‘এক্স ওয়ার্ল্ড ‘ পৃথিবীর অভ্যন্তরে অন্য এক পৃথিবী !

এক্স ওয়ার্ল্ড ek chobi

এক অজানা পথ পাড়ি দিতে একত্র হয়েছে প্রচণ্ড সাহসী নির্ভীক অদম্য কয়েক যুবক-যুবতী। তারা সংখ্যায়ও বেশি নয়, মাত্র আটজন। তারা ছোট-খাটো একখানা বোটে করে সমুদ্র পথে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে। সমুদ্রের বিশালতা উপভোগ করবে। এতে যদি তাদের মৃত্যু হয় তাও তারা নির্ভয়ে মেনে নেবে। সেক্ষেত্রে আয়োজনের ধরন যদি এতটা ভয়ঙ্কর হয়, তখন আয়োজকদের প্রশংসা না করে পারা যায় না। এর পরেরটুকু শুধু ইতিহাস, শুধুই ছুটে চলা। অজানাকে জানার; অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২২৫০ সালের এক বিকেলে রয়েল সিজার, সুজানারা ছোট্ট একটি বোট বিশাল সমুদ্রের বুকে ভাসিয়ে দেয়। মাসখানেক সমুদ্র পথে চলার পর যখন তারা বুঝতে পারে অনিশ্চয়তায় পূর্ণ এক পথ বেছে নিয়েছে। যে পথ হয়ত শেষ হবে, হয়ত বা নয়, তখন কি ভালো  থাকে রয়েল-সুজানাদের মন ? এমনি অবস্থায় পুরোপুরি হতাশায় নিমজ্জিত হল তারা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভেঙে পড়ল।

অবস্থা যখন এতটা শোচনীয় তখনি তারা মুখোমুখি হয় এক চরম মৃহূর্তের। সুন্দর ঝলমলে আকাশ, ঝিকিমিকি রৌদ্র কোথায় যেন হারিয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে সমুদ্র ভয়ঙ্কর রৌদ্রমূর্তি ধারণ করে। বিশাল সমুদ্রের মাঝে তারা যেন অসহায় অপরিনামদর্শী এতটুকু অস্তিত্ব। যা অল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে অশান্ত সমুদ্রগর্ভে বিলীন হবে। কেউ জানতে পারবে না তাদের পরিণতির কথা। কেউ লিখবে না দুঃসাহসী আট অভিযাত্রীর  হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। এমনি অবস্থায় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সমুদ্র আরও বিপদজনক হয়ে উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের অসহায়  বোটখানা সমুদ্রের গর্জন, ঝড় ও বিশালাকৃতির ঢেউয়ের প্রভাবে কাগজের নৌকার মতো  দুলতে থাকে। তবে এ সময়টাও দীর্ঘ হয় না। প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলায় রয়েল- সুজানাদের বহন করা  বোট একসময় অসহায় আত্মসমর্পণ করে। ঝড়ের প্রবল ধাক্কায় ছোট্ট বোটটি পুরোপুরি উল্টে যায়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ! একেবারে অন্ধকার, গাঢ় অন্ধকার…

এক্স ওয়ার্ল্ডের সিটি

একঃ 

রয়েলের চতুর্দিকটা স্বচ্ছ কাঁচ দ্বারা বেষ্টিত যেন বিশাল এক বোতলের মধ্যে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে ছিল সে। যার বাহিরে শুধু পানি আর পানি, মাঝে মধ্যে অদ্ভুত সব জলজ প্রাণী, মাছ এবং মাছের মতোই নিশ্চিন্তে চলাফেরা করা মানুষ সদৃশ কিছু প্রাণীকেও দেখতে পায় সে! রয়েল অবাক হয়। ভীষণ অবাক হয়। ভাবতে থাকে, কোথায় আছে  সে ?  এমন অদ্ভুত জায়গা কোথায়! কীভাবে এল এখানে? কে নিয়ে এল? এমন নানাবিধ প্রশ্ন যখন রয়েলের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন কিছু একটা শুনতে পায় সে। কেউ একজন বলছে

-শুভ দিন প্রতিদিন রয়েল।

 রয়েল চুপ, কোন জবাব দেয় না। অবাক হয়ে চারদিক দেখছে শুধু। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আসলে অবাস্তব কিছু বিষয় অযাচিতভাবে সামনে এলে মাথা কাজ করার কথা না। রয়েলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার-স্যাপার দেখে চোখ বড় করে তাকাচ্ছে সে। এ অবস্থায় কেউ একজন পুনরায় বলে-

– শুভ দিন প্রতিদিন রয়েল, আপনাকে এক্স ওয়ার্ল্ডে স্বাগতম !

এবার চুপচাপ বসে থাকে না রয়েল। কথা বলে, ভেসে আসা কণ্ঠের বিপরীতে বলে

-কে আপনি, কোথেকে কথা বলছেন ?

ভেসে আসা কণ্ঠ জবাব দেয় না। ফলে কিছু সময় চুপচাপ কাটে রয়েলের। এর মধ্যে সে আরও ভালো করে চারদিকটা দেখে। সবই রহস্যে ঘেরা, অবাস্তব অদ্ভুত !  রয়েল অবাক বিস্ময়ে সব দেখতে থাকে। কয়েকবার এদিক সেদিক তাকায় । এর মধ্যেই সে ভেসে আসা কণ্ঠের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার বলে

– কে আপনি, কোথেকে কথা বলছেন ?

– শুভ দিন প্রতিদিন রয়েল, আপনাকে এক্স ওয়ার্ল্ডে স্বাগতম।

 -কিন্তু আপনি কে, কোথা থেকে বলছেন, আর আমি এখন কোথায়? তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না । দয়া করে বলবেন, কে আপনি?

 -আমার পরিচয় পরে দিচ্ছি তার পুর্বে আপনার অবস্থানের ব্যাপারে জানাতে চাই। অর্থাৎ আপনি কোথায় অবস্থান করছেন তা  পরিষ্কার করতে চাই।

 -আমি কোথায়?

 -আপনি এক্স ওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরে এক সুসজ্জিত ও গ্লাস ছারা আবৃত কক্ষের  ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে ছিলেন।

 -বলেন কী ! রয়েল অবাক হয়। সে চোখ বড় বড় করে পুনয়ায় বলে

 -এক্স ওয়ার্ল্ড মানে কী? জায়গাটা কোথায়, পৃথিবীর অভ্যন্তরে নাকি বাইরে?

 -এক্স ওয়ার্ল্ড হল পৃথিবীর অভ্যন্তরেই পৃথিবী পূষ্ঠের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে সমুদ্রের তলদেশে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের পাশাপাশি এক স্থান।

-বলেন কী… এত গভীরে মানুষ বাস করে ?

-হুম আমরা হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছি।

-কেন বাস করছেন? আমাদের মতো পৃথিবীর উপরিভাগে থাকছেন না কেন? তাছাড়া গভীর সমুদ্রে আপনাদের কষ্ট হয় না?

-আমরা কেন এখানে আছি তার লম্বা ইতিহাস আছে, সে কথা পরে বলব। এখন সমুদ্রের এতটা গভীরে বসবাস করতে আমাদের কষ্ট হয় কিনা তা বলছি, জেনারেশন টু জেনারেশন এ পরিবেশে থাকতে থাকতে আমরা অভ্যন্ত হয়ে গেছি। তাছাড়া আমাদের এক্স ওয়ার্ল্ডের সুযোগ-সুবিধা পৃথিবীপূষ্ঠে বসবাস করা মানুষগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয়। বরং বেশি। তবে আপনার প্রথম দিকে কিছু সমস্যা হতে পারে। আপনি পৃথিবীপূষ্ঠে বসবাস করা মানুষ। আপনার এ পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।

-মানিয়ে নিতে হবে কেন! আমাকে ছেড়ে দিন।

সিটি

-তা সম্ভব নয়।

-কেন?

-কারণ আপনি জেনে গেছেন এক্স ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে। এ অবস্থায় আপনাকে যেতে দিলে আমাদের বিপদ হবে। আপনারা পৃথিবীর মানুষ এক্স ওয়ার্ল্ড ধ্বংসের কারণ হবেন। সুতরাং জেনে বুঝে আমরা নিজেদের ধ্বংস চাইতে পারি?

-তা হবে কেন। পৃথিবীর মানুষ কি এতটাই,.

-হুম আপনারা আমাদের থ্রেট মনে করবেন, এতেই শুরু হবে ধ্বংসলীলা।

-আমার তা মনে হয় না।

-কিন্তু আমরা এক্স ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি সদস্য তাই ভাবি। আমাদের জন্মের পর থেকেই এ ধারণা দেয়া হয়। বলা হয় পৃথিবীর উপরিভাগের মানবজাতি থেকে সাবধান। আমাদের স্কুলেও এ রূপ শেখান হয়।

-বলেন কী? রয়েল অবাক হয়। ভীষণ অবাক। মানুষ সম্পর্কে এদের ভাবনা জানতে পেরে অবাক হওয়া ছাড়া অন্যকিছু অবশিষ্ট থাকেই বা কী করে? তবে রয়েলের প্রশ্ন মানবজাতি কি এতটাই বিপদজনক? যাই হােক আমরা আপাতত ওসব নিয়ে না ভাবি। ভবিষ্যতে কী হবে তা না ভেবে বর্তমান নিয়ে ভাবি। -বর্তমান নিয়ে ভাবাভাবির কী আছে! রয়েলের তির্যক মন্তব্য। সে আরও বলে

-আমরা  তো আপনাদের এক্স ওয়ার্ল্ডে বন্দি। সুতরাং এখানে ভাবনার কিছু নেই। আছে ভয়, টেনশন !

-না না তা হবে কেন! আপনারা মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনারা হলেন আমাদের আদিগোষ্ঠী আপনাদের সম্মান দেয়া আমাদের কর্তব্য। তবে এক্স ওয়া্ল্ডের প্রচলিত নিয়ম আছে, কিছু বিধি নিষেধ আছে। তা এড়ানোর সুযোগ নেই।

– হুম।

– তবে যাই হোক এক্স ওয়ার্ল্ডে আপনি ভালই থাকবেন। আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বাগতম মি. রয়েল । শুভ দিন প্রতিদিন।

– কিন্তু যেথায় ভয় পাচ্ছি সেথায় শুভ কথাটা বলব কী করে ?

– আপনাকে কিছু বলতে হবে না।  ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমাদের ভুবনে আপনার পরবর্তী দিনগুলো শান্তিময় হোক ।

-ওকে, বুঝতে পেরেছি। আপনারা চাইছেন সমুদ্রের এতটা গভীরে অচেনা পরিবেশে সবাইকে হারিয়ে আমি ভাল থাকি? কিন্তু তা সম্ভব নয়। যাই হোক, সে প্রশ্নে পরে আসি। এখন আপনাদের নিকট আমার ভিন্ন এক প্রশ্ন জানার ছিল ।

-কী?

-ওই যে একটি কথা আপনি বারবার বলছেন, শুভ দিন প্রতিদিন, এর মানে কী? এসব কেন বলছেন?

-ও আচ্ছা বেশ ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. রয়েল । আমরা আপনার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি, শুভ দিন প্রতিদিন এজন্য বলি, কারণ আপনারা দিন রাত দেখেন আমরা দেখি না। আমাদের এক্স ওয়ার্ল্ডের দিন-রাত বলে কিছু নেই, সব-ই সমান। তাই আমাদের সময়কালকে আমরা একটা পর্যায়ের মধ্যেই ভাবি, তাই বলি শুভ দিন প্রতিদিন।

-ও… ।

-আপনাদের দিন রাত আলাদা করার জন্য সূর্য ওঠে, আমাদের নয়। আমরা এতে কষ্ট পাই, মর্মাহত হই, ফলে কষ্টের ব্যাপারটা প্রতিনিয়ত স্মরণ করার উদ্দেশ্যে বলি শুভ দিন প্রতিদিন।

-ও আচ্ছা।

-আমরা অতি পরিশ্রমী এক গোষ্ঠী ।

-হুম তা তো দেখতেই পাচ্ছি।

-আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।

-তা তো থাকবেই।

-আমাদের অনেক বিপদের মধ্য দিয়ে চলতে হয়।

-বলেন কী ? কী ধরনের বিপদ?

-আছে, নানা ধরনের বিপদই আছে। তবে তার জন্য আমরাও সর্বদা প্রস্তুত থাকি। ফলে জ্ঞান বিজ্ঞানে আমরা অনেকটা এগিয়ে। আমাদের প্রতিকূল

পরিবেশ আমাদিগকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আমরা অনেক বেশি একতাবদ্ধ। অনেক বেশি সুশৃঙ্খল।

-যাই হোক আপনি রেস্ট নিন। পরে আবার কথা হবে।

-কিন্তু আমার যে একটা বিষয় জানার ছিল…

-কোন বিষয়টা?

-বন্ধুদের বিষয়। তারা এখন কোথায়?

-তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না।

-তারা কি বেঁচে আছে?

-তাও বলা যাবে না।

-তাহলে ঠিক আছে। এখন কথা বলতে একদম ইচ্ছে করছে না। রয়েল কথা শেষ করে কিছু সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করে। তার সমস্ত শরীরজুড়ে ক্লান্তি ভাব। বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন ।  সামুদ্রিক ঝড়ে পড়ে কত কষ্টই না হয়েছে। তাবে জীবনাটা বেঁচে গেছে। এভাবেই বা বাঁচতে চেয়েছিল কে? পৃথিবীর এতটা সৌন্দর্য ত্যাগ করে, কাছের মানুষগুলাকে হারিয়ে এ অবাস্তব জীবনের প্রয়োজনই বা কী? রয়েল কথাগুলো ভাবছে ফলে হতাশায় তার মন আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। মনে হচ্ছে সে যেন জ্যান্ত লাশ। কোনমতে প্রাণটা বেচে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তাও বেরিয়ে যাবে। হয়ত সেটাই ভালো হবে। অনেক ভালো। আসলে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব পরিচিতজন, পরিবেশ হারিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। অতঃপর নানাবিধ বিষয় ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে রয়েল। গাঢ় ঘুম…

মানুষ রুপি প্রানি

দুইঃ

-সুজানা আপনি কি গুনতে পাচ্ছেন ?

কোন জবাৰ নেই। কেউ একজন পুনরায় বলে

-সুজানা আপনি কি ঘুমাচ্ছেন?

এবার সুজানা জৰাৰ দেয়। সে ঘুম ঘুম কণ্ঠে নলে-

-না, ঘুমাচ্ছি না। তবে আপনি কে, কোথেকে বলছেন?

-আমি এক্স ওয়ার্ল্ডের একজন সদস্য। আমি এ স্থানের প্রতিটি সদস্যের স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিনিধি। আমার ওপর আপনার দেখাশুনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তাই আপনার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি।

-আপনার আর কিছু জানার আছে?

-জি, তা তো থাকবেই।

-আপনি কী জানতে চাচ্ছেন বলুন? আমি জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

-আমি এখন কোথায়?

-আপনি এক্স ওয়ার্ল্ডে ।

-এক্স ওয়ার্ল্ড? সে আবার কোথায়?

-এক্স ওয়ার্ল্ড পৃথিবীর বুকেই এক স্থান।

-বুঝলাম পৃথিবীর বুকে, তবে সে স্থানই বা কোথায়?

-এটা সমুদ্রপুষ্ঠের বিশ কিলোমিটার গভীরে…

-কিন্তু আমি এ স্থানে এলাম কীভাবে? তাছাড়া আমার সঙ্গীরা এখন কোথায়?

-ধীরে ধীরে সবই জানতে পারবেন। তবে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

-আপনারা আমাকে কেন নিয়ে এসেছেন? কী চান আমার কাছে?

-আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। এক্স ওয়ার্ল্ড তার অধিবাসীদের নিয়ে নিজের মতো করে চলছে। এখানে অন্য কারও নিকট চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তবে…

-তবে কী?

-তবে পৃথিবীর মানুষের ব্যাপারে আমাদের অনেক কৌতৃহল। আমরা সবসময়ই আপনাদের নিয়ে ভাবি।

-কি ভাবেন?

– কি ভাৰি তা বলতে আমাদের নিষেধ আছে ।

-তাই আমাকে বন্দি করে এনেছেন ? …

বন্দি জীবন

তিনঃ 

এক্স ওয়া্ল্ডের ফাস্স্ট এডমিনিস্ট্রেটর মি. আর্থার জরুরি সভা ডেকেছেন। বলা হয়েছে সকল প্রশাসকগণ যাতে সঠিক সময় উপস্থিত হন। বিষয়টি অতীব জরুরি। প্রশাসকগণ ডাক পেয়ে জানতে চান সভা আহ্বানের কারণ কী? তবে Answer কাউকেই দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে Urgent Meeting সবাইকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। মিটিং কল করার কারণ এ মুহূর্তে বলা যাবে না। তাই তো কারণ না  জেনেই যথাসময়ে সকল প্রশাসকগণ উপস্থিত হন। সভার শুরুতে আর্থার সবাইকে ধন্যবাদ দেন। বলেন, সম্মানিত প্রশাসকগণ আপনাদের প্রত্যেককে অসংখ্য ধন্যবাদ। কারণ আমার দেয়া শর্ট নোটিশে আপনারা কষ্ট করে যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছেন। আমি জানি আপনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন, তারপরও আপনাদের স্মরণাপন্ন না হয়ে পারলাম না। আর্থারের কথার মাঝেই একজন প্রশাসক প্রশ্ন করে বসেন। তিনি জানতে চান-

-মহামান্য আর্থার, কী এমন সমস্যী হয়েছে যে, সবাইকে এত শর্ট টাইমের মধ্যে ডাকতে হল?

-তাই তো বলছি, একটু ধৈর্য ধরে বসুন।

মিটিংয়ে আগমনকারী প্রত্যেকে অপেক্ষা করছে। কী বলেন মহামান্য আর্থার। কোন দুঃসংবাদ নয় তো ! এমনিতেই এক্স ওয়ার্ল্ডের সদস্য সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। প্রতিনিয়তই কোন না কোন দুঃসংবাদ শুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আবার নতুন কি হল? উপস্থিত সকলে যখন এতসব ভাবছে তখন আর্থার মুখ খুললেন। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন।

-প্রিয় প্রশাসকবৃন্দ, আপনাদের প্রত্যেকের জন্য এক বিশেষ খবর হল: মানব সম্প্রদায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ দুজন সদস্যকে আমরা পেয়ে গেছি।

-মানে বুঝতে পারলাম না মহামান্য আর্থার!

-আপনারা হয়ত ভেবেছেন কোন দুঃসংবাদ দেয়ার জন্য আপনাদের ডেকেছি, কিন্তু না…

-তাহলে নিশ্চয়ই সুসংবাদ দেবেন?

-হুম, তাই দেব।

-তাহলে এত দেরি কেন। বলে ফেলুন মহামান্য আর্থার!

-বলছি শুনুন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সহিত জানাচ্ছি, আমরা যে মানব সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম, আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত পৃথিবীপুষ্ঠের এক যুবক ও এক যুবতীকে হাতে পেয়েছি। ফলে মানব সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের পার্থক্যের বিষয়টা নিয়ে যে গবেষণার কাজ চলছে, তা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। আর্থারের বক্তব্যের পর সভায় গুঞ্জন শুরু হয়। উপস্থিত প্রত্যেকে একে অন্যের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে থাকেন। ফলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। উপস্থিত সকল প্রশাসকগণ প্রত্যেকে নিজেদের মতামত দিতে থাকেন । কেউ বিষয়টাকে ইতিবাচক কেউ বা নেতিবাচকভাবে দেখেন। সুতরাং এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তবে ওই অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলে না, একটু পর থেমে যায়। তখনই একজন প্রশাসক আর্থারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন-

-মহামান্য আর্থার বিষয়টাকে আমরা আনন্দের খবর হিসেবে নিতে পারছি না, এজন্য দুঃখিত।

-কী বলছেন এসব! বিষয়টা আনন্দের না হলে কি দুঃখের?

-না তেমনও নয়।

-তাহলে?

-এ ব্যাপারে মহামান্য আর্থার আমার বক্তব্য কিছুটা সতর্কতার। আমি মনে করি পৃথিবীপূষ্ঠে বসবাসকারী মানব সম্প্রদায়ের কেউ এক্স ওয়ার্ল্ডে এলেই যে আমাদের জন্য যন্ত্রণার বা আনন্দের হবে তা কিন্তু নয়।

-তাহলে কী?

-ব্যাপারটা অধিক সতর্কতার ।

-খুলে বলুন মাননীয় সিজার ।

-সতর্কতার এজন্য বলছি কারণ আমার জানামতে এবং পূর্বপুরুষদের লেখা বিভিন্ন বই পড়ে অথবা গবেষণালব্ধ ডকুমেন্টরি দেখে আমার মনে হয়েছে। মানুষ অতি বুদ্ধিমান, চতুর ও স্বার্থপর প্রাণী। তারা নিজেদের মধ্যেই একে অপরের ভাল চায় না। সুতরাং তাদেরকে নিয়ে এক্স ওয়ার্ল্ড এর ভরসা কী?

-আমরা তো ইচ্ছে করে সেই মানব মানবীকে এক্স ওয়ার্ল্ডে নিয়ে আসিনি। ঘটনাক্রমে চলে এসেছে।

-যেভাবেই আসুক তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে পৃথিবীর বুকে বসবাসকারী আমরা আলাদা বুদ্ধিমান প্রাণী বিশেষ। যা কখনই মানুষেরা মেনে নেবে না। ফলে একসময় শুরু হবে সংঘাত। সুতরাং এমন বিপদজনক পরিণতির দিকে আমরা জেনে বুঝে যাবই বা কেন? এর মধ্যে পুনরায় সভায় গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। উপস্থিত প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। অবশ্য এতে বাঁধা দেন না আর্থার। তিনিও চান সম্মানিত প্রশাসকগণ নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি আলোচনা  করে মতামত দেন যেন। এতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধে হবে। আর তিনিও চান কোনো  সিদ্ধান্ত নিয়ে সভাটা শেষ করতে। সেক্ষেত্রে যত আলোচনা তত ভাল  সিদ্ধান্ত। তাছাড়া আর্থার চান সভায় উপস্থিত অতি সম্মানিত প্রশাসকগণের মতামতকেই বেশি গুরুত্ব দিতে।  নিজের ভাবনা সভায় উপস্থিত সকলের ওপর চাপিয়ে দিতে নয়। তাই তো  সম্মানিত প্রশাসক সিজারের বক্তব্যে আরও অধিক সতর্ক তিনি। কারণ এমনিতেই এক্স ওয়ার্ল্ডের অবস্থা ভালো নয়। দিন দিন এর এক্স সদস্য সংখ্যা কমছে। হয় সামুদ্রিক কোন প্রাণীর আক্রমণে মারা যাচ্ছে, নাহয় স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিতে চান না আর্থার। তিনি মনে করেন সবার ওপরে এক্স ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তা। এসব নানাবিধ কথা ভেবে আর্থার পুনরায় সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন-

-আমরা কী করতে পারি, আমাদের কী করা উচিত, এ ব্যাপারে আপনাদের পরিষ্কার মতামত দিন। খোলামেলা ভাবে বলুন… এরপর অপর একজন আয়েসী ভঙ্গিতে বলে-

-মেরে ফেলুন।

-কাকে মেরে ফেলতে বলছেন?

-পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে আসা মানুষগুলো কে।

-মেরে ফেলতে হবে কেন! আর্থারের প্রশ্ন।

-আমার মত হচ্ছে, এক্স ওয়ার্ল্ডের জন্য যারা হুমকি তাদের বাচিয়ে রেখে কী লাভ…

এরপর ?

এরপর অজানা…

রয়েল ও সুজানার ভাগ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রথম ৩ অধ্যায় পর্যন্ত যা জানা যায়, সে পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে। বাকি অধ্যায়গুলোতে কি হবে বা কি অপেক্ষা করছে তাদের দুজনের ভাগ্যে তা না হয় বইটি পরেই জানুন ! লেখক বদরুল আলম তার ‘এক্স ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে রয়েল ও সুজানার ভাগ্যরেখা কিভাবে লিখেছেন তা হয়ত বইটি পরলে জানতে পারবেন।

এক্স ওয়ার্ল্ড

BUY NOW

সমুদ্র অভিযানের মধ্য দিয়ে হলেও ঘটনার আকস্মিকতায় ওই যুবক-যুবতীদের মধ্যে দু’জন এক্স ওয়ার্ল্ডে‘ পৌছায়। তারা চোখ মেলে দেখতে পায় ‘এক্স ওয়ার্ল্ড পৃথিবীর অভ্যন্তরেই এক স্থান। মহাসমুদ্রের বিশ কিলোমিটার গভীরে পানির নিচে সুবিশাল পরিকল্পিত উন্নত জনপথ। এখানে পৃথিবীপূষ্ঠের উপরিভাগের মতো  নানাবিধ সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। যেমন- এক্স ওয়ার্ল্ডে বাড়ি-ঘর, দালান-কোঠা, গাছপালা, আকাশ, নদী-লেক, পাহাড়-পর্বত বিদ্যমান। এখানকার অধিবাসী এক্স সদস্যগণ অতি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক এক ধরনের উভচর প্রাণী।

এ বুদ্ধিমান প্রাণীগুলো হাঁটতে পারে আবার সাঁতার কাটতেও তারা পারদর্শী। এদিকে ‘এক্স ওয়ার্ল্ডে’ প্রবেশের পর বেঁচে যাওয়া রয়েল-সুজানা সমুদ্রের বিশ কিলোমিটার গভীরের নগরী দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করে না, এটা পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্থান। কারণ পানির নিচে ভূগর্ভস্থ স্থানে আকাশ, নদী, লেক, পাহাড় থাকে কী করে! যাই হােক, তারপরও তারা ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। রয়েল-সুজানা কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এক্স ওয়ার্ল্ডে দুজন একসাথে হাতে হাত রেখে হেঁটে বেড়ায়। তখনই শুরু হয় আরেক ঘটনা। রয়েল ও সুজানাকে ব্যবহার করে এক্স কর্তৃপক্ষে পৃথিবী দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে থাকে। এর পরেরটুকু না হয় বইটি পড়েই জেনে নিন

বদরুল আলম এর বই সমূহ কিনতে ক্লিক করুন ! 

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  0      2
 

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png