দর্শনের যে ১০ টি বই আপনার অবশ্যই পড়া উচিৎ

0

693

দর্শনের যে ১০ টি বই আপনার অবশ্যই পড়া উচিৎ

  • 30
  • #বইব্লগ
  • Author: রকমারি ব্লগ
  • Share

দর্শন শুধু স্কুলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ারই বিষয় নয় বা অল্প কতক পণ্ডিতের হাতের মোয়াই নয়। বরং এটা সমাজ ও সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ও যাপনের অংশ। প্রত্যেকটা সমাজ, দেশ বা সম্প্রদায়ের দর্শন রয়েছে সেটা নিজের হউক বা ধার করা হউক, শক্তিশালী হউক কিংবা দুর্বল হউক। কেউ দর্শন জানুক বা না জানুক দর্শন তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর সেটা যদি জানা যায় তাহলে ভালো নয় কি? কিভাবে পৃথিবী এখানটাতে এসেছে, কিভাবে এখন চলছে, ভবিষ্যতটা কেমন হতে পারে সেটা জানা বা জানার চেষ্টা মহান প্রচেষ্টা নয় কি?

দর্শন না জানলে আপনি নিজেকে শিক্ষিত লোক বলার লাইসেন্স হারান আসলে। দর্শন হলো সকল জ্ঞানকাণ্ডের মা বা সুতো। একে ঠিকমতো ধরতে পারলে জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় দখল নেওয়া সহজ হয়ে যায়! এজন্য একজন পাঠককে সহজপাচ্য পড়াশুনা শেষ করে আরেকটু গভীরে যাওয়ার জন্য দর্শনের তরীতে সওয়ার হতে হবে। এখন কিভাবে সেই ভ্রমণটা শুরু করা যায় সেটা নবীন পাঠকের কাছে বিরাট প্রশ্ন আকারে হাজির হতে পারে।

১. সোফি’জ ওয়ার্ল্ড বা সোফির জগত- ইয়োস্তেন গার্ডার

পাশ্চাত্য দর্শনের জগতে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে সহজ চয়েস হতে পারে এ বইটি। সারা বিশ্বে প্রায় বিশ মিলিয়ন কপি বিক্রি বলে দিচ্ছে বইটির জনপ্রিয়তার কথা। ১৪ থেকে ১৫ তে পা দিচ্ছে এমন মেয়ে সোফি স্কুল থেকে ফিরে দেখলো তার চিঠির বাক্সে তার জন্য দুটি চিঠি। প্রত্যেকটাতে একটি করে প্রশ্ন। একটাতে রয়েছে: ‘তুমি কে?’ আর অপরটাতে রয়েছে-‘পৃথিবী কোথা থেকে আসলো?’ এভাবে শুরু হলো একজন রহস্যময় দার্শনিকের সাথে পত্রবিনিময়। সেই রহস্যময় দার্শনিকের কাছ থেকে সে জানতে লাগলো সক্রেতিস থেকে একেবারে সার্ত্রে পর্যন্ত দর্শনের অভিযাত্রার কাহিনী।

বইটি মূলত একটি উপন্যাস। আছে থ্রিলার, সাসপেন্স ও রহস্যের সমাহার। মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা হলেও বড়রাই এর থেকে পুরো সুবিধা নিতে পারবে। দর্শনকে মানুষের কাছে সহজলভ্য ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে নরওয়ের লেখক ইয়োস্তেন গার্ডারের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানানো উচিত সব পাঠকের! বইটির বাংলা অনুবাদ বাজারে পাওয়া যায়!

বইটির ইংরেজী ভার্শন দেখুন এখানে

২. দ্য লিটল প্রিন্স-আন্তোন সেইন্ট দ্য এক্সিপেরি

এই নভেলাটি ফরাসী ভাষায় সবচেয়ে বেশি পঠিত ও বেশি অনূদিত বই হিসেবে স্বীকৃত।  এটা বিশ শতকে ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠ বই হিসেবেও নন্দিত। এটি একই সাথে নৈতিক অ্যালিগরি আবার আধ্যাত্মিক আত্মজীবনী। মোহনীয় বর্ণনায় আমরা দেখি কিভাবে একটি ছোট্ট ছেলে দূরের কোন গ্রহ থেকে পৃথিবীতে পতিত হয়। হিন্দি ‘পিকে’ মুভিটিতো দেখেছেন, তাই না? সেরকম আর কি। দূর কোন গ্রহ থেকে একজন এই পৃথিবীতে চলে এসেছে যে এই পৃথিবীর চালচলন কিছু বুঝে না। একজন বয়স্ক বৈমানিক তাকে বিভিন্ন রূপকে এই মানবসমাজের সাথে সেই ছোট্ট ছেলেটিকে পরিচিত করিয়ে দেয়। সেই ছোট্ট শিশুটি আমাদের ‘লিটল প্রিন্স’ যেন বড়দের দুনিয়া ও অভিজ্ঞতার জগতে অডেসিয়ান জার্নিটি দেন। মানবগোষ্ঠির জীবনে কি কি দার্শনিক অভিঘাত আসে এবং সেগুলোর দিকে কিভাবে দৃষ্টিপাত করতে হয় তার ইশারা আছে এই গ্রন্থে।

গত শতকটি ছিল মানুষের আকাশে পাখা মেলার শতক। বিশ শতকের একেবারে প্রথমেই মানুষ প্রথমবারের মত মিলিয়ন বছরের আকাশে উড়ার স্বপ্ন সফল করে। বিমান আবিষ্কার মানবজাতির ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। যদিও দুটো বিশ্বযুদ্ধ এবং প্রতিনিয়ত চলতে থাকা বিভিন্ন যুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের উপর হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে, দুটি পারমানবিক বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু বিমানের সাথে মানবজাতির মিলিয়ন বছরের আকাশে উড়ার স্বপ্ন বা স্মৃতি জড়িত রয়েছে। বিমানের মাধ্যমে আকাশে উড়ার প্রযুক্তি আসার সাথে সাথে তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টর একটি বড় উল্লম্ফন দিয়েছে। খুব দ্রুতই এটা উন্নততর ও বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। এই বিমান চালু হওয়ার প্রথমদিকে যারা বিমান চালাতেন তারা ছিলেন সমকালের নায়ক। প্রথমদিকে বেশি বিমান দুর্ঘটনা হওয়ার কারণে বিমান চালনার পেশাতে যারা আসতেন তাদেরকে দু:সাহসী হিসেবেই দেখা হতো। এখনকার সময়ে মহাকাশে যারা কয়েকমাস বা বছরব্যাপী থাকেন তারা যেমন বড় তারকা হিসেবে স্বীকৃত হন তখন বিমানের পাইলটদের ব্যাপারটি এমন ছিল।

দর্শনের যে কোন অনুবাদ বই দেখতে ক্লিক করুন এখানে

৩. এ ক্রিটিকাল হিস্ট্রি অব গ্রিক ফিলসফি- ডব্লিউ টি. স্টেইস

শুধু গ্রিক দর্শনের উপর দাঁত বসানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বই এটি। স্টেইস ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিন ও পেশার মানুষের সামনে গ্রিক দর্শনের উপর সিরিজ লেকচার দিয়েছিলেন। তারই ফল এ বইটি। এ কারণে বইটি পাঠকের কাছে সহজগম্য হবে। মোটামুটি ছোট সাইজের এ বইটি পড়ে পরিচিত হয়ে যেতে পারেন গ্রিক দর্শনের সাথে।

৪. হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলসফি-বাট্রার্ন্ড রাসেল

দর্শনের জগতে ঘুরে আসার জন্য একটি অসাধারণ বই। দর্শনের ইতিহাসের উপর আরও যে কয়েকটি বই ভালো লেগেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্যামুয়েল ইনূচ স্টাম্ফের ‘সক্রেতিস টু সার্ত্রে: অ্যা হিস্ট্রি অব ফিলসফি’, ফ্রাঙ্ক থিলি’র ‘এ হিস্ট্রি অব ফিলসফি’ এবং উইল ডুরান্টের ‘দ্য স্টোরি অব ফিলসফি’। সময় ও সুযোগ থাকলে সবগুলোও পড়া যেতে পারে। তবে একটা দিয়ে যদি শুরু করতে চান তাহলে রাসেলকেই নিতে পারেন। ইংরেজি ভাষার একজন অসাধারণ গদ্যশিল্পী যে নিজেও একজন শক্তিশালী দার্শনিক তার কাছ থেকে তিন হাজার বছরের পাশ্চাত্য দর্শন ও দার্শনিকদের গল্প শুনা একটি সুখকর অভিজ্ঞতা হবে সেটা বলাই বাহুল্য। রাসেলের গদ্য যেমন পাঠককে টানবে এবং প্রত্যেক দার্শনিককে নিয়ে করা তার মন্তব্য আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দেবে।

৫. এমিল অর অন এজুকেইশন -জ্যাঁ জ্যাক রুশো

শিক্ষা দর্শনের উপর রুশোর এ বইটি একটি অনন্য গ্রন্থ। রুশোর ভাষা ও ভাব প্রকাশভঙ্গি আলোচিত-সমালোচিত ও সমাদৃত কেন তার সাক্ষর পাওয়া যাবে এ বইটিতে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘দ্য সোসাল কনট্রাক্ট’ যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বই তেমনি পাশ্চাত্যে শিক্ষাদর্শনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বই। তৎকালীন ফ্রান্সে একটি ফরাসী শিশু কি ভয়ানক উপায়ে শিক্ষাগ্রহণ করে, এবং তার উপর সেই ভুল ও দুর্বল শিক্ষা পদ্ধতির কি কি বাঁজে প্রভাব সারাজীবন তার সাথে থেকে যায় তার তীক্ষ্ণ বর্ণনা যেমন রয়েছে আবার কিভাবে একটি শিশুকে শিক্ষা দেওয়া উচিত তার সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা।

৬. এপলজি অব সক্রেতিস বা সক্রেতিসের জবানবন্দি-প্লাতো

সক্রেতিসের বাবা ছিলেন ভাস্কর আর মা ধাত্রী। সক্রেতিস পরবর্তী জীবনে মা-বাবার পেশাকে ধরে রেখেছেন বলে মনে করতেন। ধাত্রী যেমন কোন মানবশিশুকে পৃথিবীতে আসতে, জন্ম নিতে সহায়তা করতেন সক্রেতিসও তেমনি একজন জ্ঞানপিপাসুর জন্মের ক্ষেত্রে ধাত্রীর মতো ভূমিকা পালন করতেন। আবার একজন ভাস্কর যেমন কঠিন পাথরকে কেটেকুটে সুন্দর মূর্তির রূপ দেন তেমনি দার্শনিক ও মানবতার শিক্ষক সক্রেতিস ও একজন মানবশিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে নিপুণ ভাস্করের ভূমিকা পালন করেছেন। বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে তার পরিচয়। এখন সক্রেতিস কেমন শিক্ষক ছিলেন তার প্রমাণ প্লাতো, অ্যারিস্তোতলদের মতো ওস্তাদদের পরম্পরা তৈরি করার মধ্যেই রয়েছে। তার প্রিয় এবং যোগ্যতম শিষ্য প্লাতোকে নিয়ে বলা হয়-‘পুরো পাশ্চাত্য দর্শন প্লাতোর ফুটনোট মাত্র’। প্লাতোর প্রত্যেকটি লেখাতে প্রধান চরিত্র হিসেবে থেকেছেন সক্রেতিস। মনে হচ্ছে যেন সক্রেতিস কথা বলছেন আর প্লাতো নোট লিখছেন। ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। বয়স ত্রিশের দিকে গুরু সক্রেতিসের করুণ বিয়োগের ঘটনাটি এমনভাবেই তাড়িত করেছিল তরুণ প্লাতোকে যে সে তার পুরো জ্ঞানচর্চাকেই সক্রেতিসের পদতলে বিছিয়ে দিয়েছেন। ব্যাপারটা অনেক পরিষ্কার প্লাতো প্রথমদিকে হয়তো সক্রেতিসের দর্শনই সক্রেতিসের মুখ দিয়ে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তার সেরা লেখাগুলোতে বা শেষদিকের লেখাগুলোতে নিজের দর্শন সক্রেতিসের মুখ দিয়ে বলিয়ে নিয়েছেন। সক্রেতিসের প্রতি তার একাত্ম আনুগত্য ও ভালোবাসার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহের লেষমাত্র নেই।

সক্রেতিসকে খুব কাছ থেকে বুঝতে হলে তার জবানবন্দি পড়তে পারেন। এর একাধিক বাংলা তর্জমা আছে। ইংরেজিতেও অনেকগুলো সংস্করণ আছে। যেকোন একটা পড়ে ফেলতে পারেন।

৭. অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ- সেনেকা

আমরা পৃথিবীতে এমনভাবে জীবনধারণ করি যেন আমরা অমর, মৃত্যু মনে হয় আসবেই না। অথচ যে মুহূর্তটা একবার চলে গেল সেটা আর ফিরিয়ে আনা কখনোই সম্ভব না। এবং মৃত্যু ও চলে যাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্রাজিক সত্য। এটা ট্রাজিক সত্য কারণ এই সত্যটা সবাই জানলেও ভুলে থাকে বা ভুলে যায়।

সেনেকার মতে-‘তুমি এমনভাবে সময় অপচয় করো যেনো তোমার অফুরান যোগান আছে। কিন্তু ব্যাপারটা হলো কোনদিন কাউকে যে সময়টা দিলে বা যে জন্য দিলে সেটা হয়তো তোমার শেষ সময়। মরণশীল প্রাণীর সব ভয় তোমাদের মধ্যে কিন্তু তোমাদের আকাঙ্খা এত যেন তোমরা মরবে না।’

যারা বিভিন্ন আকামে ব্যস্ত থাকে অথচ ভবিষ্যতে কোন একসময় ভালো কাজ করবে বা ৫০/৬০ বছরের পর অবসরে গিয়ে সকল ভালো কাজ করার পরিকল্পনা করে রাখে তাদেরকে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন কিভাবে তারা নিশ্চিত যে ৫০ বছর বা ৬০ বছর বেঁচে থাকবে? সেনেকার মতে এমন মানুষদের লজ্জা পাওয়া উচিত। যে তার জীবনের সেরা সময়টাতে ভালো কাজ করতে পারে নাই সে শেষ জীবনে গিয়ে করে ফেলবে এটা ভাবা অহেতুক কল্পনাবিলাস নয় কি? সেনেকার কথা হচ্ছে যা কিছু করার আজই শুরু করতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখার দরকার নেই।

জীবনের অর্থ খুজে পাওয়া বা কিভাবে বাঁচতে হয় এটা শিখতে অনেক কষ্ট হয়, এমনকি জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার আগে অনুধাবন হয় যে আসলে সেরকম বাঁচতেই পারলাম না। অনেকে বেশি মানুষের উপর ক্ষমতাবান হওয়াকে জীবনের সফলতা মনে করে। এর একটা বড় গোলকধাঁধা হচ্ছে এই যে অনেকের কাছে পরিচিত হলেও দেখা যায় সে নিজের কাছে সবচেয়ে অপরিচিত। এজন্য অনেক খ্যাতিমান লোক দিন শেষে দেখে তার নিজের জন্য সময় বরাদ্ধ কত কম!

বেশিরভাগ মানুষের দিন কাটে অতীতের অনুশোচনা আর ভবিষ্যতের দুর্ভাবনা নিয়ে। কয়জন পারে আজকের দিনটাকেই শেষদিন মনে করে পূর্ণ করে বাঁচতে? আর অনেকের দিন কাটে ভবিষ্যতের ভালো সময়ের অপেক্ষা করে। সেনেকার প্রশ্ন ভবিষ্যতের কাছে দাবি-দাওয়া বা ভবিষ্যতের ভয় ছাড়া বর্তমানে বাঁচতে পারে কয়জন?

অনেক বছর বাঁচলেই কেবল বড় মানুষ হওয়া যায় না। সেনেকা বলেন- ‘কারো ধূসর চুল আর কুচকে যাওয়া চামড়া দেখে ভেবো না সে অনেকদিন বেঁচেছে। সে আসলে অনেকদিন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।’

৮. অন লিবার্টি- জন স্টুয়ার্ট

liberty

জন স্টুয়ার্ট মিলের ইউটিলিটারিয়ানিজম বা উপযোগবাদ বইটি সবচেয়ে বিখ্যাত হলেও ‘অন লিবার্টি’ আমার প্রিয় বইয়ের একটি। প্রথমবারের মতো দর্শনের যে বইটি পড়ে শেষ করেছিলাম এবং কয়েকমাস সাথে সাথে রাখতাম  সেটি ছিল ‘অন লিবার্টি’। অনেকগুলো লাইন মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং দর্শনের জগতে  একেবারে টেনে হিচড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বইটির ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইনের ‘অরিজিন অব স্পিসিজ’ এর প্রকাশের সালটিতেই প্রকাশিত হয়েছিল ‘অন লিবার্টি’। এবং সমকাল এবং উত্তরকালে প্রভাবের দিক থেকেও কম যায়নি ‘অন লিবার্টি’।

৯. চানক্যনীতি

neeti

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেই যে এক শক্তিশালী দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেন যার সাথে পরিচিত হওয়া এ অঞ্চলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই অবশ্য কর্তব্য। পারিবারিক জীবন ব্যবস্থাপনা থেকে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত মানুষের সম্ভাব্য যতগুলো দিক আছে তার প্রতিটির উপরই আলো ফেলেছেন এবং প্রাজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন। চানক্যের সমরবিদ্যা চৈনিক সমরবিদ সান জুর তুলনায় কোন অংশে কম নয়। সান জুর মতো চানক্যের বেলাতেও বলা যায় ‘তুমি যদি চানক্যের পরামর্শ শুনো কোন ক্ষেত্রে পরাজিত হবে না আর যদি তার পরামর্শের অন্যথা করো তাহলে তোমার পরাজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

১০. এ হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলসফি-রালফ ম্যাকলনার্নি

দর্শনের ইতিহাসের উপর নতুন হাতে আসা যে বইটি বেশ ভালো লাগছে সেটি হলো রাল্ফ ম্যাকলনার্নির এ বইটি। প্রায় সাড়ে আটশো পৃষ্ঠা প্রলম্বিত এই বইটির সবচেয়ে ভালো লাগার দিক হচ্ছে এর টসটসে ভাষা! ভাষা যেহেতু কোন বইয়ের জগতে প্রবেশের দরজা এ কারণে এ বইয়ে খুব সহজেই প্রবেশ করে ফেলতে পারবেন! সাইজ দেখে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। এক সপ্তাহ বা পনের দিন পড়ে যদিও এটা শেষ করতে পারা যায় তাহলে সেটা হবে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বইটির বরাতে বেড়িয়ে আসতে পারবেন পাশ্চাত্য দর্শনের অন্দরমহলে এবং জেনে নিতে পারবেন এর হাড়ির খবর!

________________________________________________________________________

এই নিবন্ধটি রচনা করেছেন সাবিদিন ইব্রাহিম  , এখনো পর্যন্ত যার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২টি। তার ২ টি বইই বেশ আলোচিত হয়েছে। তার প্রথম প্রকাশিত বই প্রথম বই ‘ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস’ এবং ২০১৭ বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে সাবিদিন ইব্রাহিম এর অনুবাদে সান জু’র ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’। তার প্রকাশিত সকল বই এখানে

ফিচার ফটো: ডেভিড-‘দ্য ডেথ অব সক্রেতিস’

Write a Comment