গডফাদার ডন কর্লিওনির থেকে নেতৃত্বের ১০ শিক্ষা

উপন্যাস হিসেবে হোক আর মুভি হিসেবে হোক গডফাদার কেনো এতো জনপ্রিয়? এমন প্রশ্ন অনেক কৌতূহলী মনে থাকলেও উপন্যাস পড়ার পর কিংবা সিনেমা দেখার পর যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। কিন্তু কি আছে এই মুভিতে! আর কিইবা শিখতে পারি গডফাদার থেকে

1
1628

 

উপন্যাস হিসেবে হোক আর মুভি হিসেবে হোক গডফাদার কেনো এতো জনপ্রিয়? এমন প্রশ্ন অনেক কৌতূহলী মনে থাকলেও উপন্যাস পড়ার পর কিংবা সিনেমা দেখার পর যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।

কিন্তু কি আছে এই মুভিতে! মুলত উপন্যাস থেকে মুভিটি চিত্রায়িত হয়েছে, আর এর চিত্রনাট্য লিখেছেন বইয়ের লেখক মারিও পুজো নিজেই। ১৯৪০’র দশকের আমেরিকার মাফিয়া পরিবারগুলোর হানাহানি নিয়ে লেখা ‘দ্য গডফাদার’ উপন্যাসটি। যার কেন্দ্রীয় চরিত্র ডন ভিটো কর্লিওনি। ভিটো কর্লিওনির পরিবারের প্রতাপ, তাদের শক্তিশালী হওয়া, পাশাপাশি উঠে এসেছে পিতা ভিটো কর্লিওনি ও পুত্র মাইকেল কর্লিওনির অসাধারন সম্পর্ক।  সেই সাথে আছে লয়ালিটির এক অপুর্ব মেলবন্ধন।

কিন্তু একজন মাফিয়া গুরু কিংবা গ্যাংস্টারদের নিয়ে লেখা উপন্যাস বা মুভি সত্যিই কি আমাদের নেতৃত্বের কোন শিক্ষা দেয়?  যদি খুব কাছে থেকে খেয়াল করা হয় তাহলে নেতৃত্বের যে ১০ টি বিষয় আপনি জানতে ও শিখতে পারেনঃ

১। যেমন মানুষ তেমন পদক্ষেপঃ ডন কর্লিওনি মানুষ বুঝে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সবাইকে অনুপ্রানিত করতে পারতেন, আসলে সঠিক পদ্ধতি বলতে বোঝায় যেমন মানুষ তেমন পদক্ষেপ. যেমন- কিছু কিছু মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ভয় দেখাতেন (যেমনঃ আন্ডারটেকার), কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ছিলেন খুব শ্রদ্ধাশীল (লুকা ব্রাসি), আবার কাউকে অনুপ্রাণিত করতেন পেছনে লাথি মেরে (জনি ফন্টেইন)।

২। শোনো বেশী, বলো কমঃ  তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, খুব বেশী কথা বলতেন না এবং সবসময় মনযোগ দিয়ে কথা শুনতেন। যা কিছু জিজ্ঞাসা করতেন পরিস্কার ভাবে জানার জন্যই জিজ্ঞাসা করতেন কিন্তু কথার মাঝে কথা বলে বিঘ্ন ঘটাতেন না।

৩। সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্তঃ তাঁর ভূমিকা ছিল শোনা, চিন্তা করা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া। তিনি যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেগুলো দক্ষভাবে কার্যকর করেছেন। একজন ভালো ব্যবস্থাপক ভালো সিদ্ধান্তের কারখানা। কেননা তিনি পরম্পরা চিন্তা করতে পারেন। তাঁকে প্রস্তাব দেয়া সত্ত্বেও তিনি ড্রাগস এর ব্যাবসা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন।

৪। দুঃসংবাদের জণ্য প্রস্তুত থাকাঃ জনি ফন্টেইন তাঁর সিনামাতে নায়ক হচ্ছেন না – প্রযোজকের থেকে এই দুঃসংবাদ পেয়ে ডনের উপদেষ্টা বলেছিলেন তাঁকে খুব দ্রুত এখান থেকে বের হতে হবে এবং বাড়ি যেতে হবে কারন ডন দুঃসংবাদ দ্রুত পেতে চান। কারন তিনি ভালো করেই জানেন তার পরবর্তী করণীয় কি।

গডফাদার বইয়ের লেখক মারিও পুজোর সকল বই সম্পর্কে জানতে চান? দেখুন এই লিঙ্কে

৫। আবেগের প্রভাবে সিদ্ধান্ত না নেয়াঃ গডফাদার সিনেমায় এমন অসংখ্য মুহূর্ত আছে যেখানে ডন কর্লিওনির সিদ্ধান্তে আবেগ কোন প্রভাব ফেলতে পারে নাই। এমন অনেক মুহুর্ত ছিলো যেখানে আবেগ তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারতো কিন্তু তিনি নিরাবেগ থেকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন। তিনি জানতেন মানুষ যখন আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন সিদ্বান্ত নেয় সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশী থাকে।

৬। শক্তিশালী কম্যুনিটি তৈরী করাঃ সবাইকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তিনি শক্তিশালী কম্যুনিটি তৈরী করতেন, তিনি তাৎক্ষনিকভাবেই কোন সহযোগিতা চাইতেন না বরং চাইতেন তাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে। এই কম্যুনিটি তাঁকে লংরানে তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করতে ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতো।

 

৭। কথা দিয়ে কথা রাখাঃ ডন সাধু ছিলেন না, কিন্তু তিনি যখন বলতেন কিছু করতে যাচ্ছেন- তা করতেন, সব সময় তাঁর কথা রাখতেন। সেজন্য তিনি যখন কিছু করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন (তাঁর সন্তান সান্তিয়ানো হত্যার প্রতিশোধ), এর সাথে জড়িত সবাই প্রশ্নাতীতভাবে এটা বিশ্বাস করেছিলেন।

অসাধারন সব ক্রাইম থ্রিলার সম্পর্কে জানতে চান? দেখুন এখানে

৮। ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চিন্তা করাঃ  তিনি প্রতিটা কাজের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবতেন, যেমনঃ ডনকে যখন লাভজনক ড্রাগ ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করতে বলা হলো তিনি তা করলেন না বরং না করে দিলেন। কারন জানতেন তিনি যদি ড্রাগসের মত এরকম একটা নোংরা ব্যবসায় জড়িয়ে যান তাহলে যে সকল বিচারক এবং পুলিশকে এতদিন ধরে সমর্থন দিয়েছেন তারা আর তাকে সমর্থন দিবে না।

৯।  সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনাঃ প্রত্যেকটা বৈঠকের সময় তাঁর সাথে তার উপদেষ্টারা থাকতেন কাজগুলো লেখার জন্য ও গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নোট নেয়ার জন্য, কেননা তিনি নিশ্চিত হতে চাইতেন তাদের কর্মপরিকল্পনার মাঝে কোন ধরনের ফাঁক-ফোঁকর নেই।

১০। ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরী করাঃ নেতৃত্বের সবচেয়ে বড়গুণ হলো ভবিষ্যত নেতৃত্বকে তৈরী করা। সময়ের সাথে সাথে তিনি মাইকেলকে প্রস্তুত করেছে টম হ্যাগেন এর তত্ত্বাবধানে। যেটার প্রভাব আমরা দেখতে পাই যখন ডন কর্লিওনি গুপ্তহত্যা থেকে বেঁচে যান তার পরমুহূর্তে। তাছাড়া কর্লিওনি মারা যাবার পর তিনি তাদের পারিবারিক ব্যবসা দেখা শুরু করেন।

স্বভাবত ডন বড় ফলাফলের জন্য আরও একটি হাতিয়ার ব্যবহার করতেন- ভয়। তিনি একজন ঠান্ডা মাথার খুনি ছিলেন যার কিছু রুঢ় দৃষ্টান্ত আছে। যদিও তাঁর ঐ কাজগুলো সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু উপরে উল্লেখ করা তার অন্য দৃষ্টান্তগুলো খুবই উজ্জ্বল।  এভাবেই ডন কর্লিওনি নেতৃত্বগুণে ভাস্বর হয়ে উঠেছিলেন তাঁর গডফাদার চরিত্রের মাধ্যমে, যার বিষয় পরম্পরায় তাঁর ছোট ছেলে মাইকেল কর্লিওনিও পরবর্তীতে গডফাদার লেগ্যাসিকে স্ট্যাবলিশ করতে পেরেছিল।

রকমারি ডট কম-এর বেস্টসেলার সকল গোয়েন্দা ও থ্রিলার বই দেখুন এখানে