নিজেকে গড়ে তুলতে হলে কী করবেন?

2021-10-30 বই রিভিউ- নিজেকে গড়ে তুলতে

জাহাঙ্গীর আলম শোভনের বেশকিছু সুখপাঠ্য, বাস্তবধর্মী এবং জীবনমুখী লেখা নিয়ে রচিত হয়েছে এ বইটি। এই লেখাগুলোর জনপ্রিয়তা এবং এগুলোর পাঠের পর পাঠকের অনুভূতি মূলত এই বই প্রকাশের অনুপ্রেরণা। তাই জাহাঙ্গীর আলম শোভনের আত্মউন্নয়ন, ক্যারিয়ার বিল্ডআপ ও জীবনমুখী লেখার সংকলন বলা যেতে পারে এই বইকে। এই বইয়ের বেশিরভাগ লেখা কিনলে জবস-এর ব্লগ থেকে নেয়া। লেখাগুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আজকের তরুণ সমাজের জন্য অত্যাবশ্যক।

নিজেকে তৈরি করার জন্য জ্ঞানভিত্তিক বিদ্যাচর্চার সাথে সাথে কিছু একটা কাজ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অর্থাৎ জীবন ও জীবিকার জন্য তৈরি হওয়ার তাগিদ রয়েছে। তাই বলে স্বার্থের বেড়াজালে বন্দি হতে বলা হয়নি। সামাজিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শিষ্ঠাচার, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদিও আলোকপাত করা হয়েছে। শুধু কাজ আর জ্ঞান কিংবা সামাজিক দায়িত্ব নয়, নিজের প্রতি খেয়াল রাখার প্রতি তাগিদও দেয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য, খাবার, ব্যায়াম, ঘুম ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কারণ এগুলোর সবই আমাদের জীবনের অংশ। কোনোটাকে বাদ দিয়ে জীবন পূর্ণ হতে পারে না।

চাকরিপ্রার্থী কিংবা উদ্যোক্তা, পেশাজীবী কিংবা স্বাধীন কর্মী- সকলের জন্যই কিছু ভিন্ন ভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট পরামর্শের পাশাপাশি এই বইয়ে রয়েছে সাধারণ কিছু বিবেচ্য বিষয়ও। এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণত জীবনগঠনমূলক ও আত্ম-উন্নয়নমূলক। যাতে প্রজন্মের পাঠকেরা একটা দিশা পায়। ভাসাভাসা বা বিমূর্ত কিংবা উড়ো পরামর্শ: যেমন ইতিবাচক হতে হবে, এই হতে হবে, সেই হতে হবে এগুলোর আলোচনা করার চেয়ে বরং কীভাবে ইতিবাচক হওয়া যায়, কীভাবে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়- সে ব্যাপারে গঠনমূলক সুস্পষ্ট আলোচনাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এ বইয়ে।

BUY NOW

আসলে যেকোনো উন্নয়নই একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটা পর্বে এসে থেমে যাওয়ার বিষয় নয়। সব সময় একটা ব্যাপারে উন্নয়ন ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। দিন দিন সেটি পাকাপোক্ত এবং গত দিনগুলোর চেয়ে আরো ভালো ও কার্যকর হবে এটাই উন্নয়ন। আমরা যে ভুলটা করে থাকি, সেটা হলো আমরা পরীক্ষার পর মনে করি যে, আমার পড়ার প্রয়োজন নেই, ফলাফল দেয়ার পর মনে করি আর বইয়ের প্রয়োজন নেই। আর চাকরি পাওয়ার পর মনে করি আর জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। প্রমোশনের পর মনে করি আর বোঝার দরকার নেই। এই যে একটা পর্বে এসে থেমে যাওয়া, এটা আত্ম-উন্নয়নের একটা বাধা বরং নিজের জানার ও বোঝার ব্যাপারটা নিয়মিত চালু রাখতে হবে নতুন নতুন জ্ঞানের সাথে পরিচয়ই আত্ম-উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

যেকোনো বিদ্যা বা বিষয়কে জানার মাঝেই শুধু সীমাবদ্ধ রাখলে তাতে তার সামনের পদক্ষেপ বা পরের সিঁড়ি কী হবে সেটা জানা যাবে না এবং সে ব্যাপারে সুবিধা-অসুবিধাও জানা যাবে না। এজন্য চাই অনুশীলন। অনুশীলনের ফলে বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা যায়। অনুশীলনের মাধ্যমে সামনে এগুনোর প্রেরণা পাওয়া যায়। যেমন কেউ ভালো দৌড়াতে পারেন। কিন্তু দশজনের মধ্যে দৌড়ে প্রথম হতে পারবেন কি না, সেটা আত্মবিশ্বাসীর মতো বলার জন্য প্রয়োজন হবে অনুশীলন করার। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গতি ও শক্তির দিক সম্পর্কে জানা যাবে এবং অন্যদের সঙ্গে তার সামর্থ্যরে তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণও করা যাবে। আপনি অবশ্যই সেই বিষয়ে অনুশীলন করবেন, যেটা জীবনের জন্য প্রয়োজন। অন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার হয়তো একটু ধারণা থাকলেই হবে।

শিক্ষাজীবনের শেষে কিংবা শিক্ষাজীবনের একটা পর্যায়ে আমরা ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। প্রথমদিকে ধারণা হয়ে থাকে যে, আমরা যেকোনো একটা কিছু পাস করে বের হব তখনই চাকরি আমাদের পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। পরে বিষয়টা আস্তে আস্তে জানতে পারি যে, চাকরি নামের সোনার হরিণ দিন দিন দূর থেকে দূরে চলে যায়। কখনো চাকরি পায় তো বেতন পায় না, বেতন পায় তো বোনাস পায় না। বোনাস পায় তো প্রমোশন পায় না। এমন নানা কারণে হতাশা নেমে আসে জীবনে। অথচ আমরা যদি আগেই একটু সতর্ক হতাম তা হলে নিজেকে সেভাবে তৈরি করলে হয়তো এড়িয়ে চলা যেত কিছু ভুল।

আমরা কখনো কখনো হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি এবং ভুল সিদ্ধান্তের উপর ভুল কারণে অটুট থাকি। আবার কখনো হুটহাট সিদ্ধান্ত নিই আর হুটহাট বদলাতে থাকি। কখনো-বা ভাবতে ভাবতে সময় পার করে দিই কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এই তিনটা অবস্থার কোনোটাই মঙ্গলজনক নয়। ঠিক করুন যে, কত সময়ের মধ্যে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব বেশি সিদ্ধান্তহীনতা থাকলে অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা জানতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার টাইম ফ্রেম ঠিক করার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া সহজ করতে করণীয়গুলো ঠিক করে রাখতে হবে আগেই এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা অর্জনের জন্য হয়তো প্রথমে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে হতাশ না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য মনের জোরটা থাকা চাই।
মানবতা ও মানবিকতা দুটোই বুঝুন এবং চর্চা করুন। সাধারণত আমরা আমাদের মা-বাবা ভাইবোন এমনকি বন্ধু বা গোত্রের লোকদের জন্য মায়া বা ভালোবাসা রাখি। বেশিরভাগ সময় আমাদের এই আবেগ এতটাই প্রিম্যাচিউরড হয়। আমরা যাকে ভালোবাসি তার সাথে যার শত্রুতা বা সমস্যা তাকে ঘৃণা করি, হিংসা করি, অপমান-অপদস্থ কিংবা আক্রমণ করি। তাই আমরা নিজের লোকদের প্রতি মানবিক হয়েও মানবতার চর্চা করতে পারিনি। এই জায়গায় ঠাণ্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে আপনি মানুষ হিসেবে অপূর্ণ।
বইটির বিষয় সূচি সাজিয়েছেন লেখক এভাবে-জীবনকথন পর্ব : কথার কথা নয় কাজের কথা, ছাত্রজীবনই হোক কর্মজীবনের প্রস্তুতি, ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলো ঝেড়ে ফেলুন, আত্ম-উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, আত্ম বিশ্বাস অর্জন করবেন কীভাবে, বদলে যাওয়ার পথে, এভাবে নয় ওভাবে, আত্মযাচাই: আপনি কতটা সৃজনশীল।
কর্মদীপন পর্ব : সামনে ক্যারিয়ার আপনি কি তৈরি, সফল হতে চাই নাকি সার্থক হতে চাই, পাঠ্যপুস্তকের বাইরে কী জানি, নতুন বছরে নিজেকে তৈরি করুন নতুনভাবে, নিজেকে বদলে নিতে, নতুন করে ভাবি, আত্মযাচাই: আপনি কি নিজেকে সবজান্তা ভাবেন।
কর্মদক্ষ পর্ব : কেমন হওয়া উচিত জীবনবৃত্তান্ত, জীবন বৃত্তান্তের বিষয়-আশয়, কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগাবেন, চাকরির ইন্টারভিউতে যে ৯টি কাজ করবেন না, সাক্ষাৎকারের আদব বা ইন্টারভিউ ম্যানারস, চাকরির সাক্ষাৎকার: কমন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কর্মক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানো, আত্মযাচাই: দেখে নিন নিজের অবস্থান খুজে নিন পথ।
কর্মোদ্যম পর্ব : বদলে যাওয়ার পথে, আর্থ-সামাজিক চাপ সামলাবেন কীভাবে, যে ভুলগুলো চারপাশে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে, উন্নত সামাজিক শিষ্টাচার, রাগ সামলাবেন কী করে, আত্মযাচাই: আপনি কতটা ব্যবসা বোঝেন যাচাই করুন।

জীবনযাপন পর্ব : ভালো থাকা নিজের ইচ্ছায়, যখন ঘুম আসে না, কী করবেন, নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন, ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন, আমাদের সমাজ-সমস্যার বিভিন্ন দিক, আত্মযাচাই: তালিকাভিত্তিক মূল্যায়ন।

প্রচলিত অনেক ইংরেজি শব্দের বাংলা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে হয়তো কখনো কখনো পুরনো ধারার রচনা মনে হতে পারে। এমনটা করা হয়েছে ইংরেজি বা বিদেশি শব্দের আধিক্য রোধ করার জন্য। কর্ম ও জ্ঞান একটা আরেকটার পরিপূরক। সবসময় কিছু মানুষ থাকেন, যারা কর্মকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। এধরনের লোকেরা জাগতিক বিষয়-আশয়কে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থলাভকে বড় করে দেখেন। জ্ঞানচর্চাকারীদের চোখে তারা কিছুটা পার্থিব হয়ে থাকেন। তারা হতাশার চোখে ওদেরকে দেখেন। আবার কিছু মানুষ কর্মহীন জ্ঞানচর্চায় মত্ত থাকে। এরা মানুষের জাগিতক কাজকে গৌণ করে দেখেন। এতে করে নিজেরা অর্থকষ্টে ভুগেও মানসিক প্রশান্তিÍ লাভ করেন এবং যারা দুনিয়ার পেছনে ছুটছে তাদের দিকে কিছুটা করুণার চোখে তাকান। এই দুই ধরনের মানুষের জন্য এই বই।

আরও পড়ুন- কাজের চাপ জয় করার ৮ উপায় 

জাহাঙ্গীর আলম শোভনের অন্যান্য বই দেখতে ক্লিক করুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading