বিড়ালাক্ষী ও নয়নতারা

নয়নতারা

(বিড়ালাক্ষী) দুইশত বছরের পুরোনো কাঠের পুতুল! বুকের দিকে খোদাই করে লেখা ১২১৭- বঙ্গাব্দ। পুতুলের ডান পা’টা ভাঙ্গা… স্মিতা মহল। পুড়ে যাওয়া বাড়িটিতে রং করা হয়েছে, সাদা; নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। কে করেছে এসব? রুক্সিনী চৌধুরি! প্রবল ক্ষমতাবান রুক্সিনীকে আইন কিছুই করতে পারেনি। সে এবার ক্ষমতার জাল বিছিয়েছে হিরণমুখী পর্যন্ত। চাঁদের আলোয় মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে ব্যাপারটা; দুটো ছায়া পাশাপাশি চলছে, একটা আমার…অন্যটা 

(নয়নতারা) বাচ্চাটা মেয়ে! পিঙ্গল চুল, ঝুঁটি করে রাখা ফিতা দিয়ে। আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে। সূচনা জিজ্ঞেস করলো, ‘নাম কী সোনা?’ বাচ্চাটা করুণ চোখে তাকাল। ঠোঁটগুলো যেন গোলাপের পাপড়ি, থরথর করে কাঁপছে। সূচনা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘সোনা ভয় পেয়েছিস?’ মাথা ডানে বামে ঘোরায় বাচ্চাটা। একবার ভুরু কোঁচকায়। মুখ দিয়ে অনুচ্চস্বরে কিছু একটা বলে, ‘না…না…ন…ন…’ কপালের ভাঁজগুলো মিশিয়ে দেবার ছলে সূচনা মেয়েটার কপালে হাত দিল, কপাল বেশ গরম। বাচ্চাটা ফিক করে হেসে দিল, হাসিটা কেমন অদ্ভুত। সূচনা খেয়াল করলো মেয়েটার পায়ের কড়ে আঙ্গুল নেই…এবং জিভটা কুচকুচে কালো। ইয়াল্লা! একি! বাচ্চাটার কি অসুখ? এমন অসুখ কি মানুষের হতে পারে! নাকি অন্যকিছু? শরীরটা সূচনার ঝাঁকি খায়, সে গুঙ্গিয়ে উঠে।

চমন হাসপাতালের জানালায় দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য দেখছে তা অসহ্যকর- একটা বাচ্চা মেয়ে কাকের দুটো ছানাকে গলা টিপে ধরেছে, সাথে মরা কাকটাকে পায়ের তলায় পিষছে আর চমনের দিকে তাকিয়ে হাসছে। মেয়েটার চোখ মুখে ক্রুর হাসি। এর অর্থ কি?

সূচনা ভাবছিল নয়নতারা গাছগুলোর কথা, হঠাৎ ঘন্টার শব্দ পেয়ে সে লাফিয়ে উঠল। ঘণ্টার সাথে সাথে মন্ত্র পড়ার সুর কানে এলো- “ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম। ধান্তারীং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png