বিশ্ববরেণ্য কোটিপতিদের জীবন পাল্টে দেওয়া ৭টি বই

25
8093

বিশ্বের বেশিরভাগ সফল এবং ধনী মানুষদের একটা জায়গায় খুব মিল আছে, সেটা হলো তাঁরা প্রায় সবাই প্রচুর বই পড়েন। ওয়ারেন বাফেট একবার এক সাক্ষাতকারে বলেন তিনি তাঁর দিনের শতকরা ৮০ ভাগ সময় বই পড়ে ব্যয় করেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ পাতা পড়েন তিনি। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবারগ বছরে ৫০ এর অধিক বই পড়ে থাকেন। বিশ্ববরেণ্য কোটিপতিদের সাফল্যের পিছনে তাদের পড়া বিভিন্ন বইয়ের অবদান কোনো অংশে কম নয়। বিভিন্ন সাক্ষাতকারে এবং লেখায় তাঁরা তাদের পছন্দের এবং জীবন পাল্টে দেওয়া বেশ কিছু বইয়ের কথা উল্লেখ করেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ও সফল মানুষদের প্রিয় বইগুলো সম্পর্কে।

    ১) বিল গেটসঃ ভ্যক্লাভ স্মিল পেশায় পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। আর তাঁর লেখা “Making the Modern World” বইটি বিশ্বের এক নাম্বার ধনী বিল গেটসের পছন্দের বইয়ের তালিকায় এক নাম্বারে স্থান করে নিয়েছে। স্মিলকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় লেখক উল্লেক করে গেটস বলেন, “গত ১০০ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

আগামী ৫০ বছরে এই পরিবর্তনটা সারা বিশ্বের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের ব্যবহার্য বস্তু কতটুকু আমরা ব্যবহার করি আর কতটুকু আমাদের আসলেই দরকার সেটা না জানলে এই পরিবর্তন কখনই সম্ভব না। আমাদের আধুনিক জীবনকে যে উপাদানগুলো সম্ভব করে তুলেছে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইটিতে যা সকলের জন্যই অবশ্যপাঠ্য।“

 

২) ওয়ারেন বাফেটঃ ১৯ বছর বয়সে বাফেট যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন তখন বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্পর্কে তাঁর জীবন দর্শন তৈরি করার পিছনে একটি বই অসামান্য অবদান রাখে। বইটি হলো বেঞ্জামিন গ্রাহামের লেখা “The Intelligent Investor”। বইটি সম্পর্কে বাফেট বলেন, “জীবনভর সঠিক বিনিয়োগের জন্য উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমত্তা কিংবা অনন্য ব্যবসায়িক জ্ঞান কোনোটাই দরকার নেই।

দরকার হলো সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতি যাতে সেই সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলতে না পারে সেইদিকে নজর রাখা। বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর জন্য কি কি করা দরকার তা এই বইটিতে পরিস্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর আবেগের ব্যাপারটা তো সম্পূর্ণ আপনার নিজের কাছে!”


৩) স্টিভ জবসঃ
প্রযুক্তির জগতে নতুন সব উপাদান নিয়ে আসা এবং সৃষ্টিশীল ডিজাইনের মাধ্যমে বাজারে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠাকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন স্টিভ জবস এবং তাঁর অ্যাপেল। জবসের পছন্দের বই হলো ক্লেইটন ক্রিস্টেনসেনের “The Innovator’s Dilemma”

Steve Jobs

জবস বলেন, “কোম্পানিগুলো প্রায়ই নতুন প্রযুক্তি এবং তাদের ভোক্তাদের চাহিদাগুলোর ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে যায়। সফলভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন প্রযুক্তি এবং সাহসী আইডিয়া অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। আর এই সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় মানসিক যে দন্দ কাজ করে তা দূর করা বিষয়ে বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা করে হয়েছে।“ জানা যায় আইফোন এবং অ্যাপেল ক্লাউড চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহনের পিছনে রয়েছে এই বইটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব। তিনি আরেকটি বইয়ের কথা সবসময় বলতেন, বইটির নাম Autobiography of a Yogi

৪) মার্ক জুকারবার্গঃ প্রাচীন কবি ভারজিলের “Aenid” ক্লাসিক সাহিত্যের অমুল্য এক রত্ন আর এই ক্লাসিক রত্ন থেকেই তাঁর জীবনের সংগ্রাম করার শক্তি-সাহস খুঁজে পেয়েছেন ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত কোটিপতি মার্ক জুকারবারগ। জুকারবারগ জানান রোমান সাম্রাজ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য বইয়ের নায়ক ইনিসের নিরন্তর সংগ্রাম এবং যাত্রা আসলে নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামের সাথে মিলে যায়। তাঁর মতে যুগ যুগ ধরে বইটি প্রতিকুল পরিস্থিতির সাথে সংগ্রাম করে দুর্গম পথে যাত্রা করে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের প্রেরণা যুগিয়ে যাবে।

৫)এলন মাস্কঃ স্পেস এক্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য মহাশুন্যের দরজা খুলে দেওয়া, মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ অথবা তেসলার মতো অত্যাধুনিক বিদ্যুত চালিত গাড়ি তৈরি করা, এলন মাস্কের জীবন যেনো এক জীবন্ত সায়েন্স ফিকশন! স্বাভাবিকভাবে এই মেধাবী ধনকুবেরের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই আছে একটা সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ। ডগলাস এডামসের লেখা “The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy” মাস্কের কৈশোরের উত্তাল সময়ে তাকে তাঁর জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে সাহায্য করে। এলন মাস্কের মতে “যতোই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি মহাবিশ্বের অনেক প্রশ্নের উত্তর আমরা উদ্ঘাটন করতে পারছি। প্রশ্ন তৈরি হলে সেই প্রশ্নের উত্তর বের করার উপায় তৈরি করা যায়। তাই মহাবিশ্ব নিয়ে জানতে হলে আমাদের জানতে হবে কিভাবে প্রশ্ন করতে হয়। বইটি আপনাকে শেখাবে কিভাবে প্রশ্ন করতে হয়।“ যদি জানতে চান এলন মাস্ক সম্পর্কে, তবে পড়তে এই বইটি

৬) মার্ক কিউবানঃ বিখ্যাত উদ্যোক্তা মার্ক কিউবানের মতে আইন র‍্যান্ডের বহুল আলোচিত এবং বেশ বিতর্কিত বই “The Fountainhead”  সকল নতুন উদ্যোক্তার অন্তত একবার হলেও পড়া উচিত। ব্যক্তিগত মতামত, আচরনের সাথে সামাজিক এবং গোষ্ঠীগত নিয়ম-ঐতিহ্যের বিরোধ নিয়ে এই বইটির বিষয়বস্তু। একজন তরুণ স্থপতির জীবন নিয়ে বইটির কাহিনী এগিয়ে চলে। তরুণ স্থপতি সামাজিক নিয়মরীতিকে তোয়াক্কা করতে চায় না। ফলশ্রুতিতে তাঁর সামাজিক খ্যাতি এবং অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিয়ে ভাবছেন?? জেনে নিন সফলদের অভিজ্ঞতা থেকে 

৭) জেফ বেজোসঃ আমাজনের প্রধান নির্বাহী জনাব বেজোসের প্রথম পছন্দ হলো আধুনিক ম্যানেজমেন্ট থিউরির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিটার ড্রাকারের লেখা। ড্রাকারের “The Effective Executive” তিনি নিজে পড়েন এবং তাঁর সিনিয়র ম্যানেজারদের পড়তে উৎসাহিত করেন। বেজোসের মতে এই বইটিতে ম্যানেজমেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ব্যাপারে অমুল্য সব জ্ঞান আছে। এই জিনিসগুলো সম্পর্কে বইটি থেকে অর্জিত জ্ঞান যেকোনো প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চিত্তবিনোদন এবং জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।সফল এবং ধনী ব্যক্তিদের জীবনে নতুন টারনিং পয়েন্ট তৈরি করে তাদের সাফল্যের পথে নিয়ে যায় বই। তাই আসুন আমরা সবাই আরও বেশি করে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করি, নিজেদের সফল এবং সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে তৈরি করি।

25 COMMENTS

  1. […] আপনার জীবনও কম ঘটনাবহুল নয় আমরা জানি , পথ সবসময় মসৃণ হবে তেমন আশা না করাটাই শ্রেয় , আসুন সৎ পথে নিষ্ঠার সাথে চলতে থাকি , বিশ্বাস করি পথ যেমনই হোক আমি সেই পথে চলতে পারবো বুক উঁচিয়ে যেখানে সফলতা হাটঁবে ঠিক পাশা-পাশি হাত ধরে ..। আরো দেখুনঃ বিশ্ববরেণ্য কোটিপতিদের জী… […]

  2. ভাই অনেক সুন্দর হয়েছে। টাকা নেই এই মুহুর্তে না হলে সব কিনতাম । বাকিতে কি বই নেওয়ার সিস্টেম আছে। যেমন একমাস পরে টাকা দিয়ে দিলাম।

  3. ৭টা বইয়ের মুল্য তালিকা দিতে পারেন।আমি ৭ টাই কিনতে চাই।

LEAVE A REPLY