গত নভেম্বর মাসজুড়ে রকমারিতে টপ ১০ টি উপন্যাসের বই !

উপন্যাসের বই

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে ‘উপন্যাস হলো গদ্যে লেখা দীর্ঘাবয়ব বর্ণনাত্মক কথাসাহিত্য। কবিতা, নাটক ও ছোটগল্পের ন্যায় উপন্যাস সাহিত্যের একটি বিশেষ শাখা। আধুনিক সাহিত্যে এটি তুলনামূলকভাবে নতুন আঙ্গিক। যিনি উপন্যাস রচনা করেন তিনি ঔপন্যাসিক। উপন্যাস লেখার নির্দিষ্ট নিয়ম বা কাঠামো নেই। তবে সচরাচর এগুলো ছোটগল্পের তুলনায় বৃহদাকার হয়ে থাকে। অধিকন্তু উপন্যাসের আখ্যানভাগ ও চরিত্রের বিস্তার লক্ষিত হয়। হ্রস্ব দৈর্ঘ্যের উপন্যাসকে অনু-উপন্যাস বলা হয়ে থাকে। উপন্যাসে পরিবেশ, বর্ণনা, রূপরেখা, চরিত্র, সংলাপ ইত্যাদি যখন মানুষের জীবনের কাহিনীকে সুন্দর ও স্বার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলে তার মধ্যে জীবনের কোনো অর্থ বা ভাষ্য প্রকাশ করা হয়। জীবনের এই রূপায়ণ উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকের কাছে বাস্তব বলে প্রতীয়মান হয়। নাটক, রাজাবলি (ধারাবিবরণী), কাব্য ইত্যাদি থেকে উপাদান গ্রহণ করে উপন্যাস রচনারও প্রথা রয়েছে। বস্তুত: উপন্যাসের রূপ অত্যন্ত নমনীয় ও মিশ্র। তাই এর নানা রূপভেদ চোখে পড়ে।’

আজকের ব্লগটি দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন বুকশপ রকমারিতে গত নভেম্বর মাসজুরে  বিক্রির শীর্ষে থাকা টপ ১০ টি উপন্যাসের বই নিয়ে।
তবে চলুন দেখে নেয়া যাক টপ ১০ টি উপন্যাসের বই !

শূন্য
শূন্য

BUY NOW

১০। শূন্য

হুমায়ূন আহমেদ

এই সায়েন্স ফিকশনের মূল চরিত্র হল মনসুর সাহেব। তিনি একজন স্কুল-শিক্ষক। তার পরিবার-পরিজন বলতে তেমন কেউ নেই। একা একা থাকেন। আর দিন-রাত গণিতের বিভিন্ন জটিল জটিল সমস্যা নিয়ে ভাবেন। এক রাতে তিনি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাহত হন। তারপর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন অপ্রকৃতস্থতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি একজনকে সব সময় তার সাথে দেখতে পান, যে কি না নিজেকে শূন্য জগতের বাসিন্দা বলে দাবি করে। সে যুবক আরও দাবি করে যে সে মনসুর সাহেবকে সাহায্য করার জন্যে এসেছে। এরপর থেকে লেখক গল্পে বিরাট মায়াজাল সৃষ্টি করেছেন। এই শূন্য জগত থেকে আসা যুবক যাকে মনসুর সাহেব তার প্রিয় রাশিমালার নামে ফিবোনাক্কি বলে ডাকেন, তার কি আসলেই বাস্তব জগতে কোন অস্তিত্ব আছে না কি সে শুধুই মনসুর সাহেবের কল্পনা? এই প্রশ্নের উত্তর গল্পের শেষে পাওয়া যায়। এদিকে দেখা যায় মনসুর সাহেব ফিবোনাক্কি রাশি ব্যবহার করে এক জটিল গাণিতিক রহস্য সমাধানের প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন। যেই সমস্যা মনসুর সাহেবের দাদা এবং বাবাও সমাধান করার চেষ্টা করেছিল। অর্থাৎ তারা তিন পুরুষ ধরে এই কাজটি করছেন। কিন্তু মনসুর সাহেবের কোন উত্তরাধিকার না থাকায় তাকে এই সমস্যাটা সমাধান করতেই হবে। এদিকে তার শরীরও ক্রমশই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তার সময় শেষ হয়ে আসছে। তিনি কি পারবেন এই সমস্যার সমাধান করতে? মনুষ্য জাতি কি সক্ষম হবে এমন এক রহস্যের সমাধান বের করতে যা তাদেরকে শূন্য মাত্রার জগতে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে? ‘শূন্য’ বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এখানে গল্পের কাহিনী বিজ্ঞানের খুব কাছাকাছি থেকে তৈরি করা হয়েছে।

তোমাকে
তোমাকে

BUY NOW

৯। তোমাকে

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ গল্পটি যমজ দুুই বোন নীলু আর বিলুর,গল্পটি তাদের ছোটো বোন সেতারার,গল্পটি তাদের বাবার, গল্পটি তাদের ভাড়াটিয়া এক নিঃসঙ্গ চাচার,গল্পটি একটি পরিবারের! সুখি একটি পরিবার! যমজ দুইবোন দেখতে একদমই একই রকম, মাঝে মাঝে তো ওদের বাবা মাও ওদের আলাদা করতে পারেনা। ছোটোবোন সেতারা অবশ্য ওদের মতো হয়নি। নীলু আর বিলু দেখতে একই রকম হলে কি হবে,স্বভাব চরিত্র দুজনের একদমই আলাদা। নীলু খুবই ফাঁকিবাজ আর চঞ্চল কিন্তু বিলু খুবই শান্ত এবং পড়াশোনায় মনোযোগী। পরিবারের কেও না হয়েও ভাড়াটিয়া নাজমুল চাচা ছিলেন ওদের পরিবারেরই একজন। এছাড়াও আরোও একজন ছিলেন, তিনি হলেন ম্যানেজার কাকু। বাবা মা আর তিনবোন মিলে অনেক সুখেই ছিলো তারা, কিন্তু হঠাৎ করেই বিষাদ নেমে এলো তাদের সংসারে। সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো! এতো কিছুর মাঝেও সময় বয়ে যেতে লাগলো, বড় হতে থাকলো নীলু,বিলু আর সেতারা। নতুন নতুন পরিস্থিতি আসতে থাকলো তাদের জীবনে। হঠাৎ করেই একটি সুখি পরিবার কেনো এমন হয়ে গেলো! ব্যাক্তিগত মতামত : হুমায়ূন আহমেদের ছোটো এই বইটি আমার অসম্ভব প্রিয়। সময় পেলেই আমি এই বইটি পড়ি। বইটির প্রতিটা চরিত্রকে লেখক গুরুত্ব দিয়েছেন, প্রতিটি চরিত্রেরই একটি নিজস্ব গল্প আছে! লেখকের লেখা “নন্দিত নরকে” বইটির মতো মনে হয়েছে আমার এই বইটি। যতোবারই পড়েছি মন খারাপ হয়ে গেছে। আপনারাও পড়ে দেখতে পারেন,আশা করছি ভালো লাগবে।

পাহাড়তলীর ভূত
পাহাড়তলীর ভূত

BUY NOW

৮। পাহাড়তলীর ভূত

শওকত ওসমান

‘পাহাড়তলীর ভুত’ বইটি শওকত ওসমান এর লেখা শিশুতোষ গ্রন্থ। শওকত ওসমান এর পৈতৃক নাম শেখ আজিজুর রহমান। নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশু-কিশোর সাহিত্য সর্বত্র তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তিনি ছিলেন এক উচ্চকিত কণ্ঠের অধিকারী। তার জন্ম -১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের একজন চিন্তক, লেখক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি কলকাতার আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা শুরু করলেও পরবর্তীকালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও অর্থনীতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কিন্তু একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আইএ পাস করার পর তিনি কিছুদিন কলকাতা করপোরেশন এবং বাংলা সরকারের তথ্য বিভাগে চাকরি করেন। এমএ পাস করার পর ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে লেকচারার পদে নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ অফ কমার্সে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সাল থেকে ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্বেচ্ছা অবসরে যান।

পাহাড়তলীর ভুত বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। বইটি প্রকাশিত হয় সপ্তডিঙা প্রকাশনী থেকে এবং এর প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। প্রচ্ছদ করেছেন নিয়াজ চৌধুরী তুলি। শিশু কিশোরদের জন্য ভুতের গল্প লেখা আসলেই কঠিন কাজ, এই কঠিন কাজটি সহজভাবে করেছেন লেখক। এই বই এর প্রতিটি কাহিনী হয় কোনও ভৌতিক ঘটনা নিয়ে, না হয় কোনও অলৌকিক ঘটনা নিয়ে, বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না। ভালো ভূত খারাপ ভূত উপকারী কিংবা অপকারী সব রকমের ভূতের সঙ্গে মোলাকাত হবেই আপনার। এছাড়াও কিছু বিজ্ঞান নির্ভর কাহিনি আছে যা আপাত দৃষ্টিতে অলৌকিক মনে হলেও আজ তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব। অসাধারন ভৌতিক কাহিনী পড়তে চাইলে পড়তে হবে এই বইটি ।

অপেক্ষা
অপেক্ষা

BUY NOW

৭। অপেক্ষা

হুমায়ূন আহমেদ

ঘর খুলিয়া বাইর হইয়া জোছনা ধরতে যাই আমার হাত ভর্তি চাঁদের আলো ধরতে গেলেই নাই। অপেক্ষা! আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শব্দটি। কখনো বা মধুর আবার কখনো বা তিক্ত। তবু আমরা অপেক্ষা করতে ভালোবাসি। অপেক্ষা হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর লিখা একটি অসাধারন উপন্যাস। আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকা কিছু সাধারন ঘটনা কে স্যার অসাধারন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটি পড়ার সময় আপনার মনে হবে যেন আপনার চোখের সামনেই ঘটনা গুলো ঘটছে। যেন আপনি নিজেই বই এর একটি চরিত্র। ঘটনার শুরু হয় ইমনের বাবার হটাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া থেকে। তারপর থেকেই শুরু হয় ইমনের মা সুরাইয়া বেগম এর স্বামীর জন্য অপেক্ষা! ইমন আর তার ছোট বোন সুপ্রভার বাবার জন্য অপেক্ষা! ইমন আর তার ছোট বোন সুপ্রভা আস্তে আস্তে বড় হয় ভীষণ কষ্টে।

যে কষ্ট আপনার মন কেও বিষণ্ণ করে তুলবে ক্ষণিকের জন্য। বইটি পড়তে পড়তে আপনি ক্ষণিকের জন্য ফিরে যাবেন আপনার শৈশবে। যেখানে ইমনের ছোট চাচ্চুর ইমনকে করা আদর গুলো কিংবা ইমনের বড় মামার সুপ্রভা কে করা আদর গুলো দেখে আপনার হিংসে হলেও হতে পারে! আছে ইমন-মিতুর অদ্ভুতুড়ে প্রেম! যেখানে আপনি ভাবতেই পারবেন নাহ যে কি করে তাদের মাঝে কি হয়ে গেল! ইমনের মা সুরাইয়া বেগম এর অপেক্ষার পালা যেন শেষ ই হতে চায় নাহ। গল্পের শেষে এসে তিনি স্বপ্নে দেখেন ইমনের বাবা ইমনের বিয়ের রাতে ফিরে আসবেন। ইমনের বিয়ে হয়। কিন্তু কার সাথে? মিতু নাকি অন্য কেউ? সুপ্রভার বা কি হলো ? ইমনের বাবা কি সত্যিই ফিরে এসেছিলেন? শেষ পর্যন্ত কি সুরাইয়া বেগমের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছিল? তবে আর অপেক্ষা কেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাইলে এক্ষুনি পড়ে ফেলুন বইটি। একটি অসাধারন, বইয়ের সাধ উপভোগ করুন।

আমি তপু
আমি তপু

BUY NOW

৬। আমি তপু

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি তপু, জাফর ইকবাল স্যার এর লেখা আরেকটি অসাধারন উপন্যাস। অ্যাকসিডেন্টে বাবা মারা গেলে হঠাৎ করেই যেন চোখের মনি তপু মায়ের কাছে চক্ষুশূল হয়ে দাড়ায়। তার মায়ের ধারনা, তপু যদি সেদিন ব্যাট কেনার আবদার না করত, তবে তার বাবা বেঁচে থাকতো। অ্যাকসিডেন্টে মারা যেত না। তাই সমস্ত দোষ এসে তপুর ঘাড়ে পড়ে। মায়ের পাশাপাশি বড় ভাই এবং বোনও তাকে বাসার কাজের ছেলের মত করে রাখে। পৃথিবীতে তখন আপন হয়ে দাঁড়ায় তাদের বাসার কাজের মহিলা এবং একটি ইঁদুর। পড়াশোনায় ভাল ছেলেটি কিভাবে যেন খারাপ হয়ে যায়। সবাই ভাবে, বাবা মারা যাবার পর ছেলে বখে গিয়েছে। এ সময় তার এক নতুন সহপাঠীর অনুপ্রেরণায় সে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে শিখে। গনিত অলিম্পিয়াডে হয় সেরাদের সেরা। কিন্তু তার ভাগ্যে এ ভালোটা না লাগতেই নতুন এক খবর শুনতে পায় যা তার জীবনকে আবার ভীষণভাবে ওলট-পালট করে দেয়। এবং বইটি শেষ পর্যন্ত পড়লে কাঁদতে বাধ্য।

নিতু আর তার বন্ধুরা
নিতু আর তার বন্ধুরা

BUY NOW

৫। নিতু আর তার বন্ধুরা

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

উপন্যাসেরর প্রধান চরিত্র নিতু। নিতুর মা মারা গেছেন খুব বেশি দিন হয় নি। মা মারা যাওয়ার পর বাবা প্রথম কিছুদিন খুব ভেঙে পড়েন, খুব আফসোস করেন। কিন্তু তার আফসোস অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। নতুন মা নিতুকে সহ্য করবে না এটাই স্বাভাবিক। আর একারণেই নিতুর বাবা নিতুকে একটি আবাসিক স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। স্কুলের নাম “বুতুরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়”! স্কুলের নাম যেমন অদ্ভূত নিয়মকানুনও তেমনই বিদঘুটে। এই স্কুলের সবচেয়ে রাগী ম্যাডামের নাম খোরসানী ম্যাডাম। এমনকি হোস্টেল সুপারটাও খুব বদমেজাজি। হোস্টেলের কোন মেয়েই এই ম্যাডামদের দেখতে পারে না। তাদের অত্যাচারে জীবন অতিষ্ঠ হলেও কিছু করার নেই মেয়েগুলোর। নিতুর ভাগ্য খারাপই বলতে হয়। হোস্টেলের প্রথম দিন থেকেই খোরসানী ম্যাডামের চোখে কালপ্রিট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায় নিতু।

এরপর তার একের পর এক দুঃসাহসিক কাজের কারণে খোরসানী ম্যাডাম আর নিতুকে সহ্যই করতে পারেন না। কিন্তু নিতু খুব অল্প সময়েই তার হোস্টেলের মেয়েদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এমন সময়েই এই স্কুলে আগমন ঘটে এক ম্যাডামের। নাম শান্তা ম্যাডাম। ভীষণ হাসি-খুশি আর ভীষণ ভালো, এই ম্যাডাম খুব অল্প সময়েই ছাত্রীদের প্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি আসার পর থেকে খোরসানী ম্যাডাম আর কিছুই বলতে পারেন না মেয়েদের। শান্তা ম্যাম হোস্টেলের পরিবেশটাই বদলে দেন। আর এটাতেই খোরসানী ম্যাডামের শত্রু হয়ে যান শান্তা ম্যাডাম। খোরসানী ম্যাডাম ষড়যন্ত্র শুরু করে শান্তা ম্যাডামকে স্কুল থেকে তাড়ানোর জন্য। তাহলে এখন কি হবে? শান্তা ম্যাডাম কি চলে যাবেন স্কুল থেকে? নিতু তাদের বন্ধুদের নিয়ে কিছুই করতে পারবে না ম্যাডামের জন্য? কিন্তু তা কি করে হয়? ম্যাডাম যে তাদের খুব প্রিয়! কি হয় তবে শেষ পর্যন্ত?

 তোমাদের জন্য ভালোবাসা
তোমাদের জন্য ভালোবাসা

BUY NOW

৪। তোমাদের জন্য ভালোবাসা

হুমায়ূন আহমেদ

বিজ্ঞান সবসময়ই কিছু পরিমাণে নিষ্ঠুর- তোমাদের জন্য ভালোবাসা বিজ্ঞানী মাথুর কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লেখা বই পড়ছেন সেখানেই পেলেন এই উক্তি। এমন এক মুহূর্তে বইটি পড়ছেন যখন পৃথিবী এক মহা সংকটের মুখোমুখি। সৌরজগতের গ্রহ গুলো সব উধাও হয়ে যাওয়া শুরু করল। কোনো বিস্ফোরণ , বিচ্ছুরণ কিছুই না। হুট করেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সিডিসি জানালো এক বছর পরে পৃথিবীও এভাবে মিলিয়ে যাবে। কেন হচ্ছে এমন ? তিনি খুঁজছেন পৃথিবীকে রক্ষা করার উপায়। লী নামের একটি মেয়ে তাকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বের এই বই দিয়ে গেছে । মেয়েটি দাবি করছে বইটিতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি সেই বইতে লিখেছেন তার অতি অসাধারণ কিছু অভিজ্ঞতার কথা। লেখকের সেই অভিজ্ঞতার কথা, যখন কোনো এক নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় ত্রিমাত্রিক এই পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন চতুর্মাত্রিক জগতে। তাও আবার অনিচ্ছা, বিস্ময়, ভয় নিয়ে, স্বপ্নের ঘোরে, হঠাৎ করে। সেই সকল মানুষ রুপী চতুর্মাত্রিক প্রাণীদের মাঝে, যারা সময় নিয়ন্ত্রণ করতে জানে। যারা বিজ্ঞানের সকল বিষয় উদঘাটন করেছে। যাদের কাছে বস্তু, সময়,কাল বলে কিছুই নেই। তারা জানতো পাঁচ হাজার বছর পর এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে পৃথিবীতে যে আবিষ্কার করে ফেলবে চতুর্মাত্রিক জগতের সমীকরণ রহস্য ।

খামখেয়ালি সেই ব্যক্তিটির নাম ‘ফিহা’। তা কি করে হয় ? সব থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী তো টাইফা গ্রহের মানুষেরা । সবুজাভ টাইফা গ্রহের মানুষেরা তাই পৃথিবীকে চতুর্মাত্রিক করার জন্য তৈরি করে এক মহা সংকট। এই মহা সংকট যেন কেউ থামাতে না পারে তাই তারা সেই অজ্ঞাত লেখক কে দিয়েছে এক কঠিন কাজ , কাজটি লেখকের স্বজাতির বিরুদ্ধে । যদি সে কাজটি না করে তাহলে সে কখনোই তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে না। কি ছিলো সেই কাজ? লেখক কি তার স্বজাতির বিরুদ্ধে যাবে ? নাকি পরিবারের আবেগে পৃথিবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে ? পৃথিবী কি টিকে থাকবে? পাঠ প্রতিক্রিয়া : বাংলাদেশে প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবে শুরুটা অসাধারন। টাইম ট্রাভেল নিয়ে যদিও সবসময় প্রশ্ন থেকে যায় তারপরেও চতুর্মাত্রিক জগত নিয়ে লেখক ভালোই গল্প বলেছেন। শেষটা অনেক ভালো হয়েছে। পড়ে আনন্দ পাবেন।

হাত কাটা রবিন
হাত কাটা রবিন

BUY NOW

৩। হাত কাটা রবিন

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

জাফর ইকবাল স্যার রচিত প্রথম কিশোর উপন্যাস “হাত কাটা রবিন”। টোপন নামক কিশোরের জবানীতে গল্পটা বিবৃত হয়েছে। গল্পে একদল কিশোরের কথা বলা হয়েছে। তারা ছিলো অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। “ব্ল্যাক ড্রাগন” এবং “স্পুটনিক বয়েজ” নামক ক্লাব ছিলো তাদের। ঘটনাক্রমে তারা একদল ডাকাতের সন্ধান পায়। এবং তাদের ধরার পরিকল্পনা করতে থাকে। অবশেষে শোভাপুর গ্রামের “ইসমাইল খাঁ” এর বাড়ীতে ডাকাতির সময় ডাকাত দল ধরা পড়ে। এটা সম্ভব হয় ঐ কিশোর দলের তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জন্য। পুরো উপন্যাস জুড়ে পাঠক ফিরে পাবেন তার হারানো কৈশোর। আর এখনকার কিশোরেরাও পাবে সত্যিকারের কৈশোরের স্বাদ, যেটা এখন হারিয়ে গেছে ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে।

একি কান্ড
একি কান্ড

BUY NOW

২। একি কান্ড!

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ এর সেরা একটি বই। বইটির চরিত্র টুকুনের প্রতিষ্ঠিত সত্য বিরুদ্ধ কিছু কথা/কল্পনা। কাকের সাথে গল্প করা, ঝোং নামক অদৃশ্য প্রানী দেখা। পরিবারের কেউ সেগুলো বিশ্বাস করতে চায় না। কিছু রহস্যময় ঘটনা যা টুকুনের পক্ষে কথা বলে তা বড়দের নিজেদের মত ব্যাখ্যা করে নেয়ার চেষ্টা। এইরুপ ঘটনা প্রবাহ নিয়ে অন্যসব বইয়ের মত হাস্য-রস মৃদু রহস্য ও ধোঁয়াশা মিশিয়ে গল্প ফেঁঁদেছেন হুমায়ূন আহমেদ। গল্পের ঘটনা প্রবাহকে রুপক অর্থ ধরে নিলে ছোটদের কষ্ট অনুধাবন যোগ্য। গল্পটা আমার কাছে অসাধারণ বলে মনে হয়েছে। ফিনিশিং আমার খুব ভাল লেগেছে। যদিও ছোটদের জন্য তবে বড়রাও একবার পড়েই দেখুন। এক কথায় অসাধারণ।

স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

BUY NOW

১। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

সোহাইল রহমান

“অফিস তো বন্ধ। কাকে চাচ্ছেন?”
বিজয় কোনো কথা বলল না। পকেট থেকে রিভলবার বের করল। ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন আসলাম হক। উঠতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। কাঁপছেন থরথর করে। কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। অনেক কষ্টে আসলাম হকের মুখ দিয়ে কথা বের হলো। বললেন, “বাবা তোমার আল্লাহর দোহাই লাগে আমাকে মেরো না। আমি মারা গেলে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে দেখার কেউ নেই।”
বিজয় সময় নিয়ে পিস্তলে সাইলেন্সার লাগালো। আস্তে করে কোমল গলায় বলল, “আমি কথা দিচ্ছি চাচা, আপনার কিছু হয়ে গেলে আপনার মেয়েকে আমি দেখব। যতদিন বাঁচি দেখব। আপনি একদম চিন্তা করবেন না। নিশ্চিন্তে বিদায় নেন। আমি আছি!”
এই কথায় আসলাম হক খুব একটা ভরসা পেলেন না। উনার দুই চোখে রাজ্যের আতংক এসে ভিড় করল।
ট্রিগার চাপলো বিজয়।…

পাঠকপ্রিয় সব উপন্যাসের বই পেতে ক্লিক করুন ! 

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading