মৌরি মরিয়মের সেরা ৫ উপন্যাস

মৌরি মরিয়মের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা
2021-11-16 মৌরি মরিয়মের সেরা ৫ উপন্যাস

তখন মাত্র দশম শ্রেণীর ছাত্রী তিনি।  রঙীন স্বপ্নের মতো কাটছিল দিন। রং-বেরং এর ডায়েরি সংগ্রহ করার বাতিক ছিল তার। নিজের স্বপ্ন অনুভূতি আর শখের কথা লিখে রাখতেন ডায়েরিত। বারান্দার টবে ছোট্ট ফুলের চারা বুনন করার মতোই  কবিতা-গল্প লিখে রাখতেন ডায়েরিতে। কখনও নিছক ব্যক্তিগত কথা, কখনও অলীক কোনো কল্পনার ফুলঝুরিতে ভরে ‍উঠতো ডায়েরির পাতা। সেদিনকার সেই ডায়েরির লেখাগুলো যে একদিন হাজারো মানুষের প্রিয় হয়ে উঠবে আর ডায়েরি লেখা মেয়েটি হবে জনপ্রিয় এক লেখিকা সে কথা কেইবা জানতো।

এই লেখাটি লিখেছেন একজন কন্ট্রিবিউটর।
চাইলে আপনিও লিখতে পারেন আমাদের কন্ট্রিবিউটর প্ল্যাটফর্মে।

বলছিলাম মৌরি মরিয়ম-এর কথা। খুব অল্প সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন মৌরি মরিয়ম। ছাত্রজীবনে লেখক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রচনা করেছেন ৪-৫টি উপন্যাস। তবে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০১৮ সালে। মৌরি মরিয়ম এর উপন্যাস ‘প্রেমাতাল’ ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়। ঠিক এর পরের বছর ২০১৯ সালের বইমেলায় তিনি উপহার দেন তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অভিমানিনী’। ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব’ তার প্রকাশিত তৃতীয় উপন্যাস।  মৌরি মরিয়মের সেরা ৫ উপন্যাস নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

. অভিমানিনী

 

অভিমানিনী
BUY NOW

‘অভিমানিনী’ মৌরি মরিয়মের লেখা প্রথম উপন্যাস। ‘প্রেমাতাল’ উপন্যাসটি প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস হলেও  মৌরি মরিয়য়ম প্রথম লেখা শুরু করেছিলেন অভিমানিনী। এই উপন্যাসের পিছনের গল্পটা খুব ইন্টারেস্টিং।  দশম শ্রেণীর ছা্ত্রী থাকা অবস্থায় গোটা উপন্যাসটি লিখে ফেলেছিলেন মৌরি মরিয়ম।  তবে উপন্যাসটি পূর্ণতা পায় আরো পরে। দীর্ঘ সময় পর ২০১৬ সালে আবারো ‘অভিমানিনী’ সংযোজন-বিয়োজন করেন তিনি। ডায়েরিতে লেখা উপন্যাসটির কাহিনীও শুরু হয়েছে একটা ডায়েরি থেকে। অদ্রি, অর্পি নামক দুইবোন এক বৈশাখী ঝড়ের আবিস্কার করে একটি ডায়েরি। অদ্রি, অর্পির বড় চাচ্চু বেশ নাম করা ডাক্তার। কিন্তু লোকটা যেমন গম্ভীর, তেমন নীরব। ডায়েরিটা বড় চাচ্চুর। অদ্রি আর অর্পি একদিন লুকিয়ে লুকিয়ে পড়া শুরু করে বড় চাচ্চুর ডায়েরি। ওদের সামনে উন্মোচিত হয় নতুন এক জগত। আবিষ্কার নতুন এক চাচ্চুকে। ১৮-২০ বছর আগের গল্পে হারিয়ে যায় অদ্রি, অর্পি। যেই আপনিও হারিয়ে যেতে বাধ্য হবেন।

রোমান্টিক ধাঁচের উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অধ্যয়ন প্রকাশনী।

২. তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো

 

তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো
BUY NOW

 মৌরি মরিয়মের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো’।

ধরা যাক, আপনি একজনকে ভালোবাসেন। আপনার ভালোবাসাটা বেশ পুরোনো। সেই স্কুল জীবন থেকে আপনি কাউকে ভালোবেসে আসছেন। সচারচর যা হয়, আপনার ক্ষেত্রেও তাই ঘটলো। ধরা পড়ে গেলেন প্রেমিকার বাবার কাছে। আপনাকে বলা হলো, “তুমি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভুলেও আমার মেয়ের সাথে কোনোদিন যোগাযোগ করবে না। না ফোনে, না টেলিফোনে, না সামনা-সামনি, কোথাও কোনোভাবেই তুমি আমার মেয়ের সামনে আসবে না। যদি এসব মানতে পেরে নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারো, আমার কাছে এসো। আমার মেয়েকে আমি তোমার হাতে তুলে দিবো!”

এখন, আপনি কী করবেন?

আপনার প্রেমিকাকে এসব বলবেন? সেটারও সুযোগ নেই। ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো’ কেবল প্রেমের উপন্যাস নয়। এটি লড়াইয়েরও গল্প বলে, সংগ্রামের গল্প বলে। হয়তো গল্পটা আমার, আপনার বা খুব কাছের কারো। গল্পটা আমাদের জীবনের, আমাদের ভালোবাসার।

‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো’ উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অধ্যয়ন প্রকাশনী।

৩. ফানুস

 

ফানুস
BUY NOW

জীবনে কাউকে পেয়ে হারানোর ব্যাথা হয়তো না পাওয়ার চেয়েও বেশি। আমাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারগতা থাকে যেটা আমরা মেনে নিতে পারি না। যে জিনিসটি পাওয়া যাবে না আমরা বরাবর সে জিনিসটির দিকেই ছুটে যাই। সেই জিনিসটার প্রতিই ভালোলাগা, ভালোবাসা জন্মে। পাওয়া যায় না এমন জিনিসের প্রতি মানুষের লোভ আজন্ম। ‘ফানুস উপন্যাসটি এমনই এক গল্পের। এই উপন্যাসের একটি বৈশিষ্ট্য হলো উপন্যাসে প্রধান চরিত্র অনেকগুলো।  প্রিয়, পেট্রা, শুদ্ধ, নিকিতার সাথে সাথে পাঠক যেন হারিয়ে যায় নিজের জীবনের গল্পে। ‘ফানুস’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিয়ে লেখিকা লিখেছেন, “২০১৬ সালের শেষ দিকে আমি উপন্যাসটি লেখা শুরু করি। এর কয়েকবছর আগে থেকেই গল্পটি আমাকে ভীষণ ভাবে বিরক্ত করতো। যেটাই লিখতে যেতাম এর চরিত্রগুলো মাঝখানে এসে মাথার ভিতর ঘুরঘুর করতো। একরকম অতিষ্ঠ হয়েই লেখা শুরু করলাম।”

‘ফানুস’ উপন্যাসটি পড়ার পর এর চরিত্রগুলো আপনার মাথায়ও ঘুরঘুর করবে। উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে ‘অন্যপ্রকাশ’।

৪. সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর

 

সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর
BUY NOW

‘সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর’ মৌরি মরিয়মের পাঠক নন্দিত একটি বই।  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে দেখা হয় এই উপন্যাসের একঝাঁক তরুণ-তরুণীর। দীপ, মোহ, প্রজ্ঞা, সিধু, অন্যা, জিসান, আকাশ সপ্তমন্ডলীর এই সাত নক্ষত্রের মেলায় আলোকিত বন্ধু মহলের। প্রজ্ঞা নিঃশব্দ ভালোবাসে চারুকলার এক সিনিয়রকে, যে নিজের জীবনযুদ্ধের তরীকে কূলে ভিড়াতে ব্যস্ত। মা হারা মোহ, এক সময়ের রাজকুমারী আজ সৎ মা আর পরিবারের চাপে নিজের বাড়িতেই নিজে পরাশ্রিত। এই উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্রের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প। উপন্যাসটি পড়ে একজন পাঠক লিখেছেন –“এই উপন্যাসটি একটি সমকালীন উপন্যাস। সমকালীন উপন্যাসে সে সময়ের সমাজের হালচাল, সংস্কৃতি, জীবনযাপন, কুসংস্কার- সব ফুটে ওঠে। আর এ উপন্যাসে এ যুগের ছেলে-মেয়েদের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সব ফুটে উঠেছে।
আবার আরেকদিক দিয়ে এটিকে একটি ভ্রমণ উপন্যাসও বলা চলে। ভ্রমণের স্থানের বর্ণনা, বিখ্যাত স্থান, সেই স্থানের খাবার নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আবার গল্পের চরিত্রের মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, তাদের মনের মিথস্ক্রিয়ার ফলে এ উপন্যাস ভ্রমণের পাশাপাশি প্রেমের উপন্যাসও বটে।”

‘সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর’ উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অধ্যয়ন প্রকাশনী।

৫. মহাযাত্রা

 

মহাযাত্রা
BUY NOW

মহাযাত্রা শেষ থেকে শুরুর গল্প। মৌরি মরিয়মের মহাযাত্রা উপন্যাসটি নিয়ে একটি পাঠ-প্রতিক্রিয়া আগে পড়ে আসা যাক-

“তুমহারে শেহের কা মৌসাম বাড়া সুহানা লাগে,
এক শাম চুরালু আগার বুরা না লাগে।
তুমহারে বাস মে আগার হো তো ভুল যাও হামে,
তুমহে ভুলানে মে শায়েদ হামে জামানা লাগে”

অমিত আলী এহমাদের গজলের এই লাইন গুলো কেন যেন প্রাণো নামের মেয়েটাকে এত টানে। ‘প্রাণো’ এক রূপবতী কিশোরী,যার দুরন্তপনা প্রথম মুগ্ধ করেছিল তার জীবনের প্রথম পুরুষ নির্ঝরকে। তার হাসি, গান, পেটে কাপড় বেঁধে প্রেগন্যান্ট সেজে একা একা অভিনয় করা, আনমনে আঙুলে চুল পেঁচানো এসব লুকিয়ে লুকিয়ে দেখত সে। প্রাণো জানত না তার জানার বাইরেও দুনিয়া আছে। নির্ঝর তাকে বুঝিয়েছিল সত্যিই সে বন্দী। সে চেয়েছিল বন্দীদশা থেকে প্রাণোকে বের করতে, পুরো দুনিয়ার সাথে পরিচয় করাতে। একটা সময় সত্যিই প্রাণোর জগৎ পাল্টে যেতে শুরু করল। আস্তে আস্তে পুরোপুরি অন্যরকম হয়ে গেল, নির্ঝর প্রাণোকে উড়তে শেখাল, ওরা দুজন মিলে উড়তে লাগল। অতঃপর বিয়ে..

উড়তে উড়তে বিয়ে করল তারা। আর বিয়ের পর থেকেই শুরু হলো প্রাণোর দ্বিতীয় বন্দী জীবন। এটা করা যাবে না, ওটা করতে হবে বলে আবার বন্দী প্রাণোর সত্তায় নিয়ে যেতে শুরু করল। নির্ঝর সবকিছুতে নিজেকে প্রাণোর বাবার সাথে তুলনা করলেও একদিন সে বলেছিল কাউকে আটকে রাখা ঠিক না সেই নির্ঝর স্বাধীনতার সাথে পরিচয় করিয়ে আবার নিজেই কেড়ে নিয়েছে, উড়তে শিখিয়ে আবার ডানা কেটে দিয়েছে। ব্যাপারটায় খুব ব্যথা না?
কতন কষ্ট, অভিমান, ব্যথা, কান্নার পরও মানুষের জীবনে সব থেকে আগলে রাখা মানুষটাই যখন ভুল প্রমাণ হয় তখন আর কান্না আসে না। প্রাণো তুমি সত্যি বোকা, শুনার পরও বোকামিগুলো কখনও ধরতেই পারল না প্রাণো। তার জীবনের বড় ভুল তো একটা পাপকে ক্ষমা করেই হয়েছিল,যার পরিণতি ভয়ঙ্কর ভাবে তার জীবন দিয়ে গেল।
১৬ বছরে বিলাসবহুলভাবে বড় হওয়া মেয়েটা কিভাবে পাবলিক কলেজের গনরুমে থেকেছে,ডাবল বেডে একা থাকা মেয়েটা কিভাবে সিঙ্গল বেড শেয়ার করতে শিখেছে, এক সময় গাড়ি দিয়ে চলা মেয়েটা লোকাল ট্রেনে চড়ে গিয়েছে, জীবনে করুণ পরিস্থিতির শিকার এই মেয়েটা একসময় সিগারেট বিক্রি থেকে শুরু করে পার্লারের চিরুনি পরিষ্কার করার কাজ পর্যন্ত করেছে। একের পর এক পারিবারিক জীবনের প্রতিকূলতা, ভালবাসা, প্রতারণা, ধোঁকা, হারানো জীবনে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া মেয়েটার নিভু নিভু প্রদীপশিখার জ্বলে ওঠার গল্প।

মহাযাত্রা উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অধ্যয়ন প্রকাশনী।

আরও পড়ুন- সহজে ইংরেজি শিখতে হলে যে ৫টি বই অবশ্যই পড়তে হবে

মৌরি মরিয়মের সবগুলো বই দেখতে ক্লিক করুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading