হাওয়া দেখি, বাতাস খাই

জনপ্রিয় তারকা মারজুক রাসেলের নতুন বই
haoya dekhi batas khai feature image

‘কবিতা হারাইয়া যায় নিয়মানুবর্তিতায়, অনিয়মে কবিরেই খোঁজে’ -এই লাইনটা ২২ বছর আগে ছুটে যাওয়ার পর কালেভদ্রে আসে মারজুক রাসেলের মাথায়; এসে সঙ্গ দেয়, প্রসঙ্গ দেয়,অনুষঙ্গ দেয়; আবার চলে যায়। এবার এলো অগ্রহায়ণে। এসেই লাইনটা বলতে শুরু করলো-

“ছোটবেলায় তোর ‘উপরি ভাব’ ছিল। যতক্ষণ জাগনা থাকতি ততক্ষণ দেখতি একটা “কালা কুত্তা” তোর দিকে ছুইটা আসতেছে-জানলা খোলা থাকলে কইতি, ‘জানলা দিয়া আসতিছে।’ দরোজা খোলা থাকলে কইতি, “দরোজা দিয়া আসতিছে…ওই-যে,ওই-যে আসতিছে…ওই-যে…”, আর কানতি।

“কেউ দেখতো না, তুই দেখতি, সন্ধ্যা হইলেই কুত্তাটা তোর নানাবাড়ির সামনের ভুঁইর জোড়া-তালগাছ থিকা মাথা নিচের দিক দিয়া নামতো- আর তোর দিকে ছুইটা আসতো, তুই উচ্চস্বরে কানতি, আর কানতে-কানতে-কানতে-কানতে ক্লান্ত হইয়া ঘুমায় যাইতি, এমনভাবে ঘুমাইতি যে, কেউ তোরে কোনোভাবেই জাগাইতে পারতো না; যা দেইখা তোর নানা-সম্পর্কের একজন একদিন তোর মারে বলছিলো, ‘তোর ছাওয়ালেরতো কোনো সাড়াশব্দ নাই, মইরে গেল না কি?’… না তুই মরিস নাই, জাইগা উঠছিলি আবার তোর দিকে “কালা কুত্তা”র ছুইটা আসা দেইখা কান্দার জন্য, কাইন্দা ঘুমানোর জন্য, ঘুমাইয়া উইঠা কান্দার জন্য…।

“এই ‘উপরি ভাব’ নামাইতে কুফরি-কালাম থিকা শুরু কইরা যে যা কইছে, যে যেইখানে যাইতে কইছে, সেইখানে নিয়া গিয়া ঝাড়ফুঁক, তাবিজকবজ কত কী-যে করাইছে তোর মা-বাপ! তোর গলা ভইরা উঠছে তাবিজের মালায়। তোর ডানায়, কোমরে তাগা, তাগায় তাবিজ, জালের কাঠি। কিছুতেই কিছু হয় না দেইখা তোর বাপ তার প্র্যাকটিস-করা-কোনো-এক-কায়দায় তোরে ঝাড়তে গিয়া কী-যেন-কী পইড়াফইড়া শুকনা হলুদ পোড়াইয়া তোর নাকে ধরতো, আর তুই চিৎকার কইরা কানতি, ক্লান্ত হইতি, ঘুমায় যাইতি।

“এত-কিছুর পরেও তোর ‘উপরি ভাব’ নামে না দেইখা, এলাকার নামকরা ‘টোনা ডাক্তার’-এর কাছে তোরে নিয়া দেখানোর পর, তার চিকিৎসায় তুই সুস্থ হইতে শুরু করলি, সুস্থ হইয়া গেলি। টোনা ডাক্তার তোর বাপ-মারে বলছিল, ‘তোগে ছেলে সুস্থ হইলো ঠিকই, বাইচে থাকলি খুব রাগী হবে, কান্নার সময় কানতে পারবে না, চোখ রক্তের মতো লাল হয়ে যাবে…।”

কথাগুলো বর্তমান সময়ের তারকা মারজুক রাসেলের। নিজেকেই নিজে গল্প শোনাচ্ছেন তাঁর ‘হাওয়া দেখি, বাতাস খাই’ বইয়ে। যতখানি অভিনেতা তিনি, তার চেয়ে বেশি কবি। বাস্তবে মারজুকের চোখ কি রক্তের মতো লাল হয়ে থাকে কাঁদতে না পেরে? আমরা জানি না। তবে মারজুকের কবিতা থেকে জানি,

“বিড়ি সিগারেটদের যারা আগুন যোগায়, তাদের সাথে সূর্যের সম্পর্ক অন্ধকারের
অন্ধকারের মারে আমরা চিনি, তার জামাই পদ্মার পারে পানির ব্যবসা করে।“

কিংবা

“একটাই শাদা শার্ট—
জন্মদিনে আসে, বিবাহদিনে যায়, মৃত্যুদিনে আসে—
ময়লা আকাশটাকে ঘরে ধোবো, না লন্ড্রিতে পাঠাব?”

মারজুকের কবিতা বিষয়ের দিক থেকে যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি ভাবনারও খোরাক যোগায়। কবিতার নাম নির্বাচনে মারজুক অনেকটাই প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে। ‘আব্বা মইরা ভূত, মা পেত্নি হয়ে আছে’, ‘ভাগ্যবান নামের একজন স্লিপ ওয়াকার আমারে বলছিল এইসব লিখে রাখতে’, ‘জঙ্গলগ্রহ’, ‘জড়ের মধ্যে একমাত্র ঢেঁকিই স্বর্গে যাইতে পারে’…… নামগুলো কবিতার বিষয়ের মতোই বৈচিত্র্যময় ও আগ্রহোদ্দীপক। নির্লিপ্ত ভাষায় পানির মতোই সহজ করে কঠিন কঠিন কথাগুলো বলে ফেলতে পারেন মারজুক। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা থেকে পড়া যাক এবার।

হাওয়া দেখি, বাতাস খাই
হাওয়া দেখি, বাতাস খাই

BUY NOW

১.

“ ‘মারজুক শা সেতু’ পার হবার আগে

আমরা গেলবার যে দোকানে পান-ব্রেক নিছিলাম,
সেইখানে এইবার একটা টিউবওয়েল-বিক্রির পাকাঘরকে
গোপালগঞ্জগামী  যাত্রীবাহী-গাঙশালিক দেখল
গামছা-পরা, দাঁড়ানো, দেশলাই খাইতেছে।
দেশলাই জ্বালাইতে হয় বিড়ি-সিগারেট দিয়া;
বিড়ি-সিগারেটদের যারা আগুন যোগায়,  তাদের সাথে সূর্যের সম্পর্ক অন্ধকারের।
অন্ধকারের মারে আমরা চিনি, তার জামাই পদ্মার পারে পানির ব্যবসা করে।”

(কবিতা- মারজুক শা সেতু)

২.

“ঘৃতকুমারীরও বিয়া হইয়া গেল!
একটা মাটির সাপের গলায় একটা প্লাস্টিকের সাপের প্যাঁচায়া-থাকার-১৯৮৭
আর আমি একসাথে মরবো—এইটা আরো পাকাপোক্ত হইয়া চড়লো—নামাইতে পারবো না।
এদিকে টানবাজার থিকা সদাই না-করলে, খাওয়ায় বরকত হয় না!…
আমি বাদে একটা কাচের গ্লাস জানতো,
পকেটে ছোবল খাওয়ারও পয়সা নাই— তারও তিন ঘুম পরে,
একজন সুমারীরে পকেটে শোয়াইতে  গিয়া দেখি, পকেট নাই।”
(কবিতা- ঘড়িপাল্লা)

৩.

“জয় স্বাধীনতার জয়—
স্বাধীনতা নিয়া এখানে পক্ষ-বিপক্ষ, তর্ক-বিতর্ক, মিছিল-মিটিং
সভা-সমাবেশ, হাতাহাতি, মারামারি, খুনোখুনি,
থানা-পুলিশ, জেল-হাজত, সাজা মওকুফ, কুচকাওয়াজ,
সমরাস্ত্র প্রদর্শনী, পার্টি-মদ্যপান, দেশাত্মবোধক গান,
‘ঘোষক-ঘোষক না’, ছুটিছাটা, মিলাদ মাহফিল, পতাকা বিক্রয়,
ক্রীড়ানুষ্ঠান, কনসার্ট, সংবাদ, পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা,
ফেসবুক পোস্ট , রেডিও-টিভির বিশেষ আয়োজন, ছবি অংকন,
পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস নবায়ন, প্রবন্ধ, কলাম,
কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, থিয়েটার, সিনেমা,
গবেষণা… কত-না কিছুই হয়—
জয় স্বাধীনতার জয়—
স্বাধীনতায় আব্বা সরকারি, মা বিরোধীদলে—
স্বাধীনতায় মা সরকারি, আব্বা বিরোধীদলে—
আমাদের জীবনযাপন দারিদ্র্যসীমার তলে—
‘দাতা গাছে তোতা পাখি’ –
আর অন্যান্য আন্তর্জাতিক, স্থানীয় গাছে—
আব্বা মইরা ভূত, মা পেত্নি হয়ে আছে।“
(কবিতা- আব্বা মইরা ভূত, মা পেত্নি হয়ে আছে)

এমনই বিভিন্ন স্বাদের ৫৫টি কবিতা দিয়ে সাজানো মারজুক রাসেলের নতুন বই ‘হাওয়া দেখি, বাতাস খাই’। কবিতাগুলো শুধু যে মারজুকপ্রেমীদেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু তা নয়। বরং কবিতার রাজ্যেও মারজুকের এই সাহসী পদচারণা এখন আলোচনার বিষয়। মারজুক বলেন, “প্রশ্নের উত্তর না দিয়া ঘুম মচকাইলে দেখি কবিতা নাই, ‘কবিতা ছিল’র একটা পরিবেশ রয়ে গেছে।‘

হাওয়া দেখি, বাতাস খাই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে 

মারজুক রাসেলের অন্যান্য বই দেখুন

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading