মানিব্যাগের স্বাস্থ্যহানি করে কেন কিনবেন ‘আহ্ জীবন’

আহ্ জীবন

মানিব্যাগের স্বাস্থ্যহানী করে কিংবা সময় নষ্ট করে কেনই বা পড়বেন- ‘আহ্ জীবন‘? আসুন জানার চেষ্টা করি বইটির গল্পগুলো থেকে কারন বইটির ১৬টি গল্পই হয়ত এর সবচেয়ে নিকটতম সঠিক উত্তর। গল্পগুলো নিয়ে খানিক ধারণা নেয়া যাক…

#গল্প ১- অবচেতনের ঘোর বাগানে ছুক্কু মিয়ার পায়চারি

❒ছুক্কু মিয়ার থুতনির উপর মোটের উপর ১৫ থেকে ২০টার মতো দাঁড়ি। পাটের আঁশের থেকেও কিঞ্চিত পাতলা। হাত-পাখার বাতাসে এদিক-ওদিক দৌড় মারতে চায়। ইদানিং তার অভ্যেস হয়েছে, কিছুক্ষণ পরপর দাঁড়ি কটায় হাত বুলিয়ে একটু আদর করে নেয়া। দাঁড়ি সংখ্যার সংকটে তার দুঃখের অন্ত নেই।

তার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, দাঁড়ির অভাবে শেষ পর্যন্ত ইমামতির চাকরিও আর পাবে না!

#গল্প ২- ওহ্ প্রেম, ধ্যাত্তরি প্রেম এবং ‘এবং বিবাহ’

❒রোমান ও প্রীতিলতা সমবয়সের। একই সাবজেক্টে ভর্তি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। ধীরে ধীরে দুজন বন্দি হতে থাকে তাদের আবেগ, অনুভূতি আর ভবিষ্যত স্বপ্নের মায়াবী জালে। যে প্রেম ছিল এত উচ্ছ্বল, যে স্পর্শে ছিল এত এত শিহরণ, নদীময় খর স্রোত, ধীরেধীরে তা ক্ষয় হতে থাকে। অগভীর জলে পড়েই সে সম্পর্ক হাবুডুবু খায়, খাবি খায়, একসময় ডুবে যেতে শুরু করে। অথচ তাদের দুজনের প্রকট কোনো সমস্যা কখনো তো ছিল না!

সমবয়সী এই প্রেমিক জুটি, পরবর্তীতে যারা দম্পতি; নিজেদের ইগো, হার ভেবে না মেনে নেয়ার তীব্র জেদ, নিঃসন্তান জীবন, অপ্রয়োজনীয় ব্যাক্তিত্বের সংঘাত ইত্যাদি অতি সহজে সমাধানযোগ্য তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঠুনকো সব কারণের পায়েই তবে মাথা নত করবে?

#গল্প ৩- বাক্সবন্দি পরম্পরা

❒দুগ্গা দুগ্গা বলে আকাশের দিকে তাকায় নিবারণ, বোধহয় ভগবানকে খোঁজার চেষ্টা করে। ওপরের দিকে তাকিয়ে শূন্যেই বিড়বিড় করে,

– তুইলে নাও, ভগবান। অধমরে তুইলে নাও।

গত বৈশাখ গরমেও এমন দশা হয়নি তার। নিবারণের মন বলছে জটিল ক্ষয়রোগ বাসা বেঁধেছে। বিপদ, বিপর্যয়, দুর্যোগ, এমনকি কিছুক্ষণ পর যার মৃত্যু নিশ্চিত – ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর মনেও দপ করে হলেও মুহূর্তেক বেঁচে থাকার দুরন্ত দুরাশা চমকে উঠে! মানুষই একমাত্র জীব, জীবন পেলে যারা বেঁচে থাকে। কেউ কেউ আছে, জীবনের মানে জীবনভর না বুঝেই জীবনকে শেষ করে, কাটিয়ে দেয়। নিবারণের বিষয় অবশ্য এমন নয়। পরতে পরতে বেঁচে থাকাকে সে খুব কাছ থেকেই দেখেছে। বহুপূর্বে নিজেকে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করেছেও। কিন্তু মৃত্যুও তার সাথে প্রহসন করে। আসি, আসি করেও আসে না। প্রতিমুহূর্তেই নানান ভাবনার বিষম গোলক ধাঁধাতে ঘুরপাক খেতে থাকে নিবারণ। বেঁচে থাকার খানিক ইচ্ছে কোনোকালে না হলেও একলা একাই নিজেত্থেকে মরে যাবে সে সাহসও তার নেই।

পেশায় চর্মকার নিবারণের মুচি জীবনের শেষ ভরসা তাই, অপেক্ষা, শুধু অপেক্ষাই! দিনের পর দিন, মাসের পর মাস-বছর, যুগ, জীবন, বংশের পর বংশ; এ অপেক্ষার প্রহর কি শেষ হবার নয়?

#গল্প ৪- মতি রাজাকার

❒যে রাজাকারের গল্প কেউ বলবে না, কোনোদিন…

খাঁকি রং আর্মি উর্দিপড়া বিশালদেহী, ধবধবে ফর্সা একজন সুন্দর মানুষ এসে মতিকে বেশ  লেহাজের সাথেই উর্দুতে জিজ্ঞেস করল, তাদের গ্রামের মানুষের সংখ্যা কেমন,  কতজন, কারা কারা মুক্তি ফৌজে যোগ দিয়েছে! সে যে ওদের মতো ভুল করেনি তাই তার  প্রশংসাও করল।

গ্রামে প্রবেশের পর মুক্তিরা কোথায় আশ্রয় নিয়েছে, গত রাতে  তাদের সাথে কোথায় দেখা হয়েছে, কতজন ছিল, এমন প্রশ্নের পর প্রশ্নের একটির  উত্তর না পেলেও, সুন্দর সেই মানুষটা বারবারই জিজ্ঞেস করে চলল। কোনো  প্রশ্নের উত্তরই মতির দিতে ইচ্ছে করছিল না। জীপে করে আসার সময় মনে মনে ভেবেও রেখেছিল, যা যা দেখেছে সব বলে দিবে। কিন্তু ক্যাম্পে প্রবেশের পর  মতির মতিগতি পুরোপুরি বদলে গেল। হঠাৎ করেই তার হাত-পা-চোয়াল কেনজানি বজ্রকঠিন শক্ত হয়ে উঠতে শুরু করল। কিছমত মিয়া মতির হাতে পায়ে হাত বুলিয়ে  বুঝানোর চেষ্টাও করল। লোভ দেখাল মুক্তিদের খবর দিলেই তাকে গন্ডায় গন্ডায়  জমি, গরু ছাগলও দেয়া হবে। কিছমত যত বেশি অনুরোধ করছিল মতি যেন আরো তত বেশি  শক্ত হয়ে উঠছিল। তার মুখ থেকে একটি টু শব্দও বের করতে পারল না কেউই। সবচেয়ে  আশ্চর্যের বিষয় জীপ থেকে নামার পরেও সে ভিতরে ভিতরে ভয়ে মরে যাচ্ছিল।  কিন্তু সে মহূর্তে তার এতটুকুও ভয় করছিল না। বুঝতে পারছিল পরিস্থিতি  খারাপের দিকে যাচ্ছে,  সুন্দর মানুষগুলোর আচরণ বদলাতে শুরু করেছে, তবুও মতির বিন্দু পরিমাণ ভয় হলো না।

#গল্প ৫- বাহ্ সংসার

❒বিয়ে হলো নিয়তি আর বাদলের। প্রেমের বিয়ে, দ্বিধা, সংশয়, সংঘাত সব পাশ কাটিয়ে অবশেষে বিয়ে। দুজনের মধ্যে কখনো প্রেমের অভাব অবশ্য ছিল না। তবুও ফিকে হতে থাকে সম্পর্ক। দূরত্ব বাড়তে থাকে দু’জনার। ছোট ছোট ভুলগুলো আর ফুল মনে হয় না, শুধু কণ্টকই চোখে নামে। অসহ্য লাগতে শুরু হয় দুজনারই। জীবন থেকে লুকিয়ে পালিয়ে ব্যস্ততায় ডুবে বাঁচতে চায়। কেউই এগিয়ে আসে না।

জীবন, সংসার এর নাকি নিজেরাই একটা ম্যাজিক! কিন্তু নিয়তি, বাদল কিম্বা আমাদের অশান্তি থেকে মুক্তি যে মেলে না! মনের মধ্যে প্রতিমুহূর্তে এমন খচখচানি নিয়ে কাহাতক আর জীবন কাটানো যায়?

#গল্প ৬- পাপ

❒পাসপোর্ট অফিসে দালালির কর্ম করে নান্টু। মানুষজনের কাছে অতিরিক্ত দু-চার পয়সা বেশি নেয়, কিন্তু নির্ঝঞ্ঝাটে কাজটা করে দেয়। তার কাছে বেঁচে থাকাই হলো তৃপ্তির সাথে খেতে পারা। তার কাছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তুই হলো তার জিহ্বা আর এর স্বাদ নেবার সক্ষমতা।

জীবনে বড় কোনো পাপ করেনি। অথচ তাকেই এত বড় শাস্তি কেন পেতে হচ্ছে ভেবে কোনো কূলকিনারা করতে পারে না নান্টু। তার জিহ্বাটিই কেন খসে পড়তে হবে! জীবনে কি আর কখনোই স্বাদ গ্রন্থিগুলো ফেরত পাবে না, প্রতিমুহূর্তে উত্তর খুঁজে ফেরে সে।

#গল্প ৭- মিশকালো হুরমতি ও পিতা টেংরামোল্লার গল্প

❒দুই পা হারিয়ে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করা, পিতা টেংরামোল্লাকেও মিশকালো কন্যা হুরমতিকে বিয়ে না দিতে পারার অক্ষমতা, তাড়িয়ে বেড়ায়, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় না। হাইকোর্টের মাজারের সামনে ক্ষয়ে যাওয়া কাঠের ভাঙা গাড়ীতে শুয়ে এই পিতাও স্বপ্ন দেখে, কন্যার বিয়ে হয়েছে ফুড অফিসের সামনে বসা, মোটামুটি ভালো কামাইপাতি করা ল্যাংড়া ফকির আতর আলীর সাথে! রাজধানীর উঁচুতে বিশাল বিলবোর্ডগুলোর রং ফর্সাকারী ক্রীম ‘ফেয়ার এন্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপন, টেংরামোল্লার স্বপ্ন, আর একজন পিতাকে গোপনে গোপনে আরো উঁচু, আরো বৃহত্তর করে গড়ে তুলতে থাকে।

#গল্প ৮- ছয়ফুল ছড়াকার 

❒সয়ফুলের মায়ের দৃষ্টিতে বাবা ছিল একজন অথর্ব ছড়াকার। ছড়া কেটে কেটে, গ্রামের হাটে বাজারে বেকার ঘুরে বেড়াত বাপটা। সয়ফুলও কথায় কথায় ছড়া কাটা ছাড়া আর তেমন কিছু করতে পারে না। ঘাত প্রতিঘাত পার হয়ে অবশেষে একটা কাজ মেলে। ফেরিঘাটে ভাতের হোটেলে কাস্টমার ডাকাডাকির কাজ। সয়ফুল তার ত্বড়িৎ ছড়া বানানোর ক্ষমতা দিয়ে মালিক নেহাল মিয়া ও আশপাশের লোকজনের মাঝে একটা আলোড়নও তুলে। সময় কি মেনে নেবে সয়ফুলের এই গুন! বিজ্ঞান কি বাঁচতে দেবে মানুষের মানবিক ক্ষমতাকে!

শেষ পর্যন্ত চাকরি যদি চলেই যায়, বাকীটা জীবন সয়ফুলের কি করে কাটবে?

dqwd
BUY NOW

#গল্প ৯- মিনুর সংসার মিনুর জীবন

❒সারাজীবন সংসারের হেসেলই টেনে গেল মিনু। জীবনে স্যাক্রিফাইজ করা শুরু অসুস্থ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে। তারপর স্বামীর সুখ। মিনির পুরো জীবনই স্যাক্রিফাইজ করে কাটল। কখনো সে প্রেগন্যান্ট মা, কখনো বাচ্চা ছোট, স্কুল যেতে শুরু করেছে সবে, সামনে বৃত্তি পরীক্ষা, ভর্তি, নতুন চাকরি, ইত্যাদি ইত্যাদি সংসারের যা আর জীবনের যা কিছু সব মিনুর ওপর দিয়েই যায়!

শেষ অবধি, এই মিনুরা বিনিময়ে তাদের জীবনের কাছ থেকে কতটুকু পায়,  কি পায়?

#গল্প ১০- কিছু ভ্রান্তি, কিছু পরাবাস্তব

❒ভুল করেই যদি, আমরা আবারো পৌঁছে যাই সেই জীবনে! হাতে মোবাইল ফোন নেই,  ইন্টারনেট ওয়াইফাই, ভিডিও গেমস, নেটফ্লিক্স কিছুই নেই! জীবন বলতে আবার সেই বোকা বাক্স বিটিভি, সাপ্তাহিক নাটক, খেলার মাঠ, ক্লাব, নাট্যদল, শিল্প গোষ্ঠী, প্রভাতফেরি, একছুটে দুপুরমাঠের কাটা ঘুড়ি, নাটাই সূতো, বন্ধু গলাগলি, বইয়ের গন্ধ, কিশোর পাশা, হুমায়ূন, সুনীল, সমরেশ!

তবে কেমন হবে সে জীবন? খুব কি কষ্ট হবে! পিছিয়ে পড়ব আমরা! আমাদের চারপাশে সুখ সুখ অনুভূতিরা এসে সেদিনের মতো বিরাজ করবে না আর?

#গল্প ১১- কয়েকজন দেবদূত ও এক ডেক খিচুড়ির গল্প

❒- নে বাপধন, এলা এইডাই খায়া নে। আইতত তেরাণ আইসবার পারে। তখোন হামরা খেঁচুরি খামোনে…

মোকাররম নিজেই কথাটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান। এমনিতেই অনেক ছোট্ট একটা মুখ তার উপর পুরো প্রায় একটাদিন হতে চলল পেটে কিছু পড়েনি। উড়তে পারার মতো পলকা, পায়ের নীচে মর্মর ধ্বনিতে চূর্ণবিচূর্ণ হবার মতো চিরশুষ্ক; রুগ্ন, মরা, ঝড়া, পরাজিত পাতাদের মতো টুকটুকে মিষ্টি মুখটা মরো-মরো, নিথর, নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছে।

এত দ্রুত বন্যার পানি বাড়তে গ্রামের কেউই তার জীবদ্দশায় দেখেনি। সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুরব্বী ইদ্রিস আলীও, মোকাররমের হুড়োহুরি দেখে টিপ্পনী কেটেছিল,

– কি মিয়া, তুই তো দেখছ এঠে জোর করি বাণ নামা’বু। অত্তি খুলিত দেখি আনু, পানি এলাও বিরিজের মেলা নীচতে পড়ি আছে।

এমনকি বড়ভাই গফুর মিয়া উল্টো কষে বকা দিল,

– আরে আহম্মকের গুষ্টি, মুই বোঝনুনা তোমরাগুলা এতো কেনে উতলা হইলেন। কাহ কি কুনদিন দ্যাখছে নাকি, এত্তি বাণের পানি এমন ঢেইল্লা উটবার। এরশাদের আমলোত তো এইঠেকোনা পানি উইঠে নাই।

একটা কড়া ভাব বজায় রেখে, কটমট করে চোখ বড় করে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করল; আর ভাবটা এমন ধরল, যেন রাজ্যের সবচেয়ে বড় বলদটার সামনে দাঁড়িয়ে। আলতো শব্দে ‘আহম্মকের গুষ্টি তামান’ বিড়বিড়িয়ে বলতে বলতে  বেড়িয়ে গেল।

গফুর মিয়ার পুরো পরিবার গুটিশুটি মেরে উদাস ভঙ্গিতে বসে আছে উঠেছে দুইঘর পরের একটা টিনের ছাদে। পারতপক্ষে মোকাররম ঘরের ছাদে তাকাচ্ছে না। হাবভাবেই বোঝা যাচ্ছে মহাবিরক্ত সে। তার ধারণা হুট করে পানি যেমন উঠেছে, তেমনি আরো দ্রুত, হুট করেই নেমে যাবে। একটুপর পানি যখন সুরসুর করে নেমে যাবে, মস্ত বড় বলদ ছোট ভাইয়ের আহম্মকির গল্প কিভাবে পুরো গ্রামে রৈরৈ করে  চাওর করবে, সে ভেবেই কী যে তৃপ্তি লাগছে গফুরের!

#গল্প ১২- দোটানা

❒সিজার অপারেশনের সময় মা আর সন্তানের মধ্যে বাবা মনেপ্রাণে চেয়েছিল মাকে বাঁচাতে। কিন্তু মরে গেল মা-ই। বেঁচে যায় পুত্র। সময়ের সাথে জানতে পারে, পিতার অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান সে! ছেলের মনে শুরু হয় দোটানা।

বাপের সেদিনের চাওয়া, সন্তানের প্রতি তার মনের খবর, কখনো কি পারবে অনুভব করতে ছেলেটা?

#গল্প ১৩- ফাঁদের জীবন, বাঁধের জীবন

❒ইনাম সাহেব তিনমাস আগে টাকা পয়সা খরচ করে মহা ধুমধামে একমাত্র প্রবাসী ছেলেকে দেশে এনে বিয়ে দিল। তিনমাস যেতে না যেতে তাদের ডিভোর্স লেটার!

দশবছর আগে একদিন, রমনা পার্কে হাটতে গিয়ে নবীন ব্যাংকার মুরাদের সাথে কথোপকথনটি মনে পড়ে ইনামের। ইংরেজি মিডিয়াম আর বাংলা মিডিয়াম পড়াশোনায় ভালো মন্দ, সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে সেদিন পার্কের বেঞ্চে ঝড় তুলেছিল ব্যাংকার ছেলেটা। সেদিন তার কথায় পাত্তা না দিলেও এতদিন পর এসে, জীবনের এই বাঁকে ইনাম আলীর মনে হয়, মুরাদের কথাই ছিল জীবনের সবচেয়ে পরম বাস্তবতা! জীবনের প্রতি পদই তবে শুধু ফাঁদ পাতা, বাধা আর বাধা?

#গল্প ১৪- সেপারেশন সন্তান ও একটি রূপকথার চিঠি

❒বাপের চেহারা প্রায় ভুলতে বসা পুত্র জীয়ন একটা চিঠি লিখেছে রাকিবের কাছে। বাবা মা’র সেপারেশন নীরবে কিভাবে ক্ষত-বিক্ষত করেছে তার মন আর বেড়ে উঠাকে চিঠিটির প্রতিটি শব্দ তারই বয়ান।

রুমার জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে কিছুটা হলেও বুঝে, জেদগুলোই জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নয়। পূর্ব নির্ধারিত খুব শক্ত সিদ্ধান্তও, সময়ের প্রয়োজনে যদি বদল করা যায়, আবেগকে যদি বশে আনা যায়, একসাথে অনেকগুলো প্রাণের মুক্তি মেলে, জীবন মেলে তারা বেঁচে যায়! জীবনের শেষ প্রান্তে রুমার এই উপলব্ধি কারও জীবনে আর কোনো বিন্দু প্রভাব ফেলবারও কি ক্ষমতা রাখে?

#গল্প ১৫- মেরুদণ্ডনামা

❒অফিসফেরত সব মানুষই কি তাদের মেরদন্ড হারিয়ে ফেলল?

ফিটফাট জামাকাপড় গায়ে চাপানো, অফিস ফেরত নবীন-প্রবীণ সব বয়সের চাকরিজীবীরা রাস্তায় নামতেই হামাগুড়ি দিয়ে অমন হণ্যে হয়ে আসলে কি খুঁজতে শুরু করে? বস্তুটা কি নেহায়েতই ভীষণ মূল্যবান কিছু! সবারই একযোগে ওই একই বস্তু কি হারিয়ে ফেলল!

ধ্রুপদের মনে প্রশ্নের পর প্রশ্নরা এসে ভিড় জমায়। সব উত্তর জানতে হবে ধ্রুপদকে।

  আহ্ জীবন বইটি পেতে ক্লিক করুন ! 

 

#গল্প ১৬- মৃত্যুর পর কুব্বত আলীর কয়েক ঘন্টা

❒মৃত্যুর পরপরই কুব্বত আলীর সাথে ঘটতে শুরু করল আজব সব ঘটনা। বেঁচে থাকতে যা কল্পনা করেনি, সেসবই ঘটছে একে একে। অথচ মরেছে সে, তিন-চার ঘন্টাও পার হয়নি।

জীবদ্দশায় যাকে সবচেয়ে বড় দুশমন মনে করত, সেই গোলাম রাব্বুলও এর মধ্যেই মরা বাড়ীতে চলে এসেছে। দীর্ঘ ২২ বছর দুজনে এক পদে এক অফিসেই কাজ করেছে। কুব্বত আলী একরকম নিশ্চিত ম্যাডামের কাছে বেনামী চিঠিটি এই হারামজাদা রাব্বুলই পাঠিয়েছিল। দুনিয়ার যত খারাপ টেনশন সব যেন তারই বুকের উপর চেপে উদ্দাম নাচ শুরু করল। সে নাচ যেন যেনতেন নাচ নয়, একেবারে ধ্রুপদী ঘরানার নাচ, ভারতনাট্যম। কয়েকদিন ধরেই টেনশন সব ‘তা তা থেই থেই, থেইয়া থেইয়া’ বোলে দ্রুত লয়ে তার বুকে পিষতে শুরু করেছিল।

টেনশন-নৃত্য শেষ পর্যন্ত শেষ হলো। পৃথিবীতে কুব্বুতের শেষ নিঃশ্বাসটি পড়ার সাথে সাথেই।

জীবন থেকে নেয়া জীবনের গল্পগুলো সবাইকে আনন্দিত করবে।

মেহেদী হাসান তামিম এর বই সমূহ 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading