হেলাল হাফিজের ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ র গল্প

bfdunfc

যে জলে আগুন জ্বলে‘ বইটি হেলাল হাফিজকে এনে দিয়েছিল আকাশসমান জনপ্রিয়তা। এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে অন্যতম বহুল পঠিত একটি বই। এটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশ হয়। এই একটা বই লিখেই রূপকথার নায়ক হয়ে ওঠেন হাফিজ। কবিতা থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনের প্রসঙ্গেও এই বইটি জড়িত।

হেলাল হাফিজ কম প্রতিভাবান

হেলাল হাফিজ মনে করেন তিনি খুব কম প্রতিভাবান। এই বইটির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এত ধৈর্য স্থৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন যে, শুনলে অবাক হবারই কথা। সতের বছর লেখালেখির পর ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইটি প্রকাশ করেছেন। বইটি বেরোনোর আগেই তার জেদ ছিল এবং আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই বইটি যেন অন্যান্য কবিতার বইয়ের মতো জলে ভেসে না যায়। এই বইটি প্রকাশের আগেই তিনি কিন্তু বাংলাদেশে কবিতার জগতে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এবং এক ধরনের তারকা খ্যাতিও পেয়েছেন। তারপরও তিনি অপেক্ষা করেছেন।

 Buy Nowযে জলে আগুন জ্বলে ( হার্ডকভার )

প্রেসক্লাবের  লাইব্রেরিতে  ছয় মাস

৮০/৯০ টি কবিতা থেকে বাছাই করে কবিতা নিয়েছেন। মূল পাণ্ডুলিপি  তৈরির জন্য  তার প্রিয় এই প্রেসক্লাবের  লাইব্রেরিতে বসে ছয় মাস ধরে কাটাছেঁড়া করেছেন। আজকে একটা লিস্ট করতেন, আবার রাতে মনে হত, আহা, ওই কবিতাটি তো বাদ পড়ে গেল! পরেরদিন সকাল বেলা এসে আরেকটা লিস্ট করতেন, একটি কবিতা বাদ করে অন্য একটি কবিতা যোগ করতেন। আবার ৫৬ টির  বেশি কবিতা দেওয়াও যাবে  না।

তখন  আবার ভাবেন, আহা এই কবিতাটা বাদ গেল, যাকে নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন তার সাথে তো তার একটা সম্পর্ক ছিল! আবার মনে হয় ওই আন্দোলনের কথাটা বোধ হয় বাদ গেল! তাহলে ওইসময় স্বৈরাচার বিরোধী যে কবিতাটি লিখেছিলেন, ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে লিখেছিলেন- ওটা অবশ্যই দেয়া উচিৎ; তা না হলে সময়টা তো ধরা পড়লো না;- এই করতে করতেই  ছয় মাস লেগেছিল। এভাবেই বাছাই করা হয়েছিল ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র  ৫৬ টি কবিতা।

হেলাল হাফিজ এর নতুন বই ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’

Buy Now – বেদনাকে বলেছি কেঁদো না (হার্ডকভার)

মেলায় সর্বাধিক বিক্রীত বই

বইটি মেলায় সর্বাধিক বিক্রীত শুধু নয়, উপন্যাসের চেয়েও সে বছর বইটি বেশি বিক্রি হয়েছিল। তারপর গত অনেক বছরে বইটি ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। পাঠকমহলে দিনে দিনে বইটির প্রতি আগ্রহ কেবলই বেড়েছে। কিন্তু ক্ষতিও হয়েছে তার।  কেন হলো? ক্ষতি হয়েছে এই জন্য, এই তুমুল জনপ্রিয়তা তার মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। হেলাল হাফিজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। এরপরে ভাবেন- ‘আমি আর কী লিখব? আমি যে নতুন করে লিখব, আমার লেখা যদি মানুষ পছন্দ না করে! আমার কবিতা যদি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র কবিতার কাছাকাছি না যেতে পারে! আমার কবিতা যদি মানুষ না পড়তে চায়।’ এই এক অদ্ভুত আতঙ্ক তার মধ্যে তৈরি হলো এবং দিনে দিনে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। বহু চেষ্টা করেছেন এই ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য। কোনো লেখকেরই সব লেখা সমান হয় না। তা যত বড় লেখকই হন। কবি তো বটেই, কোনো লেখাই উপন্যাস হোক, ছোটগল্প হোক, প্রবন্ধ হোক- এক লেখকের সব লেখা এক মানের হয় না। কোনো লেখা একটু বেশি ভালো হয়, একটা মধ্যম মানের হয়। কিন্তু এই ভীতি তার আর কাটলো না। বরং যত দিন যেতে লাগলো, ততই তার বইটির জনপ্রিয়তা চললো বেড়ে।

তখন মোবাইল ফোন ছিল না। চিঠি-ই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম।  শ’য়ে শ’য়ে চিঠি আসতে থাকে কবির কাছে। তাতে থাকতো নানা ধরনের কৌতূহল আর প্রশ্ন। এই যেমন-তিনি কেন লেখেন না? হেলেন কে? এই সবিতা সেন কে? হিরণ বালা কে? ইত্যাদি। এই নামগুলো তার কবিতার মধ্যে রয়েছে।

Buy Now-(বাংলা ও ইংরেজি) একুশের কবিতা ( হার্ডকভার ) 

কবিতা একাত্তর

‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশের পঁচিশ বছর পর বইমেলায় প্রকাশ হয়েছে হেলাল হাফিজের ‘কবিতা একাত্তর’। এটি সে অর্থে মৌলিক বই না। এখানে ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের ৫৬টি কবিতা আছে, সাথে আছে নতুন আরও ১৫টি কবিতা। এই ৭১টি কবিতা দিয়ে কবি ইচ্ছে করে বইটির নাম রেখেছেন ‘কবিতা একাত্তর’। একাত্তর বললেই মুক্তিযুদ্ধের কথা সবার মনে ও মগজে জেগে ওঠে। একজন কবির কাজ তো এভাবেই মানুষকে উস্কে দেয়া, উজ্জীবিত করা। তবে কবির মূল লক্ষ্য ছিল ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র কবিতাগুলো ইংরেজিতে অনূদিত হোক।

হেলাল হাফিজের সবচে প্রিয় বিষয় হচ্ছে আলস্য, আলস্য তিনি খুব উপভোগ করেন। তার প্রিয় বিষয় অপচয় আর আত্মপীড়ন। এক  দুইবার আত্মহননের ইচ্ছেও জেগেছিল মনে। সেখান থেকে বেঁচে গেছেন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইয়ের প্রতি পাঠকদের ভালোবাসার জন্য।

হেলাল হাফিজের সকল বই

Nasrin Akter

Nasrin Akter

Published 16 Jan 2020
  0      1
 

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png