বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে জানতে হলে…

গ্রেডিং, কাউন্সেলিং, স্কলারশিপ এবং অন্যান্য
bideshe ucchoshikkha feature image

শিক্ষার কোনো বয়স ও সীমানা নেই। তাই একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভের আশায় দেশ থেকে বিদেশে যান। কিন্তু সবার পক্ষে এভাবে যাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র শিক্ষা গ্রহণের জন্যই বিদেশ যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক্ষেত্রে কোনো বৃত্তি বা কাজের সুযোগ নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু অনেকেই এ বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না। ফলে অজ্ঞানতার কারণে লালিত স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।

বইয়ে সূচিবদ্ধ করা হয়েছে- পিএইচ.ডি করতে চাও? সিজিপিএ নাকি ইংলিশ স্কোর? প্রফেসর খুঁজবে কীভাবে? মোটিভেশন লেটার কীভাবে লিখবে? রিকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র, গবেষণাপত্র নিয়ে কিছু কথা, গবেষণাপত্র বা রিসার্চ পেপার পড়া, জাপানে উচ্চশিক্ষা, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা, ইউরোপে উচ্চশিক্ষা, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা, সুইডেনে উচ্চশিক্ষা, আমেরিকায় আসতে চাও?, আমেরিকা নাকি কানাডাসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সহজ উত্তর।

আমাদের অর্জন এ সমাজ দেখতে চায়, কতটা কষ্ট করে সেটা পেলাম, তা কেউ দেখতে আসে না। কষ্ট করার পরও সফলতা না পেলে কেউ সান্ত¦না দিতে আসে না। অর্থাৎ, এ সমাজ ফলাফল দেখতে চায়। কে কত পরিশ্রম করে কিছু অর্জন করল, নাকি কম পরিশ্রম করে কিছু পেল সেটা কেউ দেখতে চায় না। পিএইচ.ডির ফল আসে অনেক দেরিতে! বিদেশে পিএইচ.ডি করতে আসার জন্য খুব বেশি কিছু নয়, এই ৬টি জিনিস লাগে―Good CGPA, Good English Score, Publications in Journals, Motivation Letter, Recommendation Letter, A professor/Supervisor.

বিদেশে উচ্চশিক্ষা
বিদেশে উচ্চশিক্ষা

BUY NOW

ভালো সিজিপিএ অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু বিদেশি শিক্ষায় যে জিনিসটা সিজিপিএ’র চেয়ে বেশি মূল্যবান, তা হলো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর। এগুলো একজন শিক্ষার্থীর বিদেশি শিক্ষা গ্রহণের মানদ- হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, যদি সত্যি সত্যি দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে তবে সিজিপিএ নির্ভর না হয়ে ইংলিশ স্কোর বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ইংরেজিতে ভালো স্কোর থাকলে যেকোনো শিক্ষার্থী তার সিজিপিএ বেশি হোক আর ৩-এর নিচে হোক সে স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। অনেকেই ভাবছে, আমরা যারা ভালো স্কোর করতে পারব না, তারা কি করব? ভালো স্কোর তোলার চেষ্টা করতে হবে। যদি ভালো স্কোর না আসে? যেসব দেশে উচ্চশিক্ষা ইংরেজি-নির্ভর নয় কিংবা যেসব দেশে পূর্বে আইইএলটিএস লাগত না (যেমন―জাপান), এখন লাগে, সেসব দেশে মধ্যম স্কোর কাজে দেয়। তাই, সিজিপিএ-কে মূখ্য না করে ইংরেজিতে দক্ষতাটা বাড়িয়ে নিতে হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য একজন প্রফেসর বা সুপারভাইজর পাওয়াটা বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার। এটা পাওয়া মানে, এক পা দেশের বাইরে চলে যাওয়া। যদি প্রফেসর নেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায় তবে তিনি বলে দেবেন এরপর কী কী করতে হবে, কোন স্কলারশিপে আবেদন করতে হবে। তখন আর অন্য কারো পরামর্শ নিতে হবে না। চাকরিতে আবেদন করার সময় যেমন cover letter দেয়া হয়, motivation letter ঠিক এমনই! কোনো ছাত্রছাত্রী যখন বাইরে আসার জন্য নিজের কাগজপত্র ঠিক করতে থাকে, তখন এটা প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে জার্মানি কিংবা সুইডেনে ভর্তির জন্য একটা গুণগানপত্র প্রয়োজন হবে! এটা লেখা একদিকে যেমন খুব সহজ, অন্যদিকে আবার খুবই কঠিন।

অনেক দেশে বিশেষ করে ইউরোপে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য কিংবা স্কলারশিপ/ফান্ডিং পেতে মোটিভেশন লেটার চাওয়া হয়। এই লেটারে একজন প্রার্থী নিজের সম্পর্কে বলার পাশাপাশি কেন নিজেকে ভর্তির উপযুক্ত মনে করছে, তার সপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে হয়। কেন পড়তে চাও, যে বিষয়ে পড়তে ইচ্ছে করছ, তার কারণটা কী, কেন ওই ভার্সিটিতে পড়তে চাও, পড়ালেখা শেষ করে কী করবে ইত্যাদিসহ আরো অনেক কিছু উল্লেখ করে এই লেটার লিখতে হয়। প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হলো― Introduction অর্থাৎ, নিজের সম্পর্কে বলতে হবে। তারপর, পড়াশোনার বিষয় কী ছিল, কোন বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। যেখানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বা আবেদন ইচ্ছুক, এই শিক্ষা ভবিষ্যতের জন্য কী কাজে আসবে এবং কীভাবে কাজে লাগবে তা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হবে। জীবনের ঘটে যাওয়া তথ্যই দিতে হবে এখানে, কারো কাছ থেকে কপি করা ঠিক হবে না। মিথ্যা কথা কিংবা চাটুকারিতা থেকে একদম বিরত থাকতে হবে।

উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তির আবেদনের অপরিহার্য অংশ হলো রিকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র। আপাতদৃষ্টিতে এক পাতার একটা সুপারিশপত্র হলেও এটা ভর্তির আবেদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাডমিশন কমিটি সাধারণত ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার পেতে চায়। কারণ তারা বিশ্বাস করে, একমাত্র ফ্যাকাল্টিরাই স্টুডেন্টের বুদ্ধিমত্তা এবং গ্র্যাজুয়েট স্টাডি করার সামর্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন। বেশিরভাগ ভার্সিটি তিনটা লেটার চায়। চেষ্টা করতে হবে রিসার্চ সুপারভাইজার এবং কোর্স ইন্সট্রাক্টরদের কাছ থেকে লেটারগুলো নিতে।

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে পাবলিকেশন থাকা কি বাধ্যতামূলক? না, বাধ্যতামূলক নয়। খুব উচ্চমার্গীয় ইউনিভার্সিটি ছাড়া আর কেউ এই ব্যাপারটা বাধ্যতামূলক ধরতে যাবে না। তাই পাবলিকেশন থাকা না থাকা নিয়ে খুব বেশি টেনশনের দরকার নেই। থাকলে ভালো, না থাকলে ব্যাপার না। তবে PhD-র জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপে আবেদন করার সময় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। যার পাবলিকেশন বেশি স্বাভাবিকভাবেই সে প্রাধান্য পায়! পাবলিকেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, সংখ্যা না, মান গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে জাপানে যেতে চায়। জাপানের ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন। তবে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি নিশ্চিত হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো জটিলতা থাকে না। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট, মাস্টার্স বা পিএইচ.ডি করতে আসে। অনেকে ব্যক্তিগত অর্থায়নেও আসে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের নিকট যে কয়টি দেশ প্রিয়, অস্ট্রেলিয়া তাদের অন্যতম। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয়তম দেশ। বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এখানে। তাই বিশ্বের নানা দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ভিড় করছে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কানাডা ও আমেরিকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লিভিং অ্যালাউন্স পাওয়ার জন্য গবেষক বা শিক্ষকের সহকারী (টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে কাজ করতে হয়, অস্ট্রেলিয়ায়ও এই নিয়ম আছে।

জার্মানিতে খুব ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি নেই বলে এখানে অনেক দেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়তে আসে। জার্মানির ১৬টি রাজ্যের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো টিউশন ফি নেই। এটা সত্য, তবে এক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সুনির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে আবেদন করলে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয়রা যেসব শর্ত পালন করে লেখাপড়া করে, বিদেশিদেরও সেগুলো মানতে হবে। জার্মানিতে ইংরেজি জানার কারণে কিছু বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও জার্মান ভাষা না জানলে চাকরির সম্ভাবনা জার্মানিতে একেবারেই নেই।

ইউরোপের ক্ষেত্রে পড়াশুনার জন্য ভালো একটি দেশ হতে পারে উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তম রাষ্ট্র সুইডেন। সুইডেনকে বলা হয় স্টুডেন্টদের স্বর্গরাজ্য। শান্ত পরিবেশ, বিশ্বস্বীকৃত গবেষণাকর্ম, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রচুর স্কলারশিপ, গ্রুপ ওয়ার্ক, স্বাধীন চিন্তার সুযোগ―এসবের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সুইডেন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পিএইচ.ডি গবেষণারত।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হচ্ছে আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি এখন আর পর্বত জয় করার মতো দুর্লভ কিছু নয়। এখন স্টুডেন্ট ভিসায় অনায়াসেই আমেরিকায় যাওয়া যায়। ইউএস অ্যাম্বাসি স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়াটি সাধারণত স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করে থাকে। ফলে ভিসা পাওয়া যাবে কি না এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় না।

একজন শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক। কিন্তু আমাদের দেশে তেমন শিক্ষকের সংখ্যা কম। আমরা এ বিষয়ে খুব একটা আলোচনা করি না, উচ্চশিক্ষা কেন দরকার সেটা নিয়ে ভাবনা নেই। কীভাবে উচ্চশিক্ষায় দেশের বাইরে আসতে হয়, এ জন্য কী করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু কোনো কাজই মানুষের অসাধ্য নয়, চেষ্টা অব্যাহত রাখলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাওয়া সম্ভব।

অসংখ্য শিক্ষার্থীদের সেই স্বপ্ন পূরণে জন্য ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের লেখা ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা’ শিরোনামের বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বইটি লিখতে গিয়ে তিনি বলেছেন- ‘আমার মনে হয়েছে, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের আমেরিকা পড়তে আসার জন্য অনুপ্রেরণা দেওয়া উচিত, পথ দেখানো উচিত; যেন তারা সহজে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। আমার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি কীভাবে তারা কাক্সিক্ষত স্বপ্নের কাছে পৌঁছাতে পারে কিংবা স্বপ্নের দেশে আসতে পারে।’

আরও পড়ুন- জাতির পিতা হত্যাকান্ডের পূর্বাপর ইতিহাস

এই লেখকের অন্যান্য বই দেখতে ক্লিক করুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading