জীবনে সাফল্যের মূলমন্ত্র: প্রিন্সিপাল মো. বায়েজীদ বোস্তামী

0001-6646625446_20210826_111155_0000

জীবনে সাফল্যের মূলমন্ত্র
প্রিন্সিপাল মো. বায়েজীদ বোস্তামী

প্রকাশনায় : সাহিত্যদেশ
প্রথম প্রকাশ : অমর একুশে বইমেলা ২০২১
প্রচ্ছদ : সোহানুর রহমান অনন্ত
মূল্য : ৩২০ টাকা।

অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের মারাত্মক প্রকোপে জীবনসংগ্রামী মানুষের সামনে এসে দৈত্যের মতো দাঁড়িয়েছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কোটি কোটি বেকারের সংখ্যা। বাড়ছে মনোবৈকল্য। বিশ্বমন্দার বেহাল অবস্থায় দিশেহারা মানুষ খুঁজে ফিরছে খেয়ে-পরে বাঁচার ন্যূনতম অবলম্বন। মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে চায়; জীবনসংগ্রামে সফল হতে চায়। কিন্তু কীভাবে? কীভাবে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়―তার কিছু চুম্বকীয় গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে এ বইটিতে। বইটিতে কী কী কাজ, কীভাবে করলে, কখন করলে, কোন কোন পদ্ধতি, নীতিমালা অনুসরণ করে এবং কাকে রোল মডেল মেনে স্থির লক্ষ্যে এগোলে সাফল্যের সোনার হরিণ হাতে ধরা দেবে―এসব বিষয় খুব সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

জীবনে কীভাবে সফল হওয়া যায়? সফলতার অর্থ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ কেউ মনে করেন সাফল্য অর্থ ধনবান হওয়া। কেউ কেউ মনে করেন সাফল্য অর্থ মন্ত্রী, মিনিস্টার, জজ-ব্যারিস্টার হওয়া, বড় চাকরি পাওয়া, সামাজিক স্বীকৃতি, সুস্বাস্থ্য, সুন্দর পরিবার বা সামাজিক প্রতিপত্তির অধিকারী হওয়া। সাফল্য লাভের কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই বা সাফল্যের নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যও নেই।

এটি সবসময় একটি গন্তব্যে পৌঁছার পর অন্য গন্তব্যে যাত্রা করে। সুতরাং সাফল্য হলো একটি পথপরিক্রমা। সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। কোনো আভিধানিক শব্দে সাফল্যকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। সাফল্য সম্পূর্ণই আত্মিক পরিতৃপ্তির যথার্থ উপলব্ধিমাত্র। তারপরও সাদামাটাভাবে সফলতা বলতে আমরা যাপিত কর্মজীবনের উন্নতির চরম শিখরকে বুঝি। কিন্তু প্রশ্ন হলো―সাফল্য লাভ কীভাবে সম্ভব? প্রথমেই দেখা যাক বইটির সূচিপত্র-

প্রথম অধ্যায়: সাফল্যের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জসমূহ

ধারণ: ডিজিটাল কোকেন, মানুষ অভ্যাসের দাস, Unlucky Thirteen, Lucky Seven, মোবাইলে নষ্ট করে দিছে, ভাগ্যের লিখন না যায় খ-ন, পরীক্ষা কি ভয়ের বিষয় না ভালোবাসার, লোকে কী বলবে, কলির কালের পোলাপান, তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমাদের তিনটি হাত!, বদ-অভ্যাস, পর্নোগ্রাফি : যৌনতার উৎস। সফলতার সূত্র।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সফলতার কতিপয় মূলনীতি
লক্ষ্য ঠিক করা, জ্ঞান সফলতার বাতিঘর, মহতের সংস্পর্শে থাকুন, স্বপ্নবাজ হোন, শুরু করুন এবং এখনই শুরু করুন, যুগোপযোগী হোন, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন, হাতের কাছের সুযোগটিকে সদ্বব্যহার করুন, অন্তর্নিহিত গুণ সফলতার নিয়ামক, নেতা হোন। অদৃষ্ট নয়; কর্মকুশলতাই সফলতা আনে, শিক্ষক ভাবুন নিজেকে।

তৃতীয় অধ্যায়: জীবন বদলানোর কৌশল
বদলিব বদলাব, নৈতিকতা সফলতার সিঁড়ি, ইচ্ছাটাকে ভালোবাসুন শতভাগ, Six sense,  সফলতার অদৃশ্য শক্তি, বহুমুখী নয়, একমুখী শিক্ষায় পারদর্শী হোন, প্রশিক্ষণে জ্ঞানকে শান দিন, প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করাই জীবনের সফলতা, Failure is pillar of Success, যতনে রতন মেলে, কৌশলী হোন, জীবন দেওয়ার মতো বন্ধু তৈরি করুন, সদয় হোন, দাতার হাত ওপরে থাকে, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা সফলতা আনে, ক্ষমতা নয় দায়িত্ব; শাসক নয় সেবক, Slow and steady wins the race, কাজ করুন; ফল আসবেই, নেতিবাচক ভাবনাকে ইতিবাচক করুন, চেষ্টার কাছে বাধা তুচ্ছ, শৃঙ্খলাই জীবন, কাজের আগে ভাবুন।

BUY NOW

চতুর্থ অধ্যায়: সাফল্যের কতিপয় সিঁড়ি
গুণীর কদর হয় অসময়ে, সফলতার জন্য প্রশংসা, মূল্যায়ন ও কাজের স্বীকৃতি, ক্ষোভ, ঘৃণা ভুলে, ভালোবাসুন প্রাণ খুলে, হাসুন; দীর্ঘজীবী হোন, সফল হতে প্রয়োজন পরিবেশ, সংগ্রামেই সফলতা, বিবেকবোধের কারণেই মানুষ শ্রেষ্ঠ, খেলো জেতার জন্য; না হারার জন্য নয়, চরিত্রই সম্পদ; চরিত্রই সাফল্য, এবং আরো কিছু বেশি, অনভ্যাসে বিদ্যাহ্রাস, কাজেই  কাজি; কাজ করুন নিখুঁতভাবে, উদার হোন, Curtesy begs curtesy, ধৈর্য সফলতার সোপান, পুথিগত বিদ্যা নয়; কল্পনাশক্তি দিয়ে জয়, ভ্রমর থেকে শিক্ষা নিন, কাউকে ঠকালে নিজেই ঠকতে হয়, সম্পর্ক গড়–ন; সফল হোন।

পঞ্চম অধ্যায়: নতুন প্রজন্মের সাফল্যে মা-বাবা ও সন্তানের করণীয়
সন্তানের জীবনে সফলতা আনবেন কীভাবে, সুসন্তান শ্রেষ্ঠ সম্পদ, শিশুদের প্রতি মা-বাবার করণীয়, কিশোর বয়সে মা-বাবার করণীয়, কখনো বলবেন না; সবসময় বলুন, ভুল ধারণা; সঠিক ধারণা, সস্তা জনপ্রিয়তা নয়; সত্য অর্জনে কঠোর হোন, মিথ্যা বলবেন না; বিশ্বাস নষ্ট করবেন না। সাফল্য লাভে ছাত্রদের করণীয়। ভালো ছাত্র হওয়ার ১১টি উপায়, বিশেষ কৌশল, মনে রাখার উপায়, ভালো ফলাফল, অর্জনের পূর্বপ্রস্তুতি, পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীর করণীয়। স্মরণশক্তি বাড়াবেন কীভাবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: বিশেষত্ব অর্জনের উপায়
চাকরির ইন্টারভিউতে ভালো করবেন কীভাবে, একজন ভালো বক্তা হবেন কীভাবে, একজন সফল উদ্যোক্তা হবেন কীভাবে, একজন ভালো ব্যবস্থাপক হবেন কীভাবে

সপ্তম অধ্যায়- বেছে নিন কর্মক্ষেত্র, কর্মক্ষেত্রে নারী বিপ্লব, আউটসোর্সিং : আয়ের বিশাল উৎস, এনজিও : সময়ের চ্যালেঞ্জিং পেশা, আত্মকর্মসংস্থান হোক বেকারের পেশা।

অষ্টম অধ্যায়- মহৎ ও সফল মানুষের অজানা কথা, সর্বকালের সেরা মানুষ মুহাম্মদ (স.), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাজনীতির কবি, অবিসংবাদিত বিশ্বনেতা, সময়ের সাফল্যের আইকন জো বাইডেন, ভারতীয় জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী, বিল গেটসের অজানা কাহিনি, বিশ্বশান্তির স্বপ্নদ্রষ্টা নেলসন ম্যান্ডেলা, আব্রাহাম লিংকনের মোটিভেশনাল কথামালা, আত্মউন্নয়নে জরুরি টিপস।

বইটির সূচিপত্র দেখে বইটি সম্পর্কে একটি ধারণা নিশ্চয়ই হয়েছে। তবে বই পড়ে কি শুধু সাফল্য লাভ করা যাবে? কথায় আছে, ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।’ ইংরেজিতে একটি কথা আছে ‘An Idle brain is a devil workshop‘―অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। এ পৃথিবী কুরুক্ষেত্র অলস কাপুরুষের জন্য নয়। কঠিন পরিশ্রম সাফল্যের সুপার হাইওয়ে। কঠিন পরিশ্রম ছাড়া কোনো সাফল্য নেই। প্রকৃতি পাখিদের খাবার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এগুলো তাদের বাসায় পৌঁছে দেয়নি। খাবারে সংগ্রহের জন্য পাখিদের কাকডাকা ভোর থেকে গোধূলি বেলা পর্যন্ত খাবারের সন্ধানে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কোনো কিছুই সহজে আসে না। আর সহজে যা পাওয়া যায়, তা মূল্যহীন।

প্র্রথমেই আমাদের জানা দরকার লক্ষ্য কী? লক্ষ্য মানে গন্তব্য, লক্ষ্য মানে শেষ ঠিকানা, লক্ষ্য কাম্য বস্তু। কোনো ব্যক্তির সফলতা অর্জনের প্রথম ধাপ হবে কোথায় সে যেতে চায়, তার শেষ ঠিকানা কোনটি এবং সে জীবনে কায়মনোবাক্যে কী চায়। আর সে লক্ষ্যটি হতে হবে একেবারেই সুনির্দিষ্ট এবং একেবারেই সুস্পষ্ট।

জীবনে প্রায়ই আমরা কাজে দীর্ঘসূত্রতা করি। এর ফলে আমাদের পস্তাতে হয়। একজন ছাত্র যখন বলে এখন না রাতে করব, রাতে বলে কালকে পড়ব, কালকে বলে আগামী সপ্তাহে, আবার সপ্তাহ শেষ হলে বলে আগামী মাসে কাজ করে শেষ করব, মাস শেষে এসএসসি ফাইনালের পর। তারপর বলে কলেজ পাঠ শেষে এভাবে ভার্সিটি লাইফ শেষে চাকরি থেকে রিটায়ারমেন্টের পরও আর কাজটি করা হয়ে ওঠেনি। এভাবে দেখা যায়, জীবন তার চোখের সামনে দিয়ে শান্ত নদীর বহমান ধারায় নিরবধি বয়ে চলে যাচ্ছে! জীবনসায়হ্নে উপনীত হয়ে দেখা যায়, কাজটি অসমাপ্তই রয়ে গেল। তাই জীবনঘনিষ্ঠ কোনো কাজ পরে নয়―এখনই, এখন মানে এখনই শুরু করে শেষ করতে হবে।

নানা রকম উদাহরণ তথ্য উপাত্ত দিয়ে লেখক প্রিন্সিপাল মো. বায়েজীদ বোস্তামী এই বইটি মধ্য দিয়ে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে- মানুষ পাখির মতো আকাশে উড়তে পারে না। একটি ছোট্ট কীটও মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মানুষ নেকড়ের মতো দৌড়াতে পারে না, বিড়ালের মতো চোখের দৃষ্টি নেই; বনবিড়ালের মতো থাবা ও দাঁত নেই। শারীরিক দিক দিয়ে মানুষ খুবই অসহায় এবং অরক্ষিত।

কিন্তু যথেষ্ট বিবেচক এবং দয়াশীল বলে ¯্রষ্টা মানুষকে দিয়েছেন চিন্তা করার ক্ষমতা। তাই নিজেই সে পরিবেশ তৈরি করে নিতে পারে; অন্য জীবজন্তুদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। মানুষ সকল জীবজগৎকে তার বুদ্ধিমত্তা ও বিবেকবোধ
কাজে লাগিয়ে সাফল্য অর্জন করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে। বইটি সকল শ্রেণি-পেশা মানুষের জীবনে সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করবে এবং জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে সক্ষম হবে। বইটিকে আপনার জীবন পরিচালনার গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করুন। বইটি পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বাক্য কিংবা অনুচ্ছেদ হাইলাইটার দিয়ে চিহ্নিত করুন। যাতে পরবর্তী সময়ে আপনি তা সহজেই অনুশীলন করতে পারেন।

প্রিন্সিপাল মো. বায়েজীদ বোস্তামীর বই পড়তে ক্লিক করুন 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading