মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছয়টি কিশোর উপন্যাস, যা আপনার পড়া উচিত

মুক্তিযুদ্ধ

সূর্যের দিন
হুমায়ূন আহমেদ

খোকনদের বাসার নিয়ম হলো বয়স অনুসারে সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে । আর এ নিয়ম জারি হয়েছে খোকনের বড় চাচার জন্য যাকে বাসার ছোট-বড় সবাই ভয় পায়। অসুস্থ মা আর প্রোফেসর বাবার বইয়ের জগতের ব্যস্ততায় কিশোর খোকনের দিনগুলো কাটে বন্ধুদের সাথে যারা স্বপ্ন দেখে একদিন বিশ্বভ্রমনে বেরিয়ে পরবে আর তাদের দলের নাম হবে ‘ভয়াল ছয়’। কিন্তু হটাৎ মুক্তিযুদ্ধ এসে এলোমেলো করে দেয় এই ছয় কিশোরের পরিচিত জীবন। বঙ্গবন্ধুর মুখ দিয়ে কথা বলে উঠে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি । আফ্রিকা ভ্রমনের মতো কিশোরসুলভ আচরণ বাদ দিয়ে এই কিশোররা ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশমাতৃকার ডাকে।

Buy Now

একাত্তরের যীশু
শাহরিয়ার কবির

গল্পটি এক জেলেপাড়া নিয়ে। তখনো যুদ্ধ গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েনি। জেলেপাড়ার জেলেরা মাছ ধরে, তারপর হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। সে গ্রামে একটা চার্চও ছিল। গ্রামের বেশিরভাগ জেলেই ছিল খ্রিস্টান। প্রতি রবিবার চার্চের কেয়ারটেকার ডেসমন্ড সকালে গির্জার ঘণ্টা বাজাতেন। আর তারপর গ্রামের সব মানুষ আসতেন সেই গির্জায়। ফাদার তাদেরকে বাইবেল থেকে যীশুর গল্প শোনাতেন। সবকিছুই চলছিল ঠিকঠাক। কিন্তু একদিন ওদের গ্রামেও যুদ্ধ এসে পড়লো। সেদিন জেলেরা হাটে গিয়ে বসে বসে মাছি মারছিল; কেউই আর মাছ কিনতে আসে না। হঠাৎ ওরা শোনে কারা যেনো ‘জয় বাংলা’ বলে শ্লোগান দিচ্ছে। আর তারপরই গুলির শব্দ। পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে। জেলেরা যে যেদিকে পারলো পালাতে লাগলো। কিন্তু সবাই পালাতে পারলো না। ওদেরই একজন, হরিপদ পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে মারা গেল।

Buy Now

কাকতাড়ুয়া
সেলিনা হোসেন

প্রতিটি স্বাধীন জাতির ন্যায় বাঙালি জাতির-ও রয়েছে এক নিজস্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সাড়ে নয়মাস স্থায়ী হলেও এ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে বাঙালিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এসব দ্রোহে কিংবা যুদ্ধে তরুণদের অবদান মুখ্য হলেও অল্পবয়সী কিশোরেরাও পিছিয়ে ছিল না কোনো অংশে।

এমনই এক হার-না-মানা অদম্য সাহসী কিশোরের সাহসিকতার গল্প নিয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন লিখেছেন তার “কাকতাড়ুয়া” উপন্যাসটি। মূলত কৈশোরে পা দেওয়া পাঠক-পাঠিকার কথা মাথায় রেখে এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। প্রধান চরিত্র নির্ভর এ উপন্যাসে কাকতাড়ুয়া শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মাঠের ফসলরূপী দেশমাতাকে কাকরূপী শত্রুসেনাদের হাত থেকে রক্ষা করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল, তাদেরকে বুঝাতে এ শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ কাকতাড়ুয়া শব্দটি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বোঝানো হয়েছে এ উপন্যাসে। উপন্যাসের গল্পের সূচনা হয় বুধা নামক এক এতিম কিশোরের গল্প দিয়ে। প্রাণনাশক কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের সবাই একরাতের মধ্যে পরপারে পাড়ি জমালেও কেন জানি তার উপরে যমের শ্যেনদৃষ্টি পড়েনি সেদিন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সে সেদিন। এ বেঁচে যাওয়াটাকে সে সৌভাগ্য বলে মানতে নারাজ। বরং তার কাছে এটা দুর্ভাগ্যেরই নামান্তর। কেননা, সে ভাবে, বাকি সকলের মত সে-ও মারা গেলে বেঁচে যেত সেদিন সে। পরিবারের কেউ নেই বলে তাকে শাসন করবার-ও কেউ নেই। পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় সে। ঘটনাক্রমে তার পরিচয় হয় মুক্তিবাহিনীর দুই সদস্যের সাথে। এভাবেই এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প।

Buy Now

আমার বন্ধু রাশেদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

‌আমার বন্ধু রাশেদ’ জাফর ইকবালের অন্যতম বেস্ট লেখাগুলির একটি। উপন্যাসে একাধারে বন্ধুত্ব,ত্যাগ, সাহসীকতা, স্বাধীনতা ফুটে উঠেছে। ১৯৭১ সালে মফস্বল শহরের কয়েকজন কিশোর কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তারই কিছু চিত্র ফুঁটে উঠেছে গল্পে।

গল্পটি স্বাধীনতার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইবু নামক ছেলের ভাষ্যে রচিত। ৭ম শ্রেণিতে তাদের ক্লাসে আরেকটি ছেলে নতুন আসে যার নাম লাড্ডু (পরে রাশেদ রাখা হয়)। এই রাশেদই উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ। ইবুর সাথে তার বেশ ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়। রাশেদ তার বয়সী অন্যসব ছেলেদের থেকে সে একটু আলাদা; সে তার বাবার সাথে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাপ করে। দেশের অবস্থা তখন আস্তে আস্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শহরে রাতে মশাল মিছিল নামলে সে আর ইবু তাতে অংশ নেয়; আর বাকীরা তাদের সাহসে মুগ্ধ হয়। একসময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। শফিক ভাই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর রাশেদ ও ইবু বেশ কয়েকটি অপারেশনে সাহায্য করে মুক্তিযোদ্ধাদের।

Buy Now

শরণার্থী শিবির থেকে
মোজাম্মেল হক নিয়োগী

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রিত শরণার্থীশিবিরে কেমন ছিল প্রায় এক কোটি মানুষ? ‌শরণার্থী শিবির থেকে’ শরণার্থীশিবিরের তথ্যভিত্তিক প্রথম কিশোর উপন্যাস। একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া এদেশের সহায়-সম্বলহীন রোগে-শোকে ক্লিষ্ট, পাকসেনাদের দ্বারা আক্রান্ত স্বজনহারা বিপন্ন বিমর্ষ মানুষগুলোর জীবনচিত্র এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। কিন্তু এই আখ্যানের বয়ানরীতি, গল্পের কাঠামো নির্মাণ-পরিকল্পনা এমন অভিনব কৌশলে, অত্যাশ্চর্য সুনিপুণ দক্ষতায় করা হয়েছে যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, পারিপর্শ্বিক পরিস্থিতিসমূহ দীপ্তমান হয়ে উঠেছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এ কিশোর উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মূলত অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া তের বছর বয়সের পিতাহীন এক মেধাবী কিশোর। নাজমুল ইসলাম বাবু। ছেলেবেলায় পিতাহারা বাবুর মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে অসহায় বাবু ঢাকা শহরে বোন দিলারার বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে সে পড়ালেখার পাশাপশি নিজের খরচ চালানোর জন্য ঠোঙ্গা কারখানায় কাজ করে। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে বর্বর পাকিস্তানি নরপশুবাহিনী এদেশের নিরস্ত্র নিরীহ মানুষের ওপর শকুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে রাতে বাবুর দুলাভাই নিখোঁজ হন। জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তারা গ্রামের বাড়ি রওনা হয়। হোসেনপুর পৌঁছালে তারা পাকসেনাদের কবলে পড়ে। দিলারার বুকের ধন শিশুসন্তানকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দিলারাকে ধরে নিয়ে যায় এবং বাবুকে লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেয় পাকসেনারা। ভারতের বাঘমারা শরণার্থী শিবিরে রওনা হওয়ার দিন এক হিন্দু পরিবারের প্রধান গিরিশচন্দ্র অর্ধমৃত অবস্থায় বাবুকে নদীতে ভাসতে দেখে। সেখান থেকে তুলে এনে বাবুকেও সঙ্গে নিয়ে যায় ভারতে। নিজ সন্তানের মতো আদর-যত্নে সুস্থ করে তোলে তাকে।

Buy Now

শরণার্থী শিবিরের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট, রোগে-শোকে মানুষের মৃত্যুর মিছিল, সোমেশ্বরী নদীর জলে ভেসে যাওয়া শত শত লাশ আর বালুচরে শেয়াল-কুকুরে খাওয়া ছেঁড়াখোঁড়া শবদেহ দেখে বাবু নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। মুক্তিপাগল তরুণ নারায়ণের সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢুকে পড়ে দেশে। আর সেই অঞ্চলের কোনো এক গ্রামে রয়ে গেছে তার মা। আর পাকসেনাদের হাতে বন্দি বোন দিলারা। বোনকে যে উদ্ধার করতেই হবে। এমন আকুতি নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে একদিন মায়ের সাথে দেখা হয়। বাবুর নির্ভুল ম্যাপিং ও বুদ্ধিমত্তায় সম্মিলিত আক্রমণে উড়িয়ে দেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বানাসি ব্রিজ। আক্রমণ করা হয় হোসেনপুর পাকসেনা ক্যাম্প। সব হানাদার ধ্বংস করে জয়ী হয় বাংলা মায়ের সূর্যসন্তানরা। বাবু ক্যাম্পের এখানে-ওখানে খুঁজে বেড়ায় প্রিয় বোনকে। কিন্তু পায় না। হঠাৎ এক কক্ষে খুঁজে পায় বোনের সবুজ শাড়ি। মাঝখানে তার জমাট বাঁধা রক্ত। এ যেন রাত পেরিয়ে উদিয়মান ভোরের রক্তিম সূর্য।

একাত্তরে ফার্স্টবয়
সাইফুল ইসলাম জুয়েল

একাত্তরে ফার্স্টবয়’ কিশোর উপন্যাসটি দুটি কালে আবদ্ধ। একটি বর্তমান কাল, আরেকটি অতীত তথা ১৯৭১ সাল।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কিশোরী পিংকি তার বাবা জাফর আহমেদের সাথে পিতৃভূমি বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। অন্য দেশে বড় হয়ে ওঠা পিকিংর মনে ধীরে ধীরে একটি কৌতূহল  সীমাহীন দেশপ্রেমের সৃষ্টি করে। পিংকি স্বাভাবিক কৌতূহল থেকেই তার বাবার মুখে ১৯৭১ সালে তাদের স্কুলের ফার্স্টবয়ের গল্প শুনতে চায়। পরে সে আবিষ্কার করে, সেই ফার্স্টবয় দূর্জয় ছিল একাত্তরের এক সাহসী যোদ্ধা। দেশের বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছে সে। কিন্তু যুদ্ধে গিয়ে শেষ পর্যন্ত  কী পরিণতি হলো দূর্জয়ের?

ধীরে ধীরে কাহিনীর ভেতরে ঢুকে পড়ে পিংকি ও তার বাবা জাফর আহমেদ। তারা উপলব্ধি করে, যুদ্ধের এত এত বছর পরেও দূর্জয়ের লড়াই শেষ হয়নি। বরং সে লড়াই চলছেই।

  মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানবেন যে সকল বই  এর মাধ্যমে। 

 
 

Saiful Jewel

Saiful Jewel

Published 09 Jan 2020
  0      1
 

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png