আমার এই বই পড়াতেই আনন্দ- অমিতাভ রেজা চৌধুরী

87

201

আমার এই বই পড়াতেই আনন্দ- অমিতাভ রেজা চৌধুরী

  • 0
  • #খোশগল্প
  • Author: Zahid Hasan
  • Share

কেউ বইয়ের মাঝে সুখ খুঁজে নেয়, কেউ খুঁজে নেয় দুঃখ। কেউ জানতে চায় আমার আমিকে, আর কারও কাছে অজানাটাই মুখ্য।

বইয়ের এই চাহিদাচক্রের শুরুটা আজ হতে নয়, শেষেরও অনেক দেরি। বইয়ের মাঝসমুদ্রে বহমান নৌকোগুলোর পেরুতে হবে আরও অনেকটা পথ। চলুন না এই যাযাবর নাবিকদের মুখে শুনে আসি তাদের বই পড়ার গল্প। জেনে আসি কার মননৌকোয় কতো বইয়ের ফসল।

রকমারি ডট কমের ধারাবাহিক আয়োজন “আমার এই বই পড়াতেই আনন্দ”। আজকের আয়োজনে আমাদের সঙ্গি বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও পরিচালক “অমিতাভ রেজা চৌধুরী”। রকমারির সাথে একান্ত এই আলাপনে উঠে এসেছে তাঁর বইজীবনের শৈশব আর তারুণ্যের চমকপ্রদ সব গল্প।

ট্রাফিক আমার বই পড়ার শ্রেষ্ঠ জায়গা
– অমিতাভ রেজা চৌধুরী

শৈশবে বই পড়ার কোন মজার গল্প
বই পড়ার মজার গল্পের থেকে আমার কাছে বই সব সময় এক ধরনের রোমাঞ্চকর অনুভুতিই দিয়েছে। ছোটবেলায় আমি অসুস্থতার জন‍্য অনেকদিন পিজি হাসপাতালে ছিলাম। সে সময় আমার মা আমাকে দুইটা বই কিনে দিয়েছিলো। একটা হলো ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ আর অন‍্যটা হলো ভবেশ রায় এর ‘শত মনীষীদের কথা’। দুইটা বই আমি মনে হয় কয়েকবার পড়েছি। সবচেয়ে প্রিয় ছিলো আমার দার্শনিক ডায়োজিনিস এর জীবনী। সেই বয়সে এই রকম একজনের জীবনী আমার নিজের জীবন নির্মাণে অনেক ভুমিকা রাখে।

যে ধরণের বই পড়তে পছন্দ
আমার চলচ্চিত্রের নির্মাণের প্রস্তুতি পর্বে চলচ্চিত্র বিষয়ক বই-ই বেশী পড়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশী ভাল লাগে প্রবন্ধের বই পড়তে। এক সময় বদরুদ্দীন উমর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আহমদ শরীফ অনেক পড়া হয়েছে। এখন নতুন করে পড়া হচ্ছে আহমদ ছফা আর রইসউদ্দিন আরিফ, শাহাদুজ্জামানের সব বই। ইংরেজি বই এর তো নাম বলে শেষ করা কঠিন। Umberto Eco এখন আমার অনেক প্রিয়।

বর্তমানে যেভাবে পড়ছি
কাজের ফাঁকে অবশ‍্যই বই পড়ার সময়টা বের করেই নিতে হয়। ঢাকা শহরের ট্রাফিক আমার বই পড়ার শ্রেষ্ঠ জায়গা। গাড়িতে বসে, প্লেনে, বিদেশে হোটেলে বসে বইটা সরাক্ষণই পড়া হয়। তাছাড়া প্রতিদিন রাতে কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়াটা একদম অভ‍্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।

বই কেনার গল্প
আমার জীবনে পড়া প্রথম কেনা বই হলা “সেরা সন্দেশ”। আমি একবার বিটিভিতে কবিতা আবৃত্তি করে ৫০০ টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে নিউমাকের্ট থেকে আমি ৪৫০ টাকা দিয়ে বইটা কিনি। এটাই ছিল আমার জীবনে পড়া সৎ উপায়ে প্রথম বই কেনা। এরপর কোচিং এর টাকা চুরি করে কিনেছি তলস্তয়, চেখভ আর কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার।

বই চুরির গল্প
কথনও চুরি করি নি।

লুকিয়ে বই পড়ার গল্প
না নেই তেমন।

জীবনের প্রিয় কিছু বইয়ের কথা
জীবনে পড়া বই এর সংখ‍্যা বলা কঠিন। কিছু বই থাকে বিষয়গত কারণে অনেক প্রিয় হয়ে উঠে আর কিছু বই প্রিয় হয়ে যায় বইটির কাঠামোগত কারণে, সেইভাবে বিচার করলে আমার অনেক প্রিয় বই সত‍্যজিৎ রায় সম্পদিত “সেরা সন্দেশ”। তারপর একটু বয়স হবার পর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের “চিলেকোঠার সেপাই”। মুগ্ধ হয়ে পড়েছি ফরহাদ মজহার এর “এবাদতনামা”।
John Berger এর “way of seeing” আর সিনেমার পড়ার বই এর মাঝে James Monaco “How to read a film” সবর্কালের পড়া সেরা বই। এছাড়া Ingmar Bergman এর “Magic Lantern”, Kurosawa এর “Something like a Autobiography”।
এছাড়া রয়েছে আরো শত শত বই যেগুলো আমার প্রিয়। তারকভস্কির “Sculpting in time”, “Time within Time”. আর কিছু কবিতার বই সব সময় সাথেই থাকে, বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ দাশ, জয় গোস্বামী আর নজরুল। কখনও হাতছাড়া করি নি Art of war, Lust for Life , Second sex, ‘বাঙালি মুসলমানের মন’, ‘মূলধারা ’৭১’ আর ‘মহাভারত’।

Write a Comment