জীবন বদলে দেয়া বই খুঁজছেন? পড়তে পারেন এই ৫টি বই

মোটিভেশনাল বইগুলো হতে পারে পরিবর্তনের পথিকৃৎ
jibon bodle deya 5 boi

বিশ্বের সফল মানুষদের সাফল্যের পেছনে বই-এর ভূমিকা অনেক। বইয়ের কোনো বিকল্প নেই । শুধু অবসর বা বিনোদনই নয় , নিয়ম করে বই পড়লে আমরা এমন একটা তাগিদ অনুভব করতে পারি যা মানসিক ও বাহ্যিক জগতে পরিবর্তন এনে দিতে পারে । সব সফল মানুষই সবচেয়ে বেশিবার একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। তা হলো, ‘আপনার এই সম্পদ ও সফলতার রহস্য কী?’ এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, তার সফলতার কারণ প্রতিদিন পাঁচশো পাতা বই পড়া।  সবার হয়তো প্রতিদিন পাঁচশো পাতা বই পড়ার সুযোগ থাকে না। কিংবা কোন বই পড়লে আক্ষরিক অর্থেই জীবন বদলে যাবে সেটা বুঝতে পারি না। তাই আমাদের আজকের আয়োজন, জীবন বদলে দেয়ার মতো পাঁচটি বই নিয়ে। যে বইগুলো জীবনে আপনার একবার হলেও পড়া ‍উচিত।

দ্য সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল

 

জীবন বদলে দেয়া বই-The seven habits of highly effective people
BUY NOW

“Sow a thought, reap an action; sow an action, reap a habit; sow a habit, reap a character; sow a character, reap a destiny.” – Stephen R. Covey

অভ্যাস হলো এমন কিছু কাজ যা আমরা অবচেতন মনে সবসময় করি। অভ্যাসই আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। আপনার অভ্যাসগুলোই নির্ধারণ করে কেমন হবে আপনার ভবিষ্যৎ। আমরা প্রত্যেকেই নিজের অজান্তে প্রতিনিয়ত এমন কিছু করি যা অন্যদের কাছে ইতিবাচক নাও হতে পারে। এর প্রভাব এসে পড়ে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবনে। তাই নিজের মাঝে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত, যা অন্যদের কাছে নিজেকে আদর্শ হিসেবে প্রকাশ করে।

কিন্তু তাই বলে কি অভ্যাস পাল্টানো যায় না? অভ্যাস যেভাবে গড়া যায়, একইভাবে ভাঙ্গা যায়, নতুন করে তৈরি করা যায়, পাল্টানো যায়। তবে অভ্যাস পাল্টাতে সময় লাগে। এটা হুট করেই হয়ে যায় না। এমন নয় যে, কাল সকাল থেকেই আপনি আপনার একটা অভ্যাস পাল্টে ফেলতে পারবেন। সময় লাগবেই।

স্টিফেন আর কোভির লেখা ‘দ্য সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেক্টিভ পিপল’ এমন একটি বই যা আপনার ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক অভ্যাসগুলো আপনার সামনে তুলে ধরে, প্রতিটি কাজে ইতিবাচক অভ্যাস আনয়নের মাধ্যমে জীবন বদলে দিতে সক্ষম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী ও সফল ব্যক্তিদের নিকট পাঠ ও চর্চার ক্ষেত্রে ‘দ্য সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল’ এর প্রভাব বাইবেলের পরেই।

নিউইয়র্ক টাইমস্ ম্যাগাজিন এই বইটিকে ‘Most Influential Business Book of the 20th Century’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এটি যে শুধু পাঁচ শতাধিক সংস্থার কর্মীদের জন্য মূল পাঠ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তা নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বইটির সুপারিশ করেছেন বিশ্বব্যাপী।

ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে বইটি বিবেচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হবার পর থেকে বইটি ৪০টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয়ে বিক্রি হয়েছে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি কপি ।

বইটিতে কিছু বাস্তব, নীতিকেন্দ্রিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের বর্ণনা করা হয়েছে, যা পাঠককে তার জীবনের বিবিধ সমস্যা মোকাবেলায় ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী করে সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে। এই বইয়ে উপস্থাপিত জীবন গঠনে সাত অভ্যাস সাফল্যের চাবিকাঠিরূপে বিবেচ্য।

 দ্য মিরাকল মর্নিং

 

The miracle morning
BUY NOW

হ্যাল এলরড এর ‘দ্যা মিরাকল মর্নিং’ বইটি মূলত একটি আত্ম-উন্নয়ন মূলক বই। বইটির মূল মন্ত্র হচ্ছে সকালের সাফল্যে স্বপ্নের জীবন। বইয়ের প্রথম অংশে অর্থাৎ ভূমিকায় আছে লেখকের নিজের জীবনের কিছু মর্মস্পর্শী ঘটনা। আর ঠিক তার পরেই আছে কোন জাদু মন্ত্রের ছোঁয়ায় তার জীবন বদলে গেলো এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। হ্যাল আপনাকে শেখাবে কিভাবে শুধু মাত্র ঘুম থেকে জেগে উঠার সময়টাকে একটু এগিয়ে রেখে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। কিভাবে নিজেকে আরও একটু শক্তিবান ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী করা যায়। । নীরবতা, আত্মকথন, দৃশ্যায়ন বা কল্পনা, ব্যায়াম, পড়া, লেখা এই ছয়টি বিষয়ের সমন্বয়ে আপনি নিজের ব্যক্তিগত উন্নয়ন সাধন করতে পারেন। দ্য মিরাকল মর্নিং নিয়ে একটা কথা বেশ প্রচলিত, ‘আপনি যদি গভীর রাতের প্যাঁচাও হন এই বইটি আপনাকে বাধ্য করবে The Morning Person হতে’। তবে আর দেরি কেন? আজকেই বইটি সংগ্রহ করে ফেলুন।

পাওয়ার অব্ পজিটিভ থিংকিং

 

Power pf positive thinking
BUY NOW

দ্য পাওয়ার অব পজিটিভ থিংকিং প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। কিভাবে একজন মানুষ পজিটিভ চিন্তা করবে তাই বলা হয়েছে এই বইতে।  বইটি জীবন গঠনের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত অনেক মানুষকে সহায়তা করেছে। ১৫ মিলিয়ন কপির উপরে এই বই বিক্রি হয়েছে। এই বইটি বের হওয়ার ১৮৬ সপ্তাহ পর্যন্ত নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার ছিল। প্রায় ৫২ টি ভাষায় এটি অনূদিত হয় এবং এখনও এই বিক্রির ধারাটা চলছেই।

কিভাবে একজন মানুষ তার জীবনকে আরও উন্নত করবে, গঠনমূলক ভাবে চিন্তা করতে পারবে, নিজের ভিতরের নেগেটিভ চিন্তাগুলো দূর করবে, নিজের ভিতর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে। এর সবই বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। ড. পিল এখানে অনেক রকম প্র্যাকটিকাল টেকনিক ব্যবহার করেছেন – কিভাবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করা যায়, নিজের আশা এবং স্বপ্নগুলো পূরনের জন্যে কিভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নিজেকে উন্নত করার এটা একটি গাইড বই।

দ্য পাওয়ার অব্‌ পজিটিভ থিংকিং বইটি ১০টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এই অধ্যায়গুলোতে লেখক ধাপে ধাপে ইতিবাচক চিন্তা কিভাবে মানুষের জীবনকে সুন্দর করে, এবং কিভাবে এটা কাজে লাগানো যায় তা বর্ণনা করেছেন। চলুন অধ্যায় গুলোর মূল বক্তব্য সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক:

০১. নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন
০২. মনের শান্তি আপনাকে শক্তিশালী করবে
০৩. কিভাবে শক্তি ধরে রাখবেন
০৪. প্রার্থণার শক্তি
০৫. কিভাবে নিজের মধ্যে সুখ সৃষ্টি করবেন
০৬. অস্থির হবেন না
০৭. সবচেয়ে ভালোটা আশা করুন এবং তার জন্য কাজ করুন
০৮. হেরে যাওয়ায় বিশ্বাস করবেন না
০৯. ভয় পাওয়া একটি অভ্যাস
১০. নিজের সমস্যার সমাধান নিজেই করুন

থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ

 

Think and grow rich
BUY NOW

“একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা সমস্ত অর্জনের সূচনা বিন্দু। একটি আশা নয়, একটি ইচ্ছা নয়, তীব্র স্পর্শকাতর আকাঙ্ক্ষা যা সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়।” – নেপোলিয়ান হিল

থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ বইয়ে কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগানো, টিম ওয়ার্ক, অধ্যবসায়, ভয় দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নানা কৌশল ব্যাখ্যা করেছেন নেপোলিয়ন হিল। দীর্ঘ পঁচিশ বছর নানান পেশা ও শ্রেণির মানুষকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বইটি লেখেন তিনি। আমেরিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির চরিত্র বিশ্লেষণ করে তিনি লক্ষ্য করেন যে, এই সফল ব্যক্তিরা তাদের জীবনে ১৩টি নীতি বা দর্শন ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেছেন।

যদিও বইটির নাম দেখে মনে হয়, এটা শুধু টাকা পয়সার দিক দিয়ে বড়লোক হবার  কথা বলা হচ্ছে – কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখবেন, বইটির জ্ঞান আপনি যে কোনও ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সফলতা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ বইটির সেরা ১০টি নীতি  জেনে নেই-

১. সঠিক মনোভাব
২.সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা
৩. বিশ্বাস
৪. হার না মানা মনোভাব
৫. বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা
৬. বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট লক্ষ্যে ভাগ করা
৭. ধৈর্য
৮. ভালো সঙ্গ
৯. নিজেকে সময় দেয়া
১০. নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড

 

Rich dad poor dad
BUY NOW

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইটি নিয়ে একজন পাঠকের রিভিউ পড়ি চলুন-

“অধিকাংশ মানুষের জীবন ইঁদুর দৌড়ের মত”

একটি ইঁদুরকে চার দেয়ালের মধ্যে ছেড়ে দিলে সে সারাদিন শুধু চারদিকে ঘুরতে থাকবে। বার বার একই যায়গায় ফিরে আসবে কিন্তু এখান থেকে বের হওয়ার ভিন্ন কোন পথ খুজবেনা! আমরাও একই রকম একই গন্ডির মধ্যে চিন্তা করি! ছোট বেলায় স্কুলে যাই পরে কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষে একটি ভালো / মোটামোটি চাকরি নেই, বিয়ে করি, বাচ্চা নেই, ঘর বানাই বা ফ্লাট কিনি, কিছু টাকা জমাই পেনশনে যাই! তারপর জমানো টাকায় বাকি জীবন কোনো মতে পার করে দেই এবং পরবর্তি জেনারেশনকে সেইম এবং সবচেয়ে বাজে ও পুরনো উপদেশ দেই যা আমাদের বড়রা আমাদের দিয়েছেন। “ ভালো পড়াশুনা করো, ভালো রেজাল্ট করো এবং একটি ভালো চাকরি খোঁজ”

কিন্তু একবারও বলেনি “শুধুমাত্র ভালো শিক্ষা ও ভালো গ্রেড সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয়না, সময়ের দিকে তাকাও, চারপাশে দেখো। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লোকেরা বিশ্বের সবার চেয়ে ভালো গ্রেড আর ভালো শিক্ষা অর্জন করেনি। ধনী লোকেরা পড়াশুনার জন্য ধনী হয়নি।তাদের ছিলো অর্থসংক্রান্ত বুদ্ধিমত্তা ও ভিন্ন চিন্তাধারা যা তাদেরকে সফলতা এনে দিয়েছে। অনেক সময়ই দেখা যায় ধনীর ছেলেরাই ধনী হয় কারণ ধনীরা তাদের সন্তানদের ভিন্নভাবে শিক্ষা দেয়।

এই বইতে ধনী বাবা ও গরীব বাবার শিক্ষার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।

লেখকের দুজন বাবা ছিলেন একজন কম শিক্ষিত কিন্তু ধনী এবং অন্যজন দরিদ্র কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন।

একজন অর্থনৈতিক ভাবে সারা জীবন লড়াই করে কিছু বিল বাকি রেখে মারা গেছেন অন্যজন পরিবার ও চার্চের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার রেখে মারা গেছেন।

দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো পুরোপুরি আলাদা-

গরিব পিতা বলতেন “অর্থের মোহ সব দুষ্কর্মের মুল”

ধনী পিতা বলতেন “অর্থের অভাব সব দুষ্কর্মের মুল”

গরিব পিতা বলতেন ভালোভাবে পড়ো যাতে একটি কোম্পানিতে কাজ পাও।

ধনী পিতা বলতেন ভালোভাবে পড়ো যাতে একটি কোম্পানী তৈরি করতে পারো বা কিনতে পারো।

একজন বলতো ঝুঁকি নিবেনা অন্যজন বলতো ঝুঁকি নিতে শিখো!

দুজনের ভাবনা ছিলো সম্পুর্ণ আলাদা।

একজন বলতো আমি টাকার ব্যাপারে আগ্রহী নই অন্যজন বলতো টাকাই শক্তি ।

মূলত ভাবনার মাধ্যমেই মানুষ জীবনের আকৃতি দেয়। আপনি কি ভাবছেন সেটাই আসল।

আরও পড়ুন-সহজে ইংরেজি শিখতে হলে যে ৫টি বই অবশ্যই পড়তে হবে

রকমারির সংগ্রহে থাকা মোটিভেশনাল বইগুলো দেখুন 

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading