অসমাপ্ত আত্মজীবনী রিভিউ প্রতিযোগ-২০১৬ (১ম পুরস্কার বিজয়ী)

Oshomapto Atmojibony_1

অসমাপ্ত আত্মজীবনী : ঘোরলাগা সময়ের রাজনৈতিক উপাখ্যান এবং এক কিংবদন্তী নেতার ব্যক্তি জীবনের কিছু অন্তরঙ্গ গল্প

Mutasim Uddin

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির আবেদন বহুমাত্রিক। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি আত্মজৈবনিক বই হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে ১৯৩৯ থেকে ১৯৫৪-৫৫ সাল পর্যন্ত উপমহাদেশের বিশেষত পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অনবদ্য, নিরপেক্ষ, নির্মোহ দলিল; একজন হৃদয়বান নেতার এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে অনুধাবন করে সেসব সমাধানের সংগ্রামের অসাধারণ আখ্যান; টুঙ্গিপাড়া গ্রামের এক দুরন্ত কিশোরের সারা বাংলার মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠার এক অন্তরঙ্গ গল্প। বইটির ভাষারীতি অত্যন্ত সহজ, সুন্দর এবং সাবলীল, অনেকটাই শেখ মুজিবুর রহমানের মুখের ভাষার কাছাকাছি। অসাধারণ চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা লেখকের জীবনের গল্প যে কোন রোমাঞ্চ উপন্যাসকেও হার মানায়। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির পরিক্রমা মূলত দুইটি প্রধান কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত। ধারা দুটো হল লেখকের রাজনৈতিক জীবন এবং লেখকের ব্যক্তিগত জীবন। বইটির আঙ্গিক, ধরন এবং বই সংশ্লিষ্ট বিতর্ক সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক আলোচনার পূর্বে বিষয়বস্তুর এই দুই অলিন্দ – লেখকের রাজনৈতিক জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির সাথে প্রথম প্রত্যক্ষ সংস্রব ঘটে ১৯৩৮ সালে । যদিও তখনও তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় নি। সে বারে তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এবং শ্রমমন্ত্রী শহীদ সাহেব গোপালগঞ্জে এসেছিলেন একটি সভা উপলক্ষে। সেখানেই প্রথম মিশন স্কুলে শহীদ সাহেবের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের কথা হয়। পরবর্তীতে এই পরিচয়ের সূত্র ধরে লেখক শহীদ সাহেবকে নিয়মিত চিঠি লেখা শুরু করেন এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতায় বেড়াতে গিয়ে শহীদ সাহেবের সাথে দেখা করেন। এবং সেখান থেকে ফিরে এসেই গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্র লীগ গঠন করেন এবং তিনি তাঁর সম্পাদক হন। এভাবেই শুরু হয় লেখকের রাজনৈতিক জীবন। লেখকের রাজনৈতিক জীবনের বিস্তৃত বর্ণনা এই আলোচনায় বাহুল্য। তবে রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে দুর্ভিক্ষ এবং তারপর বিহার ও কলকাতার দাঙ্গায় লেখকের সক্রিয় ভূমিকার কথা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য । বিশেষত ’৪৬ এর দাঙ্গার সময় লেখক নিজে কলকাতায় ছিলেন বলে সে সময়ের কলকাতার দাঙ্গার বিবরণ বেশ বিস্তৃতভাবে এসেছে এই বইয়ে। শেখ মুজিবুর রহমান সে সময়ে দিনরাতের ব্যবধান ভুলে গিয়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে কাজ করে গিয়েছেন। দাঙ্গাক্রান্ত প্রতিটি আর্ত মানুষের জন্যে লেখকের যে আর্দ্র আবেগ, তাদের সহায়তার জন্যে প্রতিনিয়ত নিজের জীবন বিপন্ন করে যেই সংগ্রাম, তাদের অমঙ্গল আশঙ্কায় যে ব্যক্তিগত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তা অবশ্যই স্মরণীয় এবং শিক্ষণীয়। দাঙ্গার পরপরই দেশভাগের প্রসঙ্গ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার নির্ধারণী নিয়ামক হয়ে ওঠে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। দেশভাগের প্রাক্কালে পাকিস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন তার সাথে অবশ্যই পাঠক একাত্মতা অনুভব করবেন। সে সময় লেখক দেশভাগের জন্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত পড়াশোনাও মুলতবি রেখেছিলেন। এ ব্যাপারে লেখকের যুক্তি ছিল খুবই পরিষ্কার, একটি নিজস্ব দেশই যদি না পাওয়া যায় তাহলে পড়াশোনা করে কী লাভ? অবশেষে সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত পাকিস্তান পাওয়া গেল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পারলেন, স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা অধরাই থেকে যাচ্ছে। দেশভাগের পরেও শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু শহীদ সাহেব পশ্চিম বাংলার সাধারণ, নিপীড়িত মানুষদের কথা চিন্তা করে সেখানেই থেকে গেলেন। এদিকে নাজিমুদ্দীন নেতা নির্বাচিত হয়েই ঢাকায় চলে এলেন এবং মুসলিম লীগে শুরু হল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কাল। এই সময়ে শেখ মুজিব তাঁর অবস্থান থেকে সব সময়ই অন্যায়ের যথাসাধ্য প্রতিবাদ করেছেন, কথা বলেছেন নিপীড়িত মানুষের হয়ে। সে সব বর্ণনা অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে এই বইয়ে উঠে এসেছে। আরও এসেছে ’৪৮ সালে বাংলাভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রথম যেই আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে তার কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের নায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের কথা, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের কথা, আদমজীর দাঙ্গার কথা; আর এ সবই লেখক বর্ণনা করেছেন তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে। শেখ মুজিবুর রহমান সবসময়ই সাধারণ জনগণের জন্যে রাজনীতি করতেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ছিল সর্বজনগ্রাহ্য কারণ সেগুলো ছিল সহজবোধ্য। তিনি কমিউনিস্ট নেতাদেরে প্রায়ই বলতেন, আমার জনগণ যদি নাই বুঝতে পারে তাহলে আদর্শের উড়োজাহাজ চালিয়ে কী লাভ? জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি এ সময়কালে বহুবার আটক হয়েছেন, জেল খেটেছেন। তাঁর যৌবনের একটা বড় অংশই কেটে গিয়েছে জেলে জেলে। তবে এ নিয়ে তাঁর কখনো কোন আক্ষেপ ছিল না। শেখ মুজিবুর রহমানের এই বহুমুখী রাজনৈতিক জীবনই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের মূল আলোচ্য এবং প্রাণশক্তি। ব্যক্তিমানুষের প্রবণতাকে কখনোই তার কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করা যায় না। সেজন্যেই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির সূক্ষ্ম পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, শেখ মুজিবুর রহমানের সমস্ত কার্যক্রমই শেষ বিচারে তাঁর কিছু আজন্ম প্রবণতার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। দুরন্তপনা, রাগ, গণমানুষের প্রতি ভালোবাসা, ন্যায়পরায়ণতা, দৃঢ়চেতা মনোভাব, নায্য দাবি আদায়ে অনমনীয়তা এই প্রবণতাগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য। বইয়ের শুরুতে লেখক তাঁর পারিবারিক ইতিহাস বেশ আড়ম্বরের সাথেই বিধৃত করেছেন। সেই বর্ণনা থেকেই আমরা জানতে পারি লেখকের বংশ ছিল অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত। তারপর আসে শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনার আখ্যান। পুকুরে দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটা, মাঠে ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকা বা যে কোন জায়গায় হঠাৎ করেই মারপিট শুরু করে দেয়ার গল্প। তবে এই দুরন্তপনার মধ্যেও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, লেখক তাঁর জীবনের শুরুর দিনগুলো থেকেই কখনও কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি। অন্যায়, অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ছিল। তারপর আসে লেখকের কলকাতার কলেজ জীবনের কথা। সেখানে ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তাঁর রাজনীতির সাথে প্রথম সংযোগ ঘটে। আমরা দেখতে পাই শেখ মুজিবুর রহমান তার বাবার কাছে থেকে টাকাপয়সা এনে বিভিন্ন রাজনৈতিক কাজে ব্যয় করছেন। আবার কখনো লেখকের অর্ধাঙ্গিনী রেণু তাঁর জন্যে সংসারের খরচ থেকে বাঁচিয়ে টাকা জমিয়ে রাখছেন। পরে তিনি কলকাতা থেকে এলে সে টাকা তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছেন। লেখকের কাজের প্রতি পরিবারের সমর্থন সবসময়ই এমন অকুণ্ঠ ছিল। এরকম পারিবারিক পরিবেশের প্রেক্ষাপট অবশ্যই লেখকের রাজনৈতিক জীবনের সফলতার অন্যতম নিয়ামক ছিল। লেখক রাজনীতির কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাও অনুসরণীয়। লেখক অধিকাংশ সময়েই জেলে থাকতেন বা রাজনৈতিক কাজে এতই ব্যস্ত থাকতেন যে তাঁর সন্তানদেরও ঠিকমত সময় দিতে পারতেন না। আরেকটি বিষয় এখানে অবশ্যই উল্লেখ্য, তা হল লেখকের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও অন্যান্য পড়াশোনা করার অদম্য আগ্রহ। বিশেষত ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর বিস্তর পড়াশোনা ছিল। এই পড়াশোনাই তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের স্বচ্ছতা তৈরি করেছিল। এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের একটি অসাধারণ শিল্পমন ছিল। তিনি যখন তাঁর দিল্লী এবং আগ্রার তাজমহল ভ্রমণের বর্ণনা করেন তখন তাঁর সেই শিল্প রসবোধ খুবই প্রকটভাবে ফুটে ওঠে। এছাড়া তিনি বইয়ের আরেক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, একবার নৌকায় বসে আব্বাসউদ্দিনের কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান শোনার পর তাঁর মনে হয়েছিল, এই গান না শুনলে জীবনের অনেকটা অংশই অপূর্ণ থেকে যেত। এইসব বর্ণনাও তাঁর শিল্প সমঝদারির পরিচয় বহন করে। আসলে এইসব ঘটনা থেকেই অনুধাবন করা যায় তিনি কতটা পরিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, যে হৃদয় দিয়ে সাত কোটি মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসা যায়। সার্বিক বিবেচনায় আমার কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের চেয়েও ব্যক্তিগত জীবনাখ্যান বেশি চিত্তাকর্ষক মনে হয়েছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটিতে অনেক রাজনৈতিক এবং কিছু অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কথা প্রাসঙ্গিকভাবেই উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, লেখকের রাজনৈতিক পিতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুহম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যাকে লেখক শহীদ সাহেব বলে সম্বোধন করতেন তাঁর প্রতি লেখক প্রায় পুরো বইজুড়েই অকুণ্ঠ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। তথাপি আমরা দেখেছি, যেখানে শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ সাহেবের অবস্থানকে সমর্থন করতে পারেননি সেখানে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছেন। এটা লেখকের আপোষহীন মনোভাবেরই পরিচায়ক। এবং সে সব ঘটনা লেখক ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বর্ণনাও করেছেন। একই মানুষকে কষ্টিপাথরের নিচে ফেলে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা করে তার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলোকে বের করে আনা এবং সেগুলো বলিষ্ঠভাবে উল্লেখ করা লেখনীর নিরপেক্ষতার ব্যাপারেই ইঙ্গিত করে। এই নিরপেক্ষতাই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি লেখকের দার্শনিক সত্ত্বার পরিচয়ও বহন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলী বা বিষয় সম্পর্কে লেখকের যে সূক্ষ্ম, নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি তা সত্যিই চিন্তা উদ্রেককারী। লেখক এই বইটি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর স্ত্রীর অনুরোধে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেন। যদিও তিনি প্রথমে সংশয়ে ছিলেন তাঁর আসলেই লেখার মত ক্ষমতা বা ভাষাজ্ঞান আছে কিনা এবং তাঁর জীবন সংগ্রামের গল্প পাঠকদের কাছে কোন গুরুত্ব বহন করে কিনা, তবে এই বই পাঠের পরে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় তাঁর লেখনীও মনোহরী, পাঠককে ধরে রাখার মতন। তবে আরেকটা কথাও স্বীকার করতে হবে, শেখ মুজিবুর রহমানের বৈচিত্র্যময় জীবনের গল্পই পাঠককে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি হাত থেকে নামিয়ে রাখার সুযোগ দেয় না। আর এই বইটির ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্বও এখন প্রশ্নাতীত। বইটি কিছুটা আত্মকথা, কিছুটা ডায়েরী এবং কিছুটা ঘটনাপঞ্জির ধরনে লেখা। বইয়ের শুরুতে শেখ হাসিনার লেখা ভূমিকা এবং বইয়ের বিভিন্ন অংশে জুড়ে দেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে লেখা পান্ডুলিপির টুকরো ছবি বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের পর যে সমস্ত বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, বইটি আসলেই শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা কিনা? যদি তাই হয় তাহলে বইটি এতদিন পড়ে প্রকাশিত হল কেন? আসলে এই বিষয়ে আলোচনাই বাহুল্য, তবুও দুটো কথা জানানো আবশ্যক মনে করছি। আমার ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বইটি না পড়েই সমালোচনা করা হয়েছে। কারণ, বইটি প্রকাশে কেন কালবিলম্ব হয়েছে তা বইয়ের ভূমিকাতেই শেখ হাসিনা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন। আর বইটি পড়ে বিবেচনা করলে এ সকল প্রশ্ন ওঠারই কথা না। কারণ, বইটির ভাষা এবং শব্দচয়ন শেখ মুজিবুর রহমানের মুখের ভাষার খুব কাছাকাছি। অন্য কারও পক্ষেই এই ভাষায় লেখা সম্ভব না। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ‘৩৮ থেকে শুরু করে ’৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য দর্পণ। এই বইটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অনেক অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন যেমন হয়েছে তেমন পাঠকদের ব্যক্তি মুজিবকেও নতুনভাবে চেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রতিটি শিক্ষিত, প্রাপ্তবয়স্ক বাঙালির জন্যে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি অবশ্যপাঠ্য।

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png