পাঠক প্রিয় ৭টি বই যা আপনার মনকে উজ্জীবিত করবে !

পাঠক প্রিয়

আপনি কি আপাদমস্তক একজন পাঠক? বইছাড়া একদিনও চলে না? ভাবছেন সপ্তাহের কোনদিন কোন বই পড়বেন? পড়ে তৃষ্ণার্ত মনের পিপাসা মেটাতে চান? তাহলে আপনার জন্যই এই আয়োজন। এখানে সাত লেখকের সাতটি বইয়ের পরিচয় দেওয়া আছে যা আপনার পড়ুয়া মনকে উজ্জীবিত করবেই।

মাতাল হাওয়াবইমাতাল হাওয়া

লেখকহুমায়ূন আহমেদ

বইটি ইতিহাসমিশ্রিত। উনসত্তরের উত্তাল সময়কে উপজীব্য করে লেখা হয়েছে। সেই সময়ের হাওয়াকেই মাতাল হাওয়া বলা হয়েছে। খুনের মামলাকে ঘিরে কাহিনি এগোতে থাকে। নাদিয়া নামের একটি চরিত্র আছে যে অনেক স্বপ্নবিলাসী। আরেকটি চরিত্র হাজেরা বিবি। যিনি অনেক রহস্যময়ী। উনার কিছু কিছু কথায় না হেসে পারা যায় না। এছাড়াও আছে ফরিদ ও সীতা নামের চরিত্র। যাদের করুণ-কাহিনি উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। বিদ্যুৎ কান্তি দে নামক এক অসাধারণ মানুষের সাথে পরিচয় পাওয়া যাবে এই বইটি পড়লে। পুরো কাহিনি জুড়ে টুইস্টের ছড়াছড়ি। ধূর্ততা, চালবাজিতা, নিষ্ঠুরতা আর ক্ষমতার অপব্যবহার যেমন ফুটে উঠেছে ঠিক তেমনি আবার উদারতা আর বিশ্বস্ততার উদাহরণও আছে এখানে। শুক্রবারের সময়টাকে মাতাল করে তুলতে পারেন এই বইটি পড়ে।

গর্ভধারিণীবইগর্ভধারিণী

লেখকসমরেশ মজুমদার

চার বন্ধু। অানন্দ, কল্যাণ, সুদীপ আর জয়িতা। দেশে চলছিল রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দলীয় ক্রন্দন ও বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। চার বন্ধুর বিবেক তাড়িত হলো। তারা পদক্ষেপ নিলো বাংলার মানুষের মাঝে সচেতনার ঢেউ তোলার। যেমন ভাবা তেমন কাজ। দেশের বাজে অবস্থার বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক এক অভিযানে নামে সবাই। নিজেদের আত্মগোপন করে চ্যামলাঙ, বারুনৎসে, লোৎসে, এভারেস্ট, মাকালু’র পাদদেশ এক পাহাড়ী গ্রামে। যেখানে সভ্যতার সূর্য এখনও উদিত হয়নি। কিন্তু চে গুয়েভা অথবা মাও সে তুং কিংবা হো চি মিন যে স্বপ্ন দেখতেন, তারাও সে স্বপ্ন দেখেছিল। উপন্যাসে ফুটে উঠেছিল মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তশ্রেণির পারিবারিক সম্পর্ক। এই বইয়ে পাওয়া যাবে অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার ও রাজনীতির মিশ্র টেস্ট। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার মতো একটি নান্দনিক বই। শনিবারের অলস সময়টাকে তুলে দিতে পারেন এই উপন্যাসের চিত্রপটে।

শয়তানবইশয়তান

লেখকলিও টলস্তয়

সবার ভেতরেই থাকে এক অদৃশ্য শয়তান। পুরুষের ভেতরে খুব জোড়ালোভাবেই এর আনাগোনা। যে নারী লিপ্সায় লিপ্সিত থাকে। খুব কম পুরুষই আছেন সেটাকে দমাতে পারেন, আনতে পারেন নিজের বশে। উপন্যাসে তেমনই এক পুরুষের কথা বর্ণিত আছে। নিজের ভেতরের কুকামনাকে কীভাবে দমন করা যাবে তারই শিক্ষা দেওয়া আছে এই বইয়ে। রবিবারে পড়ার তালিকায় উপন্যাসটিকে রাখতে পারেন।

এপিলেপটিক হায়দারবইএপিলেপটিক হায়দার

লেখকতকিব তোফিক

মৃগীরোগী হায়দার। হঠাৎ করে খিঁচুনি ওঠে তার। অনার্স ৩য় বর্ষে পড়াকালীন সর্বপ্রথম এই রোগ ধরা পড়ে। তাকে সবাই অভিশাপের চোখে দেখে। এভাবেই কাহিনির ডালপালা গজায়। আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুটাকেও এই উপন্যাসে হাইলাইট করা হয়েছে। বইটির জন্য সোমবারকে বরাদ্ধ রাখতে পারেন।

আমার বন্ধু রাশেদবইআমার বন্ধু রাশেদ

লেখকমুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে বইটি রচিত হয়েছে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কিশোরবয়সী রাশেদ। দেশকে স্বাধীন করার ডাক এলে যার মন আন্দোলিত হয়, এমন কাহিনিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে সে। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। সম্মুখযুদ্ধে বন্দী হয়ে যায় তাদের পরিচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা। একদিন রাশেদ ও তার বন্ধুরা তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে। কিন্তু যুদ্ধের গ্যাঁড়াকল থেকে রাশেদ ও তার বন্ধুদের একসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। রাশেদ আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সব বন্ধু যখন আবার একত্র হয় ছোট্ট শহরটিতে, তারা আবিষ্কার করে রাশেদ নামের বিচিত্র ছেলেটিকে। কী হয় রাশেদের? জানতে হলে বইটির গন্ধ নিতে হবে। উপন্যাসটি পড়ার জন্য মঙ্গলবারকে বেছে নিতে পারেন।

সূর্য দীঘল বাড়ীবইসূর্য দীঘল বাড়ী

লেখকআবু ইসহাক

সূর্য দীঘল। একটি বাড়ির নাম। তৎকালীন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা গ্রামে এটির অবস্থান। ঢাকা শহরের কাছেই গ্রামটি। কিন্তু শহরের কাছাকাছি হলেও এখানকার গ্রামবাসীরা ডুবে আছে কুসংস্কারে। তাদের ধারণা যারাই এই বাড়িতে থাকবে তাদেরই কোনো না কোনো ক্ষতি হবে। এখানে ভূতদের বসবাস আছে তাই এমনটি হয়। ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে এই বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয় জয়গুন ও তার মৃত ভাইয়ের বউ শফি। এমন অমঙ্গল বাড়িতে তাদের জীবন সংগ্রামকে করুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দেখানো হয়েছে স্বামীহারা নারীর কণ্টকাকীর্ণ একলা জীবন ও বাইরে গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার প্রতিবন্ধকতাও। গ্রামের কুসংস্কারগুলো চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বইয়ে। বুধবারের সময়টাকে আলোকিত করতে পারেন এই উপন্যাসটি পড়ে।

তৃষ্ণাবইতৃষ্ণা

লেখকজহির রায়হান

বাংলাসাহিত্য ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা সফল সাহিত্যিক জহির রায়হান। স্বাধীনতার পর নিখোঁজ হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। আলোকিত এই লেখকের লেখায় উঠে আসে অভিব্যক্তি বাস্তবতা, স্বপ্ন, লোভ, ঘৃণা আর ভালবাসা। কাহিনির রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকে টুইস্ট। শেষে দেওয়া হয় সুনিপুণ মেসেজও। 

তৃষ্ণা উপন্যাসটিও সেই ধারারই একটি বই। যেখানে হতাশার মাঝেও কীভাবে আশা খুঁজে পাওয়া যায়, স্বপ্ন দেখা যায় তারই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উপন্যাসটির কেন্দ্রিয় চরিত্র শওকত। তার বেকারত্বের গল্পই এই বইয়ের উপজীব্য। এছাড়াও লিপিবদ্ধ হয়েছে, বাবা মা হারানো মার্থার একলা সংগ্রাম। আছে কিছু নিষিদ্ধ ভালবাসা ও কামনার ঘটনা। বৃহস্পতিবারের ঘাড়ে বইটিকে তুলে দিতে পারেন। আশাকরি আপনার মূল্যবান সময়কে রাঙিয়ে তুলবে।

আরও পড়ুনঃ 

দুনিয়া মাতানো যে ১০ বই অবশ্যই পড়া উচিত !

একাকীত্ব উদযাপন করতে পারেন যে ৬টি বই পড়ে!

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png