে দিয়ে এই বাক্যটি বলাতে পেরেছিলেন বলেই হয়তো আজ জিপিএস সিস্টেম এতটা সহজপ্রাপ্য হয়েছে!

আর্থার সি ক্লার্কের সকল বই দেখতে পারেন এই লিংকে 

(২) ইয়ারবাড-

আজকাল মোবাইল ফোন আছে, অথচ ইয়ারবাড(হেডফোন বা ইয়ারফোন) ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বিরল। কাজে যাওয়ার পথে বাসে বসে একটু গান শুনে নিলে শরীর বেশ চনমনে হয়ে ওঠে, মনটাও থাকে সতেজ। ইয়ার ফোন বা হেডফোন আবিষ্কৃত হয়েছে খুব বেশি দিন হয় নি। কিন্তু রে ব্র্যাডবেরি তার “ফারেনহাইট ৪৫১” (বুক আইডিঃ 107143) গ্রন্থে সেই ১৯৫৩ সালেই এই বস্তুটির কথা উল্লেখে করেছেন।

ফারেনহাইট ৪৫১ বইটি নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। খুব কর্কশ একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন তিনি। একটি ডিসটোপিয়ান পৃথিবী, যেখানে বইয়ের কোন অস্তিত্ব নেই। যেখানে লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, মানুষের সংগ্রহে থাকে না বই। তারা মেতে থাকে হাই টেকনোলোজির মনহীন বিনোদনে। সেই সময় রে ব্র্যাডবেরি ইয়ারবাডের কথা ভেবেছিলেন, একটি বিনোদন অনুষঙ্গ হিসেবে। তখন কি তিনি ভাবতে পেরেছিলেন, যে সত্যিই সেই ডিভাইসটি একসময় মানুষের হাতে হাতে (নাকি কানে কানে!) ঘুরে ফিরবে!

ফারেনহাইট ৪৫১ বইটির ইংরেজী ভার্শন এই লিংকে

(৩) ডায়াগনস্টিক বেড

এই ব্যস্ত জীবনে অসুস্থ হওয়াটা এক অভিশাপ! বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে দাঁড়াতে হয় লম্বা লাইনে। তারপর দেখাতে গেলে লম্বা সময়ের অপেক্ষা। দেখালে পরে আবার হাজারটা টেস্ট করতে দেয়া। সেই টেস্টগুলো রিপোর্ট পেতে কত দিন, আবার রিপোর্ট দেখানোর জন্যে ডাক্তারের কাছে যাওয়া…যেন এক শেষহীন চক্র! এমন যদি হতো, একটি ডায়াগনস্টিক বেডে শুয়ে পড়লেন, আর সব চেকআপ অটোমেটিক ভাবেই হয়ে গেলো, তাহলে কেমন হতো?

রকমারি ডট কম বেস্ট সেলার সায়েন্সফিকশন এই লিংকে

কী, কেমন যেন পরিচিত লাগছে না যন্ত্রটিকে? তা তো লাগবেই! কারণ আর্থার সি ক্লার্ক রচিত স্টার ট্রেক সিরিজের ডক্টর ম্যাকয় যে ঠিক এমনই একটি ডায়াগনস্টিক বেড ব্যবহার করতেন মঙ্গল গ্রহ অভিযানে নিযুক্ত স্টার ট্রেকারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে। ভাবছেন, এমন ডায়াগনস্টিক বেড কি বাস্তবে সম্ভব? আপনার জন্যে সুখবর! ইংল্যান্ডে বেশ কিছু হাসপাতালে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। এখনও অবশ্য সমস্ত সুবিধা এতে অন্তর্ভূক্ত হয় নি। তবে এইটুকু অপেক্ষা তো আপনি করতেই পারেন, তাই না?

(৪) ইউনিভার্সাল ট্রান্সলেটর

ভারতের সাথে হোম সিরিজে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে ম্যান অফ দি ম্যাচ মুস্তাফিজুর রহমান ফ্লুয়েন্ট ইংলিশে সাংবাদিকদের তার প্রতিক্রিয়া জানালেন। পত্রিকায় এ খবর পড়ে তো তার পরিবার অবাক! “দ্যা ফিজ” আবার এত ভালো ইংরেজি শিখলো কবে থেকে? মূল ব্যাপার অবশ্য তা নয়। তিনি বাংলায়ই বলেছেন, তবে তা প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সাংবাদিকদের কানে লাগানো হেডফোনে ইংরেজিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

ইউনিভার্সাল ট্রান্সলেটর নিয়ে সীমিত পর্যায়ে কাজ চলছে, কিছুটা সাফল্যও পাওয়া গেছে। তবে তা যথেষ্ট নয়, যেমনটি মুরে লেইন্সটারের ফার্স্ট কনটাক্ট বইটিতে বর্ণিত আছে। সেখানে মহাবিশ্বের কোন এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুজন মহাজাগতিক প্রাণীর মধ্যে টেকনোলোজি সংক্রান্ত আলাপ হয় ইউনিভার্সাল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে। সেটাই ছিলো প্রথম। এর পরে অবশ্য এ নিয়ে অনেক সায়েন্স ফিকশনেই বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবাল এর জনপ্রিয় সব সায়েন্স ফিকশন-এর লুক ইনসাইড দেখুন এখানে

(৫) ফ্লপি ডিস্ক

পাতলা একটি ডিস্ক। ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১.৪৪ মেগাবাইট। দুই-তিনবার ব্যবহার করার পরেই নষ্ট হবার সমূহ সম্ভাবনা! নাম ছিলো তার বাহারী, ফ্লপি ডিস্ক! যারা নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার ব্যবহার করতেন তারা ভালোই জানবেন এই ক্ষুদ্র বস্তুটির ব্যবহার সম্পর্কে। এখন অবশ্য জাদুঘরেও এটিকে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ! এর পরিবর্তে এসেছে ইউএসবি ড্রাইভ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ দুটির কনসেপ্টও আর্থার সি ক্লার্কের স্টার ট্রেকে ছিলো।

এভাবেই মানুষের অসাধারণ চিন্তাশক্তি এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতার মাধ্যমে একসময় যা কল্পনা ছিলো তাকে বাস্তবে পরিণত করছে মানুষ, সভ্যতা পাচ্ছে গতি। সেই গতির সাথে তাল মিলিয়ে শাণিত করতে পারেন আপনার কল্পনা শক্তিকে, এক্সপ্লোর করুন বিস্ময়ের অপার দুনিয়া,

দেখুন কিছু সায়েন্স ফিকশন কালেকশন এই লিংকে