জীবন বদলে দেয়া নন-ফিকশন বই

নন-ফিকশন

সাহিত্য জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বর্তমান প্রবন্ধে এধরণের কয়েকটি নন-ফিকশন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইগুলো অনেক সফল ব্যক্তির চিন্তাপদ্ধতি ও জীবন গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এগুলো প্রত্যেকের পড়া উচিত বলে এসব ব্যক্তি মনে করেন। রকমারি ব্লগ’র পাঠকদের জন্য বইগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো।

হুয়েন ব্রেথ বিকাম এয়ারহুয়েন ব্রেথ বিকাম এয়ার

পল কলেনিথী

বইটি পল কলোনিথী’র স্মৃতিচারণ। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একজন নিউরোসার্জন। জীবনের ত্রিশের মাঝামাঝি বয়সে তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বইটিতে তিনি কেবল নিজের গল্প লিখেননি, বরং কিভাবে মৃত্যুকে সম্মানের সাথে বরণ করতে হয় এবং বাস্তব জীবনে বিষয়টি কেমন তা নিয়ে অসাধারণ আলোচনা করেছেন।

স্যাপিয়েন্স: অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব হিউম্যানকাইন্ডস্যাপিয়েন্স: অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব হিউম্যানকাইন্ড

ইউভাল নূহ হারারি

তিনটি বিপ্লবের মধ্যদিয়ে মানব ইতিহাস রচিত হয়েছে: কগনিটিভ বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব (৭০,০০০ বছর আগে), কৃষি বিপ্লব (১০,০০০ বছর আগে) ও বৈজ্ঞানিক বিপ্লব (৫০০ বছর আগে)। এসব বিপ্লব মানবজাতিকে এমন কিছু করতে সক্ষম করে তুলেছে যা কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বিপ্লবগুলো আমাদের চারপাশে এমন কিছু ভাবনা-ধারণার উদ্রেক করেছে, যা দৈহিকভাবে অবস্থান করে না (যেমন: ধর্ম, পুঁজিবাদ ও রাজনীতি)। এসব “মিথ” মানবজাতিকে বিশ্বনেতৃত্ব গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে কাটিয়ে উঠার দ্বার উন্মোচন করেছে।

গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল: দ্য ফেইট অব হিউম্যান সোসাইটিজ
গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল: দ্য ফেইট অব হিউম্যান সোসাইটিজ

জেয়ার্ড ডাইমন্ড

পরিবেশগত কারণে স্থানগত পার্থক্য রয়েছে। কতিপয় পরিবেশ তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্ভাবনশক্তি ও সমাজ গঠনের অনুকূল অবস্থা তৈরি করে, যা কোনো কোনো পরিবেশের থাকে না। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানুষদের উত্থান বিশেষভাবে আলোচিত। এর মূলে পরিবেশগত কারণ ছিলো, দৈহিক নয়। ইউরোপীয়দের ক্ষমতা লাভ এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা জয়ের পেছনে চারটি কারণ ছিলো। এই উত্থানে অন্য কোনো কিছুকে দায়ী করা যায় না। ১. গৃহপালিত ও অন্যান্য প্রাণি এবং গাছপালার মধ্যে মহাদেশগত পার্থক্য, যা ইউরোপ ও এশিয়ায় প্রচুর খাদ্য ব্যবস্থা ও বিপুল জনসংখ্যা পরিমাণ সৃষ্টি করেছে। ২. যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ ও এশিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৃষি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনশক্তি বৃদ্ধির হার। ৩. ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে আন্ত:মহাদেশীয় সামঞ্জস্য বৃদ্ধির হার। ৪. মহাদেশগুলোর আকারগত পার্থক্য জনসংখ্যার পরিমাণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বৃদ্ধির হারের মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছে।

অ্যাটোমিক হ্যাবিটসঅ্যাটোমিক হ্যাবিটস : এন অ্যাসে অ্যান্ড প্রোভেন ওয়ে টু বিল্ট গুড হ্যাবিটস অ্যান্ড ব্রেক বেড ওয়ান্স

জেমস ক্লিয়ার

যদি আপনি একটি চমৎকার নন-ফিকশন বই খুঁজছেন, তাহলে অ্যাটোমিক হ্যাবিটস নামের আমার বইটি পড়তে পারেন। আমার বিশ্বাস প্রতিদিন আপনার অভ্যাসের ১শতাংশ করে উন্নতির জন্য এবং নিজের অভ্যেসকে মনের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বইটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ব্যবহারিক জীবনে এটি নির্দেশিকা হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

ম্যানুয়াল ফর লিভিংম্যানুয়াল ফর লিভিং

ইপিকটেটাস

আপনার মধ্যে সবকিছুই শক্তিশালী নয়। তবে কিছু বিষয় শক্তিসম্পন্ন। দুটো বিষয় নিয়ে দ্বিধান্বিত হবেন না। এমন কিছু আশা করবেন না, যা নিজের মধ্যে নেই। বিশেষ কোনো ঘটনা থেকে আমরা এধরণের অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকি। ভেবে দেখুন আপনি নিজের জীবন কিভাবে কাটিয়ে দেন। কারণ জনসাধারণ প্রায়ই এমন বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করে যা তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে না। সুতরাং এধরণের কর্মকাণ্ড তারা আশাও করে না।

দিস ইজ ওয়াটারদিস ইজ ওয়াটার

ডেবিড ফস্টার ওয়ালেচ

“কীভাবে চিন্তা করতে হয়” এর মানে হলো আপনি যা চিন্তা করেন তার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার চর্চা করতে শেখা। জীবনকে আলাদাভাবে দেখার চেয়ে বরং একে স্বাভাবিক ভেবে বিবেচনায় নিলে জীবনযাপন অধিকতর সহজ। রাজধানীর ক্ষেত্রে কেবল এটি ভিন্ন বিষয়। কেননা আপনি জীবনকে দেখতে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীকে বেছে নিয়েছেন।

ইনটো থিন এয়ারইনটো থিন এয়ার: এ পারসনাল অ্যাকাউন্ট অব দ্য মাউন্ট এভারেস্ট ডিজাসটার

জন ক্রেকাউর

বইটি ১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় স্থান করে নেয়। এটি ১৯৯৬ সালে মাউন্ট এভারেস্ট দূর্যোগের স্মৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে। ওই দূর্যোগে আটজন পর্বাতারোহী নিহন হন এবং ঝড়ের কারণে সাতজন পতিত হন। লেখক ক্রেকাউর ওই পর্বাতারোহীদের একজন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন নির্দেশক রব হল। অন্য একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন স্কট ফিশার, যাদের এজেন্ট ছিলো মাউন্টেইন ম্যাডনেস। এই প্রতিষ্ঠানটি হলদের এজেন্টের প্রতিদ্বন্ধী বলে মনে করেন দু:সাহসী বিষয়ক পরামর্শদাতারা।

সিউরলি ইউ‘আর জোকিং, মি. ফেইনম্যান !সিউরলি ইউ‘আর জোকিং, মি. ফেইনম্যান !

রিচার্ড পি. ফেইনম্যান

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ রিচার্ড ফেইনম্যান গ্রন্থটির লেখক। বইটি মূলত তার স্মৃতিচারণমূলক সম্পাদিত বই। এতে সেফ-ক্রেকিং (কৌশল না জেনে তালা খোলা), বিচিত্র ভাষা শিক্ষা, পাঠচক্র (জীববিদ্যা, দর্শন), শিল্প ও সম্বা গান (ব্রাজিলে প্রচলিত) ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাছাড়া বইটিতে তার ম্যানহাটন প্রকল্প (এসময় যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার প্রথম স্ত্রী মারা যান), হুইল-ফেইনম্যান এবসরবার থিয়োরি’র বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তত্ত্বটি তিনি আলবার্ট আইনস্টাইন, ওলফগ্যাঙ্গ পাওলি, হেনরি নরিস রাসেল, জন ভন নিউম্যান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সামনে তুলে ধরেছিলেন।

 

নন-ফিকশন বেস্ট সেলার বই সমূহ কিনুন রকমারি ডট কম থেকে


সূত্র: https://jamesclear.com/best-books/nonfiction

 

আরও পড়ুনঃ 

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির ৫টি কার্যকরি উপায়

ব্যবসা শুরুর আগে উদ্যোক্তাদের অবশ্যপাঠ্য ৭ টি বই

যুগান্তকারী ১০ জন নোবেল বিজয়ীর গল্পকথা

জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়ার মত ১০ জনের জীবনী

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png