কারা মুজিবের হত্যাকারী? সংক্ষেপে উপনিবেশের পূর্ণ ইতিহাস পাঠ

মুজিব

বইয়ের প্রচ্ছদের শিরোনাম দেখে চমকে উঠতে পারেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী কারা সেটা মিডিয়া,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেট আর গুগলের কল্যাণে প্রায় সবারই জানা। অনেকের বিচারকার্য ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় বইটিতে আসলে কাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে? মূলত প্রত্যক্ষ বিপথগামীরা ছাড়াও এই সীমাহীন দুঃসাহসের পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে, পালে হাওয়া দিয়ে হত্যা পরবর্তী সময়ে ঘাতকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনি সহায়তা প্রদান ও পুরস্কারান্তে উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে তাদের কথা বলা হয়েছে। ৭৫ পরবর্তী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামমাত্র কয়েকজন সহচর বা অধীনস্থদের অবাক করা পদক্ষেপ ও “কিছুই হয়নি” জাতীয় আচরণের মধ্যে সংশ্লিষ্টতার খোঁজ কিংবা নিদেনপক্ষে মৌন সম্মতির সূত্রগুলোর ইতিহাস ও সংশ্লিষ্টতার অনুসন্ধান নিয়ে বইটি। চক্রান্তের পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে বইটি।

ওবায়দুল কাদের – image source :  google

অবশ্য এই ধরনের সাহসী লেখা খুব একটা চোখে পড়ে না। কারণ, খুঁটিয়ে লিখতে গিয়ে একটা শ্রেণীর মানুষের বিরাগভাজনও হতে চায় কয়জন? সেই অর্থে এটা লেখকের সাহসী পদক্ষেপও বলা চলে। লেখক বইটিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বইটি উৎসর্গ করেছেন। এটা কৌশলগত পদক্ষেপ। অস্তিত্বহীনতায় ভুগতে থাকা পরিবেশে এতটুকু কৌশল অবলম্বন বড্ড দরকারও ছিল।

এবার আসি মূল লেখায়, লেখক নিবন্ধেই পাঠকের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছেন যা সময় উপযোগী এবং সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ্য হওয়াটাও লেখকের মতে খুব জরুরী। একটা ওপেন সিক্রেট হয়ে রয়েছে এই উত্তরগুলো।

মূল ভূমিকায় লেখক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কিত প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা ও ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করে শুধরে দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছেন। কাজটিও নিঃসন্দেহে দারুন। এরপর স্বাধীনতা ও পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের উপর লেখা বইয়ে লেখক উপমহাদেশের ক্রমান্বয়ে খন্ডিত হয়ে যাওয়া ইতিহাসকে একদম শুরু থেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সেই খণ্ডনেরই ফলাফল আজকের বাংলাদেশ। বিভক্তির বীজ বপনের সময়টা থেকেই বিশ্লেষণ করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন ইতিহাসে সবসময় একটা নেতিবাচক চরিত্রে মুখোশের আড়ালে তৈরি থাকত। পলাশীর আম্রকানন থেকে ৪৭ ও ৭১ হয়ে ৭৫ এর সংযোগ দেখিয়েছেন তিনি।

পলাশীর যুদ্ধ – image source : wikipedia

আরও বিস্তারিতভাবে বললে ২৩ শে জুন পলাশীর আম্রকানন থেকে শুরু করেছেন, তবে পুরো লেখা জুড়ে সাতচল্লিশের দেশভাগের আলোচনা ছিল সিংহভাগ। ক্রমধারা বর্ণনা করতে করতে শেখ মুজিব হত্যার ইতিহাসেও সেই বিভক্তির প্রভাব ও রুপরেখায় নেতিবাচক চরিত্রে যোগসুত্র দেখিয়েছেন। সিরাজউদ্দৌলা, রামমোহন রায়, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, মৌলানা আজাদ, গান্ধী, জিন্নাহ,  নেহেরু, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানীসহ সবার সচরাচর অনুল্লিখিত ইতিহাস এ কলম ঘুরিয়েছেন।

অল্প করে হলেও পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে চেয়েছেন একটি উপনিবেশের। বর্ণনা করেছেন এই উপনিবেশের ইতিহাস ও তার ভাঙ্গনকে। বলেছেন সম্ভাবনার কথা, যেভাবে বা যেসকল পদক্ষেপ নিলে এই ভাঙ্গন রোধ করা যেত। নিজে উদ্যোমী হয়ে সেসব নিয়েও জানিয়েছেন মতামত। এখানেই থামেননি লেখক, মুজিব হত্যা পরবর্তী বাংলাদেশের অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের চেষ্টাও দেখা গেছে শেষাংশে। ২৮০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে পুরোদস্তুর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, সাথে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার কথা পাওয়া মুশকিল। এই জায়গাটিতে লেখক পরিপূর্ণভাবে সফল। ইতিহাস প্রেমীদের জন্য বইটা অবশ্য পাঠ্য হতে পারে।

[চেতনার শিল্পিত প্রকাশ শিরোনামে পরিচিত রোদেলা প্রকাশনী থেকে রিয়াজ খানের প্রকাশনায় “কারা মুজিবের হত্যাকারী?” বইটির লিপিবদ্ধ মূল্য ৪০০ টাকা। লেখক ওমর খালেদ রুমির ঝকঝকে প্রিন্টের এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোবারক হোসেন লিটন। অনলাইনে রকমারির ওয়েবসাইট কিংবা রকমারিতে রোদেলার প্রকাশনা পেজে পাওয়া যাবে বইটি। আই.এস.বি.এন 987-984-94479-3-1]
tausif

tausif

Published 05 Oct 2020
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png