রাসূলের চোখে দুনিয়া : দুনিয়াবিমুখ জিন্দেগীর অনন্য সংকলন

রাসূলের চোখে দুনিয়া

নাবিহা মামণি,
তুমি এখনো খুব ছোটো। যখন বড় হবে দুনিয়াটাকে কিভাবে দেখবে জানি না, তবে চেষ্টা করবে তোমার পূর্ববর্তী পূণ্যবান ও পূণ্যবতীদের মতো দেখতে। ওদের চোখে দেখতে। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাল্লাহু), কে জানো? একজন গ্রেট স্কলার। পৃথিবীর ইতিহাসে হাতেগোণা যে ক’জন মানুষ শিক্ষা, সংস্কার, সাহিত্য, আইন, ধর্ম ও হাদীস শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্য একজন। কিতাবুয যুহদ—তাঁরই অসাধারণ রচনা। দুনিয়াবিমুখ জিন্দেগীর অনন্য সংকলন। তাঁর কিতাবুয যুহদ গ্রন্থটিকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য ‘মাকতাবাতুল বায়ান’ অনুবাদ করেছে তিনটি ধাপে। রাসূলের চোখে দুনিয়া, সাহাবীদের চোখে দুনিয়াতাবেয়ীদের চোখে দুনিয়া
আমরা আজ গল্প করবো ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’ নিয়ে, অনুবাদ করেছেন জিয়াউর রহমান মুন্সী—মহান আল্লাহ অনুবাদকের কল্যাণ করুন। অনুবাদকের উপর অনন্ত রহমত বর্ষণ করুন।

মামণি, কখনোই দুনিয়াটাকে রঙিন-চকচকে-মোহগ্রস্থের চোখে দেখবে না। দেখবে রাসূলের চোখে। ‘সিরাতুল মুস্তাক্বিম’-এর পথে হেঁটেছেন যারা, তাদের চোখে। বইটি তুমি অবশ্যই পড়বে, তোমার কান্না পাবে। তোমার ভাবনা খেলবে। পৃথিবীকে অন্য চোখে দেখতে শিখবে। তোমার বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে। তোমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে সুস্থির।
নাজাত লাভের সহজতম উপায় শেখাতে আল্লাহর রাসূল তোমাকে বলবেন- “তোমার জিহ্বাকে আটকে রাখো, ঘরে যা কিছু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকো, আর নিজের ভুল স্মরণ করে কাঁদো।”
হাদীস নং-৮০, পৃষ্ঠা-৪২; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭

হ্যাঁ মামণি, নিজের ভুল স্মরণ করবে বেশি বেশি। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম মানুষটি সর্বোচ্চ নিষ্কলুষ হওয়ার পরও, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। তুমিও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। পানাহ চাইবে।

Rasuler chokhe dunia
রাসূলের চোখে দুনিয়া

BUY NOW

বইটি তোমাকে অনেক কিছু শেখাবে। এটা তোমার অবশ্য-পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে দিলাম। প্রাচুর্য্য কিভাবে জাহান্নামের পথে ডাকে, প্রবৃত্তি দমিয়ে রাখার পুরষ্কার, অভুক্ত আর অনাহার কেমন হয়ে উঠে ব্যক্তিত্বের রাজতিলক, সাদাসিধে চালচলন, মধ্যরাতে সালাত ও সিজদার মাহাত্ম্য; জানবে সব। রাসূলের জিন্দেগী-দর্শন-দুনিয়াবিমুখতা স্পষ্ট হবে তোমার সামনে। টপটপ করে চোখের জল গড়িয়ে পড়বে তোমার। বৃষ্টি যেমন প্রতিটি ফোঁটায় ফসল ফলায় যমীনে, ঠিক তেমনি তোমার চোখের প্রতিটি ফোঁটা অন্তরে শুদ্ধতার আবাদ করবে। পবিত্রতার ফলন হবে। তুমি হয়ে উঠবে দুনিয়াবিমুখ ও আল্লাহমুখী একজন।

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) এর অন্য দুইটি বই 

সাহাবিদের চোখে দুনিয়া
সাহাবিদের চোখে দুনিয়া

BUY NOW

তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া
তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া

BUY NOW

রাসূল (সাঃ), সাহাবি এবং তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া সম্পর্কিত ৩টি বই একসাথে কিনতে ক্লিক করুন।

তুমি অনেক রাসূলকে পাবে এখানে। দাউদ আলাইহিস সালাম-এর কামনা ও প্রার্থনা ঢেউ তুলবে তোমার মনে। “হে আল্লাহ! আমাকে এতটা দারিদ্র্যে নিপতিত করো না—যার ফলে আমি তোমাকে ভুলে যাবো; আবার এতটা প্রাচুর্য দিয়ো না—যার ফলে আমি সীমালঙ্গন করবো।”
হাদীস নং-৩৩৭, পৃষ্ঠা-১৫৬; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭

মহান আল্লাহ দাউদ আলাইহিস সালাম-কে কৃতজ্ঞ হতে বললে দাউদ আলাইহিস সালাম কি বলেছিলেন জানো? “রব আমার! আমি কীভাবে তোমার শুকরিয়া আদায় করে শেষ করবো? তুমিই আমাকে অজস্র অনুগ্রহ দিয়ে যাচ্ছো, তুমিই অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্য দিচ্ছো, আবার তুমিই আমাকে একের পর এক নতুন অনুগ্রহ দিয়ে চলেছো। হে আমার রব! অনুগ্রহরাজি (আসে) তোমার নিকট থেকে, আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্যও তোমার দেওয়া! তাহলে আমি কীভাবে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করবো?”
হাদীস নং-৩২৯, পৃষ্ঠা-১৫৩; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭

মা-রে! আল্লাহর অনুগ্রহ এমন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। এমনকি শেষ বিচার দিবসেও তাঁর করুণা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “আমিও আমলের ভিত্তিতে নাজাতে যেতে পারবো না। যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেবেন।”
হাদীস নং-২২৫, পৃষ্ঠা-১০০; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭

বইটি পড়লে তুমি বুঝবে আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে তা পাওয়া যায়। বইটি থেকে আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করি। একবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখে কেঁদে ফেলেন। তিনি দেখলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শক্ত বিছানায় শুয়ে পিঠে দাগ ফেলে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, উমার! কাঁদছো কেনো?
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন- আল্লাহর শপথ! আমি শুধু এই কারণেই কাঁদছি যে আমি জানি, আপনি (পারস্য সম্রাট) খসরু ও (রোমান সম্রাট) সিজারের তুলনায় আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। তারা দুনিয়ার প্রাচুর্যে ডুবে আছে, আর আপনি আল্লাহর রাসূল হয়েও যে অবস্থায় আছেন তা তো নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও—তাদের জন্য দুনিয়া, আর আমাদের জন্য আখিরাত?
হাদীস নং-২৩৪, পৃষ্ঠা-১০৩; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭

এই বোধ যদি অন্তরে ধারণ করতে পারো, জীবন-দর্শন পছন্দে তোমার বেগ পেতে হবে না মোটেও। দুনিয়ার চাকচিক্য আর তোমার মধ্যে প্রভাব ফেলবে না। অহঙ্কার-কঠিন-বিলাসপূর্ণ জীবনের বদলে তুমি বেছে নেবে বিনয় ও নম্রতার সাদামাটা জিন্দেগী।

একদিন বইখানি পড়ে আমাকে তোমার অনুভূতি জানাবে এবং তোমার চোখে-মুখে থাকবে মুগ্ধতার বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাস,

সেই প্রত্যাশায়-
তোমার মামা

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading