Conflict Management ( কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট)-এর কারণ ও সমাধান এবং ১ টি পরামর্শ

0
2902

‘দ্বিধা-দ্বন্দ্ব’ কথাটির মাঝেই কেমন একটা নেতিবাচক ব্যাপার আছে তাইনা? সেদিক থেকে ভাবতে গেলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সব ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ এড়িয়ে চলাইতো উত্তম। কিন্তু উল্টোটাওতো ভাবতে পারি। হতেইতো পারে এই দ্বন্দ্ব কোন সমাধানের কারণ। আর এভাবেই ইতিবাচক ভাবনা থেকে উৎপত্তি conflict management বিষয়টির।

কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টঃ

অনেক সময় অফিসিয়াল মিটিং এ দেখা যায় একটি বিষয় আলোচনার ক্ষেত্রে একেকজন একেক রকম মতামত দিচ্ছে। মতবিরোধ হয় আবার তা নিয়ে বিতর্ক চলে। আর এত বেশি মতপার্থক্য থেকেই উঠে আসে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্তটি।

 Conflict management কিংবা দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা যাই বলিনা কেন এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।আসলে চিন্তার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা বিধ্বস্ত অংশটুকু হল দ্বন্দ্ব। এটি মূলত নিজের অভিজ্ঞতা আর দৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবনে প্ররোচিত করে।

মোটকথা দলগত কাজ কখনই বিরোধ ছাড়া সম্ভব না। কেননা সব মানুষের চিন্তাধারা, রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম হয় না। প্রতিটি মানুষ তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। তাই সবার যোগ্যতাকে একসাথে ব্যবহার করতেই এই কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট ধারণাটি এসেছে।

কনফ্লিক্টের সম্ভাব্যতাঃ

দায়িত্ব কাধে তুলে নিতে হলে যোগাযোগ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা থাকাটাই প্রথম শর্ত। এই বিষয়গুলোতে জোর দিয়ে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াটাই কিন্তু আমাদের কাজ।

এরকম ইতিবাচক দ্বন্দ্বকে অনেক সময় potential conflict বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে এসব কনফ্লিক্টকে আবার কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়।

প্রথমে বলতে পারি লক্ষ্য অর্জনের দ্বন্দ্ব নিয়ে। কর্মদক্ষতা নির্দিষ্ট করা, মূল্যায়ন কিংবা প্রাধান্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ এর জন্য এই কনফ্লিক্টগুলো সাহায্য করে থাকে। একটি দ্বিধা-দ্বন্দের শেষ থেকেই শুরু হয় নতুন সম্ভাবনা।

এরপর আসি প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে। এটি কাজ করে প্রশাসন ব্যবস্থাপনার গঠন আর দর্শন নিয়ে। আর এই কাজগুলো নির্ভর করে তাদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্ব আর সিদ্ধান্ত গ্রহনের ওপর।

আর সবশেষে বলা যায় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে। এই দ্বন্দ্ব আসে মানুষের মনের ভেতর থেকে। অর্থাৎ কাজের ক্ষেত্রে তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, ধরণ আর ব্যক্তিত্ব থেকে আসে মতবিরোধ এবং তা থেকে তৈরি হয় কিছু সম্ভাবনাময় দ্বন্দ্বের।

ট্রিভিয়াঃ টিম ওয়ার্ক নিয়ে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ও নির্বাচিত বই 
ফাইভ ডিসফাংশন অফ অ্যা টিম (লেখকঃ প্যাট্রিক লিঞ্চিওনি),বইটির বিভিন্ন শিক্ষা ট্রেনিং হিসেবে 
আমেরিকার জাতীয় লীগের ফুটবল টিমের সবগুলো কোচ কে করানো হয়েছে। 

কে করবে কনফ্লিক্ট এর সমাধানঃ   

প্রতিষ্ঠান পরিচালকের বিশেষ করে কনফ্লিক্ট সমাধানে দক্ষ হয়ে ওঠা খুব জরুরী। প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করে মতবিরোধের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। এবং তা থেকেই বের করে নিয়ে আসতে হয় উপযুক্ত সিদ্ধান্তটি। এক গবেষণায় জানা গেছে কোম্পানীর CEO রা তাদের বিশ ভাগ সময় ব্যয় করে শুধুমাত্র কনফ্লিক্ট সমাধানের জন্য। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কিন্তু কোম্পানী ব্যবস্থাপনার সফলতার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে যুক্ত।

ট্রিভিয়াঃ পাওয়ার অব পজিটিভ থিঙ্কিং বইটিকে পজিটিভ থিঙ্কিং এর সবচেয়ে কার্যকরী বই বলা হয়ে 
থাকে। বইটি ১৫ টি ভাষায় অনূদিত হওয়ার পাশাপাশি ৫ মিলিয়ন কপির বেশী বিক্রি হয়েছে। বলুনতো 
বইটি প্রকাশিত হয়েছিল কবে?

কিভাবে হবে ম্যানেজ?

কিভাবে একটি দ্বন্দ্ব সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারি আমরা? ধরা যাক একটি প্রজেক্টের কোন কাজটা আগে করা হবে আর কোনটা পরে সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হল। সাধারনত যখন দীর্ঘকালীন আর স্বল্পকালীন কাজগুলোর পার্থক্য উদ্দেশ্যের সাথে মেলানো যায় না এবং পারফরমেন্সও কাজের সাথে উপযুক্ত না তখন এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে কোম্পানীর কৌশলের সাথে উপযুক্ত একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা যেতে পারে। যেন সেটা দীর্ঘসময়ের জন্য স্থায়ী থাকে।

প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মানুষ একসাথে কাজ করে। তাই সব কাজে মতের মিল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এরকম অবস্থায় সবচেয়ে ভাল হয় দল গঠনে উৎসাহ দেয়া। আর এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে সম্মান , বৈচিত্র আর সমভাব বজায় রাখার ওপর জোর দেয়া হয়।

আবার হয়তো একটি  কাজের জন্য ঠিকমত সময় ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। প্রজেক্টের কাজে ধারাবাহিকতা পাওয়া যায় না, নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই আবার প্রয়োজনে ঠিক সময়ে তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব সমস্যা থেকে তৈরি হয় কনফ্লিক্ট। সেক্ষেত্রে একটা বড় কাজের তালিকা তৈরি করা উচিত যেখানে দৈনন্দিন সব কাজের সাথে প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো আলাদা অধ্যায় করে লিখে দেয়া হবে।

সিইও দের জন্য অবশ্যপাঠ্য বইঃ দ্য ফাইভ টেম্পটেশনস অব এ সিইও : এ লিডারশিপ ফ্যাবল

প্রতিটি কনফ্লিক্ট তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান আর মতামত থেকে। প্রতিটি মতবিরোধের আলাদা যুক্তি থাকে। কিন্তু সবার আগে যে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিতে হবে সে ব্যাপারে কোন দ্বন্দ্ব নেই। কিভাবে কনফ্লিক্টের সমাধান করা হচ্ছে তা লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছা এবং কোম্পানীর সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক স্থাপনে প্রভাব ফেলে।

সবশেষে Vea Mariz এর একটি উক্তি শোনাই। তিনি বলেছিলেন আসলে শুধুমাত্র ১০% বিরোধিতা সৃষ্টির জন্য ভিন্ন মতামত দায়ী। আর বাকি ৯০% বিরোধিতাই কেবল কথা বলার বিরূপ ধরণের জন্য হয়ে থাকে।

 

টিম বিল্ডিং ও কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের উপর অসাধারন ৫ টি বই, যেগুলো আপনার দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহযোগীতা করবে?

দ্য ফাইভ ডিসফাংশনস অব এ টিম : এ লিডারশীপ ফ্যাবল(ক্যাটেগরি বেস্টসেলার)(হার্ডকভার)

দ্য ফাইভ টেম্পটেশনস অব এ সিইও : এ লিডারশিপ ফ্যাবল

দ্য পাওয়ার অব্‌ পজিটিভ থিংকিং

Delivering Happiness

Becoming a Conflict Competent Leader: How You and Your Organization Can Manage Conflict Effectively

LEAVE A REPLY