যে ৪টি বই পড়লে মুক্তিযুদ্ধকে জানতে পারবেন চারটি ভিন্ন আঙ্গিকে

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের আলোচনা
libaretaion war

১৯৭১ আমাদের কাছে আবেগের একটি সংখ্যা, একটি প্রেম ও বিদ্রোহের সংখ্যা। ১৯৭১ নিয়ে আজ অব্দি রচিত হয়েছে বহু গান, কাব্যগ্রন্থ, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের এত জটিল এবং ব্যাপক একটি অধায় যে, একে সামগ্রিকভাবে কোনো একটি বইয়ে ধরা সম্ভব হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে জানতে হলে তাই পড়তে হবে বিভিন্ন ধরনের বই। নিচে এমন চারটি বইয়ের একটি তালিকা দেয়া হলো।

একাত্তরের দিনগুলি 

১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে জাহানারা ইমাম একাত্মতা ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মৃত্যু, দুঃস্বপ্নভরা বিভীষিকার মধ্যে তার ত্যাগ ও সতর্ক সক্রিয়তা দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ উদাহরণ হয়ে আছে। শহীদ রুমীর মা পরিণত হন শহীদ জননীতে। মুক্তিযুদ্ধে সন্তান বিয়োগের বেদনাবিধুর মাতৃহৃদয় এবং যাতনা মূর্ত হয়েছে তাঁকে কেন্দ্র করে।
গত শতকের নব্বই দশকে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির উত্থানে জনমনে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় তার পটভূমিতে ১৯ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হলে তিনি আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

একাত্তরের দিনগুলি, জাহানারা ইমাম
একাত্তরের দিনগুলি

 BUY NOW

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ব্যাপক গণআন্দোলন পরিচালনা করেন। তারই নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে একাত্তরের ঘাতকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় গণআদালত।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্য দিয়ে মানুষের মনোজগতে পৌছে দিয়েছেন তার অধীত জ্ঞান সম্ভার। বইটি পড়লে  ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা 

১৯৭১ সাল রক্তসংগ্রামের এক অসহায় দিন। বাঙালি লড়ছে তার প্রাণের তাগিদে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণে মত্ত। সেই পৈশাচিক উল্লাসের বিরুদ্ধে, অস্তিত্বের মর্মমন্ত্রে জেগে উঠেছিল এদেশের মুক্তিকামী সাধারণ অথচ প্রত্যয়ী মানুষ। গণমানুষের সেই মুক্তিকাক্ষাই তাদের যােদ্ধা বানিয়ে দেয়। জনযুদ্ধের সেই অশ্রুসিক্ত বীরতগাথার উপাখ্যানে যারা মহান চরিত্র, গণমানুষের সেই আত্মত্যাগ, সাহসী স্বপ্নের দিন, দিনে দিনে বিস্মৃত প্রায় আজ।

জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা, মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা

BUY NOW

মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া, নিজে যখন গণযােদ্ধাদের একজন, এক অতলস্পর্শী সহমর্মিতায় তুলে ধরেছেন সেইসব যােদ্ধার অনালােচিত অধ্যায়, দৃপ্তকাহিনী। যার নেপথ্যে রয়েছে আত্মগত ভালােবাসা, অপরিসীম শ্রদ্ধা। জনযুদ্ধের গণযােদ্ধা তাই আমাদের আত্মােপলব্ধির উচ্চারণ, ফিরে দেখার দায়বদ্ধতা। সুচারু গ্রন্থনায় এ এক অবারিত সমাবেশ। যেমন তিনিই প্রথম। বীরশ্রেষ্ঠদের যুদ্ধগাথা লিখেছেন- আবার নাম না জানা, অজস্র অচেনা তবু সমধিক বীরের কাহিনীও। তিনিই রচনা করেছেন এই গ্রন্থে- জনযুদ্ধের গণযােদ্ধায়।  “জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা” বইটি পড়লে জানা যাবে যুদ্ধকালীন সময়ের গ্রামগঞ্জ,খাল বিলের নানা ঘটনা।

উইটনেস টু সারেন্ডার: নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল

নিয়াজীর আত্মসমর্পণের দলিল সিদ্দিক সালিক প্রণীত উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ। লেখক পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আসার আগে লাহাের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ছিলেন। সাংবাদিকতার সাথেও ছিলেন কিছুকাল জড়িত। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেজর পদে উন্নীত হবার পর সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানে তিনি বদলি হয়ে আসেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। সাহেবজাদা ইয়াকুব খানের জনসংযােগ অফিসার হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর জনসংযােগ।

 

উইটনেস টু সারেন্ডার
উইটনেস টু সারেন্ডার

BUY NOW

অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র সময়কাল তিনি জেনারেল নিয়াজীর পাশেই ছিলে। এবং বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে পাকসামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি । খুব কাছ থেকেই দেখেছেন। তারই বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ নিয়াজীর। আত্মসমর্পণের দলিল। সিদ্দিক সালিক সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম-পাকিস্তানের শােষণের অভিযােগের সত্যতা অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন অনুগত পাকিস্তানি ছিলেন বলে বাংলাদেশের মাটিতে পাকবাহিনীর বিপর্যয়ে এতে। তার আর্তচিৎকার ধ্বনিত হয়েছে। পুস্তকটি সচেতনমনস্ক পাঠকের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারবে বলে বিশ্বাস রাখা যায়। “উইটনেস টু সারেন্ডার : নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল” বইটি পড়লে বিদেশিদের চোখে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধ কেমন ছিল, তা জানা যাবে।

আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ

তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর জীবন, দর্শন ও কর্মধারা নিয়ে এ দেশে অনেকেই লিখেছেন। তাঁর কন্যা সিমিন হোসেন রিমিও নিজস্ব অনুভব থেকে লিখেছেন আমার ছোটবেলা, ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ গ্রন্থটি। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিধারায় প্রবহমান। কিন্তু সময়ে সময়ে তার অজানা পর্ব বা প্রেক্ষাপট দৃশ্যমান করে তুলতে হয়। সিমিন হোসেন রিমি বাবা তাজউদ্দীন আহমদকে পেয়েছেন স্বল্প সময়। কিন্তু দেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে তাঁকে অনুভব করেছেন নিবিড়ভাবে।

আমার ছোট বেলা, ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ
আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ

BUY NOW

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা এবং ৩ নভেম্বর জেলখানায় তাঁর পিতা তাজউদ্দীন আহমদসহ চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তাঁর মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে মর্মান্তিক এসব ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্র বা রহস্য আবিষ্কারে। এই বইয়ে তিনি নিজের ছোটবেলার পাশাপাশি এ দেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাবা তাজউদ্দীনের স্মৃতিচারণা করেছেন। তুলে ধরেছেন ব্যক্তি তাজউদ্দীনের মানসলোক এবং তাঁর দেশব্রতী ও কর্মযোগী সত্তার নিবিড় পরিচয়। “আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ” বইটি পড়লে একজন ছোট মেয়ের চোখ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা যাবে।

আরও পড়ুন-বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা: বিদেশী সংবাদপত্রের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইগুলো দেখুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading