“আমি এতোটা জনপ্রিয় না যে, চাপ অনুভব করবো”–মোস্তফা তানিম

mostofa tanim illuminati

মোস্তফা তানিম লেখালেখি করছেন দুই দশক ধরে। বাংলাদেশের যে স্বল্প সংখ্যক লেখক সায়েন্স ফিকশন লিখে পাঠকের মনোযোগ কেড়েছেন, মোস্তফা তানিম তাদেরই একজন। লেখক-তীর্থভূমি হিসেবে খ্যাত ”কচি কাঁচার আসর” দিয়ে তার লেখক জীবনের সূচনা। নব্বই দশকে পত্রিকার জন্য দুই হাতে লিখেছেন। লেখালেখির মতো তার পেশাও ভীষণভাবেই বিজ্ঞানকেন্দ্রিক। বুয়েটে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একটি মার্কিন আই,টি, কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০২১ অমর একুশে গ্রুন্থমেলায় তার নতুন বই ‘ইল্যুমিনাতি‘ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই বইটি নিয়ে কথা বলতেই তিনি রকমারি ব্লগের মুখোমুখী হয়েছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, নুহিয়াতুল ইসলাম।

মোস্তফা তানিম
লেখক মোস্তফা তানিম মূলত সাইন্স ফিকশান লিখে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন।
বইমেলা’র একদম শেষ সময়ে আপনার নতুন বই ‘ইল্যুমিনাতি‘ এসেছে। একটু বেশি’ই দেরি হয়ে গেল না এবার?

– হ্যা, দেরি হলো তা ঠিক। কিন্তু ফিকশন হলেও বেশ তথ্য ঘেঁটে বইটি লিখতে হয়েছে। তাই দেরি হয়ে গেলো।

বইয়ের নামটি বেশ আকর্ষণীয়। এই নামটি’ই বেছে নিলেন কেন? 

– যদিও ইল্যুমিনাতি নামে একটি গোপন এবং শক্তিশালী সংগঠনের কথা অনেকদিন ধরেই চলে আসছে, কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন, ফিকশন নাম হিসাবেও এটি সুন্দর মানিয়ে যায়। এ বইয়ের মূলে রয়েছে কন্সপিরেন্সি থিওরি এবং ইল্যুমিনাতি বিষয়ক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। তাই মনে হলো, এ বিষয়ে এর থেকে ভালো নাম আর হয় না।

বইটি’র প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যদি বলতেন…… 

– আমি বলবো এই বইটি সমান ভাবে সায়েন্সফিকশন এবং থ্রিলার। অজান্তেই ঘটে গেছে, জনরাটা পরে দিয়েছি। প্রেক্ষাপট খুবই সাম্প্রতিক, করোনা ভাইরাস, নতুন ভ্যারিয়েন্ট, ল্যাবরেটরি ষড়যন্ত্র, ভ্যাক্সিন এবং সর্বোপরি গুপ্ত সংঘ এবং সে বিষয়ে সত্য-মিথ্যা। তবে উপন্যাসটি লিখা হয়েছে মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে, আমেরিকার মাঠে বাংলাদেশি চরিত্রদের প্রধান করে। এখানে ভালোবাসার একটি সুন্দর বর্ণনা রয়েছে। এমনকি মূল ঘটনাটা বিস্তারে নারী-পুরুষের ভালোবাসার একটি বড় ভূমিকাও রয়েছে।  কাজেই, এর প্ৰেক্ষাপট প্রায় মূলধারার উপন্যাসের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের মতোই বলে আমি মনে করি।

ইল্যুমিনাতি
তার নতুন উপন্যাস ‘ইল্যুমিনাতি’

BUY NOW

একটা সোজাসাপটা প্রশ্ন করি, ‘ইল্যুমিনাতি’ নামক গুপ্ত সংগঠনটির সম্পর্কে আপনার বিশ্বাসটা কীরকম? 

-সে উত্তর এই উপন্যাসটির প্রায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। পাঠক পড়েই তা বুঝতে পারবে। এক কথায় কিছু বলতে চাইছি না 🙂

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, ‘বিটকয়েন‘, আপনার লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় বই। এছাড়া আপনার জনপ্রিয় কিছু সাইন্স ফিকশানও রয়েছে। একজন লেখকের কাছে এই জনপ্রিয়তা কি শুধুই অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে নাকি কিছুটা চাপও সৃষ্টি করে?  

– খুব ভালো প্রশ্ন।  চাপ সৃষ্টি করতে পারে বৈকি।  বিটকয়েন এবং ব্লকচেইনের উপরে লেখা বইটি অনেক গভীর, অনেক চমকপ্রদ।  আমার এক কলিগ যখন বলে, বিটকয়েনের পয়সার নাম সাতোশি, এক শ পয়সায় যেমন একটাকা হয়, তেমন  দশকোটি সাতোশিতে একটি বিটকয়েন হয়, তখন বাসায় এসে একসঙ্গে  দশটি বই আমাজন থেকে অর্ডার দেই । যত পড়ি তত অবাক হই।  ক্রিপ্টোকারেন্সি, এরোপ্লেন আবিষ্কারের মতোই একটি ধন্বন্তরি আবিষ্কার।  এই “সাতোশি নাকামোতো” বিটকয়েনের আবিষ্কর্তা। কিন্তু সে আসলে কে, তা আজ পর্যন্ত কেউ বের করতে পারেনি।  তারপর নিউইয়র্কের প্রথম আলোতে প্রায় দশটি খন্ডে এইসব ঘটনা লিখেছি।  প্রচুর আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। যে বিটকয়েন নিয়ে ব্যবসা চলছে, তার থেকে এই বইটি অনেক গভীর, অনেক ব্যাপক, অনেক বেশি সাহিত্যধর্মী বলে আমি মনে করি।    তবে আমার সবচেয়ে জনপ্রিয় বই মনে হয় শিশু কিশোরদের জন্যে লেখা, ম্যাকগাইভার মামা . ১৯৯১ এর মেলার মধ্যেই তিনবার মুদ্রণ হওয়ার পরে নানান প্রকাশনী থেকে কতবার  মুদ্রণ, পুনঃমুদ্রণ  হয়েছে, তার হিসেব আমার কাছে নেই।

চাপের কথায় আসি।  আমার জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে যায় নি যে চাপ অনুভব করবো।  তবে বুঝতে পারি, পাঠক চাইছে দেখে তেমন একটা বিষয়ে বই লিখার চাপ লেখকের অবশ্যই অনুভব করতে পারেন।

জনপ্রিয়তা’র কথা যখন এলোই, তখন একটি প্রশ্ন চলেই আসে। একজন লেখকের জন্য কোনটি বেশি প্রয়োজন? জনপ্রিয়তা নাকি কোনো মহান সৃষ্টি’র স্রষ্টা হওয়া? 

-মহান সৃষ্টির স্রষ্টা হওয়া।  আমি মনে করি ভালো লেখকরা পাঠক তৈরী করেছেন, পাঠক তাদেরকে তৈরী করেন নি।

লেখক জীবনে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে? বা লেখালেখি’র ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, যা আপনি শেষ করে যেতে চান?

-লেখক জীবনে নিজের লেখা নিয়ে কোনও অতৃপ্তি নেই। আমি মনে করি দু-চারটি ভালো লেখা হয়তো লিখেছি। আরও ভালো লিখবো বলে আশা রাখি।  তবে আফসোস আছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বেশিরভাগ পাঠক আমার বইগুলো, উদাহরণ স্বরূপ, রং নাম্বার, রিংটোন, মানুষ ও ভাইরাসের যুদ্ধের ইতিহাস, অনুরোধের ঢেঁকি , এমনকি এই শেষ বইটি ‘ইল্যুমিনাতি’, পড়ার পরে চমৎকৃত হবেন। উপভোগ করবেন, একটি নতুন কিছু হলেও সেখানে পাবেন।  যেমন, মানুষ ও ভাইরাসের যুদ্ধের ইতিহাস বইটি পড়ে একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন বাঙালি চিকিৎসক স্বত প্রণোদিত হয়ে বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। আমাকে তিনি অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার আগে অনুবাদের  বিষয়টি জানান নি পর্যন্ত।  কিন্তু বইগুলি ব্যাপক পাঠকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না।  আজকের বাংলা বই বাজারে অনেক বইয়ের মধ্যে একটি হিসাবে যদি এ বইগুলো হারিয়ে যায়, তবে আমার দুঃখ থেকে যাবে। তবে অতৃপ্তি নয়।

মোস্তফা তানিমের সকল বই সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

 

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Loading