“শুভ্র” হুমায়ূন আহমেদ এর সবচেয়ে কম আলোচিত একটি চরিত্র !

shuvra

হুমায়ূন আহমেদ। কালজয়ী ঔপন্যাসিক। আবিস্কার করেছেন হিমু, মিসির আলি, শুভ্রসহ অনেক জনপ্রিয় চরিত্র। তারমধ্যে তুলনামূলক কম আলোচিত হয়েছে শুভ্র চরিত্রটি। এ নিয়ে অনেক ব্যাখ্যাও রয়েছে। হিমু, মিসির আলিকে নিয়ে যত বই লেখা হয়েছে তারচেয়ে খুব কম বই লেখা হয়েছে শুভ্রকে নিয়ে। তবুও এই চরিত্রটি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আজকের আয়োজনটি হুমায়ূন আহমেদ এর শুভ্র সম্পর্কে।

নামকরণ

শুভ্র নামের অর্থ সাদা। সাদা মনের হওয়ার কারণেই চরিত্রটি নাম রাখা হয়েছে শুভ্র। চশমা খুলে ফেললে সে চোখে দেখে না, তাই ক্লাসের বন্ধুরা তাকে কানাবাবা বলে ডাকে। চরিত্রটির জনক হুমায়ূন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিচিতদের মধ্যে শুদ্ধ মানুষ না পেয়ে আমি কল্পনার জগতে তৈরি করেছি শুদ্ধ মানুষ। উপন্যাসও লিখেছি এ চরিত্র নিয়ে বেশ কটি। একসময় আমার মনে হয়েছে একেবারে নিখাদ শুদ্ধ মানুষ বলে কিছু হতে পারে না। তাই নতুন করে লিখলাম শুদ্ধ মানুষ শুভ্র এর কাহিনী।’ এভাবেই শুভ্র চরিত্রটির নামকরণ এবং সৃষ্টি হয়।

বয়স

শুভ্র যুবক বয়সী। বয়স ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে হবে।

পড়াশোনা

ফিজিক্সে মাস্টার্স ফাইনাল দিয়েছে। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী।

গঠন

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান শুভ্র। অসম্ভব সুদর্শন চেহারা। কোঁকড়ানো চুল। পাতলা ঠোঁট লালচে হয়ে থাকে। তার মায়ের প্রায়ই মনে হয়, ছেলে না হয়ে মেয়ে হলে অতি রূপবতী এক তরুণীর মা হতেন তিনি। শুভ্রর চোখে সমস্যা। চশমা খুলে ফেললে প্রায়ই অন্ধ সে, কিছুই দেখতে পায় না। তবে খুবই বুদ্ধিমান সে। শুধুমাত্র চিন্তা করেই শুভ্র আবিষ্কার করে যাকে সে মা বলে জেনে এসেছে তিনি তার আসল মা নন।

স্বভাব

সব-সময় মোটা ফ্রেমের চশমা পড়ে বইয়ের মাঝে ডুবে থাকে সে। মিথ্যে কথা বলতে পারে না।

মায়ের ইচ্ছে

মা জাহানারার খুব ইচ্ছে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ঘরে বৌ আনবেন তিনি। মাথায় একহাত ঘোমটা দিয়ে বালিকা বউ পায়ে নূপুর পায়ে পুরো ঘর ঘুরবে দিনরাত।

জীবনযাপন

নিজেকে পৃথিবীর যাবতীয় জটিলতা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে ভাবতে চায় না সে। জগতের যাবতীয় সমস্যা শুভ্রর চোখেই পড়ে না। দুনিয়ার সব সুখী মানুষকে দেখলে তার খুব আনন্দ হয়।

একবার ভয়ংকর একটা ব্যাপার ঘটে যায় শুভ্রর জীবনে। শুভ্রর বাবা মারা যান হঠাৎ করেই। বাবার মৃত্যুর পর শুভ্র জানতে পারে শহরের সবচেয়ে বড় পতিতালয়ের একটা বড় অংশের মালিক এখন সে। তিনটা বাড়িতে বায়ান্নটা মেয়ে আছে। মেয়েদের আয়ের অর্ধেকের মত পায় তারা। এই ভয়ংকর সত্যিটা এতদিন সবাই লুকিয়ে রেখেছিল শুভ্রর কাছ থেকে। বাবার বন্ধুর মেয়ে বিনু, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী মীরা, পতিতালয়ের বাসিন্দা আসমানী প্রত্যেকে প্রভাবিত করতে থাকে শুভ্রকে।

পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকে যারা প্রচণ্ড বুদ্ধি নিয়ে জন্মায় কিন্তু সেই বুদ্ধির প্রকাশ দেখাতে চায় না। শুভ্র চরিত্রটা অনেকটাই এই আদলে গড়া। বিত্তবান বাবা-মা নিজের গণ্ডির মধ্যে শুভ্রকে আটকে রেখে ভাবেন তাদের ছেলে বোকা। এই বোকা ছেলেই একদিন নিজের জন্ম-রহস্য নিজে বের করে, বাবার মৃত্যুর পর ব্যবসার হাল ধরে।

আরও পড়ুন হুমায়ূন আহমেদের অসমাপ্তনবীজী’র গল্প

হুমায়ূন আহমেদ এরশুভ্রবইটি কিনতে ক্লিক করুন

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

1 thought on ““শুভ্র” হুমায়ূন আহমেদ এর সবচেয়ে কম আলোচিত একটি চরিত্র !”

  1. Pingback: 'নবীজী' হুমায়ূন আহমেদের একটি অসমাপ্ত গল্প ! - রকমারি ব্লগ

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading