লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই তথ্যগুলো আপনি জানতেন কি??

152

153

লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই তথ্যগুলো আপনি জানতেন কি??

  • 0
  • #লেখক কুঞ্জ
  • Author: Zahid Hasan
  • Share

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। জন্ম ১৯৩৫ সালের ২রা নভেম্বর, ময়মনসিংহে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত। তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বিভন্ন অংশে। পিতা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। শীর্ষেন্দু কলকাতার ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। প্রথম চাকরি নেন স্কুল শিক্ষক হিসাবে। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে জড়িত। এছাড়া তিনি দেশ পত্রিকাতেও লিখে থাকেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম হচ্ছে দূরবীন, পার্থিব, বেশি দূরে নয়, মানবজমিন, সাঁতারু ও জলকন্যা ঈগলের চোখ ইত্যাদি। শীর্ষেন্দুর কিছু সত্য তথ্য এখানে উপস্থাপন করা হলো।

 

০১। মৃত্যু থেকে ফেরাঃ

ভয়ানকভাবে বিষন্নতায় আক্রান্ত হন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। জীবনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং একসময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত মা–বাবা তাঁকে শ্রীশ্রী অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের কাছে নিয়ে যান। ঠাকুরের সান্নিধ্যে জীবন বদলে যায় তাঁর।

০২। পত্রিকা থেকে গল্প ফেরতঃ

তাঁর জীবনের প্রথম দুটি গল্প ফেরত এসেছিল দেশ পত্রিকার দপ্তর থেকে। তৃতীয়টি পাঠানোর পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদি এটি ছাপা না হয়, তাহলে লেখালেখিই ছেড়ে দেবেন। ‘জলতরঙ্গ’ নামে সেই তৃতীয় গল্পটিই ছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ছাপা হওয়া প্রথম লেখা।

০৩। চরিত্রায়নঃ

প্রথম উপন্যাস ঘুণপোকা লিখেছিলেন সাগরময় ঘোষের তাগাদায়। ঘুণপোকার শ্যামল চরিত্রটি অনেকটা তাঁর নিজের আদলেই গড়া।

০৪। ইচ্ছার কেচ্ছাঃ

শিশু-কিশোর জন্য কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল না শীর্ষেন্দুর। কিন্তু আনন্দমেলার তৎকালীন সম্পাদক ও কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অনুরোধে লেখেন প্রথম কিশোর গল্প। এমনকি নীরেন্দ্রনাথ অনেকটা জোর করেই তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নেন প্রথম কিশোর উপন্যাস মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি। এই উপন্যাসে ঠাকুরমার চরিত্রটি সরোজিনী দেবী নামে তাঁর এক বিধবা ঠাকুরমার আদলে গড়া।

০৫। বই থেকে সিনেমাঃ

তাঁর তিন বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস গোঁসাইবাগানের ভূত, ছায়াময় ও মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি নিয়ে বানানো হয়েছে তিনটি সিনেমা এবং তিনটিই বক্স অফিস মাৎ করেছে।

০৬। বিস্ময়ঃ

শীর্ষেন্দুর প্রিয় উপন্যাস সতীনাথ ভাদুড়ির লেখা ঢোঁড়াই চরিত মানস। এ ছাড়া কমলকুমার মজুমদারের উপন্যাসও তাঁর প্রিয়। শরৎচন্দ্রের দেবদাসকে তিনি ‘অপরিণত হাতের সৃষ্টি’ বলে মনে করেন। কিন্তু এক শ বছর ধরে দেবদাস-এর সমান জনপ্রিয়তাও তাঁকে বিস্মিত করে।

০৭। একসাথে তিন সিনেমাঃ

তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শবর দাশগুপ্ত। ‘শবর সিরিজ’–এর প্রথম বই ঋণ। শবর চরিত্র নিয়ে পরিচালক অরিন্দম শীল বানিয়েছেন এবার শবর, ঈগলের চোখ ও আসছে আবার শবর নামে একে একে তিনটি সিনেমা।

০৮। বাংলাদেশি নাটকের ভক্তঃ

বাংলাদেশি নাটকের ভক্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এ দেশের নাটকের গল্পগুলো খুব চমৎকার ও মিষ্টি। তিনি বলেন, ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখা যায় না বটে, কিন্তু কোনো না কোনোভাবে নাটকগুলো তাঁরা দেখেন।

০৯। ঘনিষ্ঠ বন্ধুঃ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আর শক্তি চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে তুই-তোকারির সম্পর্ক ছিল শুধু সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের সঙ্গে। মুস্তাফা সিরাজের অতিমাত্রায় ‘কর্নেল সিরিজ’-এ ঝুঁকে পড়াকে মানতে পারেননি শীর্ষেন্দু। এ জন্য সিরাজকে ভর্ৎসনাও করতেন। কারণ তিনি মনে করতেন,‘কর্নেল সিরিজ’ লেখা কমিয়ে দিলে সিরাজের কাছ থেকে অলীক মানুষ-এর মতো আরও ভালো ভালো লেখা পাওয়া যাবে।

১০। কষ্ট করে কেষ্ট মেলেনিঃ

‘স্লট মেশিনে পয়সা ঢোকানো আর কার্ড বেরিয়ে আসা, এই বিষয়টি একটি গল্পে শীর্ষেন্দু কোনোভাবেই মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে পারছিলেন না। যা লিখছিলেন, তা পছন্দ হচ্ছিলো না। পরে তা ৫০ বার লিখেছেন। এই গল্পটি লিখতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় দু’বছর। অথচ গল্পটি যখন ছাপা হলো, তখন তা খুব একটা আলোচনায় আসেনি।

১১। ভয়ঃ

শীর্ষেন্দুর প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’ পড়ে কেউ কেউ বলেছিলেন- “ওর লেখা পড়ো না, মন খারাপ হয়ে যায়।’ খুব ভয় পেয়ে যান তিনি তা শুনে।

১২। যেভাবে লেখেনঃ

শীর্ষেন্দু বলেন, ‘আমার লেখার কোনো ছক নেই, পরিকল্পনা নেই। আমার লেখার ধরন অদ্ভুত। লিখতে বসার আগে পর্যন্ত জানি না কী লিখবো। একটা মনে ধরার মতো লাইনের জন্য অপেক্ষা করি। যদি ওই বাক্যটি পছন্দ হয় লিখতে শুরু করি। এমনও হয়েছে বাক্যে একটি শব্দ খুঁজতে গিয়ে ১২-১৩ দিন লিখতে পারিনি। আবার কোনো কোনো দিন ১২-১৩ ঘণ্টা টানা লিখে গেছি। আমার লেখার ধরন অনেকটা তুলোর গুটি থেকে সুতো পাকানোর মত। ধীরে ধীরে একেকটি চরিত্রকে দেখতে পাই। তাদের মুখ, শরীর কাঠামো, পোশাক ভেসে ওঠে চোখের সামনে। তাদের জীবনযাত্রা, কথা দেখতে পাই। তখন আমার গল্প, উপন্যাস যেন হয়ে ওঠে একটি প্রতিবেদন লেখার মতো।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর সকল বই

 

Write a Comment

Related Stories