কোরআনেও কি বৈপরীত্য আছে ?

বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে কোরআনের বৈপরীত্যের জবাব
contrast in quran

পবিত্র কোরআনের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, এই কোরআন এমন কিতাব, যার মাঝে কোনো সন্দেহ নেই, যা সব ধরনের ত্রুটি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। এই কিতাব বান্দার জন্য হেদায়েত। বান্দাকে পথনির্দেশনা দেবে এই কোরআন। আর হেদায়েত গ্রহণ করতে হলে নির্দেশনায় কোনো বক্রতা থাকতে পারবে না। বক্রতা থাকলে হেদায়েত গ্রহণ সহজ হবে না। সহজ কথায়, পথনির্দেশই যদি বক্র হয়, তবে তার অনুসারীও বক্র পথে যেতে বাধ্য।

তাই সুরা কাহাফে আল্লাহ তায়ালা বলেন :

সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি তার বান্দার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। (সুরা কাহাফ, আয়াত ১)

কিন্তু তারপরও মক্কার মুশরিকরা কোরআন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করত। তারা এই কোরআনকে কখনো বলত কবির অভিব্যক্তি, কখনো-বা একে তারা জাদুমন্ত্র আখ্যায়িত করত। তাদের এই সন্দেহপ্রকাশ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বলছে : তাদের অন্তর সন্দিহান হয়েছে; তাই তারা সন্দেহের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। (সুরা তাওবা, ৪৫)

পবিত্র কোরআন আরও বলছে : বস্তুত তারা সন্দেহের কারণে হাসি-ঠাট্টা করছে। (সুরা দুখান, ৯)

কোরআন কি রাসুলের কাছে ওহি হিসেবে আসে, না রাসুল তা নিজ থেকে বানিয়ে বানিয়ে লেখেন; তা নিয়ে মক্কার মুশরিকদের ছিল হাজারও প্রশ্ন। রাসুল স. ওদের সকল প্রশ্নের সমুচিত জবাব দিলেও কাফেররা অবাধ্যতা করতে থাকে— হৃদয়ের বক্রতার কারণে। তারা হেরে গেলেও মানত না হার।

আল্লাহ তাআলা তাদের চ্যালেঞ্জ করে বললেন : আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি, তার মধ্যে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর মতো কোনো একটি সুরা নিয়ে এসো। (বাকারা, ২৩)

কোরআন নাজিল হওয়ার প্রথম দিন থেকে অদ্যাবধি চোদ্দশ বছরের পথপরিক্রমায় কাফের ও মুশরিকগোষ্ঠী বহুবার ও বার বার এবং বহুভাবে এই কোরআনের ওপর হামলা চালিয়েছে। কখনো-বা তারা হত্যা করেছে কোরআনের বাহককে। কখনো তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে কোরআনের হাজারও কপি। কখনো-বা ওরা কোরআন থেকে দূরে বন্দি করে রেখেছে মুসলিম সন্তানকে। ওদের কূটচাল আজও পর্যন্ত জারি আছে। আমাদের সন্তানদের থেকে কোরআনের শিক্ষা দূরে রাখতে ওদের প্রচেষ্টা এখনও চলমান। কিন্তু পবিত্র কোরআন ওদের সমস্ত চাল নস্যাৎ করে দিয়ে আজও পর্যন্ত আলো ছড়িয়ে আসছে। আজও মানুষ হেদায়েত পায় কোরআনের আলোর মশাল ধরে।

ORDER NOW

আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে এই কোরআন নিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহ শুরু হয়েছে। আজও সে আগ্রহ চলমান। কোরআন নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য গবেষণাগ্রন্থ। রচিত হয়েছে বৃহৎ কলেবরের তাফসিরের কিতাব। কোরআনের দরস প্রদান হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসা নিবারণের জন্য তাফসির মাহফিল আয়োজনের ইতিহাসও হাজার বছরের।

অন্যদিকে কোরআনের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি করার প্রয়াসও থেমে ছিল না। যুগ যুগ ধরে যেমন কোরআনের ব্যাখ্যা পেশ করে আসা হয়েছে, কোরআনের সঠিক মর্ম মানুষের সামনে রাখার প্রচেষ্টা চলে আসছে; অন্যদিকে কোরআনের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি করারও অপপ্রয়াস চালাচ্ছে কিছু মানুষ—কখনো সভ্যতার নামে কখনো-বা বিজ্ঞানের নামে আবার কখনো আধুনিকতার পোশাকে। সেই অপপ্রয়াসের জবাবও দিয়ে আসা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।

পবিত্র কোরআন নিজেই আলোকিত, যার তুলনা চলে সূর্যের সাথে। চোখ বুজে থাকলেও সূর্য তার আলো বিলিয়ে যায়। সারা দুনিয়া ঝকমক করতে থাকে তার আলোতে। কিন্তু এতো এতো আলো সহ্য হয় না চামচিকার। সে খোঁজে অন্ধকার, লুকায় অন্ধকারে। পবিত্র কোরআনকেও কিছু মানুষ সহ্য করতে পারে না। অথবা তারা হচ্ছে অন্ধের মতো। দৃষ্টিহীনের কাছে যেমন আলো-আঁধার সমান। তেমনই যাদের হৃদয় অন্ধ তাদের কাছে হেদায়েত ও গোমরাহি অভিন্ন। তারা হেদায়েতের আলো দেখতে পারে না। তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বলছে : যে ব্যক্তি জানে যে, আপনার কাছে রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে তা সত্য সে কি অন্ধের মতো? বোধশক্তিসম্পন্নরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা রাদ, ১৯)

পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে। আল্লাহ তাআলা বলেন : আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে। (সুরা নিসা, ২৮)

কেন এমন বৈপরীত্য মনে হয়?

মানুষের মেধা যেমন দুর্বল অনুরূপ তার বুঝশক্তিও সংক্ষিপ্ত। একটা সীমায় গিয়ে এগুলো আর কাজ করে না।এই সীমাবদ্ধতার দরুন আমাদের সামনে পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াতে বাহ্যিক তাআরুয বা বৈপরীত্য দেখা দেয়। একই বিষয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাঝে দ্বন্দ্ব মনে হয়। এক বিষয়ে একবার এক কথা বলে অন্য আয়াতে ওই একই বিষয়ে ভিন্ন কথা বলা হয়েছে, এমন খটকা লাগে আমাদের মনে।

অর্থসহ কোরআন পড়বার সময় অনেক পাঠকের কাছেই মনে হতে পারে যে, বেশ কিছু আয়াতের মাঝে বৈপরীত্য আছে। মনে হবে এক আয়াত এক কথা বলছে তো আরেক আয়াত বলছে ভিন্ন কথা। এতে পাঠকের ধন্দ লাগতে পারে— সবিশেষ কোরআনের পাঠকের যদি তাফসীরের সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের কমতি থাকে। কখনও কখনও এই ধন্দ রূপান্তরিত হতে পারে সংশয়ে। যার ফলে তার মাঝে সৃষ্টি হতে পারে অস্থিরতা। সে তখন বিভিন্ন জনের কাছে তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে। বা নিজ জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে তালাশ করতে থাকবে নেটদুনিয়ার এখানে সেখানে। তবু যদি সে না পায়, তখন হয়ত সে ভাববে মোল্লারা (?) আমাদের ভুল বোঝায়। অথবা…। আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।

এই ঘটনা কেবল বিংশ শতাব্দীতেই ঘটতে পারে বা ঘটছে, তা কিন্তু নয়। মুফাসসিরর সর্দার ইবনে আব্বাসের রা. সময়েও এমন ঘটেছে।

ইবনে আব্বাসের রা. কাছে এক লোক এসে বলল: কোরআনের বেশ কিছু বিষয়ে আমার কাছে বৈপরীত্য লাগছে। ইবনে আব্বাস রা. তাকে বললেন: কেমন বৈপরীত্য? নাকি কোনও সংশয়? সেই লোকটা বলল: কোনও সংশয় নয়। বরং বৈপরীত্য। ইবনে আব্বাস রা. বললেন: বলো শুনি কী কী তোমার কাছে বৈপরীত্য লাগছে। সেই লোক তখন তার কাছে বৈপরীত্য লাগা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে। ইবনে আব্বাস-ও রা. তার জবাব দেন। হাদিসটি বুখারি শরিফে উল্লেখ আছে।

তো কোরআনের অর্থ পাঠকালে প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু আয়াতের মাঝে বৈপরীত্য মনে হতে পারে। আরবদেরই যখন এ ধন্দ লাগত, তখন আমাদের অবস্থা তো আরও সঙ্গীন।

আমরা কীভাবে কোরআন পাঠ করব?

ওলামায়ে কেরাম কেন সাধারণ জনগণকে “একা” “একা” কোরআনের অর্থ বুঝতে নিষেধ করেন, আশা করি বিষয়টা আমরা বুঝতে পারবো। তাফসীরের নূন্যতম জ্ঞান না রেখেও যখন আমরা কোরআন বুঝতে শুরু করবো, তখন এমন ধন্দে পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যার থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আমাদের ঈমানও। আলেমগণ তাই কোরআন বুঝতে বলেন বিজ্ঞ আলেমদের থেকে। আমাদেরকে কোরআনের অর্থ ও মর্ম সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য আলেমগণ যুগ যুগ ধরেই কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন।

‘বৈপরীত্য’ নাকি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা?

প্রাথমিকভাবে কিছু আয়াতের মাঝে বৈপরীত্য মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা যদি আলেমদের কাছ থেকে বুঝে পড়ি, আয়াতগুলোর মাঝে গভীরভাবে দৃষ্টি দেই এবং সংশ্লিষ্ট বিয়গুলো বুঝে বুঝে পড়ি; তবে আমাদের সামনে প্রতীয়মান হবে যে, কোরআনের আয়াতসমূহের মাঝে কোন বৈপরীত্য ও বৈসাদৃশ্যই নেই। বাহ্যিকভাবে যে সকল বৈপরীত্য ও বৈসাদৃশ্য দেখা যায়, সেগুলো হলো আমাদের সীমাবদ্ধ আকলের ফল। কিন্তু বাস্তবে তাতে সুস্পষ্ট।

কোরআনের মাঝে বৈপরীত্য থাকবে, সেটাই-বা কেমন করে হয়! এটা তো সেই মহান রবের কালাম, যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোন শরিক নেই। এবং সেই মহান রবই ঘোষণা করে বলছেন: কোরআন যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও থেকে আসত, তবে ওরা তাতে প্রচুর ইখতিলাফ বা মতানৈক্য দেখতে পেত। (সুরা নিসা, ৮২)

আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কোরআন যেহেতু এক মহান রবের কালাম, সুতরাং তাতে নেই কোনও মতানৈক্য ও বৈপরীত্য। কেননা তা মহান আল্লাহর কালাম, যা তিনি লাওহে মাহফুজে রেখেছিলেন। কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলছেন : বাতিল না তার সামনে দিয়ে আর না তার পেছন দিয়ে আসতে পারে। তা এক প্রজ্ঞাময় প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (সুরা ফুসসিলাত, ৪২)

বিষয়টি এমন নয় যে, হাজার বছরের পথপরিক্রমায় কোরআনের মাঝে কেউ হস্তক্ষেপ করে বিকৃত করে দিয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন আয়াতে স্ববিরোধ পরিলক্ষতি হচ্ছে, যেমনটা ইনজিল শরিফকে বিকৃত করা হয়েছিল। এটাও কখনোই সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালাই স্বয়ং কোরআনের হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন : আর নিশ্চয় আমি এই কোরআন নাজিল করেছি। আর নিশ্চয়ই আমিই তার হেফাজতকারী। (সুরা হিজর, ৯)

প্রথমত আমাদেরকে এটা বুঝে নিতে হবে যে, কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাঝে বাহ্যিক যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা মূলত আমার জানার সীমাবদ্ধতার কারণে।

দ্বিতীয়ত, বাহ্যিকভাবে কিছু আয়াতে বৈপরীত্য দেখা দিলেও ব্যাখ্যা জানার পর মন নিঃসংশয় হয়ে যায়। কিন্তু এই ব্যাখ্যা প্রদান করা সকলের কাজ নয়।

এই বাহ্যিক বৈপরীত্যের সমাধান কোথায় আছে?

এর সমাধানের তাগিদেই আলেমগণ কোরআনের স্বতন্ত্র একটা শাস্ত্র রচনা করেছেন। এ-শাস্ত্রের নাম তারা দিয়েছেন “মুশকিলুল কোরআন”। এ-নামেই একটা গ্রন্থ রচনা করেন ইবনু আব্দুস সালাম রহ. (মৃত্যু. ৬৬০ হিজরি)। শায়খ শানকিতি রহ. এই বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, যার নাম “দাফউ ইহামিল ইত্তিরাব আন আয়াতিল কিতাব”। আরবি ভাষায় এই বিষয়ে আরও বেশ কিছু কাজ আছে। উর্দু ভাষাতেও কাজ হয়েছে। মুফতি শফি রহ. এবং আল্লাম ইদরিস কান্ধলবি রহ., উভয়েই “মাআরিফুল কোরআন” নামে তাফসির রচনা করেছেন। তাদের তাফসির গ্রন্থেও এই বিষয়ে তুলনামূলক আলোচনা রয়েছে। আরব-আজমের অনেক বিজ্ঞ মুফাসসির তাদের তাফসির গ্রন্থে এ-ধরনের আয়াতগুলো নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন।

মুফাসসিরগণ ইলমে ওহির আলোকে তাদের চেষ্টা ও মুজাহাদা ব্যয় করে এই সকল আয়াতের বাহ্যিক বৈপরীত্যের সমাধান দিয়েছেন। তাফসিরগ্রন্থে কোথাও বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ আবার কোথাও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ তা আলোচিত হয়েছে। তবে সকল তাফসিরগ্রন্থে তা সমানভাবে আলোচিত হয়নি। এবং একত্রিতভাবেও সকল তাফসিরগ্রন্থে আসেনি সেই আলোচনা; বরং তা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একজন সাধারণ মানুষের জন্য অথবা কোনো তালেবে ইলমের জন্য সকল তাফসিরের কিতাব মন্থন করে ওই সকল আয়াতের ব্যাখ্যা বের করা সহজ কাজ নয়। এটা বেশ শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। তদুপরি তলাবায়ে কেরাম কোরআনের সাধনায় থেকে তা হাসিল করতে পারলেও সাধারণ মানুষের জন্য এ পথ বড়ই দুর্গম। একে তো তাদের নেই কোরআন-হাদিস ও ফিকহের মূলনীতির সাথে পরিচয়। নেই যোগ্য আলেমদের ইলমি সোহবত। দ্বিতীয়ত: এসব হাসিল করার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার সেই সময়ও নেই তাদের।

উপরন্তু মর্মন্তুদ বিষয় হলো, এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে বাংলাভাষায় কোনো কিতাবই রচিত হয়নি। কোনো গবেষণা তো বহু দূরের কথা, কোনো অনুবাদও নেই বাংলাভাষায়। আমার জানা মতে, বাংলা ভাষায় এই ধরনের কোনও কাজ হয়নি। আরবি-উর্দু কিছু তাফসিরের বাংলা অনুবাদ রয়েছে, যেখানে এই ধরনের আয়াতগুলোর বাহ্যিক বৈপরীত্যের সমাধান পাওয়া যাবে। কিন্তু বৃহৎ তাফসিরগুলো ঘেটে সমাধানগুলো বের করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে একদল বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী। তারা সাধারণ মানুষদের মনে সংশয় তৈরির একটা ফাঁক পেয়ে তা দিয়ে সিঁধ কেটে ঈমান চুরির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এবং সন্দিহান করে তুলছে মুসলিমদের অন্তর।

এইসব সন্দেহ-সংশয় দূর করার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। কোরআনের যে সকল আয়াতের মাঝে বাহিক্য বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়, সেগুলোর সমাধান—যা ছড়িয়ে আছে বহু তাফসির গ্রন্থের পরতে পরতে, সেখান থেকে সেগুলো তুলে এনে, সর্ব শ্রেণির পাঠকদের জন্য সুবিন্যস্তভাবে একত্রিত করার প্রয়াসেরই নাম “বৈচিত্রময় কোরআন”।

‘বৈচিত্রময় কোরআন’র কাজের ধরন

আমাদের এই কাজটি পুরোপুরি অনুবাদ নয় আবার নয় সম্পূর্ণ নিজস্ব গবেষণাও; বরং আমরা কাজটি আঞ্জাম দিয়েছি শায়খুল হাদিস মাওলানা আনওয়ার গাঙ্গুহি প্রণীত ‘আয়াতে মুতাআরেযা অওর উনকা হাল’ গ্রন্থকে সামনে রেখে। উক্ত গ্রন্থের ধারাবাহিকতা প্রায় সম্পূর্ণই রক্ষা করা হয়েছে। তবে উক্ত গ্রন্থে আয়াতের তরজমা দেওয়া হয়নি, যোগ করা হয়নি আয়াতের নম্বরও; যা আমরা যোগ করেছি। এবং লেখক তাফসিরগ্রন্থের মূলপাঠও উল্লেখ করেননি কোথাও, বরং তাফসিরসমূহের সারকথাটাই তিনি নিজ ভাষায় লিখে দিয়েছেন, আমরা সহজবোধ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সাথে তাফসির গ্রন্থ থেকে মূলপাঠও উদ্ধৃত করেছি।

সাধারণ পাঠকদের কথা মাথায় রেখেই প্রত্যেকটি আয়াতের সরল অনুবাদ ও আয়াত নম্বর যুক্ত করার চেষ্টা করেছি আমরা। এবং বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বুঝে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করারও প্রয়াস চালানো হয়েছে, যাতে মাদরাসাপড়ুয়া নয় এমন ভাইবোনেরা পূর্ণ বিষয়টি অবগত হতে পারেন।

আমাদের কাজের ধারাবাহিকতা এমন

  • প্রথমে একটা বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে।
  • অতপর উক্ত বিষয়ে কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আয়াতগুলো একত্রিত করা হয়েছে। (এই দুটি কাজ হুবহু উরদু গ্রন্থ থেকে নেয়া)
  • আয়াতের সরল অনুবাদ যোগ করা হয়েছে।
  • অতপর কী কী সন্দেহ ও সংশয় জাগতে পারে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
  • সবশেষে তাফসিরগ্রন্থের মহাসাগর থেকে তার ব্যাখ্যা বা সমাধান তুলে ধরা হয়েছ।

রেফারেন্স গ্রহণ

আমরা যে-সকল তাফসির গ্রন্থ সামনে রেখে কাজ করেছি, তা হলো—

  • তাফসিরে ইবনে কাসির।
  • তাফসিরে তবারি।
  • তাফসিরে বাগভি।
  • তাফসিরে রুহুল মাআনি।
  • মাআরিফুল কোরআন (মুফতি শফি রহ.)।
  • মাআরিফুল কোরআন (আল্লামা ইদরিস কান্ধলবি রহ.)।
  • আসান তরজমায়ে কোরআন (শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি)।
  • তাফসিরে মাজহারি (আল্লামা কাজি হাফেজ মুহাম্মদ সানাউল্লাহ পানিপথি রহ.)।
  • তাফসিরে মাদারেক (ইমাম নাসাফি রহ.)।
  • তাফসিরে দুররে মানছুর (জালালুদ্দিন সুয়ুতি শাফিয়ি রহ.)।
  • তাফসিরে কুরতুবি।
  • তাফসিরে সা’দি।

এছাড়াও আল্লামা শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবি রহ. রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-ফাউযুল কাবির’ থেকেও অনেক উপকৃত হবার সুযোগ হয়েছে। হাদিসের গ্রন্থ থেকেও পেয়েছি প্রভূত উপকার।

আরও পড়ুন- কৃষিতে মুসলিম সভ্যতার অবদান সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

বেস্ট সেলার ইসলামী বইগুলো দেখুন 

 

মাওলানা ইমরান হোসাইন নাঈম

মাওলানা ইমরান হোসাইন নাঈম

ইমরান হোসাইন নাঈম একজন মনোজ্ঞ পাঠক, বই সংগ্রহ যার নেশা, পাঠে মগ্ন থাকা যার মোহ। বিষয়ভিত্তিক পাঠে তার জ্ঞানের গভীরতা ও পরিধি উত্তর-উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯৫ সালের পনেরোই আগস্ট লেখকের জন্ম। বাসায় পড়াশোনার হাতেখড়ি হবার পর স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তারপর আসেন মাদরাসার আঙিনায়। হিফজ সম্পন্ন করেন। তাকমিল সমাপ্ত করেন জামিয়া মাহমুদিয়া বরিশাল থেকে। লেখালেখির আগ্রহ তার অল্প বয়স থেকেই। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি অনুশীলন করে আসছেন। প্রথম মৌলিক লেখার প্রকাশ হয় ইসলামি বার্তা পত্রিকায় নিবন্ধ লেখার মাধ্যমে। অনুবাদচর্চার সূচনা হয় মাসিক ইসলামি পয়গাম পত্রিকা থেকে। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন, যা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ধীরে ধীরে; ইনশাআল্লাহ।

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading