নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এবং সাহিত্য – চলুন জেনে নেই ১১ টি তথ্য!

0
710
নোবেল পুরস্কার, বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে প্রতিবছর ছয়টি ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।  আলফ্রেড নোবেল সর্বপ্রথম বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করেন এবং ডিনামাইট বিক্রি করে তিনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হন। কিন্তু যুদ্ধে ডিনামাইট ব্যবহারের ভয়াবহতা দেখে তিনি শঙ্কিত হন। তাই বিজ্ঞানের আবিষ্কার যাতে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের উদ্বদ্ধ করতে তিনি পুরস্কার প্রদানের কথা চিন্তা করেন। তাই তিনি তাঁর সম্পদের ৯৪ শতাংশ এই কাজের জন্য উইল করে যান। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা। নোবেল সাহেব ১৮৯৫ সালের দিকে উইলগুলো করে যান, তবে পুরস্কার প্রদান দেখে যেতে পারেননি। তিনি ১৮৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সাল থেকে।
১। নোবেল প্রাইজের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মাঝে সাহিত্যে নারীদের সাফল্য বেশি। এর সূত্রপাত হয় সুইডিশ লেখক সালমা লাগরলেফের নোবেল পুরষ্কার অর্জনের মাধ্যমে। তিনি ১৯০৯ সালে এই সাফল্য অর্জন করেন।
২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সব সময়ই বিশেষ কিছু। নোবেল পুরষ্কার অর্জনের ক্ষেত্রেও তিনি তৈরি করেছেন ইতিহাস। ১৯১৩ সালে যখন তিনি নোবেল পুরষ্কার পান, তার আগে কোন অশ্বেতাঙ্গ, এবং অ-ইউরোপিয় ব্যক্তি নোবেল পান নি।
৩। এদিকে রুশ লেখক বরিস পাস্তারনাকে ভাগ্যটা ভীষণ মন্দ। যে কোন লেখকের জন্যে সর্বোচ্চ সম্মান, নোবেল পুরষ্কার তিনি পেয়েছিলেন ১৯৫৮ সালে। কিন্তু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার তাকে বাধ্য করেন তা বর্জন করতে। রুশ বিপ্লব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে রচিত উপন্যাস “ড. জিভাগো”র কারণেই মূলত সোভিয়েত সরকার তার ওপর ক্ষেপে ছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
৪। ফরাসী লেখক জাঁ পল সাত্রের ব্যাপারটা আবার অন্যরকম। তিনি স্বেচ্ছায় নোবেল প্রাইজ বর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে যখন তিনি নোবেল পুরষ্কারে ভুষিত হন, আনুষ্ঠানিক এক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি জানান “একজন লেখক কখনই এসব পুরষ্কারের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিসত্ত্বাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেন না”। বুঝুন ঠেলা!
৫। পেরুর লেখক মারিও ভার্গাস লোসা ২০১০ সালে নোবেল পুরষ্কার পান। তবে তিনি একজন রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন বটে। ১৯৯০ সালে দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম পর্বে জিতে গেলেও শেষতক হেরে যান। কে জানে, এ কারণেই তিনি পরবর্তীতে লেখালেখির প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে দিয়ে নোবেল প্রাইজ অর্জন করেন কি না! তার লেখা সেরা বই গুলো দেখুন
৬। ইউগোস্লাভিয়া নামক এক চমৎকার  দেশ ছিলো একদা। এখন তা ভেঙে চূর্ণ। তৎকালীন ইউগোস্লাভিয়ার ইভো আন্দ্রিচ ১৯৬১ সালে প্রথম সার্বো-ক্রোয়াট ভাষার লেখক হিসেবে নোবেল পুরষ্কার পান।
৭। ওল সোয়িঙ্কা হলেন প্রথম আফ্রিকান, যিনি সাহিত্যে নোবেল পান। তিনি শুধু একজন সাহিত্যিকই ছিলেন না, ছিলেন একজন বিপ্লবী। তিনি লড়াই করে গেছেন মিলিটারি স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে, যুঝেছেন বৃটিশ ঔপনবেশিকতার বিরুদ্ধে। ১৯৮৬ সালে তিনি নোবেল জয় করেন।
৮। এরকম আরো একজন বিপ্লবী হলেন চাইনিজ লেখক গাও জিংযিয়ান। ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথম চাইনিজ হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেন। ১৯৮৯ সালের পর থেকে তার সব বই চিনে নিষিদ্ধ ছিলো। তার বইয়ে তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ এসেছিলো নিরপেক্ষ ভাবে। এটাই ছিলো সরকারের মাথা ব্যথার কারণ। তার লেখা অসাধারন একটা বই হলো সোল মাউন্টেন
৯। এ পর্যন্ত যারা সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন, তাদের গড় বয়স ৬৫। হু, আমাদের দেশের নবীন লেখকদের এ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বৈকি।
১০। এ পর্যন্ত কেউ দু বার সাহিত্যে নোবেল পান নি। তাই বলে একবার নোবেল প্রাইজ পেয়েই আপনি আবার হতোদ্যম হয়ে পড়বেন না যেন!
পুরস্কার জয়ী সব লেখক এবং সেরা বইগুলো দেখুন রকমারি ডট কম-এ

আরোও দেখুনঃ
অন্য স্রোতঃ জাপান কাহিনি ৪
আত্মজা ও একটি করবী গাছ: মূলভাব ও ফিরে দেখা
আমাদের ভ্রমণকথাই আমাদের জীবনকথা

LEAVE A REPLY