মোস্তফা তানিমের সায়েন্স ফিকশন, মেটাভার্স? নাকি মতিঝিলে বাঘ?

২০২২ বইমেলার দুটি সাড়া জাগানো নতুন সায়েন্স ফিকশন কথন
mortofa tanim science fiction feature image

মায়াবাদ দর্শন মতে দৃশ্যমান জগৎ সত্য নয়; প্রপঞ্চময় মিথ্যা মায়া মাত্র। আজকের প্রযুক্তি অনেকটাই মায়াবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই জগৎটি মায়াজগৎ না সত্য জগৎ, তা এখনও বের করতে না পারলেও প্রযুক্তি নিজেই আরেকটি সফল প্রপঞ্চময় মায়াজগৎ তৈরি করেছে। তার নাম মেটাভার্স; বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় বহুল আলোচিত শব্দ। মেটাভার্সে ফেসবুক, এপেল, গুগুল, মাইক্রোসফ্ট, রােবলক্স কর্পোরেশন, এমন অন্যান্য টেক জায়েন্টদের এবং কিছু স্টার্ট-আপ কোম্পানির বিনিয়ােগ দেখে মনে হচ্ছে, স্মার্ট ফোনের পর এই মেটাভার্স একটা যুগান্তকারী বিষয় হতে যাচ্ছে, যা পৃথিবীকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে। খুব বেশি দূর ভবিষ্যতের কথা এখানে হচ্ছে না। দশ কি পনের বছরের মধ্যেই ঘটবে। মার্ক জাকারবার্গ অবশ্য বলেছেন, পাঁচ বছরের মধ্যেই আমূল পরিবতর্ন হবে। আচ্ছা, সায়েন্স ফিকশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব কী বলছি? বলার প্রয়োজন আছে বৈকি। মোস্তফা তানিমের যে দুটি বই নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি, তার মধ্যে একটি যে এই মেটাভার্স নিয়েই।

বইটির নাম ‘মেটাভার্স উন্মেষ পর্ব‘।

মেটাভার্স সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানা যাক। আপনারা জানেন ইতোমধ্যেই, ফেসবুক তার কোম্পানির নাম পাল্টে করেছে ‘মেটা’; মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনক। মেটাভার্স যে খুব শিগগিরই গােটা দুনিয়া কাঁপিয়ে ফেলবে, তার প্রস্তুতি হিসেবেই এই নাম পরিবর্তন। তবে ‘মেটাভার্স’ শব্দটা এবং মেটাভার্সের ধারণাটা নতুন নয়। আমেরিকার সায়েন্স ফিকশন লেখক নীল স্টিফেনসন তার “স্নাে ক্র্যাশ” বইতে প্রথম মেটাভার্সের নামকরণ করেন, ১৯৯২ সালে । মানুষ মেটাভার্সে নিজের চেহারায় না গিয়ে বিভিন্ন “আভাটার” গ্রহণ করে পরস্পরের সঙ্গে যােগাযােগ এবং মেলামেশা করবে বলেও তিনি ধারণা করেছিলেন।

প্রথমে আসি ভার্চুয়াল রিয়ালিটির কথায়। থ্রিডি মুভি সম্পর্কে প্রায় সবাই জানেন। অনেক স্থির চিত্র আছে, কাগজের উপরে, যেটা থ্রিডি বা তিন মাত্রার। অর্থাৎ কাগজে শুধু দৈর্ঘ্য প্রস্থের দ্বিমাত্রিক ছবি বা পর্দায় দ্বি-মাত্রিক ছায়াছবি নয়, একেবারে তার গভীরতাসহ বাস্তবের মতাে একটা ছবি দেখা যাবে। সেটা যদি একটা থান ইট হয়, তাহলে তা উঁচু হয়ে আছে বলে মনে হবে। তার উপরে যে কোম্পানির নাম, সেটাও মনে হবে খোদাই করে লেখা হয়েছে।

কিন্তু সেটা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি নয়। যখন মানুষটি নিজে তার মধ্যে ঢুকে যাবে, তখন তাকে বলে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি। অর্থাৎ আপনি একটি হেডসেট পরলেন, আপনার ঘরটি উধাও হয়ে গেলাে। আপনি একটা জঙ্গলের মধ্যে। পিছনে ঘুরলে সেদিকেও জঙ্গল দেখতে পাচ্ছেন। উপরে তাকালে আকাশ। একটু সামনে দুটো গাছ পেরিয়ে গেলে কাদাপানি দেখতে পাচ্ছেন। সেই জায়গায় বাস্তবে চলে যাওয়ার সঙ্গে কোনও তফাৎ বুঝতে পারা কঠিন। তবে গাছগুলাে ছুঁলে স্পর্শ পাবেন না। এটাই হলাে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি। স্পর্শটাও ভবিষ্যতে চলে আসবে।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটির আবার প্রকারভেদ আছে। সেটা কতােটুকু “ইমার্সিভ”, তার উপরে ভিত্তি করে। খুব বেশি “ইমার্সিভ” হলে আপনি এর ভেতরে ডুবে যাবেন। এমনকি সামনে একজন মানুষ থাকলে, অথবা ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজানাে থাকলেও আপনি সেগুলাে দেখতে পাবেন না। সেই জঙ্গলে হঠাৎ একটি বাঘ এসে পড়লে আপনি সেটা নিয়ে সত্যিকারের দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারেন। যে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি খুব বেশি ঘটমান বাস্তব বলে মনে হয়, তাকে বলে “ফুললি ইমার্সিভ” ভার্চুয়াল রিয়ালিটি।

এমন অনেক ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একত্রিত করলে তাকে বলা হয় “মেটাভার্স”। যেমন, আপনি ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে গিয়ে ভার্চুয়াল থান ইট দিয়ে একটি বাড়ি বানালেন। তার পাশে আরেকটি বাড়ি হচ্ছে। সেটা একজন সত্যিকার মানুষের, রংপুরের রমজান সাহেব করছেন। তিনিও হেডসেট পরে একটি ভার্চুয়াল জায়গায় চলে এসেছেন। তার মতাে করে ভার্চুয়াল জায়গা কিনে বাড়ি বানাচ্ছেন। তিনি আপনার ভাচুয়াল প্রতিবেশী। তার সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে, অনেক কিছু বিনিময় পর্যন্ত করতে পারবেন। অবশ্য তিনি দেখতে অন্য রকম হবেন, আভাতার ব্যবহার করতে পারেন। অন্য নাম নিতে পারেন। এভাবে অনেকে মিলে গেম খেলা যায়, কোনও একটা অনুষ্ঠান করা যায়। একটা পাড়া, এমনকি শহর তৈরি করা যায়। এই যে অনেককে ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে নিয়ে এসে এই সব করানাের ব্যবস্থা করে দেওয়া, সেটাই মেটাভার্স প্ল্যাটফর্ম। সেই প্ল্যাটফর্ম শুধু ফেসবুক নয়, যে কোনও কোম্পানি তৈরি করতে পারে। অনেক কোম্পানি মিলেই সেটা হবে, তারপর একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত হবে।

গাড়িও চালাতে পারবেন, আবার ইমেল এলে সেই ইমেল চশমায় দেখতে পাবেন। ধরুন একটি অগমেন্টেড রিয়ালিটি চশমা চোখে দিলেন। তারপর আপনার সামনে দিয়ে যে গাড়িগুলাে যাচ্ছে সেগুলাে আপনি দেখতে পাচ্ছেন, সঙ্গে সেটা কত গতিবেগে যাচ্ছে, তাও লেখা হিসাবে পাশে ফুটে উঠছে। অর্থাৎ বাস্তবের থেকে কিছু বেশি আপনি দেখতে পাচ্ছেন, জানতে পারছেন। এখানে কল্পনাও চলে আসতে পারে। যেমন চোখে চশমা দিলে আপনি দেখছেন, আপনার ঘরের মধ্যে জানালার পাশে একটা বাহারি গােলাপ গাছ, সেখানে বড় বড় গােলাপ ফুল ফুটে আছে। এই কাল্পনিক গাছটি ছাড়া আর সব কিছুই ঠিক যেমন তেমনটিই দেখতে পাচ্ছেন।

মেটাভার্স কীভাবে মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে, তাই নিয়ে অসাধারন একটি সায়েন্স ফিকশন “মেটাভার্স উন্মেষ পর্ব”। চলুন, অদূর ভবিষ্যতের সেই অদ্ভুত জগতে গিয়ে দেখি, সেখানে কী ঘটছে।

মেটাভার্স উন্মেষ পর্ব
BUY NOW

মতিঝিলে বাঘ

মতিঝিলে গভীর রাতে একটি বাঘ ঢুকে পড়েছে, টহলরত পুলিশের একেবারে সামনে দিয়ে। যেনতেন বাঘ নয়, প্রকান্ড রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সেই বাঘটিকে কিছুতেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। চিড়িয়াখানা থেকেও কোনও বাঘ পালিয়ে যায় নি। সেটা এলো কোথা থেকে? গেল কোথায়? নানা মুনির নানা মত। এমনকি কোনও বাঘই নয়, কি দেখতে কি দেখেছে, তেমন মন্তব্যও আসতে থাকে। সেই বাঘ খুঁজতে গিয়ে অতর্কিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর একাধিক সদস্য হতাহত হয়ে যান। কিন্তু বাঘটিকে মারা সম্ভব হয় না। সেটা আবারও পালিয়ে যায়। ওদিকে ভোর হওয়ার আগেই মানুষ সব জেনে ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় গুজব, আর ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

মতিঝিলে বাঘ
BUY NOW

তড়িঘড়ি তৈরি করা হয় ‘বাঘ সঙ্কট নিরসন কমিটি।’ তারা যুক্তিসংগত কোনও ব্যাখ্যাই খুঁজে পাচ্ছেন না। মতিঝিলের চারদিকে বেস্টনী দেয়া হয়। ভারী অস্ত্র নিয়ে রীতিমতো সেনাবাহিনী নেমে পড়ে। বিদেশ থেকে পরামর্শ আসে। কিন্তু অতি ধূর্ত এবং ভয়ংকর বাঘটিকে ধরাও যায় না, মারাও যায় না। বাঘ সঙ্কট নিরসন কমিটির এক সময় মনে হয়, বাঘটার বিশেষ একটা উদ্দেশ্য আছে।
এরপরে ঘটনা যেভাবে এগুতে থাকে, তাতে সব কল্পনা হার মেনে যায়।

বাংলাদেশের সাহিত্যজগতের বেশ বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর আধিপত্য। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পাঠকও দিন দিন বাড়ছে। মোস্তফা তানিমের উক্ত দুটি সায়েন্স ফিকশনই আগ্রহী পাঠকের মনের ক্ষুধা মেটাবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন- নিকোলা টেসলা, এক ভাগ্যবিড়ম্বিত তড়িৎ জাদুকর!

মোস্তফা তানিমের সকল বই

রকমারি ডট কম-এর বেস্ট সেলার সায়েন্স ফিকশন

২০২২ বইমেলার নতুন সায়েন্স ফিকশনগুলো দেখুন 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading