এই সায়েন্স ফিকশন বই গুলো পড়বেন না। কারণ, এগুলো নিষিদ্ধ হয়েছিল !

সায়েন্স ফিকশন বই

কি আশ্চর্য হচ্ছেন? না হয়ে আর কি উপায় বলেন তো!!! কোন ভুমিকা ছাড়াই চলুন চলে যাই প্রসঙ্গে আর এক নজরে দেখে নেই নিষিদ্ধ্ব হওয়া ৭ টি সায়েন্স ফিকশন বই ও মজার মজার ফ্যাক্ট গুলো……

৭. আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ
এ্যান্থনি বার্গেস

এ্যান্থনি বার্গেসের এই উপন্যাসিকাটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ভবিষ্যত ইংল্যান্ডের এক ভয়াবহ ডিসটোপিয়ান সময়ে অপরাধপ্রবন চার তরুণের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে এটি। বিতর্কিত হবার মত সব ধরণের উপাদানই রয়েছে এখানে। ইংলিশ-রাশান মিলিত ভাষার অদ্ভুত ধরণের স্ল্যাং, নৃশংসতা, ধর্ষণের বর্ণনা, ওপরতলার সমাজ নিয়ে বিদ্রুপ, সহিংসতা, যৌনতা কী নেই এতে! পরে স্ট্যানলি কুবরিক এই কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানান, সেটিও ইংল্যান্ডে নিষিদ্ধ ছিলো প্রায় তিন দশক।

আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ

 

৬.  স্লটারহাউজ ফাইভ

ক্রাট ভনগাট

সায়েন্স ফিকশনের আড়ালে স্লটারহাউজ ফাইভ লেখকের সৈনিক জীবনের আত্মকথন এবং স্যাটায়ারের সংমিশ্রণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার পক্ষে যুদ্ধ করে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ড্রেজডেনের বোমাবর্ষণ, জার্মানিতে আমেরিকান সেনাদের হাতে মৃত্যুবরণ করা হাজারো মানুষ। এমন কী উঠে এসেছে সমকামীতার বিরুদ্ধে নৃশংসতার কথাও, যা ঐ সময়ে (সত্তরের দশকে) প্রকাশ করা অকল্পনীয় ছিলো। সুতরাং যুদ্ধবাজ এবং হিপোক্রেট আমেরিকা তা অনুমোদন করবে কেন? বইটি যে শুধু নিষিদ্ধ হয়েছে তাই নয়, পোড়ানো হয়েছে এর শতশত কপি।

স্লটারহাউজ ফাইভ

 

৫.  ফারেনহাইট ফোর ফাইভ ওয়ান

রে ব্র্যাডবারি

বই বিহীন পৃথিবী কেমন হবে? যদি পৃথিবীর সব বই পুড়িয়ে ফেলা হয়, তাহলে মানব সভ্যতার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা? এমন একটি দুর্দান্ত থিম নিয়ে ভবিষ্যতের যন্ত্রশাসিত পৃথিবীর দৃশ্যপট তৈরি করেছিলেন রে ব্র্যাডবেরি। ভাবছেন, এ বইটিতে নিষিদ্ধ হবার কী উপকরণ ছিলো? কিছুই ছিলো না। তবুও মিসিসিপির একটি হাই স্কুল থেকে বইটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো। কারণ? একজন অভিভাবক অভিযোগ করেছিলেন, বইটিতে একটি অশ্লীল বাক্য আছে।

কী সেই অশ্লীল বাক্যটি?
God damn!
সত্যিই পৃথিবীটা বড়ই অদ্ভুত, তাই না?

ফারেনহাইট ফোর ফাইভ ওয়ান

 

৪.  দ্যা গিভার

লুইস লোরি

দ্যা গিভার উপন্যাসটিতে ভবিষ্যতের এক ঝঞ্ঝাময় পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রেম নেই, কাম নেই, ব্যথা বেদনা কিচ্ছু নেই। বংশ বিস্তারের জন্যে কিছু মহিলাকে নিয়োগ দেয়া হত, যারা কৃত্রিম উপায়ে গর্ভ ধারণ করবে। শিশুরা বেড়ে উঠতো অস্বাভাবিক রকম দ্রুত গতিতে। কারণ তাদের ভরন-পোষন করার মত সময় পৃথিবীর নেই। মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রিত হতো সমাজপতিদের দ্বারা, যারা ‘গিভার’ নামে পরিচিত। কদর্য ইতিহাস, বাজে স্মৃতি, এবং শিল্প সম্পর্কে কোন ধারণা দেয়া হত না, যেগুলো মানুষের চিন্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এভাবে কি একটি সুখী, এবং রোবটের মত দক্ষ সমাজ গড়া সম্ভব হয়েছিলো?

অনৈতিক থিম এবং সহিংসতার কারণে বেশ কিছু দেশে বইটি নিষিদ্ধ।

সায়েন্স ফিকশন-দ্যা গিভার
The Giver

৩. দ্যা হিজ ডার্ক ম্যাটেরিয়ালস ট্রিলজি

ফিলিপ পুলম্যান

লেখক ফিলিপ পুলম্যান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমি সত্যিই খুব শকড। হ্যারি পটারের চেয়ে আমার এই উপন্যাসত্রয়ীর কনটেন্ট অনেক সমৃদ্ধ। তার পরেও তেমন ভাবে নজরই কারলো না কারো।”

শুনে আপনার মন খারাপ হতে পারে। দাঁড়ান! বাকি অংশটাও শুনুন! “হ্যারি পটারের চেয়ে আমার বই অনেক বেশি জটিল, এবং বিধ্বংসী। ঈশ্বরের বিরুদ্ধে এভাবে খোলা অবস্থান কোন কিশোর উপন্যাসে আছে, বলুন?”

এখন নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন বইটি কেন নিষিদ্ধ হয়েছিলো! নাস্তিকতা, তাও আবার কিশোর উপন্যাসে! এতটা সইবার মত উদার কখনও হতে পারে নি চার্চ গুলো। ভবিষ্যতে পারবে, সে সম্ভাবনাও কম।

সায়েন্স ফিকশন-দ্যা হিজ ডার্ক ম্যাটেরিয়ালস ট্রিলজি

 

২.  নাইনটিন এইটি ফোর 

 জর্জ অরওয়েল

এনিমেল ফার্ম নামক বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া স্যাটায়ারের রচয়িতা জর্জ অরওয়েলের  নাইনটিন এইটি ফোর বইটির বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। ১৯৮১ সালে এটিকে স্কুল এবং লাইব্রেরী গুলো থেকে অপসারণ করার দাবী অঠে। অভিযোগ ওঠে কমিউনিজমকে গ্লোরিফাই করার জন্যে। এছাড়াও বইটি ছিলো এ্যান্টি সেমিটিক এবং যৌনতার বর্ণনার জন্যে নিন্দিত।

সায়েন্স ফিকশন- নাইনটিন এইটি ফোর 

 

১. শেডস চিলড্রেন

গার্থ নিক্স

ক্রুর চিন্তার এলিয়েন পরিচালিত কিছু রোবট। তাদের অর্ধেক দেহ আবার মানুষের মত। ভীষণ ভয়ানক তাদের অভিপ্রায়। তারা পৃথিবী পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কম্পিউটারের সাথে যুক্ত। একটি মানুষ। নাম তার শেড। তার সন্তানেরা বন্দি আছে নারকীয় পৃথিবীর বিশাল সব পরিত্যক্ত ভূমিতে স্থাপিত জেলখানায়। শেড কী করবে? তার সন্তানদের মাধ্যমে পৃথিবী বাঁচানোর উদ্যোগ নেবে, নাকি বিশ্বাসঘাতকতা করবে?

সায়েন্স ফিকশন-শেডস চিলড্রেন

 

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বইটি নিষিদ্ধ হয়েছিলো মাত্রাতিরিক্ত ভায়োলেন্সের কারণে।

নিষিদ্ধ সায়েন্স ফিকশন বই পড়তে না চাইলে পড়তে পারেন সারা বিশ্বে সর্বাধিক বিক্রিত ও রকমারি ডট কম-এ বিক্রিত সকল সেরা সায়েন্স ফিকশন বই সমূহ।

এক নজরে দেখে নিন সেরা ও সর্বাধিক বিক্রিত সায়েন্স ফিকশন সমূহঃ

১) Dune by Frank Herbert  -বিক্রি হয়েছে- ১২ মিলিয়ন
২) 2001: A space odyssy -বিক্রি হয়েছে – ২৩৫০০০ কপি (শুধুমাত্র জাপানে)
৩) Farenheit 451 –  বিক্রি হয়েছে ১০ মিলিয়ন কপি
৪) Foundation trilogy– বিক্রি হয়েছে- ২০ মিলিয়ন কপি
৫) Nineteen eighty four– বিক্রি হয়েছে ২৮ মিলিয়ন কপি

আর রকমারি ডট কম-এর সেরা সায়েন্স ফিকশন দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুনঃ
বই পড়া কিভাবে আমাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন ঘটায়
গেম অব থ্রোন্স থেকে যে ৮ টি শিক্ষা আপনি নিতে পারেন
দুনিয়া মাতানো যে ১০ বই অবশ্যই পড়া উচিত !
একাকীত্ব উদযাপন করতে পারেন যে ৬টি বই পড়ে!

 

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  0      0
 

comments (0)

Rokomari-blog-Logo.png